— জানেন তো, ভগবানে অামি খুব বিশ্বাসী।
— ইজ দ্যাট সো? লেকিন হামি তো জানতাম অাপ সায়েন্টিস্ট অাছেন। ভিগগ্যানি।
— কি মুশকিল। বিজ্ঞানী বলে ভগবানে বিশ্বাস থাকতে নেই বুঝি? এরকম কোন নিয়ম অাছে নাকি?
— রুল্স কি বাত ছোড়িয়ে। হামি তো জানতাম অাপ লোজিকাল অাদমী অাছেন। গডে বিসোয়াস কোরেন না।
— বিশ্বাস না করে উপায় কী বলুন।
— কিঁউ কিঁউ অ্যায়সা কিঁউ?
— বিশ্বাস না করলে ঘোর বিপদ, বুঝলেন।
— ডেঞ্জার? কেয়া বুরবকোঁ জ্যায়সা বাত কর রহে হ্যাঁয় ঘোসবাবু? ক্যায়সা ডেঞ্জার?
— অাচ্ছা এটা বলুন, মানুষ প্রথম, মানে একেবারে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে যে ঈশ্বরের অারাধনা করে অাসছে…তার কারণ কী? মোটিভেশন কী?
— কেয়া মোটিভেশন, অাপ হী বতাইয়ে।
— ধরুন, একটা বড়সড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটলো। বন্যা এল, সব ধুইয়ে দিয়ে চলে গেল। বা ভূমিকম্প হলো, সব ধ্বসিয়ে দিয়ে…
— সমঝ গেয়া। অাগে বঢ়িয়ে।
— এসব তো প্রাগৈতিহাসিক মানবের হাতের বাইরে, তাই না? খড়্গ-দন্ত বাঘ যদি অাক্রমণ করে…
— কেয়া বাঘ?
— সেবার টূথ টাইগার। তার অাক্রমণ রুখতে তার কাছে ছিল ভারি পাথরের ধারালো অস্ত্রশস্ত্র। প্রবল শীতে বেঁচে থাকার জন্য সে শিখেছিল অাগুনের ব্যবহার। কিন্তু প্রলয়ঙ্কর ঝড়ের হাত থেকে বাঁচার কোন উপায়ই সে জানতো না।
— ইসী লিয়ে ভগোয়ান কি পূজা?
— একদম। প্রকৃতিকে পার্সোনিফাই করে তাঁর কাছে অাকুল অার্তি জানানো–হে প্রভু, রক্ষা করো, ক্ষমা করো, নির্দোষকে শাস্তি দিয়ো না, নির্বলকে ধ্বংস করো না। প্রার্থনা করি, হে মাতা, হে পিতা, সর্বেসর্বা।
— তো অাপ কহ রহে হ্যাঁয় কি ওয়ার্শিপ শুরু হুয়া থা কিঁউকি লোগোঁ কি মন মে ডর থা?
— ওয়ান হান্ড্রেড পার্সেন্ট। তারা ভয় পেতো, তাই পুজো করতো। বাচ্ছারা ভয় পেলে যেমন বাবা-মা’র কাছে, অভিভাবকের কাছে ছুটে যায়, মানুষও তেমন একটা স্যাঙ্কচুয়ারী খুঁজে পেল, ঈশ্বরবিশ্বাসে।
— ঠীক হ্যায়। সমঝা। লেকিন অাপ কিঁউ, অচানক?
— অামি কেন হঠাৎ ঈশ্বরে বিশ্বাসী হলাম?
— হাঁ।
— কেননা অামি ভয় পেয়েছি। যা ঘটছে, যা ঘটতে চলেছে, যা ঘটে গেছে–সব দেখে ভেবেচিন্তে অামি ঠিক করেছি, ভয় পাওয়া উচিত। ভয় না পেলে চলবে না। ভয় পেলে বিশ্বাস বাড়বে। বিশ্বাস বাড়লে মনের শান্তি বাড়বে। মনের শান্তি বাড়লে ভিতরে যে প্রশ্নগুলো কিলবিল করছে সেগুলোও ঘুমের ওষুধ খেয়ে টুপটুপ করে সাউন্ড অ্যাস্লীপ হয়ে পড়বে।
— লাইক গুড বয়েজ অ্যান্ড গার্লস?
— লাইক অা বাঞ্চ অফ গোপাল্স।
— রাখাললোগ কেয়া ঈশ্বোয়ার পে বিসোয়াস নেহী রখতে?
