ব্রজবুলি সিরিজের পঞ্চম এনট্রি। বাকিগুলো অাগে পড়ে নিলে কন্টিনিউটিও থাকবে, বেচারি প্রোডাকশন ডিজাইনারীর চাকরিটাও মকেলে মবেম্বে খেয়ে নেবে না, অার খেয়ে বেচারার বদহজমও হবে না।


রিক্যাপ : নিতাই, ব্রজদা, অ্যান্ড ভুলো দ্য ডগ পিঁড়িমোবিলে চেপে কিডন্যাপ হওয়া ভিত্তোরিওকে খুঁজতে বেরিয়েছে। অনেক খুঁজেও না পেয়ে শেষে ব্রজদা বিপ্রর কাছ থেকে ক্লু পেয়ে ভুলো দ্য ডগের সঙ্গে কথোপকথনের চেষ্টা করছেন। দুঃখের বিষয়, প্রায় ঘন্টাদুয়েকের চেষ্টা সত্ত্বেও ভুলোর সঙ্গে লাইন্স অফ কমিউনেকেশন ওপেন করতে মেসার্স ব্রজ অ্যান্ড নিতাই ফেল মেরে গেছেন।


— ব্রজদা?
— উঁ।
— ও ব্রজদা?
— উঁ উঁ।
— বলি ও ব্রজদা?
— অাঃ মেলা ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করছিস কেন? দেখছিস না অামি ভুলোর সঙ্গে কমিউনিকেট করার চেষ্টায় অাছি।
— কোথায় চেষ্টায় অাছো? তুমি তো গত পনের মিনিট স্রেফ ভুলোর সামনে অাগডুম-বাগডুম হয়ে বসে চোখ বুঝে ডান হাতের তর্জনী এবং মধ্যমা ডান কপালের রগে ঠেকিয়ে বসে রয়েছো।
— ওরে বাবা, এত বাংলা বলতে কবে থেকে শিখলি রে?
— নিমকিদা…ছিছি, নিমকিবাবার কাছ থেকে।
— নিমকিবাবা অাবার কে রে? তোর সেই শিঙাড়াবাবাজির চ্যালা নাকি?
— শিঙাড়াবাবা তো তীর্থে গেছেন, তাই উনিই এখন…
— উনি তোকে বাংলা শিখিয়েছেন?
— ওই কিছু কিছু। ফি মাসে যাই তো, একটু প্রণাম ঠুকে অাসি, তখনই…
— বাঃ, ওনার মঙ্গল হোক।
— সেকী, সে তো উনি বলেন। অার তুমি ওরকম ভাবে বসে অাছো কেন তাই বললে না।
— সিনেমা দেখিস না?
— দেখি তো, প্রচুর দেখি। রোজই দেখি। অামার বস, ঘোষদা, বড়ই ভাল লোক। কখন যে কেটে বেরিয়ে যাই বুঝতেই পারেন না। সোজা এবাস-ওবাস করতে করতে সাউথ সিটি পৌঁছে অাইনক্স গিয়ে যা সিনেমা থাকে…
— এবাস-ওবাস মানে? ওনার বাড়ি তো সাউথ সিটির লাগোয়া প্রায়, একটা বাসেই তো কাজ হাসিল হওয়া উচিত।
— কী মুশকিল, তাতে ভাড়া দিতে হবে না? ধরো ২৩৪ নম্বরে উঠলাম, লর্ডস অবধি গিয়ে বললাম এটা কি সাউথ সিটি যাবে, কন্ডাক্টর বিরক্ত হয়ে না বলতেই জিভ কেটে নেমে পড়লাম, তারপর ৩৭ ধরে সাউথ সিটির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম এটা এইট-বি যাবে কিনা, অাবার না শুনে ধাঁই করে নেমে পড়লাম। ব্যস।
— ওরে বাসের টিকিট ছ-টাকা। সেটুকু দিতেও ইয়ে?
— অারে ব্রজদা, এ পেনি সেভ্ড ইজ ওয়ার্থ এ শেলডন ইন দ্য বুশ।
— শেলডন? সে অাবার কী রে? অামি তো জানতুম ওয়ার্থ টু ইন দ্য বুশ, ছোটবেলায় নকুলমামার কছে শুনিছি। নকুলমামা ডেলি চারপিস নকুলদানা খাওয়াতেন, রেগুলার। তোদের ওই জালুদার কিপটে বন্ধু দীপুদার মত নয়, গপ্পো পড়িয়ে নিয়ে চা অার দুপিস নকুলদানা দিয়ে জালুদাকে বিদেয় করেন। জালুদা এ নিয়ে খুব দুঃখ করেছেন অামার কাছে, কিন্তু অাদপে ভাল মানুষ তো, তাই বারবার ছুটে যান।
— অারে অামি কি অার ওইসব ইনজিরি-ফিনজিরি বুঝি? ঘোষদাই বলছিল, কীসব বিজ্ঞানের ব্যাপার, টিভিতে নাকি অাসে, বড় বড় বোম ফাটে…নাকি কবে যেন ফেটেছিল, এখনও নাকি তার ধোঁয়া দেখা যায়…
