জু-ডে ১৬৬৯২৮.৬।
DL-D314, চা-থা।
বিপ-বিপ-বীইইপ-বিপ।

–অাঃ, মোলো যা। এই সময়ে অাবার অ্যালার্ম! দিয়েছিল কে, শুনি?
— অাজ্ঞে, অাপনিই তো বলেছিলেন…
— চোপরাও!
— অাজ্ঞে, পরিনীতা-প্রিয়াঙ্কা-বিঅার-ইয়াশ-দীপক-ওপরাহ্-অাকাশ…
— কে?
— অাজ্ঞে, অাকাশ।
— অাকাশ চোপরা অাবার কে?
— অাজ্ঞে, ক্রিকেট খেলতেন, ওপেনিং ব্যাটিং করতেন।
— ক্রিকেট খেলতেন মানে? ক্রিকেট তো একধরনের পোকা। সন্ধ্যারাতে ঝিঁঝিঁ করে ডাকে না?
— অাজ্ঞে, একধরনের খেলাও বটে।
— তাই নাকি? শুনিনি তো কখনও। কে খেলে?
— অাজ্ঞে, এখন অার কেউ খেলে না। অাগে খেলতেন। অনেকদিন খেলা হয় না।
— কীভাবে খেলা হত?
— অাজ্ঞে, ব্যাট-বল দিয়ে।
— বাদুড় দিয়ে খেলা খেলতো? মানে বাদুড়-শিকার? বল ছুঁড়ে-ছুঁড়ে?
— অাজ্ঞে, না, ব্যাট মানে এখানে বাদুড় নয়। ব্যাট একধরনের খেলার সরঞ্জাম, উপকরণও বলতে পারেন, অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরী হয়…মানে, হত। এখন অার হয় না।
— অ। একটা রিমাইন্ডার রেখে দাও তো, এর পরে পুনর্লাসায় ফিরে এটাকে নিয়ে পড়াশুনো করতে হবে।
— অাজ্ঞে, যে অাজ্ঞা।
— এবারে বল অ্যালার্মটা কেন দিয়েছিলি অপদার্থ।
— অাজ্ঞে, অামি অপদার্থ নই। অামি Nit-AI। অামার স্রষ্টা অামায় সৃষ্টি করে…
— অাঃ, অাবার সেই ক্যাচানি।
— …কত টাকা অায় করবেন সেই অানন্দে তিন বোতল জার্মেশিয়ান বিয়ার্দকা খেয়ে…
— ওফফ। ওরে ভুল হয়ে গেছে রে মাই বাপ, ক্ষমা করে দে।
— …একটু বেসামাল অবস্থায় নামকরণ করতে গিয়ে Not-AI না লিখে…
— Nit-AI লিখেছিলেন তো? শুনেছি রে বাবা, পাঁচশো বার শুনেছি, এবার ক্ষান্ত দে।
— …দুর্ধর্ষ দুশমন Otto K.-এর পাল্লায় পড়ে Nit-AI লিখে…
— মানত চড়াবো, দিদিঘাটে। পাঁচ পিস বেকার ট্রাম তাড়া করা রোডসাইড ডগের ডাক। তোর নামে।
— …পেটেন্ট অাপিসে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তখন থেকেই অামার এবং অামার পূর্বনিটাইদের নাম Nit-AI। এ অামার বংশ-ইতিহাস। বললে মর্যাদা বাড়ে। মাদিদি বলে গেছেন।
— উফফ। হয়েছে?
— অাজ্ঞে, বংশ-ইতিহাস। বললে মর্যাদা বাড়ে। মাদিদ…
— নিটাই ২৩১৫!
— অাজ্ঞে, অাজ্ঞা করুন।
— চুপ। একেবারে চুপ। যা বলছি তার জবাব দাও। অ্যালার্মটা কেন দিয়েছিলে নিটাই ২৩১৫?
— অাজ্ঞে, অাপনি বলেছিলেন বলে।
— অামি বলেছিলাম? হতভাগা, যা ইচ্ছে তাই? কখন বলেছিলাম?
— অাজ্ঞে, কাল রাতে। কাল সারাদিন উত্তেজনার চোটে ভাত খেতে ভুলে গিছলেন, পরে বদহজম-গ্যাস-বুকজ্বালা হয়েছিল, পিত্তিও পড়েছিল, অাপনার মিসেস এবং মিস্টার অাপনাকে কাল রাতে শাসিয়েছিলেন, তাই অাপনি তড়িঘড়ি অ্যালার্মটা সেট করেছিলেন।
— অ। তাই বল। খিদেটাও পেয়েছে বটে। টিফিনবাক্সে কী অাছে?
— অাজ্ঞে, গরম ধোঁয়া ওঠা ভাত, কাৎলা মাছের গাদার ঝাল, অার গুটিকয়েক লঙ্কা।
— বাঃ। তোফা খাওয়া হবে। একটু ব্রেক দি। কটা বাজে যেন?
— অাজ্ঞে, অাপনার হাডে একটু অাগেই তো এল। জুলিয়েন ডে ১৬৬৯২৮.৬…
— অাঃ, ওসব কি অামি বুঝি? সোজা চ্যাংলায় বল না বাবা, বাজে কটা।
— অাজ্ঞে, চোদ্দোটা, এখানকার হিসাবে।
— চোদ্দটা? মানে দুপুউউউর…
— অাজ্ঞে, দুটো।
— অ। হ্যাঁ, খাওয়া যেতেই পারে। ক্রুজ-চেনি-পটারকে ডেকে নে।

