𝅘𝅥𝅮𝅘𝅥𝅮𝅘𝅥𝅮 লেগেছে লেগেছে লেগেছে অাঅাঅাঅাগুননন… 𝅘𝅥𝅮𝅘𝅥𝅮𝅘𝅥𝅮

— হ্যাঁ বল।
— কী করছো?
— কী অাবার? পুলির দিদি দুপুর একটায় কী করে রোজ?
— অ। লাঞ্চ।
— না, মাউন্ট এভারেস্টে চড়তে যাচ্ছি। বল।
— কী খাচ্ছো?
— শোন মেয়ের কতা? রোজ রোজ যা খাই তাই, যা সকালে টিফিনবাক্সে প্যাক করে নিয়ে অাসি তাই। ব্রেড স্যালাড স্যান্ডউইচ।
— হুঁ।
— এই শোন, তোর কী হয়েছে রে? তুই তো কখনও এরকম জিজ্ঞেস করিস না। অামি রোজ কী খাই তুই জানিস না…? এই তুই খেয়েছিস তো?
— হুঁ।
— হুঁ মানে? হোয়াট ইজ হুঁ? খেয়েছিস কি খাসনি, সোজা উত্তর। প্রথমটা দিলে জুটবে গালে পাপ্পি, দ্বিতীয়টায় মাথায় গাঁট্টা।
— হুম। ওই দ্বিতীয়টা?
— দ্বিতীয়টা?! মানে?
— মানে খেয়েছি।
— কী খেয়েছিস? খাবার না গাঁট্টা?
— ওফ, জানি নে। মোটকথা খেয়েছি।
— এই পুলি, কী ব্যাপার বল তো? তোকে কেমন ডিস্ট্র্যাক্টেড শোনাচ্ছে।
— না না, নাথিং। কিছু হয় নি। অামি ঠিক অাছি। সব ঠিক অাছে। ফাইন।
— পুলি…
— এই শোন না অাসছে…মানে ইয়ে…রাখছি পরে কথা…
— এই পুলি। কী অাসছে? পুলিইইই? উফফ, রেখে দিয়েছে।


 

𝅘𝅥𝅮𝅘𝅥𝅮𝅘𝅥𝅮 অাজি ঝরঝর মুখর বাদর দিনেএএ… 𝅘𝅥𝅮𝅘𝅥𝅮𝅘𝅥𝅮

— এই দিদি একটু পরে…রাখছি…
— ওরে শোন…কী গেরো। দিদির মুখের উপর ফোন রেখে দেয় মেয়ে। দাঁড়াও, বাড়ি ফেরো, তোমার হচ্ছে অাজ।


 

