— পুলি।
— …
— এই পুলি!
— …
— {চেঁচিয়ে} এই…পুলি…পিঠে…
— {অাঁতকে উঠে, কান থেকে ইয়ারফোন খুলে} অ্যাঁ অ্যাঁ কী হয়েছে কে হয়েছে?
— মধুভাই ভজন গেয়েছেন।
— মানে…?
— মানে মধুভাই রে, ভজন গেয়ে শুয়োর তাড়িয়েছেন।
— মধুভাই? মানে ইয়ো…
— কত ভাল লোক তাই না? কত ধার্মিক। শুনেছি ভজন গেয়েই যা কটি টাকা পান তাই দিয়েই কোনওক্রমে চলে যায়।
— যে কটি…ওওও, কোটি। বুয়েছি। কে বলেছে তোমায়?
— তোর দিদি বলল এক্ষুনি।
— দিদি বেরিয়েছে?
— এইমাত্র।
— যাবে কীসে?
— কেন, সামনের মোড় থেকে ট্যাক্সি।
— ট্যাক্সি? অাজ? অাজ তো…
— অাজ কী রে? ট্যাক্সি পাবে না? তাহলে কী করে…
— অারে না না, ট্যাক্সি কেন পাবে না? অাজ তেসরা ডিসেম্বর তো? ঈজিলি ট্যাক্সি পেয়ে যাবে। মানে যাকে বলে তুড়ি মেরে। {ফুত}
— কীসের শব্দ হল রে?
— অ্যাঁ, না না কিছু না।
— তুই কি তুড়ি মারার চেষ্টা করলি নাকি?
— অামি? তুড়ি? অামি? হে হে, কী যে বলো…{ফুত ফুত}…ধ্যাত।
— ওরে পাগলি, তুড়ি কি অার সবাই মারতে পারে? এই দ্যাখ না, অামারই হবে না…{চটাৎ}…ইয়ে, মানে, ওটা ফ্লুক…{চটাৎ-পটাৎ}…
— মা।
— হবে না বলছি…{চট-পটাৎ}…না হতে বাধ্য…{চট্টাস-পট্টাস-পোপোক্যাটাপুলটিশ}…
— মা! পায়ে পড়ছি। ছাড়ান দাও। অামার দ্বারা তুড়ি মারা এজন্মে হবে না। অাই ক্যান লিভ উইথ দ্যাট।
— অাহা, দুঃখ করিস নি। সবার কি সব জিনিস হয়? এই দ্যাখ না, উত্তরাখন্ডের কৃষকরা কতদিন ধরে চেষ্টা করেও এর সুরাহা করতে পারেনি। অার তোর ওই মধুভাই এক নিমেষে কিনা…
— খবরটা বলো দিকিনি। ফ্রম প্রথম।
— এই তো, ব্রেকফাস্ট করতে গিয়ে তোর দিদি কাগজ পড়ে পড়ে শোনাচ্ছিল।
— ব্রেকফাস্ট? তাই তো। ব্রেকফাস্ট তো করিনি। হেব্বি খিদে পেয়েছে।
— তা অার পাবে না। ন’টার সময়ে উনি যাচ্ছেন সাঁতার কাটতে।
— ন’টা কই, ওই তো পৌনে ন’টায় গেলুম।
— বুয়েছি। লোকে কোথায় ভোরবেলা যায়…
— অাঃ গপ্পোটা বলো না। অার তারপর খেতে দাও। পেটে ছুঁচো…
— তো সে পড়ে বলল, উত্তরাখন্ডের নৈনিতালে…
— নৈনিতাল? সে উত্তর প্রদেশে না?
— শোন মেয়ের কতা। পনেরো বছর হয়ে গেল উত্তর প্রদেশ থেকে ভাগ হয়ে গেছে…তোকে ইস্কুলে ভুগোল পড়াতো কে রে?
— ভৈরবী অান্টি।
— অ। না, খুব ভাল পড়াতেন। তোরই গোলমাল।
— কাম ব্যাক টু টপিক। নৈনিতাল ইজ ইন উত্তরাখন্ড তাহলে?
— সেখানে প্রচুর বুনো শুয়োর তান্ডব করছে। ক্ষেত ধ্বংস করছে, ফসল খেয়ে নিচ্ছে…
— বুনো শুয়োর? ভারতে পাওয়া যায় নাকি?
— যাবে না কেন? সে কি তোর শুধু প্রাচীন গলদেশের বাসিন্দাই নাকি?
— অারিব্বাস। কী করে জানলে? দিদি পড়ে শুনিয়েছে?
— শুনিয়েছে বৈকি।
