— অারে ঘোসবাবু, কেয়া হাল হ্যায়? বহোত দিনোঁ সে অাপসে কোই বাত নেহী হুয়ি।
— সে তো অাপনি ছিলেন না বলে।
— অারে হাঁ হাঁ, হামি থোড়া চেন্নাই গিয়াছিলাম।
— চেন্নাই! বলেন কী! এই সময়ে? চেন্নাই তো জলের তলায়।
— উও কেয়া হামি জানি না সমঝিলেন?
— তাও গেলেন?
— গিলাম তো। দোরকার ছিলো।
— জাস্ট এ মিনিট। গেলেন কীকরে? প্লেন-টেন তো সব বন্ধ।
— অারে ঘোসবাবু, অাপনি ইতনা সারা লিখালিখি কোরেন, অাউর ইতনা ঈজি চীজ অাপকে মাথে মে নেহী অায়া?
— কোন জিনিস?
— চেন্নাই কা হাল কেয়া হ্যায় অভী?
— জলের তলায়। ডুবন্ত।
— সাবমার্জ্ড?
— হ্যাঁ, ওই।
— চেন্নাই মে কেয়া হ্যায়? ন্যাচারাল জিওগ্রাফি।
— ন্যাচেরাল…? কিসুই তো নেই তেমন।
— থোড়া ভাবুন ভাবুন।
— অ। সমুদ্র। বে অফ বেঙ্গল।
— রাইট। তো সাবমার্জ্ড সীসাইড জগাহ্ পে জানে কা সবসে বঢ়িয়া তরীকা কেয়া হ্যায়?
— ও হরি, অাপনি বোটে গিয়েছেন?
— অাউর লৌটা ভী উসি বোট মে।
— বোট পেলেন কোথায়?
— ঘোসবাবু, কাম অন, হামারা বোট নেহী রহেগা তো কিসকা রহেগা?
— তা বটে তা বটে। কিন্তু যাওয়ার কী দরকার ছিল বললেন না তো।
— অারে বিজনেস ছিল ঘোসবাবু। হাম দোনো ফ্রেন্ড অাছে, লেকিন বিজনেসের বেপার হামি অাপনার সাথে ডিসকাস কোরবো না।
— ওকে ওকে, ভুল হয়ে গেছে, মাপ করবেন।
— নো নো, অ্যাপলজি কিস বাত কী? হাম দোস্ত হ্যাঁয়, ঈট ইজ অল রাইট। অাপ বতাও, কেয়া কেয়া কিয়া অাপনে?
— লেখালেখি কিছু করলাম।
— দেখা ম্যায়নে। চেন্নাই মে জরা কানেক্শান কি গোড়বোড় থা, লেকিন ম্যায় লৌটতে হী দেখ লিয়া।
— কিছু পান্ডিম পাড়লাম।
— কেয়া কোরলেন?
— পান্ডিম। পাড়লাম।
— পান্ডিম? ডিম, মতলব অান্ডা? অাপনি এগ লে কোরলেন?
— অারে না না, পান্ডিম। মানে পানযুক্ত ডিম। মানে pun করা কিছু ছোট ছোট কথা, ডিমের ছবির মধ্যে…
— হাঁ হাঁ, দেখা ম্যায়নে। বঢ়িয়া হ্যায়, দুরুস্ত হ্যায়, লাইফবয় হ্যায়।
— লাইফবয়…? ওওও, “লাইফবয় জহাঁ তনদুরুস্তি উহাঁ”! মনে পড়েছে।
— অারে ওয়াহ্, হামি সোচি নি কি অাপ ইসকো পকড় লেঙ্গে। ভেরি গুড ভেরি গুড।
— এরকম পুরোন দিনের বিজ্ঞাপনের গান অামার বেশ লাগে শুনতে।
— ওয়াহ্ ওয়াহ্। অাউর কেয়া কোরলেন বোলুন। বাহর গয়ে কহীঁ?
