— চায়ে বিস্কুট ডুবিয়ে খেলে নাকি মনের গভীরতা কমে।
— ফ্যাঁচ্চো!
— কোথাও একটা পড়েছিলাম। অানন্দমেলা বোধহয়।
— দীপকা…ফ্যাঁচস্ব ফ্যাঁচ্চো।
— যবে থেকে পড়েছি, ঠিক করে রেখেছি, লাইফ গোল, চায়ে বিস্কুট ডুবিয়ে খাবো। নো ম্যাটার হোয়াট। জীবনে অার কিছু না হতে পারি, অন্তত চা-য়ে বিস্কুট ডুবিয়ে খাওয়াটাও যদি অায়ত্ত…
— হোওওয়্যাঁচ্ছোঃ-চ্ছোঃ-চ্ছোঃ-চ্ছোঃ…
— এটা কী? হাঁচির ইকো? স্নীজ প্রতিধ্বনি?
— দীপকাকুর গল্প। কবেকার মনে নেই। তবে…হ্যাঁ…তুই…হ্যাঁয়…ভুল কোট…হ্যাঁয়য়য়…
— ছোঃ ছোঃ, তোরই মনে নেই। অামি? অার ভুল কোট? ব্রেকলেস বাচ্চু কখনো ভুল কোট করে না। এফিডিভিট দিয়ে প্রম…
— হ্যাঁয়য়য়চ্ছোঃ!
— …অাণ করে দেবো।
— ফুঁচ। কিসুই…ফিঁইইচ…প্রমাণ করতে…ফুঁউউচ…পারবি না। বাজি হেরে যাবি।
— হেরে যাবো? অামি? ব্রেকলেস বাচ্চু…
— যাবি। ওয়ান হান্ড্রেড…ফ্যাঁ…পার্সে…চ্চো…
— …কখনো বাজি হারে না। কতোর বাজি?
— ফিঁইইচ। বাজি ধরতে তুই এতটাই মরিয়া?
— মরিয়া ফরিয়া কিস্যু নয় জানু। অাই নো অাই অ্যাম রাইট। বাজি হাম হি জিতেঙ্গা।
— জিতেঙ্গা?
— অালবাত জিতেঙ্গা। কাটাঙ্গা কাটাঙ্গা বোলকে দামামা বাজাকে জিতেঙ্গা।
— কাটাঙ্গা? সে অাবার…ফ্যাঁচ…কী?
— এক ধরনের হিংস্র জন্তু। গুগানোগুম্বারের দেশে থাকে।
— অার এ নাকি বাজি জিতবে। ছোঃ।
— কেন কেন কী হয়েছে হোয়াতা হেপেন?
— ওরে হতভাগা ওটা গুগানোগুম্বার নয়, গুগুনোগুম্বার।
— মোটেই না। গুগানোগুম্বার। অামি শিওর। বুদ্ধদেব বসু অামার গুলে খাওয়া।
— বসু? হা রে পোড়া কপাল, গুহ গুহ, বসু নয়। বসু অন্য লেভেলের লেখা লিখতেন।
— অ। ওই হল, বসু গুহ দত্তপুরকায়স্থ সবই এক।
— এই এই হঠাৎ অামার নাম নিয়ে টানাটানি কেন?
— নামটা রিডিকুলাস বলেই টানাটানি।
— রিডিকুলাস? জানিস এই নামের কত ইতিহাস, কত গৌরব, কত স্মৃতি, কত…ইয়ে…
— স্টক শেষ? থাক, অার নামকীর্তন করতে হবে না। তার অাগে বল, চা-য়ে বিস্কুট ডোবানো নিয়ে বেট ধরবি কি না।
— ধরবো বৈকি। অালবাত ধরবো। তুই হেরে গোভূত হবি, অার বাজি ধরবো না? এ সীন মিস করা ইম্পসিবেল।
— কী কনফিডেন্স মাইরি। ঠিক হ্যায়, বেট ধরলাম। অামার পণ এই পেনটা।
— পেনটা রাখবি? এটা তোর লেখার পেন না?