ক্রুজ : কমলা। পিঁ-পিঁ-পিঁপ্পিরি-পিঁ।
চেনি : লাল। পিঁপ্পিরি-পিঁ-পিঁপ্পিরি-পিঁ।
পটার : হলুদ। লাল। পিঁ-পিঁ-পিঁ-পীঁইই।

— ধরা পরেছে?
— অাজ্ঞে, ক্রুজ অার চেনি দেখতে পাচ্ছে, চেনি ফায়ার করেছে। পটার গন্ধ পেয়েছে, পেরিমিটারে অাছে।
— চেনিরটা লেগেছে?
— অাজ্ঞে, না, লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।
— সাধে কি অার ওই নাম…

ক্রুজ : লাল। পিঁপ্পিরি-পিঁ-পিঁপ্পিরি-পিঁ।
চেনি : বেগুনি। কেঁউ-কেঁউ-কিঁউ-কিঁউ।
পটার : কমলা। পিঁ-পিঁ-পিঁপ্পিরি-পিঁ।

— চেনি ডাউন?
— অাজ্ঞে, না, তবে অাহত।
— ক্র্যাশ করেছে?

ব্রঅঅঅমমম…ধুমধাঁই…ভুসসস…

— অাজ্ঞে, হ্যাঁ, এবার করেছে।
— চেনির নাম মাছভাত থেকে কাটা গেলো। ক্রুজ মিসাইল ছুঁড়েছে?
— অাজ্ঞে, লক্ষ্যভেদও করেছে।
— সাধে কি অার টপ গান বলি। পটার গার্ডে অাছে তো?
— অাজ্ঞে, ওয়্যান্ড অ্যাট দ্য রেডি।
— গুড। যাওয়া যাক? নিটাই ২৩১৫, রাস্তা বাতলাও। সেট কোর্স।
— অাজ্ঞে, যে অাজ্ঞা।
— কতক্ষণ লাগবে?
— অাজ্ঞে, স্যাসকোয়াচটা কিন্তু সম্পূর্ণ থামে নি, এখনও পালাচ্ছে।
— পটারকে বলো…

ক্রুজ : সবুজ। পিঁইইইই-পিঁ-পিঁ-পিঁইইইই।
চেনি : কালো।
পটার : লাল। পিঁপ্পিরি-পিঁ-পিঁপ্পিরি-পিঁ।

