গতকাল অামাদের ঘটিবাটী টিমের ডিটেকটিভ পারোর বাংলা জন্মদিন ছিল। মিষ্টি ভ্যারাইটিটা গতপরশু ছিল, অার সাদা ভ্যারাইটিটা বোধহয় উনি পছন্দ করেন না। সুপুরি উনি নেন না, বরঞ্চ যারা খান তাদের ধরে খাস্তা খাঁ করে ছাড়েন। ডিটেকটিভ পারো অার কিছুদিনের মধ্যেই ব্রজবুলিতে অাত্মপ্রকাশ করবেন, তাই তার এক্সপেক্টেশনে অার বর্নডে-অ্যানিভারসারিতে ওনার জন্য এই লেখা।


 

— বুঝলেন মশাই, স্যালাড খেতে গিয়ে একবার ব্যালাড রচনা হয়েছিল।
— সেলাড খাকে বেলাড লিখে ফেললেন ঘোসবাবু? অাপনার তো বহুত টেলেন্ট অাছে।
— অার যে সে ব্যালাড নয়, একেবারে চোস্ত ব্যালাড।
— চোস্ত?
— চোস্ত।
— বহুত খুউব। সুনাইয়ে, অাপকা চোস্ত ব্যালাড।
— তো একদিন সকালে গেছি রুবির মোড়, পাড়ার চুনিবাবু জামশেদপুর যাবেন, তাঁর জন্য ব্যাগ কিনতে।
— রুবির মোড় গেলেন বেগ খরিদনে কে লিয়ে?
— সেটাই তো মুশকিল হল। চারিদিক ঘুরেও জামশেদপুর কেন, কোথাও যাওয়ার ব্যাগ পেলুম না।
— রুবিতে বেগ পেলেন না? অারে ইয়ে কেয়া অাশ্চরইয়া কি বাত। অভী ম্যায় ফোন লগাতা হুঁ কমার্স মিনিস্ট্রী মে, কমপ্লেন করনে।
— অারে না না, ওদের তো অার দোষ নয়। যাকগে, শেষে ডিসানের কাছে এসে এই ডিসিশানে এলাম যে গড়িয়াতে যে হাট বসে সেখানে গেলে হয়তো ব্যাগ পেলেও পেতে পারি। লাক ভালো থাকলে জামশেদপুরের ব্যাগও পেয়ে যেতে পারি।
— হাঁ, গাড়িয়াহাট মে ভী মিলতা হ্যা সুনা হ্যায় ম্যায়নে। অারে অাপ তো বড়ে সমঝদার নিকলে।
— ভাল অাইডিয়া না?
— বিলকুল। অার্ডিনারি বুদ্ধির লোক বুদ্ধুর মতো সীধে গাড়িয়াহাট পহুঁচ জাতা, অাপ তো একদম উন লোগোঁ কো হী বুদ্ধু বনাকে, একদম এক্সট্রা-অার্ডিনারি বুদ্ধি দিখাকে রুবি হোকে গাড়িয়াহাট জানে কা প্লান কিয়ে।
— অামি কতদিন ধরে নিতাইকে বলি, ওরে, ঘটে অামারও কিছু অাছে রে, শুধু যে বাটে অাছে তা নয়…
— বাটে মতলব?
— মানে বাট অার কি। বাট = লেকিন = কিন্তু। ওই একটু কিন্তুরিয়া-লেকিনাইটিস অাছে তো, তাই…
— লেকিন…অাই মীন, মগর বাটে কিঁউ?
— রাইম। রাইম করতে হবে না?রাইম না করলে জীবনের অার কী দাম, লাইফ তুচ্ছ।
— সহী বাত। রাইমিং ইজ মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট ইন রাইটিং, প্রোভাইড্স লাইটিং হোয়েন নীড্স সাইটিং, প্রিভেন্টস্ ফাইটিং অ্যান্ড মাচ নেল বাইটিং।
— মিলখা সিং, মিলখা সিং!