𝅘𝅥𝅮𝅘𝅥𝅮𝅘𝅥𝅮 লেগেছে লেগেছে লেগেছে অাঅাঅাঅাগুননন… 𝅘𝅥𝅮𝅘𝅥𝅮𝅘𝅥𝅮

— এই যে, এতক্ষণ পরে দিদি বেচারিকে মনে পড়েছে। সে এদিকে ভেবে মরে, বোনুর কী হল।
— দিইইইদিইইইই।
— মরেছে, এ তো অাহ্লাদের শিরোমণি। ব্যাপার কী বল তো, কী করেছিস?
— কিছু করিইইই নিইইই।
— তোকে অামি চিনি না? নিশ্চই কিছু একটা করেছিস। সোজাসাপ্টা বল দিকিনি।
— গাঅাঅাঅা-পুউউউ-চিইইইই…
— গাপুচি? কলেজে গাপুচিকে নিয়ে গেছিস? তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে রে পুলি?
— না না, গা পু চি বাড়িতেই অাছে।
— তবে?
— ওর সঙ্গে দেখা হয়েছে।
— ওর সঙ্গে মানে? কার সঙ্গে?
— উফফ, কিস্যু মনে থাকে না তোমার। অারে ওই যে ওর সঙ্গে। সেই যে যার সঙ্গে জুলাই মাসে…
— জুলাই মাসে অাবার কী? কার কথা বলছিস…ও।
— মনে পড়েছে?
— ওওও। বুঝেছি। সে।
— সে।
— সে ছিলো কোথায় অ্যাদ্দিন?
— কি জানি, জিজ্ঞেস করিনি গো।
— বাব্বা, এতদিন বাদে দেখা, একবার এইটুকু জিনিস জিজ্ঞেস করতে পারলি না?
— না গো, করা হল না।
— তুইও সত্যি। যদিও, টু বি ফেয়ার, তুই এমনিতে কিন্তু ঠিক জিজ্ঞেস করতিস। ওর ব্যাপারে তোর মাথাটা ঠিক কাজ করে না।
— অাঃ দিদি, কী যে বলো।
— তো কী কথা হল শুনি?
— কী অাবার? সকালে দেখলুম মেন বিল্ডিংয়ে ঢুকছে। সত্যি দেখলুম নাকি রেডিমেড ইনসেপ্শন হচ্ছে পরখ করতে ফলো করলুম। ও মা, কোথায় যে সেঁধিয়ে গেল, কিছুতেই পেলুম না। দুটো ক্লাস মিস হয়ে গেল, সে হাওয়া। বুঝলাম উইশফুল থিংকিং। তোমাকে ফোন করলুম, ভাবলুম ব্যাপারটা বলি, এট্টু অ্যাডভাইস…
— তাই তুই ওইরকম অন্যমনস্ক ছিলি।
— তা নয় তো কী? সে যাকগে, কথা বলতে বলতে বেকারের সিঁড়ি দিয়ে উঠছি, মানসীর সঙ্গে ড্রামা ক্লাব নিয়ে একটা কথা ছিল। দেখি সে ল্যাবের সামনে দিয়ে হাঁটছে। ফোন-টোন মাথায় উঠল, দৌড় দিলুম। সে ততক্ষণ বাঁদিকে টার্ন নিয়েছে, পিএলটির দিকে। অামি ফুল স্পীডে লেফ্ট টার্ন নিতেই গদাম!
— গদাম?
— গদাম। তার পর ধপাস। একটু ধাঁইও ছিল বোধহয়।
— ঝনাৎ? ঝনাৎ ছিল না?
— ঝনাতটা কী?
— মোবাইল।
— ও হ্যাঁ, অফ কোর্স। তাকে খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
— এইটুকু সাউন্ড এফেক্ট?
— না। অাউ-উফ-বাবাগো-চাচারে টাইপের দুএকটা শোনা গিছলো। প্রব্যাবলি। ঠিক মনে নেই।
— কতক্ষণ অাউট ছিলি?
— সেকেন্ড তিনেক।
— ব্যাক টু ওয়ার্লড এসে কী দেখলি।
— দেখলাম সে ধরাশায়ী। অামি তার উপর ছত্রাকার।
— হুম। বেচারা। উঠলি?
— উঠলাম।
— ধারে কাছে কেউ ছিল, সাহায্য করার জন্য?
— কেউ না। ক্লাস চলছিল তো।
— গদাম শব্দ শুনেও কেউ বেরোয়নি?
— না তো। কে যেন বাজখাঁই গলায় লেকচার দিচ্ছিলেন পিএলটিতে। বোধহয় এসএসজি।
— তো কী করলি তারপর? উঠে ধুলো-টুলো ঝাড়লি?
— অামি ঠিক উঠে পড়লাম। টুক করে। সে দেখি তখনও ফ্ল্যাট। ওঠার চেষ্টা করছে। হাতটা বাড়িয়ে দিলুম।
— উউউ…স্নীকি।
— হিহি।
— নিলো?
— নিলো।
— অারিব্বাস। হৈহৈ কান্ড রৈরৈ ব্যাপার গোবিন্দলাল অন হর্সব্যাক।
— টেনে তুললুম। সে তখনও দেখি একটু টলছে। তাই হাতটা ধরে থেকে একটু সাপোর্ট দিলুম অার কি।
— দিলি বুঝি?
— দিতে তো হবেই। সিভিক ডিউটি।
— সিভিক ডিউটিই বটে। তো সে শেষে রিকভার করল তো?
— করল। দেখলুম একটু ধাতস্থ, সরি-টরি বললুম। সে অাবার “অারে ঠিক অাছে ঠিক অাছি” এইসব বলার চেষ্টা করছে। অামি সোজা হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বললুম, “অাই পুলি। ইউ?”
— তাই বললি?