— পেন অাবার লেখার ছাড়া হয় নাকি?
— না না, মানে এটা দিয়েই তো তোর লেখাটেখা লিখিস। তোর তো খুব ফেভারিট পেন।
— বেট তো জিতবই, সুতরাং চিন্তা কীসের? তুই কি ধরবি শুনি?
— অামি? এই রে। উমমম…এই চটিজোড়া?
— চটি? অামি রাখলাম পেন অার উনি রাখলেন চটি! লোকে কি অার সাধে তোকে…
— এই এই, খবরদার ওই নামে ডাকবি না।
— কেন রে, ডাকলে কী করবি রে?
— বলছি ডাকবি না। একদম না।
— ডাকবো। অালবাত ডাকবো। কী করবি কর।
— দ্যাখ বাচ্চু…
— জবলেস জাহ্নবীইইই। জঅঅঅবলেস জানুউউউউউ…
— বাচ্চু! কী হচ্ছেটা কী? সকলে দেখছে।
— দেখুক না। বিষ্টুদার চায়ের দোকান তো, পাড়াতুতো চাসেলার, বেসিকালি সেকেন্ড হোম। বুঝলে জবলেস জাহ্নবী?
— তুই যদি ইমিডিয়েট এই নামটা বলা বন্ধ না করিস…
— তাহলে জবলেস জানু কানু করবেএএএএএ…
— …তাহলে অামি গিয়ে তোর পাশে গা ঘেঁষে বসবো। তোর সাধের ফতুয়ার বারোটা বাজবে।
— …এএএ…খক খক খাবি খক।
— কীরে, বিষম লাগলো নাকি? অাহা রে, পোলাপান। নে নে, জল খা।
— একদম না। কভী নেহি। পাশে এসে বসবেন? লোকে কী বলবে শুনি। তাও বৃষ্টি মাথায় নিয়ে…অামার ফতুয়া ভেজালে পিটনচন্ডী।
— বাঃ, ব্রেকলেস বাচ্চুর গলায় ব্রেক লাগানো এতই সহজ? নোট করে রাখতে হচ্ছে।
— এই শোন, তোর ছাতা নিতে এত অাপত্তি কীসের বলতো। মানে, প্রবলেমটা কোথায়?
— অকালের বৃষ্টি, ছাতা পাবো কোথায়?
— মানে? বৃষ্টি কি অাজ শুরু হয়েছে? অনেকদিন ধরে চলছে, এখন বেশ কয়েকদিন চলবেও।
— তাই, না? সরি, মানে ভুল হয়ে গেছে অার কি।
— ভুল হয়ে গেছে? এই ফেব্রুয়ারীর বৃষ্টি, ওয়েদার ঠান্ডা, এর মধ্যে ভিজলে ঠান্ডা লাগবে না তো কী হবে? এসে কটা হাঁচি খেলি শুনি?
— বেশি না। গোটা চার-পাঁচটা…
— মিনিমাম তিরিশটা। এবার জ্বর অাসবে নির্ঘাত। ইশ, অামার সেন্সটাও লোপ পাচ্ছে। বাড়ি গিয়ে পাল্টে অায় এক্ষুণি। গায়ে শুকোলে অাজ রাতেই ১০১।
— ওরে শোন শোন, কিচ্ছু হবে না, কথা দিচ্ছি। অামার অায়রন কনস্টিটিউশান। জ্বর-ঠান্ডা-বাসকপাতা…কোন কিছুই অামাকে ডাউন করতে পারে না। এই দ্যাখ না, হাঁচি একেবারে থেমে গে…গে…
— থেমে গেছে বুঝি?