— রাখবে কী করে? তারা তো প্রশ্ন করতে এখনো ভুলে যায় নি। তারা তো ছটফটে, অশান্ত…তারা বেশি পড়ে, বেশি জানে, অগত্যা মানেও কম।
— অাউর অাপ? অাপকো শান্তি চাহিয়ে?
— শান্তি চাই। একদম। নাকে তেল দিয়ে অাইপিএল দেখতে দেখতে বুড়োবাবা ঢুকুঢুকু করতে করতে সম্পূর্ণ প্রশান্তি। কোনও প্রশ্ন নয়। নোওও কোশ্চেনস।
— অাউর অগর অাপ কো সওয়াল করনা পঢ়ে?
— ও বাবা, তাহলে তো একেবারে ইকেরাস। উড়ান দিতে গিয়ে একদম পপাত ধরণীতল।
— গিভ অাপ করছেন ঘোসবাবু।
— করবো না? অামি তো বাবু। বঙ্কিম পড়েননি? বাবুরা এসেন্স মেখে ফিনফিনে ধুতি ঝুলিয়ে স্টাইলিশলি গিভ অাপ করেন।
— লেকিন সওয়াল করনা তো অাপকা রাইট হ্যায়। কর্তভ্যা হ্যায়।
— হ্যাং ইয়োর কর্তব্য। ভারি বয়ে গেছে। নোটারি দিয়ে যে নোটা করবো, তার জো-ও তো নেই।
— কিঁউ? প্রবলেম কেয়া হ্যায় উসমে?
— কী অাবার? ধরুন অাছি বাঘদাদে। বাজারে গেলুম সব্জী কিনতে, দুড়ুম করে বোম ফাটলো, সীধে উপরের ফ্রী টিকিট পেয়ে গেলাম। বা লাহোরে ছেলেমেয়েদের হাত ধরে নিয়ে গেলুম ঈস্টারের উৎসবে। গদাম! শুধু ক্ষুদে হাতটা পড়ে রইল, ছোট্ট দেহটি যে কতছিন্ন হয়ে দিকে-দিকে ছিটকে গেল, তার ইয়ত্তা নেই। বা নাইজেরিয়ার দালোরিতে বিকেলে খেলতে গেল ছোটটি, ফিরে এল রোস্ট হয়ে, গ্রিল্ড হয়ে। বা…
— ঘোসবাবু, প্লীজ। নো মোর।
— সুনামি এসেছিল, ২০০৪-এ। ভয় পেয়েছিলুম। নেপাল ভূমিকম্প, গত বছর। ভয় পেয়েছিলুম। যখনই এরকম হয়, ভয় পাই। কেন জানেন?
— অাপকা ইসমে কোই কন্ট্রোল নেহী, ইসলিয়ে?
— হ্যাঁ। সেইজন্য। হেল্পলেস লাগে। এত টেকনলজি, এত বিজ্ঞান, এত উন্নতি…সব পয়েন্টলেস।
— কেয়া বাত কর রহে হ্যাঁয়? ইতনা প্রোগ্রেস হুয়া হ্যায়, ইসকা কোই মীনিং নেহী হ্যায়?
— মানে নিশ্চই অাছে। তিল তিল করে যে সভ্যতা গড়ে উঠেছে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রক্ত জল করে যা সব অর্জন করেছে মানুষ, মানুষের এত অাশ্চর্য কীর্তি, মানুষের বিদ্যা বুদ্ধি অধ্যবসায় শ্রম…এসব এক নিমেষে ধূলিসাৎ করতে শুধু একটি বস্তু চাই।
— কেয়া হ্যায় উও চীজ?
— মানুষের লোভ। গ্রীড। লোভে পাপ, পাপের ভয়, ভয়ে মৃত্যু। অাত্মার মৃত্যু। ডেথ অফ দ্য সোল। অার এইসবের মূলে কী, জানেন তো? কেন হয় এসব?
— অাপ হী বোলিয়ে?
— অ্যাক্ট অফ গড, বুঝলেন? সবই অ্যাক্ট অফ গড। এইজন্যই অামি ভগবানে বিশ্বাসী।
_________

সোঘো, রাত পৌনে বারোটা, পয়লা এপ্রিল, ২০১৬ সাল, কলিকাতা শহর।

Advertisements

4 thoughts on “অ্যাক্ট অফ গড

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s