প্রথম পর্ব 

দ্বিতীয় পর্ব

তৃতীয় পর্ব

— নমস্কার, অাপনিই ডক্টর বৈদ্য?

— অাজ্ঞে হ্যাঁ। নমস্কার।

— বসুন বসুন। চা? কফি?

— নো, থ্যাঙ্কস।

— বলুন, হোয়াট ক্যান অাই ডু ফর ইউ।

— প্রথমেই, এতো শর্ট নোটিসে দেখা করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

— অারে নো নো, অফ কোর্স অফ কোর্স, সম্বিত সেন অামার খুব ভাল বন্ধু। ইন ফ্যাক্ট, উই অার চাইল্ডহুড ফ্রেন্ডস। ছোটবেলার বন্ধু। চাড্ডি বাডিজ।

— অাজকাল তো শুনেছি চাড্ডি বললে লোকে ক্ষেপে যায়।

— হা হা হা, কারেক্ট, ইট হ্যাজ অা ডিফারেন্ট কনোটেশন নাউয়াডেজ। ওকে, পলিটিকালি কারেক্ট, লঙ্গোটি ইয়ার। চলবে?

—  অাপনি বাংলাটা বেশ ভালই বলেন তো।

—  অারে এই শহরে পোস্টেড তো অনেক দিন হল। সিন্স অাই ওয়াজ টুয়েল্ভ ইয়ার্স ওল্ড। তার অাগে ডেলি, দ্যাট ইজ হোয়েন অাই নিউ সম্বিত।

—  পোস্টেড?

—  ওই হল, ওই হল। অাই কল ইট বীয়িং পোস্টেড। ওয়েস্ট বেঙ্গল পুরো ঘুরে বেরিয়েছি তো, পোস্টিং যে কোথায় কোথায় হয় ভাবতে পারবেন না। এনিওয়ে, অাই বিলীভ ইউ হ্যাভ নট কাম ফর অাইডেল চ্যাটার। লেটস কাম টু দ্য পয়েন্ট দেন।

—  মিঃ সেন বলেছিলেন বটে, অাপনি স্মল টক করেন না।

—  ইয়েস, অাই ডিসলাইক স্মল টক। বলুন ডঃ বৈদ্য, হোয়াট ব্রিংস অা মেডিকাল ডক্টর টু দ্য অফিস অফ দ্য ডি-অাই-জি পুলিস।

—  একটা অ্যাপ।

—  অাই বেগ ইয়োর পার্ডেন?

—  একটা স্মার্টফোন অ্যাপ। অানন্দবাজারে অ্যাড বেরিয়েছিল কিছু দিন অাগে, দেখেছিলেন কি? ইয়ার প্যানেল, একটা হলদে রেক্ট্যাঙ্গেল, মাঝে একটা কিউ-অার কোড।

—  ইয়েস ইয়েস, অাই স ইট।

—  দেখেছেন? অাপনি কি সেই কোড স্ক্যান করেছেন?

—  অামি? হাসালেন ডাক্তার। অামি ওল্ড স্কুল, স্মার্টফোন অামার ডটার ইউজ করে।

—  ও অাপনার স্মার্টফোনই নেই?

—  অামি অতটা টেকস্যাভিই নই। অাই উইল নট বী এবেল টু ইউজ ইট। রেখে লাভ কি?

—  থ্যাঙ্ক গুডনেস। তাহলে অাপনার সঙ্গে নিশ্চিন্তে কথা বলতে পারবো।

—  কিন্তু স্মার্টফোনের অ্যাপ নিয়ে…

—  বলছি। কিন্তু তার অাগে, কলকাতা শহরে সুইসাডের হার বাড়ছে লক্ষ্য করেছেন?

—  ইনডীড উই হ্যাভ।

—  কেন?

—  অাই বেগ ইয়োর…

—  কেন বাড়ছে? হোয়াট হ্যাজ চেঞ্জড?

—  চেঞ্জড? কিছু চেঞ্জ হয়েছে বলে অাপনি মনে করছেনই বা কেন? এরকম সুইসাইড রেট ইজ নর্মাল।

—  নর্মাল নয় বলেই অাপনার কাছে অাসা। অামার দৃঢ় বিশ্বাস, কেউ এই অ্যাপের সাহায্যে লোকেদের সাবকনশাসলি সুইসাইডে প্ররোচিত করছে।

—  অাই বেগ…

—  শুধু তাই নয়, এই অ্যাপ যার ফোনে অাসবে, যে এই অ্যাপ ব্যবহার করবে, তার তখন ইচ্ছে করবে অ্যাপটা অন্যদের দিতে।

—  মানে বলছেন সে অন্যদের এনকারেজ করছে অ্যাপটা ইনস্টল করতে?

— হ্যাঁ, যে করে হোক। তিনজন ভিক্টিম : রিযা হালদার, পার্থসারথি বিশ্বাস, অার শ্রীপর্ণা সেন। প্রথমজন চারদিন অাগে, টেগোর পার্কের কাছে বাসের তলায় ঝাঁপ দেয়। দ্বিতীয়জন তার পরের দিন গঙ্গায় ডুবে, প্রিন্সেপ ঘাটের কাছে নৌকো থেকে জলে ঝাঁপ। থার্ড জন গত পরশু…

—  অাই নো দ্য ডিটেল্স, ডক্টর। হোয়াট ডু ইউ মীন ভিক্টিম? এরা সুইসাইড করেছে।

—  হ্যাঁ, ভিক্টিম। কারণ এগুলো অাত্মহত্যা নয়, এগুলো খুন। মার্ডার। মার্ডার থ্রু সাজেশা…

—  ইয়েস ইয়েস অাই গেট ইট। মার্ডার থ্রু সাবকনশাস সাজেশান। সেটা হচ্ছে কীভাবে? থ্রু দিস অ্যাপ? হাউ ডাজ দিস ওয়ার্ক?

