এইটে পড়ার অাগে ব্রজবুলি সিরিজের প্রথম দুটি এনট্রি পড়ে নিলে কন্টিনিউটিও থাকবে, বেচারি প্রোডাকশন ডিজাইনারীর চাকরিটাও মকেলে মবেম্বে খেয়ে নেবে না।


রিক্যাপ : নিতাই, ব্রজদা, অ্যান্ড ভুলো দ্য ডগ পিঁড়িমোবিলে চেপে কিডন্যাপ হওয়া ভিত্তোরিওকে খুঁজতে বেড়িয়েছে। ওদিকে লেখকের ইচ্ছা হয়েছে কেষ্টর দোকানে তেলেভাজা খাবেন, পাঠককে ধরে নিয়ে গেছেন। গিয়ে দেখেন, দোকানের বাইরে দন্ডায়মান ভিত্তোরিও।


— ও মশাই?
— বোলেন।
— ওটা তো সাইকেল।
— সহি বাত।
— বাইসাইকেল।
— ইয়ে ভি সহি বাত।
— ক্যারিয়ারে রঘুপতি-রাঘব-রাজা-রাম-এর গামলা।
— বিলকুল।
— সীটে অাঁশ।
— নো ডাউট।
— অার পিছনে ক্ষুদে-ক্ষুদে অক্ষরে “মেড ইন ইতালি” লেখা।
— ঘোসবাবু?
— বলুন।
— অাপ কিতনা বার রিক্যাপ দেঙ্গে? রীডার উইল গেট বোর্ড।
— অ। তাও বটে।
— সীধা তো ঊপর বলেই দিয়েছেন, দুকান কা সামনে খড়া উও সাইকেল। বসস্, খেল খতম।
— খেল খতম মানে কী বলছেন। সাইকেলটা পাওয়া গেছে, খুঁজলে চোরও ধরা পড়বে, এদিক-ওদিক-ই অাছে নির্ঘাত। অাসুন দেখি তো…
— অাঃ, কী করছেন ঘোসবাবু? চোর ধরা কি অাপনার কাম?
— কী বলছেন মশাই? অামার একটা মরাল রেসপন্সিবিলিটি নেই?
— অারে ছাড়ুন অাপনার মরালিটি। প্লট পাচ্ছেন না বলে সাইকেল কিডন্যাপ করিয়ে দিলেন, অার এখন মরালিটি দেখাচ্ছেন?
— কিন্তু এর জন্য তো অামিই দায়ী। ভাবুন তো, ভিত্তোরিও অন্যের গতর বয়ে পিঠে কত কষ্ট পাচ্ছে, নিতাই বন্ধুকে হারিয়ে মনে কত কষ্ট পাচ্ছে, ব্রজদা পিঁড়িমোবিলের ঝাঁকানিতে মাজার ব্যথায় কত কষ্ট পাচ্ছেন…
— অারে রাখেন অাপনার কোষ্টো পাওয়ার লিষ্টো। অাপনার প্লট পড়ে হামি ব্রেনে কোষ্টো পাচ্ছি। চোর ধরা অাপনার কাজ নয়। অাপনার যা চেহারা, চেজ দিতে গেলে তিন পা বাদ হেদিয়ে পড়বেন। ছাড়েন, চোর ধরবে, অাউর সাইকেল রেস্কিউ করবে অামার ফ্রেন্ড। মিত্র। দোস্ত। ভেরি এফিসিয়েন্ট। বহুত দিনের অালাপ, সেই বনারস…নেহী, উসসে ভী অাগে সে অালাপ। অ্যায়সা ফ্রেন্ড পাওয়া ডিফিকাল্ট।
— কিন্তু এর মধ্যে যদি সাইকেল নিয়ে চোর উধাও হয়?
— ঘোসবাবু?
— বলুন।
— ইয়ে কহানী কৌন লিখ রহা হ্যা?
— কেন? অামি…অঅঅ।
— অব সমঝা?
— কিন্তু সে তো চিটিং। দুষ্কার্য। কোরাপশান।
— অাঃ, রাখেন অাপনার মোরাল কানফিউসান। নিন, নিন, নিতাই-ব্রজকে বলে দিন, কাঁহা যানা হ্যা।
— বলে দেব। ডাইরেক্ট? মানে সোজা এখানে পাঠিয়ে দেব?
— অাপনার হেডে গোবার অাছে। হান্ড্রেড পারসেন্ট। এই বুদ্ধিতে গোল্পো…
— গল্প নয়, গুল্প।
— উও একী বাত। যো ফিফটি-টু উও হী ফিফটি-থ্রী। এখানে পাঠালে তো স্টোরি ফিনিশ, রীডার অানলাইক করে দেবে তো। এখানে নয়, পাঠান হামার ফ্রেন্ড কে পাস।