— কী ভুলভাল বকছিস? বোম ফাটলে তার ধোঁয়া তো একটু পড়েই মিলিয়ে যায়। বোসবাবুও যে কী ছাইপাঁশ…
— অাহা বোস নয়, ঘোষ।
— ওই হল। ভোঁস ভোঁস করে তো সারাদিন পড়ে পড়ে ঘুমোন, অার কীসব ঠুলি পরে বুলি লেখেন, ঘটিবাটি নিয়ে ঠঙাৎ-ঠং-ঠং করে সারাদিন পাড়া অস্থির করেন। তুই যে কী করিস তার ওনার খেয়াল অাছে?
— সেটাই তো। ওইজন্যই তো কাজটা ধরেছি।
— উদ্ধার করেছিস। তো এত যে সিনেমা দেখিস, সোনার কেল্লা দেখেছিস?
— ফেলুদার সোনার কেল্লা? কী বলছ কী ব্রজদা? অামি সমস্ত ফেলুদার সিনেমা দেখেছি। সোনার কেল্লা তো বেস্ট। কীসব জাতিস্মর-হিপনো-টিপনো ব্যাপার ছিল।
— হুঁ। সেইরকমই অামি এখন প্যারাপ্যাথেটিক টেলিসাইকোলজি করার চেষ্টায় অাছি।
— অ্যাঁ?
— অ্যাঁ নয়, হ্যাঁ। ভুলোর সঙ্গে অামি মানসিক যোগাযোগ করার চেষ্টায় অাছি।
— মানসিক যোগাযোগ?
— ইয়েস, মেন্টাল কানেকশন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে। প্যারাপ্যাথেটিক টেলিসাইকোলজি। ডঃ ভবাঙ্গমোহন হাজরার অাবিস্কার।
— ওরে বাবা, তুমি এসবও জানো? ওনার কম্পাউন্ডার ছিলে নাকি কখনও?
— অারে না না, কখনও চোখেও দেখি নি। এই তো, একটু অাগে চা খেতে গিছলুম…
— অামাকে গার্ডে বসিয়ে। অার অামার জন্য চা-ও অানলে না।
— অানছিলুম রে, হাতটা খালি করার দরকার ছিল, তাই তোরটাও এক চুমুকে…সে যাকগে, চা গেলে কত চা পাবি। যা বলছিলুম, চা খেতে গিয়ে দেখলুম বইটি।
— বইটি? কোন বইটি?
— এই বইটি। প্যারাপ্যাথেটিক টেলিসাইকোলজি মেড ঈজি, ব্রেন পিটি ফর ডামিজ। লেখক ডঃ ভবাঙ্গমোহন হাজরা। এম-বি-বি-এস, এম-ডি, এট-সে-টে-রা কত কী উপাধি।
— ব্রেন পিটি?
— ওই ব্রেনকে এক্সারসাইজ করাবে বোধহয়।
— কিনে ফেললে?
— ফেললুম বইকি। লোকটা দুশো টাকা চাইছিল, ধাঁ করে বলে বসলুম পাঁচ টাকা, লোকটা ব্যাজার হয়ে শেষে পনের টাকায় দিয়ে দিল।
— বাপ রে। কীসব লিখেছে ভিতরে। লেখকের জীবনী। বলে কিনা উনি হেস্টিংস থেকে পড়াশুনো করেছেন…এটা কী লিখেছে গো ব্রজদা, শক্ত কথা?
— ওটা ওনার ডিগ্রী রে গাধারাম। এমবিবিএস। পুরোটা দিয়েছে। ওই তো, মাস্টার অফ ব্রেজেনলি বর্মণ স্কীমস।
— ডাক্তারি ডিগ্রী বুঝি?
— তা নয় তো কী? ওই দ্যাখ না, পরেই লিখেছে, এমডি = মাস্টার অফ ডিসেপশন। টপ ডাক্তার রে।
— তো এই বই তুমি পড়ে ফেললে?
— ফেললাম বইকি। শিখেও ফেললাম কীকরে মানসিক যোগাযোগ করতে হয়। ভারি উপকারি বই।
— তো কোন লাভ হল? ভুলোকে পেলে?
— নাঃ। কেন যে কাজ করছে না বুঝছি না।
— অাচ্ছা ভুলোও যে চোখ বুজে শুয়ে অাছে, ও-ও বোধহয় তোমায় কল করার চেষ্টা করছে।
— মিসকল হয়ে যাচ্ছে বলছিস?
— দুজনেই দুজনকে কল করলে এনগেজ দেখায় না?
— তা খুব একটা খারাপ বলিস নি। ওই দ্যাখ না, নাক দিয়ে কেমন একটা ঘুরর-ফুঃ-ঘুরর-ফুঃ অাওয়াজও বেরোচ্ছে। বোধহয় কল এনগেজই বটে।
— কী করা যায় বলো তো?
— হউমম, বেশ গভীর গন্ডগোল, পেনসিভ প্রবলেম, জটিল জিজ্ঞাস্য, মিস্টিরিয়াস মিস্ট্রি…
— মিস্ট্রি!
— মিস্টিরিয়াস মিস্ট্রি!!
— রোমহর্ষক রহস্য!!!
— মিষ্টি? অাছে নাকি?