— নো নো ঘোসবাবু, নো রিল্যাক্সিং। রাইটিং ইজ লাইক বক্সিং, নো ম্যাচ ফিক্সিং।
— ইয়েস ইয়েস, রাইটিং…মানে, রাইট ইউ অার। কী বলছিলাম…ও, হ্যাঁ, ব্যাগ-জামশেদপুর-রুবি-ডিসান। তো, বেশ, ডিসিশন তো নিলাম, অাই মাস্ট গো টু দ্য হাট ইন গড়িয়া। কিন্তু গড়িয়া তো বেশ দূর, ব্যাগ তো চাই সকাল সাড়ে দশটার মধ্যে, নাহলে ফ্লাইট ক্যানসেল।
— ফ্লাইট? জামশেদপুর জানে কে লিয়ে ফ্লাইট?
— কেন, ফ্লাইট লাগে না বুঝি?
— জামশেদপুর কোথায় জানেন?
— কেন, রাজস্থান।
— রাজস্থান! জামশেদপুর রাজস্থান মে হ্যায়?
— রাজস্থানই তো জানতুম।
— ঘোসবাবু, অস্কুল মে জিওগ্রাফি, মতলব ভুগোল মে কিতনা নম্বর মিলতা থা অাপকো?
— ভুগোলে? খুব খারাপ তো পেতাম না। ওই তো, তিনরকমের পাথর ছিল যে, ইগ্নিয়াস-সেডিমেন্টারি-মেটামর্ফিক…
— অারে ছোড়িয়ে অাপকা পত্থর-উওত্থর। বেটার রহেগা কি অাপ স্টোরি বতাইয়ে।
— ইয়েস, স্টোরি। তো ভাল, গড়িয়া যাওয়ার কোন উপায় তো হুট করে পেলুম না…
— গাড়িয়া? কিঁউ? অাপ তো গাড়িয়াহাট জানে উওয়ালে থে না?
— গড়িয়াতে যে হাট বসে সেটাই গড়িয়াহাট না? তাই তো জানতুম। মানে, লজিক তো তাই বলে।
— হাঁ, অাপকা লাজিক একদম চোস্ত হ্যায়। অাপকা ইয়ে স্টোরি কি তরহ্।
— তাই না? অামি চোস্ত জিনিস ছাড়া লিখিই না। ছাইপাঁশ ইজ নট ইন মাই ব্লাড।
— ছাইপাঁশ বাদ মে হোগা, অাপ সেলাড কে বারে মে বতাইয়ে পহলে।
— তো ভাল, গড়িয়া যাওয়ার কোন সহজ রাস্তা তো পেলুম না। মনের দুঃখে এক ঠোঙা চিনেবাদাম খেতে খেতে রাস্তা ক্রস করে এদিকে এসে দেখি, গড়িয়াহাট অবধি অটো যাচ্ছে। ব্যাপারটা বুঝলুম না। এদিক থেকে অটো গড়িয়ে কীকরে যাবে? যাক গে, অটো নামধারী ব্যক্তিবিশেষের সঙ্গে তর্কে গিয়ে বহু নাকানিচোবানি খেয়েছি অাগে, পদে-পদে নিদারুণ কারেক্টেড হয়েছি, নামে-বেনামে একাকার হয়ে গিয়েছি। তাই অার কথা না বাড়িয়ে টুক করে উঠে পড়লুম। নামিয়ে দিল খানিক বাদেই, দেখলাম গড়িয়া সত্যিকারের দূর নয়…
— ঘোসবাবু, উও এক ম্যাজিক অাছে।
— ম্যাজিক? কীরকম কীরকম? অামার ম্যজিক ভীষণ ভাল লাগে।
— বেপার হল, রুবি কি মোড় সে অগর অাপ কো গাড়িয়া কি হাট জানা হো, অাউর অাপ গাড়ি কো বতায়েঁ কি অাপকো গাড়িয়া জানা হ্যায়, তো জেয়াদা সময় লগ জায়েগা। লেকি…মগর অগর অাপ কহে কি অাপকো গাড়িয়াহাট জানা হ্যায়, তো অাপ ঝট সে পহুঁচ জায়েঙ্গে।
— ও। মানে সন্ধি করে গড়িয়াহাট বললেই…?
