— নমস্কার, অামি…

— অারে হান্স, কী খবর? তুমি এখানে?

— হান্স? অামার নাম…

— অারে বাবা তোমার নাম অামি কি অার জানি না? অামি অাবার একটু লোকজনকে ডাকনাম দিতে ভালবাসি–যাকে তোমরা বলো নিকনেম–অার তাই দিয়েই লোকজনকে ডাকি বুঝলে তো। এই যে ধরো, অামি যে নস্যি নি, এটা সেরকমই একটা নেশা বলতে পারো।

— অাপনার পরিচয় কিন্তু পেলাম না।

— অামি? অামি চিত্রগুপ্ত। মানুষের জীবন নিয়ে লেখাপড়া করা অামার কাজ। কে কবে নীচে যাবে, কে কবে উপরে অাসবে, এসে তাদেরকে নিয়ে কী করা হবে, সেইসব করে থাকি। থ্যাঙ্কলেস জব, বুঝলে। তাই এই নস্যি ধরেছি।

— অামি ভেবেছিলাম সেন্ট পিটার…

— সেটা সবাই ভাবে বটে। এই তো কিছুদিন অাগেই জ্যাক একই ভুল করেছিল।

— জ্যাক মানে?

— তোমাদের ওই নিউটন। অামি নাম দিয়েছি জ্যাক।

— নিউটন? এখানে? কিন্তু উনি তো অনেক বছর অাগেই…

— এখানে সময়টা অন্যভাবে চলে ভায়া। যাকগে, সে বোঝাতে গেলে ইলিয়াড-মহাভারত-বেওউল্ফ সব হয়ে যাবে। তো তোমার গলার স্বর অনেক শুনেছি। সেই অষ্টঅাশি সাল থেকে, যখন জন ক্লে সেজে তুমি একটা প্যারোডি মার্কিন অ্যাক্সেন্ট লাগিয়ে ইপিকাইয়ে-কে বোকা বানানোর চেষ্টা করেছিলে…কিন্তু সামনাসামনি এই প্রথম।

— অামার ভয়েস নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু বলেছে বটে। অামার নিজের তেমন কিন্তু সাংঘাতিক কখনই মনে হয়নি। নকল করা তো খুব একটা অসুবিধে নয়, টম অার বেনেডিক্ট তো কথায় কথায় নকল করে।

— টম? মানে লোকি?

— হ্যাঁ, যদিও মিডনাইট ইন প্যারিসে ফিটজেরাল্ডের ভূমিকাতেও ভাল অভিনয় করেছে ছেলেটা।

— তোমার গলার স্বর নিয়ে লোকে কি বলে জানো তো?

— লোকে কী বলে, না কি বিশেষ কেউ?

— লিঙ্গুইস্টিক্সের প্রফেসররা।

— এটা কি সেই ২০০৮-এর ব্যাপারটা?

— হ্যাঁ। বলেছিল যে তোমার, জেরেমি অায়রন্স অার…অার…

— মাইকেল। স্যর মাইকেল গ্যাম্বন।

— হ্যাঁ। তুমি, জেরেমি অার মাইকেলের গলার স্বর মেলালে নাকি শ্রেষ্ঠ পুরুষের কন্ঠস্বর পাওয়া যায়।

— কি জানি, বলতে পারবো না। ওটা বোধহয় ব্রিটিশ লোকেদের নিয়ে শুধু।

— তা বটে। ভারত হলে বাবুমোশাই অার মানিকবাবু নির্ঘাত ক্যান্ডিডেট হতেন।

— কে?

— শোনো নি নাম? বাবুমোশাই হল গিয়ে অমিতাভ বচ্চন…

— বচ্চন। হ্যাঁ, শোনা নাম।

— …অার মানিক হল সত্যজিত রায়।

— ওরে বাবা। রে! অামি ওনার সিনেমার ভীষণ ভক্ত। দেখা হবে নাকি ওনার সঙ্গে?

