— জানিস পুলি, টাইটানিকের মতো সিনেমা হয় না।
— তাই নাকি?
— বেস্ট সিনেমা ইন দিস ওয়ার্লড।
— ডিভিডি বেরোচ্ছে বুঝি? থ্রী-ডি, না ফোর-ডি?
— বলে কি মেয়ে। ডিভিডি অাবার থ্রী-ডি হয় নাকি? তবে যদি হত…অা-হা।
— দিদি?
— উঁ?
— ও দিদি!
— অাঃ, ডিস্টাব করছিস কেন?
— এরকম ডেটাইমড্রীম চলবে না বলে দিলুম।
— কেন হে, লিওর প্রতি তোমার বুঝি ক্রাশ নেই?
— কেন থাকবে না? অালবাত অাছে। ঠিক যেমন তোমার কেট উইন্সলেটের প্রতি অাছে।
— অাছে না রে, ছিল। তারপর সে বিয়ে করার পর হার্ট হেল হয়ে গেল।
— না বিয়ে করলে কী করতে? ইংল্যান্ড গিয়ে বিয়ে করতে হত তো।
— যেতুম। অালবাত যেতুম। এই পোড়া দেশে এটুকু ফ্রীডম…জানিস, অাজও…
— রোয়েট। তোমার ম্যাচিওর সোশ্যাল লেকচার পরে শুনব। অালমারি থেকে বেরিয়ে অাসার তো মুরোদ নেই…
— ওটা ক্লসেট। অার অামার জান পেয়ারী সিস্টার।
— তোমার ওই টলারেন্স সহিষ্ণুতার জন্য অপেক্ষা করতে করতে…
— টলিষ্ণুতা।
— ওই হল। টাইটানিক। গা-পু-চির ঘুম পাচ্ছে।
— তোর ওই টেডির ঘুম পাচ্ছে না ছাই, মনখানেক পরোটা-অালুদম সেঁটে নিজেরই চোখ বুজে অাসছে, গোটা পাঁচেক পাশবালিশ নিয়ে বসেছেন ম্যাডাম…
— অাঃ, বড় বাজে বকো। টাইটানিক।
— এই হচ্ছে অাজকালকার বাচ্ছাদের প্রবলেম। বাজে বকেই তো বেস্ট জিনিসগুলো পাওয়া যায় বস। যেমন ধর…
— শোন দিদি, অাগেই ওয়ার্ন করেছি…
— শ্যেন দৃষ্টিতে?
— উফফ। খেলব না। চললুম।
— চললুম কী রে। পরোটা গিলে ভুড়ি বেরিয়ে গেছে তো, তুমি চাঁদু নড়বে এখান থেকে? তাহলেই হয়েছে। চুপচাপ শোনো, লেট দিদি স্পীক।
— ওক্কে। বাট ফাস্ট।
— টাইটানিকের যাত্রা অাসছে!
— অ্যাঁ? {খাবি খেয়ে}
— অাঃ, অাস্তে, অালুর দম বেরিয়ে অাসবে।
— যাত্রা অাসছে মানে?
— মানে যাত্রাপালা।
— কানে ঝালাপালা।
— নাম অবিশ্যি পালটাবে। টাইটানিক নামের মার্কেট নেই।
— কী নাম দেবে? দরজা কি অার ভেলা হয়?
— হুম। বেড়ে বলেছিস তো। চ্যালেঞ্জ? কে সবচেয়ে খাবি খাওয়ার মতো নাম বানাতে পারে।
— উইন কন্ডিশন কী?
— জুরাসিক পার্ক।
— খাইসে ডাইনো অাইসে?
— এগজ্যাক্টলি।
— চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্টেড।
— একটু জায়গা দি? তাহলে বোঝা যাবে। একটা পাশবালিশ পাস কর।
— শুরু করি। রিপিট।

–> দরজা কি অার ভেলা হয়?

–> ডুইব্যা ডুইব্যা জল খাই / সিঁদুর নাহি পাই।

–> কেটে কেটে বন্ধুকে লিও?

–> মুখের থুথু / সাগর জুজু।

–> জুইত্যা পইরা কলনাচ করমু? {মানে ওই ট্যাপডান্স করেছিল না?}

–> কেট বনে মেট / জাহাজ হল লেট? {লেট মানে এখানে দেরি নয়, স্বর্গত}

–> ক্যামেরন / করেন ক্যামেরা পণ।

— এবার বড় দুটো। যে জিতবে সে।

লিও হল রাজা
কিন্তু পেল বিষম সাজা,
অ্যাফ্রিকার নয় ঠিক
শেষে অ্যাটলান্টিক।

— বাঃ, শেষে লিওকেই ডোবালি সিস্টার। বেশ, অামার শেষ প্রচেষ্টা।

জুয়াখেলা সর্বনাশা
শুন লিও ডিক্যাপরিও,
সাগরবুকে বাঁধবে বাসা
অারাম করে জিও।

— এটা ঠিক না, লিও কী দোষ করলো?
— অস্কারটা পায়নি তো, এটাই দোষ।
— তাহলে ফলাফল কী হল?
— ড্র-ই তো মনে হয়।
— পাশবালিশ ফেরত দাও, গা-পু-চি ঘুমোবে।
— তোর মতো কুঁড়ের গাছ লাইফে দেখিনি।
— দেখেছো। রোজ দেখ। অায়নায়।
— হউমম। দে, একটা পাশবালিশ অ্যাট লিস্ট দে…

— —
সোমদেব ঘোষ, ২০১৫-১১-২৯, দুপুর সাড়ে দেড়টা, রোদু উঠেছে, কলিকাতা শহর।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s