— একদম। সীধে। ঝট সে। ডিরেক্ট।
— বাঃ, এটা তো জানতুম না। থ্যাঙ্কু।
— মেনশন নট।
— অাচ্ছা। তো গড়িয়ার হাট…
— গাড়িয়াহাট! মেজিক নোষ্টো হোয়ে যাবে।
— সরি। গড়িয়াহাট। তো ওখানে নেমে এদিক-ওদিক খুঁজতেও দেখি প্রচুর ব্যাগ। একজন বলে কিনা, স্পেশ্যাল জামশেদপুর যাওয়ার ব্যাগও অাছে। মাত্তোর তিনশো টাকা এক্সট্রা লাগবে।
— তীন সোও রূপেয়া? কিস বাত কে লিয়ে?
— কেন? ওই যে, স্পেশাল ব্যাগ। জামশেদপুরর ব্যাগ রেয়ার জিনিস, সবাই রাখে না, ওই একমাত্র সপ্তাহে একবার করে নেপালের কালামারি অঞ্চল থেকে ইম্পোর্ট করে, অ্যাট গ্রেট রিস্ক টু হিস লাইফ। বড় মায়া লাগল, ফি সপ্তাহ এভাবে জীবনের বাজি নিয়ে খেলে পেট চালানোর দায়ে, অামি তিনশো কেন, সাড়ে তিনশো এক্সট্রা দিয়ে দিলাম।
— দিয়ে দিলেন?
— ছেলেটা পেয়ে বহুত খুশ। বলে কিনা, কালামারির সেই ডিমসুন নামক পাহাড়ের যে ওল্ড মঙ্কের কাছ থেকে ইম্পোর্ট করে, ওনার কাছে এবার দু-বার যাবে, অামার নাম করে। কতটা পুণ্য লাভ করলুম বলুন।
— সচ বাত। অাপকা হেভেন জানা শিওর। মতলব, চিগু সাহাব অ্যায়সে অাদমি কো কিস কনশান্স সে নীচে ভেজ সকতে হ্যাঁয় বতাইয়ে।
— হুঁ হুঁ, দেখছেন তো, অামিও টোটাল ইয়ে নই। ফিশ ফিঙ্গার যে কাস্টার্ডের সঙ্গে খাওয়া যায় না, সে অামিও জানি।
— ওয়াহ্! কেয়া বাত্! তো উখানে বসে খেলেন বুঝি, ফিশ ফিঙ্গার অাউর কাস্টার্ড?
— ছি ছি, ওকি মানুষে খায়? এগারো নম্বর নীল বাড়িতে যে ডাক্তার থাকেন, তিনি খান শুনেছি…কিন্তু না, অামি খেলাম স্যালাড।
— মগর ইতনা কুছ রহতে হুয়ে সেলাড কিঁউ?
— অারে ওই টীশার্টে লেখা থাকে না? অ্যালকোহল বিকজ নো ইন্টারেস্টিং স্টোরি এভার স্টার্টেড উইথ স্যালাড? ওটি পড়েই কেমন দুঃখ লাগল। স্যালাড বলে কি মানুষ নয়? তারও তো একটা ফিলিং অাছে, সেল্ফ-এস্টীম অাছে।
— উসি লিয়ে উসকো খানা চাহিয়ে?
— বিলকুল। মানে, সোসাইটিতে স্যালাডেরও তো একটা স্থান দরকার, তাই না?
— বিলকুল।
— তো ভাল, অনেক খুঁজে একটা দোকান–কী খাটজিত না কী নাম–তাতে গিয়ে কনফিডেন্টলি বললাম, স্যালাড দাও, অামি পুণ্য লাভ করব।
— সেলাড খানে সে ভী পুন্যেয়া পায়েঙ্গে?