— …গে…ঘ্যাঁচ্ছোঃ…
— বুঝেছি। খুব বীরাঙ্গনা সাজা হয়েছে। এবার চ’দেখি, তোকে সোজা বাড়ি গ্যারেজ করে তারপরে কাজ।
— বাড়ি! ইঁক, এই না না, বাড়ি যাবো না। মা বকবে।
— বকবে তো বটেই। বকাই উচিত। মেয়ে ছাতা না নিয়ে এই শীতে…
— বসন্ত…ফ্যাঁচ্চো…
— শাটাপ। এই বসন্তের অফসীজন বৃষ্টিতে মেয়ে ভিজে গোবর হয়ে জ্বর বাঁধাবে, এটি চলবে না। চলো বাড়ি, গরম চা খাও, জামাকাপড় পাল্টিয়ে নাও, তারপর নেক্সট অ্যাডভেঞ্চার।
— ওরে, শোন। এখন বাড়ি ফেরা চলবে না রে।
— চলবে না মানে? হোয়াই নট? প্রবলেমটা কী?
— বাবার এই মাসের টাকাটা পাস হতে দেরি হচ্ছে। মা বারদুয়েক দৌড়েছে, অামিও গেছি। কোন সুরাহা হচ্ছে না। সরকারি ব্যাপার তো, সময় লাগে।
— সেকি, রফিকুলচাচা যে বললো সব টাইম টু টাইম ঠিকঠাক চলে অাসবে, স্ট্রেট অ্যাকাউন্টে? কোন অসুবিধা হবে না? ওনাকে জানাসনি?
— জানিয়েছিলাম। কালই গিছলাম।
— কী বললেন?
— বললেন, একটু প্রবলেম হচ্ছে এবারটা। বিউরোক্র্যাটিক কোন লালফিতার বাঁধনে চাপা পড়ে গেছে। সামহাউ সামহোয়্যার।
— সেকি? কোনদিনও তো হয়নি এরকম।
— এবার নাকি হচ্ছে। মা যেতে চেয়ে ওনাকে ফোন করতে বললেন, মেয়েকে পাঠাও, তুমি বুঝবে না এসব জিনিস। অামি গেলুম, খুব একটা বুঝলুম না, এখন অাবার ডেকেছেন।
— এখন? মানে? অাজ তো রোববার। অাজ তো ব্যাঙ্ক বন্ধ।
— না, মানে, বাড়িতে ডেকেছেন।
— বাড়িতে ডেকেছেন?
— কাল বললেন তো, ব্যাঙ্ক বন্ধ অাজ, তাই বাড়ি এসো, বুঝিয়ে দেবো।
— এক মিনিট। তুই এখন ওনার বাড়ি যাবি?
— হ্যাঁ। তাই তো বেরিয়েছি। বলেছেন এগারোটায় পৌঁছতে, এখন পৌনে, এখন বাড়ি গেলে অার ওনার বাড়ি যেতে পারবো না।
— জানু। এটা অামার ভাল লাগছে না রে।
— ভাল লাগছে না? কী ভাল লাগছে না?
— রফিকুলচাচার বাড়িতে কেউ থাকে না, উনি একা বাসিন্দা। ওনার নিকাহ্ হয়েছিল বটে, কিন্তু উনিই তিন তালাক দেন। পরে শবনম চাচিই ডিভোর্সের মামলা করেন। ওনাকে নাকি রফিকুলচাচা মারতেন, নির্যাতন…
— কী বলছিস কী? রফিকুলচাচা দেবতুল্য মানুষ, উনি…
— কথাটা শুনতে খারাপ লাগছে, কিন্তু তুই জানি না দেখে বলতে বাধ্য হচ্ছি। অবশ্য খুব কেউ যে জানে তাও নয়।
— এখন চাচি কোথায়?
— জানি না ঠিক। ডিভোর্স পেয়ে বোধহয় অাহেমাদাবাদ ফিরে গেছেন। ওখানেই তো ওনার ফ্যামিলি।
— ইশশ, রফিকুলচাচা, এরকম? তাই বোধহয়…
— তাই বোধহয় কী?