— হতেও পারে। দেখো ভিতরে গিয়ে, হয়তো কোন অারামকেদারা জোগাড় করে পাইপ টানতে টানতে স্কেচিং করছেন। অাঁকতে বড়ই ভালবাসতেন।

— অাঁকতে? উনি অটিউর…মানে নির্দেশক ছিলেন না?

— অারে কী না ছিলেন। নির্দেশক হিসেবে সারা বিশ্ব ওনাকে চেনে, কিন্তু ছিলেন অার্টিস্ট, লেখক, সঙ্গীতজ্ঞ, ক্যামেরা-বিশেষজ্ঞ…মেনি-ইন-ওয়ান লোক, বুঝলে?

— দেখা তো করতেই হবে, চলেই যখন এসেছি।

— চলে তো এলে, কিন্তু অাদপে কী হয়েছিল বলো তো? অামি তো মুখবই ফীডে খবর পেয়ে হতবাক। শেষ তোমার কথা শুনি কিছু মাস অাগে, তুমি সেই সুপার স্লো-মোতে চা খাওয়ার অার তার পর রেগে যাওয়ার ভিডিওটা করেছিলে।

— মুখবই ফীড? অাপনি চিত্রগুপ্ত, অাপনিও ফেসবুক থেকেই খবর সংগ্রহ করেন?

— অারে না না, অামার একটা গুপ্ত চিত্র অাছে, তাতেই অামি সমস্ত খবর পাই। কিন্তু তাকে জাগাতে হলে অনেক ঝক্কি পোয়াতে হয়, তাই হাতে সময় কম থাকলে ওই মুখবই থেকেই খবর পাই। চড়ুইপাখির কাছ থেকেও প্রচুর খবর পাই।

— চড়ুইপা…ও, টুইটার। তো কী বলছে টুইটার, অামি যে এই উঠে এলাম?

— এমা ভীষণ দুঃখ পেয়েছে।

— টম্পসন? ভাল মেয়ে।

— হ্যাঁ। বলেছে নাকি তুমি ওর অ্যালাই ছিলে, সুহৃৎ ছিলে।

— হুম।

— জেকে বলছে তুমি নাকি ছিলে “ম্যাগনিফিসেন্ট অ্যাক্টর”, “ওয়ান্ডারফুল ম্যান”। জেকে তোমায় অাগে থেকেই হ্যারি পটারের শেষটা বলে দিয়েছিলো তাই না?

— জো বলেছিলো বটে। প্রয়োজন ছিল, কারণ স্নেপের চরিত্রটার মোটিভেশন ঠিকমতো ফোটাতে গেলে ওটা লাগতো। সে অনেক বছর অাগের কথা, জো অামায় ফোন করে অামাকে কনভিন্স করানোর চেষ্টা করছিল রোলটা নিতে। অামি বললাম, অারে, স্নেপ মানে তো সেই কালো অালখাল্লা পরে বাচ্ছাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা। কী অার অাছে ওর মধ্যে? ও তখন অামায় বুঝিয়ে বলেছিলো, কী করতে চায় চরিত্রটাকে নিয়ে। তখন মাত্র তিনটে বই বাজারে, কিন্তু পুরো সাতটা বইয়ের প্লটই ওর মাথার মধ্যে রয়েছে তখনই। ওর কথা শুনেই বুঝলাম হ্যারি পটারের বিশাল কিন্তু সূক্ষ্ণ পৃথিবীটা ঠিক কতটা ওর হাতের মুঠোয় রয়েছে। অামার অার দুবার ভাবতে হয়নি।

