—  ব্রজদা, ব্রজদায়য়ায়ায়া, সর্বনাশ হয়ে গেছে গো ব্রজদা, সর্বনাশ হয়ে গেছে।
—  তুই এরকম সত্তরের দশকের নিউ বিজলি ছবিঘরের চলা কাঁচারঙে পোস্টার লেখা হিন্দী সিনেমামাফিক কথা কইছিস ক্যান র‍্যা? স্পুটনিক তো পড়েনি, ট্রাম্পও টুয়েন্টি নাইন ব্যান করেন নি। বেপারটা কী খুলেমাফিক বলতো দিকিনি।
—  অারে ভীষণ সর্বনাশ হয়ে গেছে। অামার চাকরী চলে যাবে ব্রজদা তুমি বাঁচিয়ে দাও তুমিই হর্তা তুমিই কর্তা তুমিই হর্তুকিসংগঠনের নেতাপ্রবর তুমি ছাড়া এ যাত্রায় অামার অার কেউ বাঁচাতে পারবে না কেউ না কেউ না কেউ…
—  অাহা, এত্তা কেঁউ কেঁউ কাহে করতা, দুপুরকা ভাতপুঁইশাকচিচিঙ্গে হজম হোনে মে দিক্কত হোতা। জিগর ঠান্ডা রখো, বেপার কেয়া বতাও।
—  বেপার? বেপার সাংঘাতিক। মানে যাকে বলে হৈহৈকান্ড…
—  রইরই বেপার…?
—  গোবিন্দলাল অন গাধাব্যাক!
—  কত্তোবার কইচি, পুরনো অানন্দম্যালা থেইক্কে বেংলা ঝাড়বি না। কুপিং হাশি হয়।
—  অারে অামার একেবারে করোনারি থরহরিকম্পোসিস হয়ে গেল, অার উনি কুপিংহাশি দেখাচ্ছেন।
—  দেইখ, কেইস যে খেইছিস বউলা না বউলা তোউর বেপার, অাইমি ছিলিম গিইলেছি, ঘুইম্যা যাব্যো, উইঠলে ডাকিস।
—  অারে না না, এরকম করো না এরকম করো না। কথা দিচ্ছি, এক বছর বাংলার বদলে তোমার চন্নামিত্তি খাবো। প্রমিস। গডপ্রমিস। কালিঘাটের অজন্তাচটির দিব্যি প্রমিস।
—  কাইলিঘাইট্যের সাঁজোয়া গাড়ির প্রইত্যি দিব্যি কাট, ভাইব্যা দেইখ্যি।
—  কাটছি কাটছি হাজার বার কাট…সাঁজোয়া গাড়ি? কালিঘাটে?
—  অারে জানতা নেহী ক্যা? ইলোরা গেরার্ড করনেকা সময় ইনকো ইনফারমেশান অায়া, অজন্তা থ্রেটেন্ড। চড়চাপড় খানে কো মাফিক পরিস্থিতি তৈয়ার হুয়া। তাই তো চলা অায়া।
—  মানুষ তো মাটিতে ফেলে পেটাবে গো ব্রজদা, তখন মা-মা বলে ডাক ছাড়া কিছু করার থাকবে না। অজন্তা থ্রেটেন্ড? বসফরাস ব্যাপার তো।
—  উহা থাউক, তুমি কথো হে বৎস, তোমার কী এমন ভাগ্যাকাশে কেশোরাম কাশিয়ারের কুপিং কাশি পড়লো?
—  অারে, ষ-বাঁচাও ষমিতি!
—  সব-অাঁচাও সমিতি? তা সে তো ভাল কথা, খাওয়ার পরে না অাঁচানো অামি কোনকালেই কোনভাবেই কোনমতেই কোনহারেই কোনধাঁচেই কোনহাঁচিতেই সমর্থন করি না।
—  না না, সব-অাঁচাও নয়, ষ-বাঁচাও ষমিতি।
—  স্ব-বাঁচাও সমিতি? সার্ভাইভাল অফ দি সেল্ফ? গাড়ি স্টার্ট না নিলে অবশ্যবর্জ্য। ডারউইন ওয়ালেস কোয়ালেস করে উইনোয়া ডারলেস রাইডারের সৃষ্টি?
—  অাঃ মোলো যা, স্ব-বাঁচাও নয়, ষ-বাঁচাও ষমিতি।
—  তাই বল, উনুন-প্রকরণ সমিতি। অাগে বললেই হতো।
—  উনুন? প্রকরণ?
—  সব-অাঁচ-অাও সমিতি তো? তালপাতার পাখা দিয়ে ঘুঁটে-কয়লা বাতাস করে রক্তফুল ফলাবার চেষ্টা তো? খুব ভাল অাইডিয়া, অামি চাঁদা দেবো।
—  হায় হায়, অামার কি হবে কো? মরমে মরে যাবো, অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারি, টলে যাওয়ায় অসম্ভব নয়।
—  বাইচ্ছা বয়ইসে এইরোক্কম সইক্কাল সইক্কাল বাইংলা টাইনলে অস্যুবিদে হইব্যে না?