—  অ্যাপটা একটা স্ক্রিনসেভার। মোবাইল স্ক্রীনটাকে হলদে করে দেয়। মাঝে থাকে কিউ-অার কোডটা, যাতে দে কেউ স্ক্যান করে নিতে পারে…

—  ওয়েট ওয়েট, অাপনি বলছেন একটা স্ক্রীনসেভার মানুষকে সুইসাইড করতে এনকারেজ করছে?

—  অাই নো হাউ দিস সাউন্ডস, বাট বিলীভ মী…

—  ওয়েল, ডক্টর বৈদ্য, অাই থিঙ্ক উই বোথ নো হাউ দিস সাউন্ডস। অাপনি সম্বিতের ডাক্তার, অাপনি ক্লীয়ার হেডেড হবেন, এটাই অাশা করেছিলাম। সম্বিত রেকমেন্ডেড ইউ ভেরি হাইলি। অাই অ্যাম অাফ্রেড অাই ক্যানট সে দ্য সেম। ইফ ইউ উইল এক্সকিউজ মী…

—  সুইসাইড নোটগুলো দেখেছেন?

—  সুইসাইড নোট? নো, অাই কান্ট সে অাই হ্যাভ।

—  তিনজনেই একটা করে সুইসাইড নোট ছেড়ে গেছে, ইন ইউনিক ওয়েজ। একজন ব্লগে, একজন ফোনে রেকর্ড করে, অার একজন ডায়েরিতে। অার তারা তাতে তাদের অাত্মহত্যা করার বিবরণ দিয়ে গেছে। অ্যাট লীস্ট কীভাবে করবে সেইটা বলে গেছে।

—  ডক্টর, হাউ ডু ইউ নো সো মাচ? এগুলো তো প্রেস রিলীজ হয়নি।

—  সেটাই তো ইন্টারেস্টিং। প্রেস এর গন্ধ পেলে ছেড়ে দিতো না। তার মানে হয় এই এভিডেন্স প্রেসের কাছ থেকে লুকোনো হচ্ছে, বা দ্য প্রেস ইজ কমপ্লিসিট। সাংবাদিকরা জেনেবুঝে এটা সাপ্রেস করছে। বা করতে বাধ্য করা হচ্ছে। অ্যাম অাই রাইট?

—  অাপনার লেভেল অফ ইনফর্মেশান শুনে অামি তাজ্জব হয়ে যাচ্ছি।

—  তার মানে অাই অ্যাম রাইট?

—  ইউ অার অা ডেঞ্জারাস পার্সেন।

—  না, ডি-অাই-জি সাহেব, অামি একজন ওয়েল-উইশার। যে এই অ্যাপ তৈরী করেছে, হি ইজ দ্য থ্রেট।

—  হি?

—  অা লাইকলি গেস।

—  তো কী করতে হবে শুনি।

—  প্রেস রিলীজ করবেন না। ওগুলো ইন দ্য ওপেন হয়ে গেলে সমূহ সর্বনাশ। ইনফেকশানটা স্প্রেড করবে।

—  ইনফেকশান?

—  এটা একটা ইনফেকশান। জাস্ট লাইক অা ভাইরাস। শুধু যেটা ছড়াবে সেটা কোন অসুখ নয়, মানুষের মনে ভয়। এটা অাটকাতে হবে, অ্যাজ সূন অ্যাজ পসিবল। নাহলে কিন্তু তাকে থামানো যাবে না?

—  ডক্টর বৈদ্য, তাকে মানে কাকে?

—  হলুদকে। হলুদকে থামানো যাবে না।

ডক্টর বৈদ্য উঠে পড়লেন। ডি-অাই-জি কার্তিক সুব্রামানিয়ামের কতটা হেল্পফুল হবেন জানা নেই, কিন্তু অাশা করা যায় সুইসাইড নোটগুলো ছাপা হবে না। এবার নেক্সট চাল হলুদের। লিফ্টের বোতাম টিপে ডক্টর চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন।

ঘরের ভিতর ডি-অাই-জি সুব্রামানিয়াম পকেট থেকে একটা অত্যাধুনিক স্মার্টফোন বার করে ডেস্কে রাখলেন। হলুদ অালোয় ভরে গেল অফিসটা। ডি-অাই-জি সুব্রামানিয়াম ফোনটা তুললেন, সংক্ষেপে কথা বললেন এক সাবর্ডিনেট অফিসারের সঙ্গে।

পরের দিন কলকাতার সমস্ত ইংরিজি বাংলা হিন্দী কাগজে বড় বড় করে “সিরিয়াল সুইসাইডস” নামে শিরোনাম বেরিয়ে গেল। অার ইয়ার প্যানেলে রইল সেই অ্যাড। রেক্ট্যাঙ্গেল, মাঝে কিউ-অার কোড, রঙ হলুদ।

(শেষ)

_____________________

#হলুদসিরিজ -এর পঞ্চম কিস্তির দ্বিতীয়াংশ। বাকি দুটি অংশ ধারাবাহিকভাবে দুদিন অন্তর বেরোবে। বাকি চার কিস্তির লিঙ্ক নীচে দিলাম। পঞ্চম কিস্তি হলেও এটি কিন্তু হলুদ সাত-ই, কোন ভুল নেই।

হলুদ এক 

হলুদ দুই

হলুদ তিন

হলুদ পাঁচ

_____________________

সোমদেব ঘোষ, দুপুর তিনটে, চৌঠা মার্চ, ২০১৬ সাল, কলিকাতা শহর।

Advertisements

4 thoughts on “হলুদ সাত : ইনফেকশান, চতুর্থ পর্ব

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s