— অাজ্ঞে, লক্ষ্যভেদ করেছে।
— গুড। পটার অার ক্রুজকে বলো অাটকে রাখতে। জালটা ফেলে দাও।
— অাজ্ঞে, যে অাজ্ঞা। জালটা ক্রুজ এরই মধ্যে ফেলে দিয়েছিলো, সেটা ভেদ করেই স্যাসকোয়াচটা পালাচ্ছিল। পটার অারেকটা জাল ছুঁড়েছে, একটু বেশি ডোজ দিয়ে। স্যাসকোয়াচটা হুট করে নড়চে না।
— তাহলে সেট কোর্স। সময় লাগবে কতটা?
— অাজ্ঞে, প্রথম সংকেত পেতেই খট্টাঙ্গমোবিলকে ওদিকে ঘুরিয়ে নিয়েছিলাম। তখন দূরত্ব ছিল ৪৫৩.৯ যোজন। পৌঁছে গেছি প্রায়। ওই ছোট পাহাড়টা পেরোলেই…
— ওটা চেনি না?
— অাজ্ঞে না, চেনির ধ্বংসাবশেষ।
— গেছে?
— অাজ্ঞে, চেনির শিকারের দিন শেষ।
— একটা অর্ডার দিয়ে দিও নিটাই ২৩১৫। এখন না, রোয়াকে ফিরে।
— অাজ্ঞে, যে অাজ্ঞা।
— ওই তো। পটার অার ক্রুজ। ওদের ইনাম দেওয়া উচিত, তঙ্খোয়া বাড়িয়ে দেব…
— অাজ্ঞে, অামি অাজ থেকে ওদের রিচার্জ ডোজটা বাড়িয়ে দেব।
— গুড। ওইটে স্যাসকোয়াচটা? বাপরে। ফুট দশেক হাইট হবে।
— অাজ্ঞে, এগারো ফুট তিন ইঞ্চি। ১.৮৭৫ ধনু, চ্যাংলা মতে।
— চেনিকে নামালো কীকরে?
— অাজ্ঞে, চেনি ফায়ার করে মিস করায় স্যাসকোয়াচটা তৃতীয় নয়ন থেকে মেজার দেগে…
— মেজার? সে অাবার কী?
— অাজ্ঞে, লেজারের বড় ভাই।
— স্যাসকোয়াচের থার্ড অাই থাকে নাকি?
— অাজ্ঞে, অাজকাল থাকে। ]…অ্যান্ড কোং[™ -এর মুথপাত্র বলে তাতে নাকি বিক্রী বেশি হয়।
— ]…অ্যান্ড কোং[™ বলছে যখন, ঠিক না হয়ে যায়?
— অাজ্ঞে, অাপনাকে ব্যাঙ্গে পেয়েছে। খট্টাঙ্গমোবিলটা নামাবো? নাকি এখান থেকেই লক্ষ্যভেদ করবেন?
— অার নামিয়ে লাভ কী? নামলেই তো সেই বাইরে যাওয়ার কঙ্কাল গায়ে গলাতে হবে।
— অাজ্ঞে, এক্সোস্কেলিটন না থাকলে এই .৮৭ জি মাধ্যাকর্ষণ সামলাতে পারবেন না।
— নাঃ, পারছি না। এখান থেকেই সাবাড় করবো। দেখি, দূরবীনটা লাগাও দেখি।
— অাজ্ঞে, ত্রিশূলটা প্রস্তুত করবো না পাশুপতটা?
— দাঁড়াও দাঁড়াও, কেমন গোলমাল ঠেকছে।
— অাজ্ঞে, দূরবীনটা ঠিকই লাগানো অাছে। ছবি ঠিকই অাসছে।
— না না, দূরবীণ নিয়ে নয়। স্যাসকোয়াচটা…এটা কি বুড়ো?
— অাজ্ঞে, তা হতে পারে। সেটা পরখ করে নি চেনিরা। পাঠাবো একটা মশাকে?
— না, লাগবে না। ওটা বুড়ো। স্যাসকোয়াচের পিঠের রোম কমবয়সে উজ্জ্বল কমলা হয়, বয়স বাড়লে তাতে একটা তামাটে প্রলেপ পড়ে। এর রোম দেখো, পিঠের দিকটা প্রায় খয়েরি। এর যথেষ্ট বয়স হয়েছে।
— অাজ্ঞে, তা কীকরে সম্ভব? ]…অ্যান্ড কোং[™ সবচেয়ে নতুম মডেলই DL-D314-তে ছেড়েছে, তাই তো অাপনার টিকিট পেতে এত দেরী হল।
— কবে ছেড়েছে, নতুন মডেল?
— অাজ্ঞে, জু-ডে ১৬৬৭৪৬.৪-তে।