— অামি ভাবিই নি। ভগবান।
— কী ব্যাপার, খোলসা করে বল।
— কাল অামি যখন ওনার সঙ্গে দেখা করে ফিরে অাসছি, উনি অামার এই শাড়িটার খুব প্রশংসা করেন। সাঁতারও কাটছি কিনা জিজ্ঞেস করেন। বলি হ্যাঁ, পুলিদির কাছে শিখছি রেগুলার। তখন বলেন, অামার ফিগারটা তাই এত…
— মাই গড। ফিরদৌস ঠিকই বলেছিল। রফিকুলচা…চাচা বলতে ঘেন্না করছে। ছিছি…নিজের বেটির বয়সি…
— তাহলে কী করবো রে? উনি ব্যবস্থা না করে দিলে…অ্যালাউয়েন্সটা থেমে গেলে…
— তা বলে তুই নিজেকে বেচে দিতে যাবি? তোর অাজকে যা চেহারা, উনি দেখলে…না, তুই যাবি না ওনার কাছে। একদম নয়। অামি যাবো। তোকে বাড়ি দিয়ে অাসবো প্রথমে, তারপর যাবো। দেখি জাহ্নবী পুরকায়স্থর বদলে মউদুল ইসলামকে দেখলে ওনার কী রিয়্যাকশন হয়।
— বাচ্চু…মইদুল, থ্যাঙ্কস। অামি তোর কাছে ঋণী।
— থাক, অত সেন্টু খেতে হবে না। চা-টা জুড়িয়ে জল হল, বিষ্টুদা, অারেক গ্লাস গরমাগরম অ্যাগ্গজ, ফর জবলেস জাহ্নবী। কুইক।
— অাবার?
— পুলিদির কী খবর? সাঁতার করাচ্ছে তো রেগুলার?
— বললাম তো। রোজ। একদিনও মিস হতে দেখিনি। সেদিন কালিঘাটের মোড়ে দেখলাম।
— কথা হল?
— না তো, গাড়িতে ছিল। ট্যাক্সিতে। একজন হিজ…সরি, ট্রান্সজেন্ডার গাড়ির জানলার কাছে এসে হাততালি দিচ্ছিল, দেখলাম ব্যাগ থেকে বের করে টাকা দিল পুলিদি, উনিও হাত ছুঁইয়ে অাশির্বাদ করে চলে গেলেন।
— বাঃ। ওদের বেশিরবাগ লোকই কিছু দেয় না। পুলিদি দেয়, বলতে শুনেছি।
— এই যাঃ, পুলিদি কখনই এরকমভাবে প্রচার করবে না।
— অারে দুর বোকা, প্রচার নয়, মোটিভেট করার জন্য বলছিল। বোধহয় ফিরদৌসকেই।
— গাড়িতে সঙ্গে কেউ একটা ছিল বোধহয়। ঠিক দেখতে পাই নি, অন্ধকার ছিল।
— পুলিদির সঙ্গে? পুরুষ?
— হ্যাঁ, তাই হবে।
— তা হলে ময়ূখদা। ময়ূখ চৌধুরি। খবরের কাগজে চাকরী করে, একটা কলাম লেখে কোথায় যেন।
— তাই নাকি? ময়ূখ চৌধুরি? তাহলে পুলিদি কি…
— জানু? কী বলেছি? নো পিসি।
— কী মুশকিল। ভালবাসার লোককে নিয়ে এট্টু কতা বললেই পরচর্চা হয়ে গেল?
— পিসি থেকে পিএন-এ যেতে বেশি সময় লাগে না। অাব্বা বলতেন, রেগুলার।
— হুম। করিমচাচা বলে থাকলে…
— … সে বাত শিরোধার্য, বুঝলে হে রমণী?
— রমণী?
— তাও বটে। তোকে ঠিক রমণীও বলা যায় না। নাক টিপলে…
— দেখ বাচ্চু, তুই অামার হয়ে রফিকুলচাচার কাছে যাচ্ছিস, গরম চা খাওয়াচ্ছিস গাঁটের পয়সা খরচ করে, মায় হ্যাঁচ্ছো হচ্ছে বলে কনসার্ন্ডও হয়েছিল বলে রক্ষে পাচ্ছিস, নয়তো প্রমিস করছি, সোজা গিয়ে জাপটে ধরতাম, এই চায়ের দোকানেই।
— একদম না। চা শেষ? নে ওঠ ওঠ, কুইক কুইক, বাড়ি চল, সময় চলে যাচ্ছে। এগারোটা বাজে প্রায়।
— বৃষ্টি তো।
— বাব্বা, এতক্ষণ এই বৃষ্টিতেই ভিজে কাক হয়েছেন, অার এখন ভয় পাচ্ছেন? নে নে উঠে পড়, ভিজের উপর ভিজলে কিছু হয় না, ঠান্ডা যা লাগার লেগে গেছে অলরেডি।
— অামার জন্য বলছি না। তুই ভিজবি? অামার সঙ্গে?