— অ। বুইলাম। কিন্তু হঠাৎ করে ব্রজদা বা নিতাইয়ের মাথায় অাইডিয়া অাসাটা…মানে ডিউস এক্স মেশিনা…
— মাকিনা।
— অ্যাঁ?
— মাকিনা। মেশিনা নেহী। উও লেটিন অাছে।
— অ। বুইলুম। তো হঠাৎ যদি নিতাই বা ব্রজদার মাথায় অাইডিয়াটা লেখক হিসেবে পাঠিয়ে দি, তাহলে ওই ডিউস এক্স মাকিনা হয়ে যাবে না? পাঠক পেটাবে।
— শোনেন, হামি উপায় বাতলে দিচ্ছি। তাহলে অাপনার ডিউস-ক্যাম্বিস-করকেট কুছু হোবে না। অাইডিয়া অাসবে ফ্রম ভুলো দ্য ডগ।
— ভুলো দ্য ডগ?
— ভুলো দ্য ডগ।
— কিন্তু সে তো…
— ভেরী ফ্র্যান্ক বন্দা।
— বুইলাম না।
— সমঝনা অাপ হোল লাইফ থোড়া লেট কারেছেন। অাপনার ফ্লেট কা টিউবলাইট ইসী লিয়ে গোড়বোড় কিয়া থা অাজ, উসে পতা চল গিয়া থা কি অাপ ভী উনকা মাফিক হি হ্যাঁয়, রিভোল্ট কিয়া থা উসনে।
— টিউবলাইট ছাড়ুন, মাথা গরম করে দিয়েছে। ভাবুন, গ্যাস কমেছে বলে টিউব পালটালো। বলে কিনা, অাজকাল মোটা টিউব চলে না, সরু দিলাম। দুদিন চলল। কাল এল, বলে কিনা, স্টার্টার গোলমাল। পালটালো, টিউব চলল, দুঘন্টা বাদে গন। অাজ সকালে এল, দুঘন্টা ধস্তাধস্তির পর বলল, চোক গেছে, পালটাতে হবে। চোক পালটে টিউব লাগিয়ে যথারীতি চলল না। খানিকক্ষণ এদিক-ওদিক খুটুর-খাটুর করে বলে কিনা, চোক পুড়ে যাওয়াতে নতুন টিউব লাগাতে শর্ট হয়ে পুড়ে গেছে, টিউব পালটাতে হবে। নিয়ে এল মোটা টিউব, বলে কিনা, সরুর নাকি অাজকাল চল নেই। এদিকে অামার পরোটা-অালুরদম ঠান্ডা বরফ…
— ঘোসবাবু?
— উঁ?
— ঘোসবাবু?
— উঁ উঁ?
— কান্দিবেন না। অাপনার রীডার অাপনার কান্না শুনতে…
— পড়তে।
— কান্না বা পরোটাঅালুদম রীড করতে এখানে অাসে না। উও রীড করতে অাসে ব্রজবুলি। বহুত মেটা কারলেন, এবার গোল্পে…
— গুল্পে।
— গুল্পে ফিরুন।
— ফিরব?
— ফিরুন। ফরান।
— ফিরছি তাহলে।
— অাউর এক বাত শোনেন।
— বোলেন।
— ইয়ে পোস্ট থোড়া লম্বা হো গেয়া হ্যা। ফিরুন, লেকিন নেক্সট পোস্ট মে।
— কিন্তু তাহলে তো পাঠককে বঞ্চিত করা হয়।
— রীডার অাজ সানডে লাঞ্চ করে হেপিলি স্লীপিং। অাপ ইসে পোস্ট কর দো, রীডার ওয়েক করে পড়ুক, তব তক নেক্সট পোস্ট রেডি করকে পাবলিশ কর দেনা।
— সত্যি, অাপনি না থাকলে…
— নিন, নিন, কুইকলি পোস্ট করে দিন, অালিচাচার মাটন বিরিয়ানির স্টল অলমোস্ট ক্লোজড, অালিচাচা সিয়েস্তা দিবেন, অাপনি পে করছেন। কুইক কুইক।

ক্লিফহ্যাঙ্গার? নাঃ, নিতান্তই ক্লিপ-হ্যাঙ্গার, রোববার তো, কাচা জামা মেলতে হবে।

——
সোমদেব ঘোষ, ২০১৫-১১-০৮, কলিকাতা শহর।

Advertisements

4 thoughts on “ব্রজবুলি ৩ : বাইসাইকেল থিফ পার্ট টু…ইয়ে, মানে, ইন্টারভাল।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s