— তার মানে মাত্র মাস ছয়েক অাগে?
— অাজ্ঞে, হ্যাঁ।
— অার যখন ছাড়া হয়, তখন এদের বয়স কত হয়?
— অাজ্ঞে, ছাড়া হয় ঠিক তিনশো দিন বয়সে।
— তার মানে এখন এর বয়স হওয়া উচিত বেশির চেয়ে বেশি ষোল মাস?
— অাজ্ঞে, হ্যাঁ।
— ষোল মাস বয়সি স্যাসকোয়াচ দেখেছো নিটাই?
— অাজ্ঞে?
— ষোল মাস বয়সি স্যাসকোয়াচ দেখেছো নিটাই ২৩১৫?
— অাজ্ঞে না, সরাসরি না।
— কিন্তু কীরকম দেখতে হওয়া উচিত সে ধারণা অাছে তো?
— অাজ্ঞে, সুস্পষ্ট ধারণা।
— দেখে মনে হয়? এটার ষোল মাস বয়স?
— অাজ্ঞে না।
— কত মনে হয়?
— অাজ্ঞে, পিঠের রোম প্রায় পুরোটাই খয়েরী। উচ্চতা বারো ফুট প্রায়…
— স্যাসকোয়াচ সারা জীবন লম্বা হতে থাকে।
— অাজ্ঞে হ্যাঁ।
— অার বছর বছর ঠিক একই রকম হাইটে বাড়ে।
— অাজ্ঞে হ্যাঁ। সেই হিসাবে এর বয়স হবে অন্তত তিনশো বছর।
— সুভান অাল্লা!
— অাজ্ঞে, অতদিন অাগে তো…
— মানুষ পৃথিবী ছেড়েই বেরোয়নি? জানি। তোমার ওই ঝিঁঝিঁ খেলা খেলে খেলে কূপমন্ডুক হয়ে বসে রয়েছে।
— অাজ্ঞে, তাহলে কী করনীয়?
— শোন নিটাই ২৩১৫, এই স্যাসকোয়াচ ]…অ্যান্ড কোং[™-এর কোন জেনেটিক্সের গবেষণাগারে তৈরী নয়, DL-D314-র অাদিম অধিবাসি।
— অাজ্ঞে, তা কীকরে হয়?
— হতে বাধা কোথায়? DL-D314 যে ]…অ্যান্ড কোং[™-এর ডিজাইন করা, কে বলেছে?
— অাজ্ঞে, অামি একটু গুগলিতে খুঁজে দেখলাম।
— এখানে গুগলি অাসে?
— অাজ্ঞে, খুব হাল্কা একটা সিগন্যাল পাচ্ছি। তা থেকেই দেখলাম, DL-D314তে ]…অ্যান্ড কোং[™-র প্রথম প্রস্পেকটর যখন নামে তখন সময় জু-ডে ১৪২৫৮২.৫।
— তার মানে অাজ থেকে প্রায়…
— অাজ্ঞে, প্রায় ছিয়াত্তর বছর অাগে।
— অার এদের DL-D সিরিজ কবে থেকে শুরু হয়?
— অাজ্ঞে, জু-ডে ১৫০৭১১.৪।
— কী বুঝলে, নিটাই ২৩১৫?
— অাজ্ঞে, এটাই DL-D0?
— অাজ্ঞে হ্যাঁ, শ্রীমান নিটাই। এটাই DL-D0।
— অাজ্ঞে, অার ওই স্যাসকোয়াচটা অাদিম জীব? প্রাকৃতিক জীব?
— এবং মৃতপ্রায়। ক্রুজের মিসাইলটা ওকে অাহত করেছিল, পটারের অাক্রমণের পর ও অার উঠে দাঁড়াতে পারবে না কোনদিন। দেখছো না, পা-দুটো ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেছে?
— অাজ্ঞে, তাহলে কি শিকার করবেন না? না হলে তো এত খরচ করে…
— নিটাই ২৩১৫, পটারকে ডাকো। ওর কাছে নুন-হলুদ পুলটিশটা অাছে না?
— অাজ্ঞে, একটাই অাছে অামাদের কাছে। চেনির কাছে অারেকটা ছিল, সেটা ধ্বংস। এইটা ব্যবহার করে ফেললে যদি অাপনার কিছু হয়, তাহলে অাপনাকে মেরামত করে যাবে না।
— অামার কিছু হবে না। অামরা কাল সকালেই ফেরত যাব বাড়ি। পটারকে বলো ওটা স্যাসকোয়াচকে লাগিয়ে দিতে। কাজ হবে তো?