— দারুণ তো। অামিও পড়ে শোনাব।
— থাক, তোমার কলেজ অাছে। হবে অখন একদিন।
— হ্যাঁ তো বুনো শুয়োর খেত খেয়েছে?
— ফসল খেয়ে নষ্টামি করেছে। অবস্থা নাকি এতই খারাপ যে, সরকারও তাদের মেরে-ধরে তাড়াবার সংকল্প করেছে।
— মেরে দেবে? ইশশ…
— হুম। সেটা অামারও ভাল লাগে নি। তবে কী জানিস, ওখানকার কৃষকদেরও তো একটা জীবিকার ব্যাপার অাছে। তাও, যদি ঘুমপাড়ানি বন্দুক দিয়ে…
— ট্র্যাঙ্কুইলাইজার গান?
— বাঙালির ঝি, ম্লেচ্ছ ভাষা কেন রে?
— তুমিও? এট টু, ব্রুটে? দিদিও অামাকে বাঙালির ঝি বলে চিমটি কাটে। নেহাত সুতির শাড়ি পরি বলে…জানো সিন্থেটিকে কুটকুট করে…?
— থামো। সুতির শাড়ি অামিও পড়ে, সিন্থেটিকও পড়ি, কিস্যু কুটকুট করে না। ওটা তোমার মনের ব্যাপার।
— একদম মনের ব্যাপার নয়। সায়েন্টিফিক ফ্যাক্ট…
— অাবার?
— বৈজ্ঞানিক তথ্য। হয়েছে? তোমরা সব যদুবংশীরা বাংলা ভাষাটাকে নিয়ে…
— এই যে প্রেসির পো, বেশি বকবে না। জে-ইউ তোমাদের ওই এলিট জায়গার থেকে অনেক বেটার।
— তাহলে, যদুরাও ইংরিজি কপচায় তা হলে?
— হুমম।
— অাহা, রেগে যেও না। গল্পটা বল, খিদে পেয়েছে কলেজ পেয়েছে।
— যাই হোক, সরকার তো বলেই খালাস। কিন্তু বুনো শুয়োর কব্জা করা কি চাট্টিখানি কথা? কী গায়ের জোর জানিস? বাঘও ভয় পায়। অার তেমনই বুদ্ধি। ফাঁদ পাত, ঠিক বুঝে পাশ কাটিয়ে পালিয়ে যাবে।
— তো? কী করল নৈনিতালের ফার্মারস্?
— নৈনিতালের কৃষকবর্গের তো মাথায় হাত। কী করা যায়? শেষে বিষান জান্টওয়াল…
— বাপরে, নামটাও মনে অাছে?
— …নামে এক কৃষক বুদ্ধি করে মধুভাইকে ডেকেছে। মানে মধুভাইয়ের ভজন চালিয়ে দিয়েছে লাউডস্পীকার চালিয়ে।
— অার তাতেই বুনো শুয়োরের ধর্মলাভ ঘটেছে বুঝি?
— সব জীবের মধ্যেই ভগবান থাকে রে।
— একথা শুনলে তোমার যদুবংশী বন্ধুদের পিলে চমকে যাবে।
— অাঃ, মানুষ তো পালটায়, তাই না কি? অামিও অনেক কিছু বুঝেছি অনেক কিছু শিখেছি। অ্যাক্সিডেন্টের পরে…
— মা। খিদে পেয়েছে। শেষে কী হল?
— কী অার হবে? বুনো শুয়োর সেই ভজন শুনে দে দৌড়।
— ভজন শুনে দে দৌড় বুঝি?
— ওরে ভগবান অাছে রে।
— তা তো অাছেই। অালবাত। না হলে ইয়ো ইয়ো মধুভাইয়ের অাজ এই দুর্দশা? ভজন গেয়ে বুনো শুয়োর তাড়ানো? তার চেয়ে না হয় ওবেলিক্সকেই ডাকতে পারতো…না, থাক, তার চেয়ে এই ভাল। শুয়োরগুলো তো অ্যাট লিস্ট বাঁচলো। হানিদা, তুমিই বস।

HoneySingh_Vs_WildBoar_300px_withlogo__2015-12-03
Honey Singh vs Wild Boar

 

— —
সোমদেব ঘোষ, ২০১৫-১২-০৩, রাত অাটটা, কলিকাতা শহর।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s