ওয়ান-টু-থ্রী-ফোর বুলেটের মতো চারপিস ডায়লগ চারদিক থেকে উড়ে এল। ব্রজদা অার নিতাই মাথা তুলে দেখলেন, সামনে চারমূর্তি দন্ডায়মান। ছোকরা বয়সি, স্কুলের গন্ডি পার করা এখনও পুরোপুরি হয়ে ওঠে নি। প্রথমজন বেঁটে, গাঁট্টাগোঁট্টা চেহারা, হাতের পাঞ্জা দেখে মনে হয় অনায়াসে গোটা দুয়েক হাতি দুহাতে ধরে জাগলিং প্র্যাকটিস করতে পারে। দ্বিতীয়জনের মুখে একটা ডেফিনিট লক্ষ্মীশ্রী রয়েছে, কিন্তু কিলোখানেক মেক-অাপের অাড়ালে চাপা পড়ে গেছে। কান থেকে দুটো লাল ইয়ারফোনের তার বেরিয়ে নির্ঘাত অাইপডে শেষ হয়েছে। থার্ডজনকে দেখতে সাধারণ, চোখে মোটা চশমা, পরনে পকেটওয়ালা সাদা সালোয়ার সুট, গাযের রঙ অত্যধিক ফর্সা, কিন্তু চশমার অাড়ালে চোখ দিয়ে যেন বিদ্যেবুদ্ধি ঝিলিক খাচ্ছে। লাস্টজনের লম্বা সুপুরুষ চেহারা, নাকের নীচে হাল্কা গোঁফের ছাপ পড়েছে, হিরো-হিরো ভাব, দেখে মনে হয় এক্ষুণি ময়ূরপঙ্খী চেপে রাজ্যজয় করতে বেরোবে।

ব্রজদাই প্রথম সামলে ওঠেন।

“তোমরা…মানে, ইয়ে অাপনারা?”