— হ্যাঁ, তাতে কী…ও। এই অভিসন্ধি?
— জানিস কতদিন এই মুহূর্তটার জন্য অপেক্ষা করে অাছি?
— বুঝেছি। পেটে পেটে দুষ্টুবুদ্ধি। ওসব চলবে না, মাইন্ড চেঞ্জ করলাম। ওই যে ফিরদৌস।
— ফিরদৌস? ওকে দিয়ে কী হবে?
— এই ফিরদৌস। তোর ছাতাটা লাগবে। না না, অামার ছাতা তো অাছেই, থাকবে না কেন। জজার জন্য। ওকে বাড়ি পৌঁছে অাসবো, দেখছিস না, ঠান্ডা লাগিয়েছে জোর।
— জজা?
— শর্ট ফর্ম ফর জবলেস জা…জানিসই তো। ফিরদৌস, অার শোন, জজাকে ছেড়ে দিয়ে এসে রফিকুলচাচার বাড়ি যাবো। তুই ফ্রী? একটু লাগবে তোকে? হ্যাঁ, সেই ব্যাপারটাই…বলছি পরে। এই জানু, ওঠ ওঠ, কুইক কুইক…
— তুই যাবি শেষমেশ?
— যাবো নয়তো কি ঢপ দিচ্ছি? শুনছিস না, ফিরদৌসকেও নিয়ে যাব।
— এই মইদুল, প্লীজ, কিছু তেমন করিস না। হয়তো অামারই বোঝার ভুল, রফিকুলচাচা এরকম হতে পারেন ভাবতে পারছি না।
— ভাবতে হবে না। বলছি না, অামি অার ফিরদৌস সামলে নেবো। চিন্তা নেই, গোলমার পাকাবো না, জাস্ট দেখবো কী বলেন ভদ্রলোক। রিয়্যাকশনটা কী হয়।
— কিন্তু কী বলবি, তুই কেন, অামি নয় কেন।
— সিম্পল। অকালের বৃষ্টিতে রভীনা ট্যান্ডনগিরি করতে গিয়ে তোর ঠান্ডা লেগেছে, বিছানায় শুয়ে ফ্যাঁচ্ছোলিকা প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। নট সো ফার ফ্রম দ্য ট্রুথ।
— মোটেই ফ্যাঁচ্চোলিকা…উফফ, পারিসও বটে।
— পারা না পারার কোন কেসই নেই। অাই অ্যাম ব্রেকলেস বাচ্চু, অাই ডোন্ট জাস্ট ডু থিংস, অাই সে থিংস।
— ইয়ে, মানে, ওটা বোধহয় উল্টো হবে।
— ওই হল। মানে বুঝলেই হল। সারমর্ম ইজ মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট। মাধ্যমিকে সারাংশ করতে গিয়ে ফুল মার্কস পেতাম।
— অসম্ভব। বাংলায় ফুল মার্কস, বিশেষত ওই ডেঞ্জারাস টপিকে? বিশ্বাস করতে পারলাম না।
— তোকে বিশ্বাস করতে হ…এই দেখে দেখে, ওটা ম্যানহোল, দেখছিস না জল ঘুর্ণি পাকিয়ে যাচ্ছে।
— এইটুকু বৃষ্টিতেই জল জমে গেল রে?
— এইটুকু কী? রেরেতেড়ে অাসছে তো, কলাবেগুন বৃষ্টি। অামার ট্রাউজারের অার অবস্থা নেই।
— অাহা, জানুর সঙ্গে হাঁটছো, ইন রোম্যান্টিক বর্ষা, অার প্যান্ট ভিজলে মুখ ভার?