— অামার তখন ওই একটা পুণ্যলাভের গোঁ ধরে গেছে, বুঝলেন? অামি তো বাজখাঁই গলায় ডিক্লেযার করলুম, স্যালাড চাই। কাউন্টারের লোকটা হাঁ করে অামার দিকে চেয়ে রইল, পাশে একটি চিমড়েপটাশ টাইপের লোক ছিবড়ে-খাওয়া দাঁত বের করে গায়ে জ্বালা ধরানো ডেলি কুড়িটা বিড়ি পঁচিশটা পান পাঁচটা খৈনি খাওয়া একটা হাসি দিয়ে বলল, এটা নাকি রোলের দোকান, এখানে স্যালাড পাওয়া যায় না। অামিও নাছোড়বান্দা, স্যালাড অামার চাই-ই চাই। শেষে ওই চিমড়েপটাশই ম্যানেজ করল ব্যাপারটা। বলল, রোলের সঙ্গে যে পেঁয়াজ-বীট এইসব দেওয়া হয়, ওইটে অামায় দেওয়া হোক। অামি করলুম ইমিডিয়েট প্রোটেস্ট। তাহলে বাকি রোলটা ওয়েস্ট যাবে। খাবার নষ্ট করা অামার ব্লাডে নেই। চিমড়েপটাশ দেখলাম খুব সহৃদয় ব্যক্তি, গ্যালান্টলি নিজেকে শহীদের বেদীতে বিছিয়ে দিয়ে বললেন, এই মহত কাজে ওনারও একটা কনট্রিবিউশন থাকুক, সেই সুযোগ যেন ওনাকে দেওয়া হয়। অামি তো ড্যাম গ্ল্যাড হয়ে গেলুম, ওনাকে বুকভরে অাশীর্বাদ করে ওনাকে রোলটা দিয়ে নিজে স্যালাডটা নিলুম। কতটা সেল্ফলেস ভেবে দেখুন। দিব্যি কষ্ট করে শিভালরাসলি রোলটা খেয়ে নিলেন।
— মহাপুরুষ হ্যাঁয় উও।
— সত্যিই। এরকম লোক অাজও এই পৃথিবীতে অাছে বলেই…
— অাপ বেলাড লিখে ফেললেন?
— অারে না না, সে তো এবার অাসছে। তো অামি তো স্যালাড নিয়ে ভেরি হ্যাপি, ভাবলুন, ভীড়-ভাট্টা থেকে একটু দূরে গিয়ে মজাসে খাব। একটু হাঁটা মেরে ডোভার লেনের ঢুকে পড়লুম, করে অারেকটু এগিয়ে গিয়ে একটা ফাঁকা জায়গায় ঠোঙা থেকে স্যালাড বের করে মুখে দেব, অমনি…
— অাসমান সে অরাকিল কি তরহ্ ব্যালাড অাপকে মুঁহ সে নিকাল অায়া?
— অারে ধুর মশাই, সে হলে তো ভালই হত। এক ইডিয়েট কাক, বাজপাখির মতো টার্গেট করে ছোঁ মেরে ঠোঙাটা এক ঠোক্করে…
— লেকর ভ্যানিশ?
— কাক ভ্যানিশ, মনের দুঃখে। ঠোঙাটায় ঠোক্কর ঠিকই ঠুকরেছে, কিন্তু ক্যাচ-কট-কট হয় নি। ঠোঙা স্ট্রেট গিয়ে পড়েছে রাস্তার পাশে নর্দমায়।
— এহে, হোয়াট এ লস! অাপকা ইতনা সাধের রোল কি স্যালাড, সীধা ডিরেন কী ভীতর?
— একদম।
— বহুত খুউব। মগর এক বাত ঘোসবাবু, বেলাড তব অাপ কব লিখে?
— অাহা বেলাড নয়, ব্যালাড। ওই যে ঠোঙাটা পড়ল ড্রেনের ধারে, কাছে থেকেই ওয়াচ করছিল ব্যাটাচ্ছেলে, ঠোঙা গ্রাউন্ড তো সোজা ফাউন্ড। কচর-মচর করে পাঁচ মিনিটেই সাবার।
— সাবার? মতলব খা লিয়া? উও ডিরেন কা সেলাড?
— অাহা, ওরা সব খায়। বংশধর অফ দি গ্রেট লছা, মানে লম্বকর্ণ ছাগল। খাওয়া-দাওয়া করে সে দাড়ি নাড়িয়ে লেজ টেনে গলা থেকে একটা জেম প্রোডিউস করলো। সাধে কী অার বলি, স্যালাড খেয়ে ব্যা-লাড? একেবারে চোস্ত ব্যালাড, গ্রেটেস্ট ওফ অল টাইম। G-reatest O-f A-ll T-ime।
— অ্যাঁ?!

— —
সোমদেব ঘোষ, ২০১৫-১১-২২, কলিকাতা শহর।

Advertisements

2 thoughts on “স্যালাড খেয়ে ব্যালাড

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s