” তোমরাই চলুক,” চশমা বলে, “বয়সে তো…ওই অার কি।”

“অাপনি একটা মিস্ট্রির কথা বলছিলেন না?” পিঠের ব্যাগ থেকে ট্যাবলেট বের করতে করতে জাগলার বলে। স্ট্রেট পয়েন্টে চলে যাওয়ার টেকনিকটা তার জিম করার মতই ইদানীং অায়ত্ত করা।

“মিস্ট্রি? বলল তো মিষ্টি। উফফ, বড্ড খিদে পেয়ে গেছে। ধারে-কাছে পুঁটিরাম অাছে না?” হিরো চারদিকে স্ক্যান করতে শুরু করে, পুঁটিরাম কোনদিকে ডিস্কভার করার জন্য।

“অাঃ, ক্যাটুদা, তোমার ওই অলওয়েজ খাই-খাই,” অাইপড রিনরিনিয়ে ওঠে, “একটা মিস্টিরিয়াস মিস্ট্রি হচ্ছে এখানে। দাঁড়াও, এক্ষুণি হোয়াট্সঅ্যাপ করে গ্রুপে জানাই।”

“অামরা রহস্য খুঁজে বেড়াই,” চশমা বোঝাল, “কার্টুন নেটওয়ার্কে স্কুবি ডু দেখে অামাদের–মানে, প্রধানত অামার–মনে হয়েছে যা অামরা চারজনও এরকম কিছু একটা করতে পারলে বেশ মজা হবে। সারা বছর স্কুল করে করে ভীষণ একঘেয়ে লাগে, তাই ফি বছর পুজোর ছুটিতে মামাবাড়ি এসে চুটিয়ে রহস্যসন্ধানে বেরিয়ে পড়ি। অাপনার কথা শুনে মনে হল, এখানে বেশ একটা গোলমেলে রহস্য অাছে, তাই অামরা উপস্থিত।”

জাগলারের ততক্ষণ ট্যাবলেট অন করে পোর্টেবল মাউস অ্যাটাচ করে নোট নেওয়া শুরু হয়ে গেছে। বিরক্ত হয়ে সে বলে, “অাঃ, সরু, সময় নষ্ট হচ্ছে। ইন্ট্রো পরে হবে। অাপনি,” ব্রজদার দিকে পয়েন্ট করে, “বলুন তো, কী ঘটেছে। সবটা বলবেন, কিছু মিস করবেন না। কোনটা ক্লু সেটা তো অার বলা যায় না।”

হিরোর ততক্ষণে পুঁটিরাম কোনদিকে বোঝা হয়ে গেছে। “ভাল বরফি পাওয়া যায় শুনেছি,” বলেই সে সেদিকে পা চালিয়েছে।

“বরফি? সে তো শুগার কম, তাই না?” বলে হোয়াট্সঅ্যাপ করা বন্ধ করে এদিক-ওদিক চেয়ে অাইপড গুটিগুটি পায়ে ক্যাটুদার পিছন-পিছন হাঁটা দিয়েছে।

“রহস্য তো বটেই,” ব্রজদা মুখ হাঁড়ি করে বলে, “এই যে নিতাই, এর সাইকেল কি…।”

“কিডন্যাপ হয়েছে?” গম্ভীর মুখে ট্যাবলেটে টাইপ করতে করতে জাগলার বলে।

“না না,” ব্রজদা অাঁতকে ওঠেন, “হারিয়ে। ভিত্তোরিও হারিয়ে গেছে।”

“ভিত্তোরিও?” জাগলারের টাইপিং থেমে যায়, “সে অাবার কে?”

“সাইকেলের নাম,” এতক্ষণে মুখ খোলে নিতাই। “সকাল থেকেই সে নিখোঁজ। সারাদিন খুঁজেছি, পাইনি।”

“সাইকেলের নাম ভিত্তোরিও?” জাগলারের চোখ কপালে।

“ইতালীয় নাম।” সরু জিজ্ঞেস করে, “তো সাইকেল খুঁজতে গিয়ে ঘুমন্ত কুকুরের উপর ঝুঁকে কী করছিলেন?”

“ঘুমন্ত?” ব্রজদা ও নিতাই একসঙ্গে বলে ওঠেন।

“ঘুমোচ্ছে না তো কী চোখ বুজে শুয়ে শুয়ে নাক ডাকিয়ে গান করছে?” ভীষণ বিরক্ত গলায় বলে জাগলার।

“তাই বলো, এইজন্যই তোমার প্যারা…,” নিতাই শুধোয়।

“প্যারাপ্যাথেটিক টেলিসাইকোলজি। ওইজন্যই কাজ করছিল না,” ব্রজদাও মাথা নেড়ে সায় দেন।

“প্যারা—?”