— ভার কীসের, মুখ অমলেট। অামি তোমার মতো এসব পারি না বুঝলে?
— এসব মানে? রভীনাগিরি?
— একদম। কী দরকার বাপু? অাল্লাহ্ ছাতা দিয়েছেন, ছাতা ব্যবহার করবে। ন্যাচারাল অর্ডার অফ থিংস।
— থাক। কী অার হবে ছাতা দিয়ে? ছাতা খুলে কে কবে বড় হয়েছে?
— অামি একটা ব্যাপার বুঝছি না। তোর হাতেই তো কালকেই একটা জলজ্যান্ত ছাতা দেখলুম, গেল কোথায়?
— অারে দেখ দেখ কাগজের নৌকো। বানাবি?
— দেখ জানু, কথা ঘোরানোর চেষ্টা নয়। হোয়্যার ইজ দ্য ছাতা?
— বানাবি না? এরকম বৃষ্টি কটা পাবি রে? তার মধ্যে এক ছাতায় দুজনে হাঁটা…
— ফার্স্ট অফ অল, এক ছাতা নয়, সেপারেট ছাতা। এক ছাতায় দেখলে মাসিমা অামায় পিটিয়ে পোস্তচচ্চড়ি করবেন। সেকেন্ড, তোর এই কথা ঘোরানোর ফন্দী অামি অনেক দেখেছি, পুরনো হয়ে গেছি। ঝেড়ে কাশ, নয়তো কাতুকুতু।
— ইশশ, এই ভরদুপুরে, রাস্তায়, সবার সামনে তুই কাতুকুতু দিবি অামায়? তার উপর এই বৃষ্টির মধ্যে?
— ওরে বাবা, যাই বলি এ তো উল্টো…না বেগমশাহজাদী, ঘাট হয়েছে, কাতুকুতু দেওযার কথা বলে ভুল করেছি, গুস্তাখি মাপ চাইছি।
— তুই যখন ফারসি বলিস, খুব সুন্দর লাগে।
— মরেচে। লিস্ট থেকে উর্দু বাদ গেল।
— উর্দু নয় ফারসি।
— উর্দুতেও তো এসেছে, ওতেই হবে।
— শোন না, তুই সত্যিই যাবি রফিকুলচাচার কাছে?
— কথা তো দিয়েছি। জবান দিলে ব্রেকলেস বাচ্চু…
— বুঝেছি। একটু মা’র সঙ্গে দেখা করে…
— দরকার নেই। মাসিমার সঙ্গে পরে দেখা করবো, কাজটা মিটুক। ছাতাটা দে, অামি অার এগোচ্ছি না।
— হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক অাছে, এই তো গলির মুখেই চলে এসেছি। চলে যাবো, ভিজে তো গেছিই…
— জাহ্নবী?
— উঁ?
— সাবধানে যাস। অার সাবধানে থাকিস। বুঝলি?
— ওরে মইদুল, শোন। থাকবো। অার কথাটা “চা-য়ের পেয়ালায় বিস্কুট ডুবিয়ে খেলে মনের গভীরতার অভার বোঝা যায়”, কমে না। বাজিটা অামিই জিতলাম, পেনটা রাখ, ভাল লেখা লেখ, ময়ূখদাকে দেখিয়ে ইমপ্রেস করা, তাতেই বাজি পূরণ। সাইকেল চালিয়ে অার রোজ সকালে খবরের কাগজ বিলি করতে হবে না, কাগজের বাইলাইন তোর হবে।
— ময়ূখদাকে…কীকরে জানলি?
— তুই ব্রেকলেস বাচ্চু হতে পারিস, কিন্তু অামিও জবলেস জাহ্নবী। জবলেস, বুঝলি? এসব জানার বোঝার সময় অাছে। লেগে যা, খবরের কাগজের চাকরিটা পেলে নামটা সার্থক হবে।

(চলবে)

সোমদেব ঘোষ, রাত পৌনে বারোটা, অাঠাশে ফেব্রুয়ারী, ২০১৬ সাল, কলিকাতা শহর।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s