— বিশেষ না। তবে গতকাল চাইনীজ খেতে গিছলাম।
— চাইনীজ? বহুত খূব। অাপকো নুডলস্ এটসেটেরা পসন্দ হ্যায়?
— ভীষণ। চেন্নাই যখন ছিলাম বীচ পাম বলে একটা রেস্টুরেন্টে রেগুলার খেতাম। বেসন্তনগর বীচের কাছে। ওদের এত পরিচিত হয়ে গিছলাম যে অামাকে অর্ডার দিতে হত না। একটা বই বগলে সোজা ঢুকে অামার ফিক্সড্ চেয়ারে গিয়ে বসতাম, খাবার চলে অাসতো। অত ভাল চাইনীজ রেস্টুরেন্ট অার কখনও পাইনি।
— অচ্ছা? তো ম্যায় নেক্সট টাইম চেন্নাই মে…কেয়া নাম বতায়া অাপনে?
— বীচ পাম। কিন্তু…
— নেক্সট টাইম বীচ পামে ডিনার কোরবো। বেসন্তনগর বীচ বোললেন অাপ?
— অারে শুনুন। ওটা অনেক দিন অাগে বন্ধ হয়ে গেছে।
— অরে রাম রাম, কেয়া দুখ কি বাত। বন্ধ্ কিঁউ হুয়া?
— লস খাচ্ছিল। পরে সেখানকার একজন ওয়েটারের সঙ্গে অন্য একটি রেস্টুরেন্টে দেখা হয়েছিল।
— ভেরী স্যাড।
— ওখানকার খাবার নিশ্চই খুব ভালো ছিল, কিন্তু তার চেয়েও ইম্পরট্যান্ট ছিল হচ্ছে সার্ভিস। স্টাফের ব্যবহার। যারা খেতে এসেছে তাদেরকে অতিথি হিসাবে যত্ন করা। খাবারের চেয়েও ওখানকার পরিষেবার জন্য, অামার যেরকম ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছিল, সেগুলো বেশি মনে অাছে।
— সৌপ্রাতিশত্ সৌপ্রাতিশত্। সার্ভিস হ্যাস টু বী গুড। নেহী তো খানা জিতনা ভী অচ্ছা হো, রিস্টোরান্ট অচ্ছা নেহী হো সকতা।
— যেমন ধরুন, চেন্নাইতে অামি বহু জায়গায় খেয়েছি, খারাপ ব্যবহার পাওয়াটা একটা দুর্লভ ব্যাপার। লকাতায় খুব একটা খাইনি, কিন্তু এখানকার অভিজ্ঞতা খুব একটা ভাল নয়।
— অ্যায়সা হ্যায়? এগজামপেল দীজিয়ে।
— এই তো, কালকেকার ব্যাপারটাই ধরুন। গেলাম চাঁদনী চক মেট্রো স্টেশনের লাগোয়া চুং-ওয়াহ্ রেস্টুরেন্টে।
— চুং-ওয়াহ্? সুনা হ্যায় ইসকা নাম।
— হ্যাঁ। মোটামুটি লোকে জানে এর কথা। একবার গিছলাম মাসতিনেক অাগে, সার্ভিস অার খাবার খুব ভাল ছিল।
— লেকিন…?
— লেকিন…কালকের অভিজ্ঞতা খুব খারাপ হল। ওখানে মাঝখানে একটা খোলা জায়গা, অার দুসাইডে সারি দেওয়া কেবিন। একটি কেবিনে গিয়ে বসলাম। প্রথমে সূপ অর্ডার দিয়েছিলাম। দেখলাম সূপে মাছি ভাসছে। ওযেটারকে বলতে সে এসে খানিকক্ষ নেড়ে-চেড়ে চামচ দিয়ে মাছিটাকে তুলে ওই খানিকটা সূপসুদ্ধু কেবিনের দেওয়ালে ছুঁড়ে দিলো।
— কেয়া বোল রহে হ্যাঁয় অাপ?