— ২০১১ সালে তো স্নেপ চরিত্রে শেষ বারের মতো অভিনয় করলে।

— করলাম বটে। কেমন অদ্ভুত লাগছিল। ড্যানিয়েল তখন স্টেজ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্রডওয়েতে। অার স্টুডিওতে অামার শেষ দিনে, একটা ডাবিং ছিল, সেখানে একটা ফ্ল্যাশব্যাকের সীন ছিল, সেই কত বছর অাগেকার বারো বছরের বাচ্ছাগুলোর একটা সীন। ড্যানিয়েল, এমা অার রুপার্ট। সময়টা কত তাড়াতাড়ি চলে গেল তাই না? একটা লাইফটাইম, মিনিটের মধ্যে…

— ড্যানিয়েল বলেছে তোমার মতো শ্রেষ্ঠ একজন অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে পেরে ও গর্বিত। প্রচুর শিখেছে তোমার কাছে, সারাজীবন কাজে দেবে ওর। মাইকেল বলেছেন…

— বলেছে খুব ভাল বন্ধু, তাই তো?

— হ্যাঁ।

— মাইকেলও খুব ভাল লোক। ওরা সকলে খুব ভাল লোক। বেঁচে থাক সবাই। অার যাই হোক, ক্যানসার নয় যেন। স্নেপ হলুম বটে, কিন্তু সেও বোধহয় এই রোগের কোন পোশন জানতো না।

— না। তা জানতো না।

— অাচ্ছা, অাপনি তো চিত্রগুপ্ত, ভূত-ভবিষ্যতের ঘটনা অাপনার নখদর্পণে। অাপনি বলতে পারেন না এই রোগের কোন চিকিৎসা অাসবে কিনা ভবিষ্যতে? নাকি লক্ষ লক্ষ মানুষ এতে শেষ হতেই যাবে? মেডিকেল সায়েন্স…

— শোন হান্স। ভবিষ্যতের খবর অামি জানি। অামি চিগুদা বলে খ্যাত বটে, নস্যি নিই বটে, মজা করে বেড়াই বটে…কিন্তু অামি চিত্রগুপ্ত। সময়ের জ্ঞান অামার অাছে। ক্যানসারের চিকিৎসা হবে কিনা সে খবর অামার জানা বটে। কিন্তু সে খবর জেনে তুমি কী করবে? মর্ত্যে তোমার কাজ শেষ। বিলেতের লোক…সমগ্র বিশ্বের লোক যুগ যুগ ধরে তোমার নাম মনে রাখবে। ক্যানসারের চিকিৎসা হল কিনা তা জেনে অার কী করবে?

— কিন্তু অামি জানতে চাই চিত্রগুপ্ত। মানুষ এই মারণরোগে মরবে অার কিছু করার থাকবে না…এ দেখা যায় না। একটা বিহিত…

— হান্স। শোন। তোমার কাজ শেষ ধরিত্রীতে। তোমাদের, মানে নশ্বর মানুষের, সময় সীমিত। যাবে খালি হাতে, ফিরবে খালি হাতে। যতদিন অাছো নীচে, তারই মধ্যে নিজের নিজের জগতে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করার  চেষ্টায় থাকবে। তুমি ব্যতিক্রম, তোমার প্রতিভার তুমি যথোপযুক্ত প্রয়োগ করেছো, শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছো। সবাই সেটা পারে না হান্স। বিগত একশো বছর বহু ডাক্তার-বিজ্ঞানী চেষ্টা করেছেন ক্যানসার নির্মূল করতে। একটা পিরামিড তৈরী হচ্ছে হান্স, ক্যানসার-জ্ঞানের পিরামিড। হাজার হাজার গবেষকের বিদ্যা এবং বুদ্ধি দিয়ে তৈরী এই পিরামিড যেদিন শেষ হবে, সেদিনই ক্যানসারও হার মানবে মানুষের কাছে।

— তাহলে অাশা অাছে বলছেন?

— অাছে বৈকি। অাচ্ছা হান্স, সে কথা ছাড়ো। বরং একটা কথা বলো, হঠাৎ একচল্লিশ বছর বয়সে সিনেমা কেন?