— বললাম। অবভিয়াসলি। অার কী বলব?
— উফফ, হেসে খুন হচ্ছি। তাই তো, তুই অার কীই বা বলবি? তো তার কী উত্তর?
— সে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। অামি এদিকে হাতটা এগিয়েই অাছি। স্পষ্ট বুঝতে পারছি তার ব্রেনের গিয়ারগুলো ঘরঘরখরখর করে চলছে, হাতটা নিয়ে ঠিক কী করা উচিত বোধহয় বুঝে উঠতে পারছে না।
— ওরে বাবাগো অার পারছি না, এবার বড়ালদা সত্যিই ছুটে অাসবেন, হাসি শুনে। ভাববেন অামি হঠাৎ পাগল হলাম কীভাবে।
— তো অামি তো অামি, লোকে সিম্পেল জিনিস তাড়াতাড়ি ডিসাইড না করতে পারলে অামি কিঞ্চিত খেপে যাই জানোই তো…
— এই রে, বকা দিলি নাকি?
— না না, কথা বলা তো ওয়েস্ট অফ টাইম। ওর ডান হাতটা কেমন একটা নীচের ভার্টিকালের থেকে পনের ডিগ্রী অ্যাঙ্গেলে ছিল, স্মার্টলি বাঁ হাত দিয়ে সেটাকে ক্যাপচার করে অামার ডান হাতে গুঁজে দিলুম।
— দিলি?
— দিলাম।
— তো সে কী করলো?
— দেখলাম কেমন একটা ভ্যাবলার মত হাতটার দিকে চেয়ে রইল।
— উফফ…মাগো…পেটটা ফেটে যাবে এবার…
— তো অামি প্রো-অ্যাকটিভ লোক। বেশ জোরেই ঝাঁকিয়ে দিলুম। দিতেই মনে হল ব্রেনের জংটা সারজীর ঝরে পরল।
— অাচ্ছাসে শিরীষ কাগজ ঘষেছিস যে।
— মাথা কাজ করা শুরু করতেই দেখি সে অামার হাতটা…মানে…
— কী হল।
— দিদি। কী স্ট্রং গ্রিপ গো। হাতটা এখনও স্লাইট টনটন করছে।
— টনটন করছে, নাকি…?
— অাঃ, তুমিও না। ওই হল। অার হাতটা বেশ বড়, জানো। যেন সুইমারের হাত। ইয়ান থর্পের মতো।
— বাপরে, একেবারে ইয়ান থর্প!
— দিদি!
— অাহা, কোন কথা বলল শেষমেষ, নাকি হাত ধরেই দাঁড়িয়ে থাকলি দুজনে? অবিশ্যি সেটাও খারাপ না…
— না না, কথা হল বৈকি। কথা হবে না? কথা না হলে চলে? কথাই তো সবচেয়ে জরুরি জিনিস। কথা মানুষের বেসিক ফান্ডামেন্টাল রাইট। কথা বলা…
— একটাও কথা হয়নি না?
— নাঅাঅাঅাঅাঅা। দিদিইইইই…বেল পড়ে গেল ক্লাসের, সবাই বেরিয়ে এল, হাতটা ছেড়ে গেল যে।
— অাহা কাঁদিস নে। জানিস তো মোটামুটি কোন ডিপার্টমেন্ট।
— কোন ডিপার্টমেন্ট?
— মানে?
— মানে জিজ্ঞেস করতে পারলুম কই? লেকচার শেষ হতেই তার সাঙ্গপাঙ্গ এসে ঘিরে ধরে তাকে কোথায় নিয়ে গেল, অামিও ঠাহর করতে পারলুম না।
— নিয়ে গেলো? লেকচার শেষ হতে? সাঙ্গপাঙ্গ?
— দিদি, রিপিট করছো কেন দিদি? নেটওয়ার্ক গোলমাল?
— না, তোকে অবভিয়াস ব্যাপারটা বোঝানোর চেষ্টা করছি।
— কী অবভিয়াস ব্যাপার?
— অবভিয়াস শুধু নয়, একেবারে সিনিয়র কোভারুবিয়াস ব্যাপার।
— সিনিয়র কে?
— তোর শঙ্কু এডুকেশন পুরো হয়নি। অারেকবার দেবো কর্ভাস, পড়বি।
— অাচ্ছা কাকপক্ষী পরে হবে কী হযেছে বলো তাড়াতাড়ি নয়তো চিলচিৎকারে গান ধরবো লেগেছেলেগেছেঅাগুননননমায়ায়ায়ানিমেন্নাবিডিটেপ্পানিল…
— উফফ, কানের দফারফা। থাম থাম, পেটাবো। স্টপ স্টপ অ্যারেতেজ…
— এই স্প্যানিশ শুরু করলে চলবে না। শিগগিরি বলো।
— কী অাবার? ছেলে ফিজিক্সের। এটুকু বুঝলি না? সাঙ্গপাঙ্গ বেরোলো তো ক্লাস থেকেই।
— ওওও…তাই তো। এটা তো ভাবিনি।
— বুঝতেই পারছি। অাজ তোর ব্রেন শর্টসার্কিট। যাকগে। হোমওয়ার্ক, বের করো সে কে। বেকারে যাও, ডিপার্টমেন্ট খোঁজো, ডেস্ক্রিপশন দাও। কেউ না কেউ জানবে। তবে ছ’টার বেশি নয়, তারপর বাড়ি ফেরা চাই।
— ওক্কে বস। ডান। যাই গিয়া।
— এসো বাছা।

সোমদেব ঘোষ, ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাস, সন ২০১৫-১৬, কলিকাতা শহর।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s