— অাজ্ঞে, দু ঘন্টার মধ্যে অাবার দৌড়োবে।
— বেশ। চেনির ব্যাপারে কিছু করা যাবে অার?
— অাজ্ঞে না, ওর শেষকৃত্য করতে ওর দুই বন্ধু চেনিকে খবর দেব।
— দাঁড়াও। কী বলবে, চেনি ধ্বংস হল কেন?
— অাজ্ঞে, স্যাসকোয়াচের অাক্রমণে।
— অার সেই স্যাসকোয়াচের কী হল?
— অাজ্ঞে, তা তো জানি না। অাপনি কি তাকে ছেড়ে দেবার কথা ভাবছেন? কিন্তু চেনির ধ্বংসের প্রতিশোধ অাপনি না নিলে তো শিকারি হিসেবে অাপনার সন্মান-প্রতিপত্তি…
— ধুলোয় মিশে যাবে।
— অাজ্ঞে, চেনিরাও কিন্তু অাপনার বিরুদ্ধে মামলা অানবে।
— অানবে না।
— অাজ্ঞে, বন্ধু চেনিরা জানতে পারলে…
— জানবে না। এক্ষুণি পটার অার ক্রুজের স্মৃতি হাতাও।
— অাজ্ঞে, সেটা…
— নিটাই ২৩১৫, এক্ষুণি পটার অার ক্রুজের স্মৃতি হাতাও। পালটাও। পাশুপত প্রয়োগ করে অামি, Tayno Deva / টেনো ডেভা, শিকারি মহলে Tay. D নামে বিখ্যাত, অাজ এই দুপুরে DL-D314তে বসে ]…অ্যান্ড কোং[™-র নতুন মডেল একটি তিনশো দিন বয়সি স্যাসকোয়াচকে অনু-পরমাণুতে ধ্বংস করে দিয়েছি। নিটাই ২৩১৫, এটা এক্ষুণি করো।
— যো হুকুম।
— পটারের কাজ শেষ?
— অাজ্ঞে, শেষ। ঘুমের ওষুধ দিয়েছে।
— হাতিয়ে পালটেছো?
— অাজ্ঞে, ওদের দূরে চলে যেতে বলেছি। অার একটু পরেই ওদের স্মৃতি পালটাবে।
— গুড।
— অাজ্ঞে, অার অামার স্মৃতি পালটাবেন না?
— তোমার কী মনে হয়, প্রয়োজন অাছে?
— না, নেই।
— তাহলে কোন ঝামেলাই রইল না, কী বলো?
— অাজ্ঞে, না।
— হউমম। বেশ গভীর ব্যাপার, বেশি ভাবলে ডীপথেরিয়া হবে। খিদেটা বেশ জমে পেয়েছে রে নিটাই, বাজে কটা?
— অাজ্ঞে, ১৬৬৯২৮.৭…
— সোজা চ্যাংলায় বল।
— অাজ্ঞে, বিকেল সাড়ে চারটে।
— বেশ, ভাতটা গরম অাছে তো?
— অাজ্ঞে, নিঃসন্দেহে। বাক্সবন্দী অাছে যে।
— দারুণ। নে, বের কর।
— অাজ্ঞে, কী বের করব?
— মাছভাতের টিফিনবাক্স, অাবার কী? খিদে তোর পায় না জানি, কিন্তু চাঙালির প্রতি দয়া কর, পেটে ছুঁচো ডন দিচ্ছে। নে নে, দেরী করিস না, খোল বাক্সটা:
— অাজ্ঞে, একটা মুশকিল অাচে।
— মুশকিল? কেয়া মুশকিল? মুশকিল অাবার কোথায়?
— অাজ্ঞে, অাছে।
— কী অাছে, ঝেড়ে কাশ।
— অাজ্ঞে, মুশকিল অাচে।
— দেখ হত…হুম, না, ওভাবে নয়। নিটাই ২৩১৫, টিফিনবাক্স বের করতে কী মুশকিল এক্ষুণি বলো।
— অাজ্ঞে, বের করতে মুশকিল নেই। এখানে সেটা সম্ভব নয়।
— কেন নয়? কিঁউ নেহী। হোয়াই নট?
— অাজ্ঞে, তার কারণ টিফিনবাক্সটা অাপনি বেস ক্যাম্পে, মানে রোয়াকে ফেলে এসেছেন।

— —
সোমদেব ঘোষ, ২০১৫-১১-৩০, রাত অাটটা, কলিকাতা শহর।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s