— কি জানি, কী মনে হল। লস অ্যাঞ্জেলে ল্যান্ড করার অাটচল্লিশ ঘন্টার মধ্যেই রোলটা পেলাম। পরে দেখলাম সেই রোল দিয়েই সবাই অামাকে চিনছে। অাপনিও তো হান্স বলেই ডাকছেন দেখছি।

— কীরকম লাগত ভিলেনের রোল করতে?

— কেমন যেন টাইপকাস্ট হয়ে গেলাম। একানব্বই সালে শেরিফ অফ নটিংহ্যাম করলাম, তারপরেই হঠাৎ করে সবাই অামাকে ভিলেন-অ্যাক্টর বানিয়ে দিল। ওই শেরিফের রোলের পর অামি কিন্তু সোজাসাপ্টা ভিলেনের রোল একটাও করিনি। স্নেপ-ও ভিলেন নয়, যদিও প্রথমে মনে হতে পারে বটে।

— স্নেপের চরিত্রটা দারুণ, বেশ লেয়ার্ড।

— হ্যাঁ। অাগে লোকে অামায় হান্স গ্রুবার বলে জানতো, এখন জানে স্নেপ বলে। মানে কাল অবধি জানতো অার কি।

— একটু খেদ হচ্ছে না? সব কাজ শেষ না করেই চলে অাসতে হল।

— তা তো হবেই, তাই না? নিউটনের হয়নি? রে-র? রে-ও তো ক্যানসারেই…

— খেদটা না থাকলে অার কীসের বাঁচলে হান্স? যে মনে করবে যে পৃথিবীতে তার কাজ শেষ, তার ওখানে থাকা অার সাজে না। এই কাজ শেষ না হওয়ার খেদটা, এই খিদেটাই চাই হান্স। তুমি হয়তো বলবে, এই তো অামিও একটু অাগেই বলছিলাম যে তোমার নাকি কাজ শেষ হয়ে গেছে। গেছে বইকি, কারণ তোমার সময় ফুরিয়েছে। কিন্তু তাও দেখো, খেদ তোমার রয়ে গেছে তাই না? এটাই তো মানুষের একান্ত চাহিদা। যাকগে, অাবার কথায় ফিরি। অাচ্ছা, ওই ডাই হার্ড সেট-এর একটা মজার ঘটনা শুনেছিলাম…কী একটা ওয়াচমোজোর ভিডিও দেখেছিলাম একদিন…ইউটিউবের নেশা পেয়েছে অাজকাল…

— ওই শেষ সীনটা, যেখানে গ্রুবার স্লো-মোশানে পড়ে যাচ্ছে?

— হ্যাঁ হ্যাঁ ওইটে। কী হয়েছিল যেন?

— ডিরেক্টর ছিল জন, জন ম্যাকটিয়ারনান। অামাকে একটা ওই হার্নেস মতো জিনিসে বেঁধে বলেছিল, এটা স্লাইড করে পিছনে যাবে, অার তুমি সেই মতো হতাশ-ভয়-অবাক হওয়ার একটা এক্সপ্রেশন দেবে। তো অামি তো রেডি, কী কী এক্সপ্রেশন দেবো সব ঠিক করে রেখেছি, জন বলবে অ্যাকশন, স্লেডটা পিছন দিকে টানবে…ওরে বাবা, দেখি অ্যাকশন বলার অাগেই স্লেড টেনে দিয়েছে। অামাকে অার অভিনয় করতে হয়নি, ওই মুখভঙ্গী অাপনা-অাপনি এসে গিয়েছিল।

— ডাই হার্ডের এক ক্লাইম্যাকটিক মুহূর্ত সত্যি।

— ওটা দিয়েই তো শুরু। মজার ব্যাপার হল, কিছু বছর পরে জেরেমি অায়রন্স–অামার ভয়েসভাই–হান্স গ্রুবারের ভাই পিটার গ্রুবারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিল।

— ভয়েসভাই। বেশ বললে তো। সে তো এখন ব্যাটম্যানে অভিনয় করছে শুনলাম।

— মাইকেল কেন-এর পরে অালফ্রেড। কি জানি, অারও পাঁচ বছর বাদে ব্যাটম্যান অাবার হলে হয়তো অামাকেই অালফ্রেড হতে হত। ব্রিটিশ অভিনেতাদের তো ওই কাজ, হলিউডে গিয়ে বিগ বাজেট সিনেমায় ফ্যান-ফেভারিট রোল করে বিখ্যাত হওয়া। প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট, ইয়ান ম্যাকেকেন কী করলেন?

