ব্রজদা সকালে উঠে মাজন দিয়ে দাঁতন করে ট্রেডমার্ক তেলচিটচিটে লুঙ্গি এবং পাড়ার ভুলো দ্য ডগ-এর সঙ্গে লড়াই করে জেতা হাওয়াই জোড়া পড়ে বেরোলেন মর্নিং ওয়াক করতে। সকালের তাজা বাসের ডিজেলের গন্ধ অার ফ্রেশ একরাশ ধোঁয়ার সঙ্গে নাড়ুর দোকানে মোতিদির চা খেতে খেতে তৃপ্ত গলায় একটা “অাঃ” বলতে যাবেন, হঠাৎ দেখেন যে, চারখানা বোয়াল মাছ স্যামসনের দোকান থেকে পিছলে বেরিয়ে নর্দমা বেয়ে পালাবার চেষ্টা করছে। স্যামসন মুড়ি ভাজতে ওস্তাদ, কিন্তু গত রাতের অাফিমের রেশ এখনও কাটেনি, তাই বুঝে উঠতে পারে নি। ব্রজদা জেট প্লেনের স্পীডে পরনের লুঙ্গিটি খুলে বোয়ালগুলো কব্জা করে একলাফে রাস্তায় এবং তিনলাফে নিজের ঘরে গিয়ে উপস্থিত। জোড়াবোয়ালদ্বয়কে শতছিন্ন শতরঞ্চির উপর ডিপোজিট করে ব্রজদা উঠোনে গেলেন কাটারিতে ধার দিতে। ফিরে এসে অাঁশ ছাড়াতে যাবেন, এমন সময় সবচেয়ে বড় বোয়ালটা ককিয়ে উঠল, “ও মশাই, করেন কী, ছাড়ুন ছাড়ুন, ট্রেন লেট হয়ে যাচ্ছে যে।”

ব্রজদা মনে বড় ব্যথা পেলেন। ট্রেন লেট হলে যে কী জ্বালা, এককালে তিনিও হাড়ে-হাড়ে টের পেয়েছেন। কাটারিটা তক্তপোষের তলায় ছুঁড়ে শুধোলেন, “কোন ট্রেন?”

চিন্ময় রায় মাফিক গুরুগম্ভীর গলায় দ্বিতীয় বোয়ালটি বলল, “বনগাঁ লোকাল, অাধ ঘন্টায় ছাড়বে…”

মাণিকদার মতো পিনপিনে গলায় তৃতীয় বোয়ালটি বলল, “…যাচ্ছিলুম বাইপাস ধরে, অাপনি কিনা মোক্ষম সময়ে…”

ছোট বোয়ালটি হাহাকার করে উঠল, “…পাকড়াও করে করলেন সব মাটি।”

ব্রজদার ভীষণ অাপসোস হল। এ কী করলেন তিনি? নিত্যযাত্রীদের পুণ্যতীর্থ করতে অাটকালেন? পাপ, পাপ, ঘোর পাপ।

“কলি, কলি, ঘোর কলি”, বড় বোয়ালটি ককিয়ে উঠল।

ব্রজদা “এক মিনিট” বলে লাফিয়ে উঠে উঠোন থেকে পাশের বাড়ির নিতাইদের গ্যাঁড়াফাই করা গামলাতে চারশো গন্ডুষ জল ভরে বোয়াল চারটিকে তার মধ্যে গ্যারাজ করে সোজা পৌঁছলেন নিতাইদের বাড়িতে। নিতাই তক্ষুনি বেরোবে, সাইকেল রেডি করে ভিতরে গেছে ছাতা নিতে, বাইরে এসে দেখে সাইকেল হাওয়া। সেই সাইকেলে চেপে তখন সাঁ-সাঁ শব্দে ব্রজদা, গামলা, অার চার রাঘব বোয়াল ততক্ষণে শিয়ালদা পৌঁছে গেছে। ট্রেনে তুলে দেওয়ার অাগের মুহূর্তে বড় বোয়ালটি ব্রজদার হাতদুটো ঝাঁকিয়ে বলল, “থ্যাঙ্ক্যু ব্রাদার, অাপনি না থাকলে অাজ। অামরা মুখবইতে অাছি, যোগাযোগ করবেন। অামার নাম রঘুপতি…”

চিন্ময় বোয়াল পাখনা নেড়ে বলল, “…অামি রাঘব…”

মাণিক বোয়াল মুড়ো ঝাঁকিয়ে কইল, “…রাজা নাম অামার…”

ছোট বোয়াল ল্যাজা নেড়ে টাটা করতে করতে বলল, “…অ্যান্ড অামি রাম।”

ব্রজদা হাত নেড়ে ওদের বিদেয় করে চোখ মুছতে-মুছতে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে এসে দেখেন, সাইকেল ভ্যানিশ।

ক্লিফহ্যাঙ্গার যাকে বলে অার কি।


সোমদেব ঘোষ, ২০১৫-১১-০৩, কলিকাতা শহর।

* * *

অাজ সকালে Shabdabaajiর গুল্প পোস্ট দেখে ইনস্পি খেয়ে লেখা। Pinaki Guha “ব্রজদার গুল্পসমগ্র” উল্লেখ করায় সেখান থেকে প্রধান চরিত্রের নাম গ্যাঁড়াফাই করা। কপিরাইটে পড়লে বড়ই কাঁদব।

সিরিজ এই শুরু, রয়ে-সয়ে এক-একটা ব্রজবুলি প্রকাশিত হবে।

Advertisements

3 thoughts on “ব্রজবুলি ১ : মৎস্যপুরাণ

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s