— সে সূপ দেওয়াল থেকে গড়িয়ে…সে যাক। সেটা পাল্টে নতুন সূপ অানবে তো, সেসব কিছু নয়। বারে বারে এসে জিজ্ঞেস করতে লাগল কী নেব কী নেব।
— ডিস্টার্ব কোরছিল?
— অারে বাবা ঠিক করতেও তো সময় লাগে। অাবার যখন এলো তখন অামি বললুম, কিছু সাজেস্ট করুন।
— কোরলেন?
— করলেন না ছাই। সোজা বললেন “মেনুতেই তো অাছে, পড়ে নিন না”।
— হোয়াট?
— অামি তো হাঁ। অার ওনার ব্যবহার দেখে সন্দেহ হলো, বললাম, “অাপনি কি চাইছেন এখান থেকে যত তাড়াতাড়ি খাবার শেষ করে উঠে যাই?”
— কেয়া বোলা?
— বলে কিনা, “হ্যাঁ!”
— অাপলোগ কো হঠাতে চাইছে? নেক্সট গেস্ট কে লিয়ে?
— একদম। অারে বাবা, খেতে তো সময় লাগে। বসেছি মাত্র অাধঘন্টা হয়েছে, এরই মধ্যে দুমদাম খেয়ে উঠে যাবো? ইল্লি অার কী?
— মেনেজার কো বুলায়া অাপনে?
— সে ম্যানেজারও ইউজলেস। এসে মিনমিন করে কীসব বলল, ঠিকমতো যে অন্তত দুঃখপ্রকাশ করবে, সেটুকুও নয়।
— ওয়েটার তো চেঞ্জ কিয়ে হোগা।
— কীসের ওয়েটার বদল? ওই একই লোক সার্ভ করে গেল। অার যতক্ষণ বসছিলুম তার পর, প্রত্যেক পাঁচ মিনিট অন্তর একবার পর্দা সরিয়ে দেখে যাচ্ছিল, ভাবটা এই যে উঠব কখন।
— ডেস্পিকেবল্ বিহেভিয়ার ঘোসবাবু। অাপকো এক রিভিউ লিখনা চাহিয়ে, জোম্যাটো পে।
— লিখবো তো বটেই। মন্দের ভালো খাবারটা ভাল ছিল।
— লেকিন অাপ লৌট কে নেহী জায়েঙ্গে ফির?
— কভী নেহী।
— ওক্কে। চেন্নাই ফ্লাড কে লিয়ে মেরা কুছ বিজনেস কা থোড়া লস হুয়া হ্যায়। লস রিকিউপারেট করনে কে বাদ হামি কলকত্তা মে এক চাইনীজ রিস্টোরান্ট ওপেন কোরবো। দিস ইজ মাই প্রমিস টু ইউ ঘোসবাবু।
— সত্যি? প্রথম ডিনারটা কিন্তু ফ্রী।
— ঘোসবাবু, হামি বিজনেসম্যান পহলে। নো ফ্রী চীজ। হামি রিস্টোরান্ট খুলব, অাপ অাসবেন, খাবেন-দাবেন-মৌজ-মস্তি কোরবেন, লাস্টে পাইসা দিয়ে বেরিয়ে যাবেন। বস্।
— বোঝ।

— —

এটা সত্যি ঘটনা। গতকাল Chung Wah তে গিয়ে এরকম অভিজ্ঞতা হয়েছিল…না, ঠিক এরকম নয়, এর চেয়েও বেশ খারাপ। Chung Wah, if you’re reading this, please please improve your staff behaviour. Your food is wonderful, don’t let some servers who don’t know the first thing about hospitality ruin your reputation.

— —
সোমদেব ঘোষ, ২০১৫-১২-০৭, সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা, কলিকাতা শহর।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s