— তুমি তো নিজেই নিজেকে প্যারোডি করেছিল, কোন সিনেমা যেন…

— গ্যালাক্সি কোয়েস্ট। শুধু নিজেকে নয়, যেকোন শেক্সপিয়ার করা ব্রিটিশ অভিনেতার প্যারোডি। অামি ওই স্পক সেজেছিলাম, মানে একজন সিরিয়াস অভিনেতা যে স্পকের মতো একজন চরিত্রে অভিনয় করে নাম করেছেন।

— অার লাভ অ্যাকচুয়ালিতে এমার সঙ্গে…

— ওই রোলটা অামার খুব প্রিয়। এমা…এমা টম্পসন অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু, দারুণ লাগতো ওর সঙ্গে কাজ করতে।

— ব্ল্যাকঅ্যাডারের সঙ্গে সীনটা কেমন ছিল?

— ব্ল্যাকঅ্যাডার মানে…ও, রোয়ান। হা হা, ওটা বেশ মজার সীন ছিল। অামি, মানে অামার চরিত্র, সে তার সেক্রেটারীর প্রেমে পড়েছে, তার জন্য কী একটা গয়না না হীরে লুকিয়ে-চুরিয়ে কিনছে যাতে তার স্ত্রী–এমা টম্পসনের চরিত্রটি–জানতে না পারে। হাতে খুব কম সময়, তার মধ্যেই ওই দোকানের লোককে বলছে প্যাক করে দিতে। সে চরিত্রে রোয়ান অভিনয় করেছিল, রোয়ান অ্যাটকিনসন। সে ব্যাটা হীরেটাকে প্যাক করতে এত সময় নিল…ওই অভিনয় রোয়ান ছাড়া কেউ পারতো না।

— ওই চরিত্রটাকে নিয়ে তো নির্দেশকের অন্য কিছু প্ল্যান ছিল তাই না?

— ছিলই তো। রিচার্ড, মানে রিচার্ড কার্টিস রোয়ানের চরিত্রটাকে–নাম ছিল বোধহয় রিউফাস–ক্রিসমাস এঞ্জেল করতে চেয়েছিল। মানে যার কাজ হল সবাইকে মিলিয়ে দেওয়া। শেষমেষ সেদিকে অার যাওয়া হয়নি।

— অাচ্ছা হান্স, এত বছরের কেরিয়ার, কোন চরিত্রটা সবচেয়ে ভাল লেগেছে করতে?

— বলা খুব মুশকিল চিত্রগুপ্ত…

— চিগুদা বলেই ডাকো। সকলে তাই ডাকে।

— বেশ। চিগুদা। -দা মানে কী রেস্পেক্ট দেওয়া?

— বড়দের দাদা বা নামের শেষে -দা যোগ করলে সেটা সন্মান দেওয়াই বোঝায় বটে। এটা গোলমেলে বিষয়, অনেক সাটেলটি অাছে, পরে বোঝাব।