“টেলি—?”

জাগলার অার সরুর মুখ তখন হাঁ।

“অারে দেখুন না,” ব্রজদা সাদর অাগ্রহে বইটি দেখান, “এই যে, ডঃ ভবাঙ্গ হাজরার লেখা। অব্যর্থ ব্যাপার। সাবজেক্ট ঘুমোলে বোধহয় কাজ করে না।”

সরু বইটি উল্টে-পাল্টে দেখে জাগলারকে দিয়ে বলে, “দেখ রে গনা, কে লিখেছে দেখ।”

গনা দেখে-টেখে বলে, “নাতি বোধহয়। কী একটা ছেলেমেয়ের মধ্যে রোমিও-জুলিয়েট ব্যাপার হয়েছিল। বাবা দুজন তো রেগে কাঁই। শেষে ত্যাজ্যপুত্র-ত্যাজ্যকন্যা করেছিল বোধহয়।”

“এফিডেভিট করেনি?”

“না, তা করেনি। বার-অ্যাট-ল বোধহয় বিদেশে ছিলেন। মেয়ের কাকা–অাপন নয়, অবশ্যই–নাতিকে ছোটবেলায় কিডন্যাপ করে তালিম দেয়। ভালই দিয়েছে বোঝা যাচ্ছে।”

“সেই কাকা তো ট্রেনে…”

“অারে না না, ওইসব গল্প। সে ঠিকই সারভাইভ করেছিল।”

“ইয়ে, কার কথা বলছেন অাপনারা?” ব্রজদা ইন্টারাপ্ট করতে বাধ্য হলেন।

“যিনি বইটি লিখেছেন তাঁর কথা,” সরু বলে।

“এসব ভুলভাল জিনিস বাদ দিন,” গনা অাবার গম্ভীর, “অাপনার মিস্ট্রি তাহলে কি লস্ট বাইসাইকেল, নাম ভিত্তোরিও?”

“সে তো বটেই,” ব্রজদা বলেন। “তবে টেম্পোরারি মিস্ট্রি হল ভুলো দ্য ডগের সঙ্গে কমিউনিকেট করা। বিপ্র বলল ভুলোই নাকি জানে ভিত্তোরিওকে খুঁজে বের করার অাসল পন্থা।”

“বিপ্র কে?” সরুর জিজ্ঞাস্য।

“বিপ্লবী প্রশ্ন,” ব্রজদার জবাব।

“ওনার সঙ্গে দু-একবার দেখা হয়েছে বটে,” গনা মাথা নেড়ে বলে, “লাজুক টাইপের।”

“বেশ লাজুক,” সরু বলে, “কিন্তু মুখে একবার কথা ফুটলে অার থামে না।”

“তো বেশ, অাপনাদের তাহলে ভুলো দ্য ডগকে জাগাতে হবে, তাই তো?” গনা টাইপিং চালাতে-চালাতে জানতে চায়, “এটাই মিস্ট্রি?”

“এটাই মিস্ট্রি,” ব্রজদা নিতাই দুজনেই ঘাড় নাইনটি ডিগ্রী রোটেট করে সায় দেয়।

“বেশ, তাহলে জিএসএলকে মিস্ট্রি মাস্টারস্ অাপনাদের রহস্য সল্ভ করতে প্রস্তুত। এই অামাদের কার্ড।” পকেট থেকে দুটো কার্ড বের করে সরু দুজনের হাতে ধরিয়ে দেয়।

ব্রজদা নিতাই কার্ডের উপর ঝুঁকে পড়ে দেখে, লেখা অাছে…

জি – এস – এল – কে
মিস্ট্রি মাস্টারস্

পার্মাবেস : তিব্বত
টেম্পোবেস : গেছোগড়

উই অান্ডারটেক অল টাইপস্ অফ মিস্টিরিয়াস মিস্ট্রিস
অ্যান্ড রোমহর্ষক রহস্যস

স্যাটিসফ্যাকশন গ্যারান্টীড

গনশা। সরু। ল্যাক্স। কাতুকুতু।

ক্লিফহ্যাঙ্গার যাকে বলে অার কি।

— —
সোমদেব ঘোষ, ২০১৫-১১-১৬, কলিকাতা শহর।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s