— শুনব একদিন। যা বলছিলাম, চিগুদা, বলা খুব মুশকিল কোন চরিত্রটা সবচেয়ে পছন্দ। হান্স গ্রুবার বা নটিংহ্যামের শেরিফ বা সিভেরাস স্নেপ অামাকে খ্যাতি এনে দিয়েছে, অগুনতি মানুষের ভালবাসা দিয়েছে। স্নেপ তো বিশেষ করে অনেক বাচ্ছাদের কাছে অামাকে পৌঁছে দিয়েছে, তার জন্য অামি জো-র কাছে কৃতজ্ঞ। তবে চিগুদা, জানেন তো, অামি অাদপে স্টেজের লোক। নাটক অামার নেশা। যতগুলো চরিত্র করেছি, ভালবেসে করেছি, তার ভিতরে চলে গিযে করেছি, নিজেকে নিঙড়ে দিয়ে করেছি। অভিনেতা হিসাবে অামরা সবাই, অাবার কেউ নই। উই অার অল, ইয়েট নান।

— We are all, yet none. এটা কারুর উক্তি হান্স?

— ডেভিড রুডকিনের একটা নাটক ছিল, “স্যাক্সন শোর” নামে, বোধহয় চুরাশি সালে লেখা। সেখান থেকে উক্তি, “We are Romans. We are Saxons. We are British. We are all, yet none of these.”

— তুমি কখনও এই নাটকে অভিনয় করেছো হান্স?

— জানি না, মনে নেই। অাস্তে অাস্তে ঝাপসা হয়ে অাসছে কিছু কিছু স্মৃতি। বয়স, বা…

— হান্স। থাক। তার চেয়ে বরঞ্চ তোমায় একজনের সঙ্গে অালাপ করাই। এনার যখন মৃত্যু হয় তখন তুমি নিতান্তই ছোট। ইনি অভিনয় জগতের না হলেও কিছুদিন অাগেই তোমার ভয়েসভাই শার্লক এনার ভূমিকায় অভিনয় করে বেশ বাহবা পেয়েছে।

— শার্লক, মানে বেনেডিক্ট?

— ইনি ব্লেচলি পার্কের যাদুকর, এনিগম্যাটিক ব্যক্তি, বুঝলে? জ্যাকের সঙ্গে কোল্যাবরেট করে নিজের নামে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার টেস্টটি অাছে…

— কীসের টেস্ট?

— কৃত্রি…দুত্তোর, অার্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স। সে যাকগে, পরে শুনবে। ইনি তোমারই নেমসেক, এনার নামও অ্যালান, অার দৌড়ে টুরিং করতে ইনি খুব ভালবাসেন। অামি অবশ্য এনাকে ৫১২ বলে ডাকি। ৫১২, মীট হান্স। হান্স, মীট ৫১২।


 

অ্যালান রিকম্যানের মৃত্যুখবর অামি জানতে পারি মুখবই, অর্থাৎ ফেসবুকের মাধ্যমে। ওনার বেশ কিছু ইন্টারভিউ ইউটিউবে দেখেছি, তবে এই লেখার তথ্য বেশিরভাগই নেট-এ পাওয়া যায়। ওনার কিছু বক্তব্য বা অভিমত লিখতে গিয়ে একটু লাইসেন্স নিয়েছি বটে, কিছু ভুল হয়ে থাকলে মাপ করে দেবেন। উনি যে এরকম হঠাৎ করে চলে যাবেন ভাবিনি। ক্যানসার সত্যিই বড় বাজে জিনিস।

সোমদেব ঘোষ, রাত একটা, পনেরই জানুয়ারী, ২০১৬ সাল, কলিকাতা শহর।

 

Advertisements

4 thoughts on “হান্স

    1. না, এটা তো অ্যালান রিকম্যানের প্রতি ট্রিবিউট, ওবিচুয়ারি বা কাল্পনিক ইন্টারভিউও বলতে পারো। স্নেপ রিকম্যানের অভিনীত একটি চরিত্র, এবং সে নিয়েও একটা ছোট্ট গল্প আছে এই লেখাতে। কিন্তু রিকম্যান তো আর শুধু স্নেপ নন, তাই চেষ্টা করেছি ওনার সম্বন্ধে যা জানি তা নিয়ে লিখি।

      Liked by 1 person

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s