—  দেখো ব্রজদা, অাই ওয়ার্ন ইউ, অাই শেন ইউ, অাই ফ্লিপার-গুগলি-লেগব্রেক-গ্যাটিং ইউ, এরকম পোপোক্যাটাপেটকাটাপোনাচারাপুলটিশ অ্যাক্সেন্টে কথা বললে এমন উবের লাগাবো যে ওলা-ওলা বলতে বলতে ক্যাক্সি-ফর-শিওর হয়ে যাবে।
—  দেকেচো দেকেচো বওদের এইলেবেল কত্তা কওয়া? তোর ঝন্টিপাহাড়ি হবে, পিকারো হবে, কারনিউটের ড্রুইডও হতে পারে। গুরুজনের সাপ দিলুম, ঠিক ফলে যাবে।
—  কিসুই ফলবে না। তোমার “সাপ” ফক্কা।
—  ক্যানো ক্যানো ফক্কা ক্যানো? জানিস অামি এককালে ত্রিকালজ্ঞ ত্রিলোকেশ্বর ত্রিফলাচূর্ণ জ্ঞানন্ত জ্ঞানাভীর্য জ্ঞানস্য ছিলাম?
—  জ্ঞা ফাউ, ওই নস্যই থেকে গেলে। বাটার মার্কা রজনীসন্ধ্যা নস্য, প্রেতনমস্য পেত্নীলাস্য হ্যাঁচোস্য হ্যাঁচ।
—  অামি সাপ দিলে পৃথিবী নড়ে যায়, ভুবন টলমল করে, ধরণী লীরোড হয়ে যায়, মাণিক কাঁদে বাবু হাসে।
—  তো কী সাপ শুনি? অ-এ অজগর অাসছে তেড়ে, নাকি অ্যাঁ-তে অ্যাঁনাকোন্ডা দিচ্ছে দড়ি?
—  দিচ্ছে দড়ি? একথা তো বাংলা অকাদেমি বানান অভিধানে নেই। অামি শিওর, পাঁচশো সাড়েপঞ্চান্নবার পড়ে দেখেছি।
—  দিচ্ছে দড়ি নিজের গলায়। স্বফাঁসি, সুইসাইড করে মরছে। ব্রজদা, সাপলুডোর সাপ খগমের সাপ নয়, ওটা অভিশাপ, শাপ হবে। তালব্য শ, দন্ত্য নয়। সব কথা তো অার অানন্দ করে করে বলতে নেই, তাহলে নারায়ণ কুপিত হবেন।
—  দ্যাখ নিতাই, স-শ নিয়ে চুলোচুলি করলে ইট ফাটিয়ে কাচ ভাঙবো বলে দিচ্ছি।
—  তোমার ওই সিরাজের ইটালিয়ান সেলুনে কাচের অায়না পাবে বোধহয়। গিয়ে নিজের মুখটা দেখে এসো, ধর্মতলার ওরাংউটান লজ্জা খাবে।
—  দ্যাখ এইসব বানান নিয়ে বানানো কথা বললে কিন্তু অামি পুলিস ডাকবো।
—  ডাকো ডাকো, ইমিডিয়েট ডাকো। অাগে তো তাও বেচারাদের অন্তত ফুলিশের সঙ্গে রাইম করিয়ে মানরক্ষা করা যেতো, এখন যা অানন্দে অাছে সবাই, টানাপড়েন করলেও ধাতানি না দিলে দই মাখবে না।
—  হুম। স-শ জ্ঞান যদি তোর হতো, বুঝতি, শচীনকে সচিন করা কতবড় বৈপ্লবিক ব্যাপার। বিশালাক্ষি বিস্লেষণ। বর্ণবিপর্যাগতিক ব্যাটিং।
—  অার গান্ধীকে গাঁধি?
—  কেন? গুজরাতে গাঁধি বলে তো সবাই। ভদ্রলোক তো ওখানকারই কিনা। শেখ শেখ, রিজিওনাল ল্যাঙ্গুয়েজগুলো শেখ। শিখতে হয়, নইলে পিছিয়ে পড়তে হয়।
—  প্রাদেশিক ভাষা শেখা নিশ্চই জরুরি, তুমিও নির্ঘাত গুলে খেয়েছো?
—  বেশক বেশক। ইয়াং বয়সে অামেদাবাদে…
—  অমদাভাদে।
—  অ্যাঁ?
—  অমদাভাদ। অামেদাবাদ নয়। ওখানকার লোকজন ওভাবেই উচ্চারণ করে।
—  অ। অক্কে। তাই হবে। অতকিছু কে অার খেয়াল করে। যাই হোক, সেই অামদেবাদে…
—  অাম চাইলে এখন বাদে কখনই পাবে না। লেক মার্কেটের ফার্স্ট হিমসাগর, টেস্টে খাসা খেলে লাসা।
—  লাসা?
—  মানে খেয়ে এত ভাল লাগবে যে মনে হবে উড়তে উড়তে লাসা পৌঁছে গেছো।
—  অ। অক্কে। যাই হোক, অমেদবাদে…
—  স্লিম হওয়ার চেষ্টা করা ভালো, কিন্তু তাতে ডায়েট থেকে হিমসাগর ল্যাংড়া গোলাপখাস অালফন্সো ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গ বাদ চলে যান, হুইচ ইজ ট্র্যাজিক অফ দি শেক্সপেরিয়ান লেভেল।
—  থাক। অামি চললুম, অহমদেওয়াদের গপ্পো বরঞ্চ লখনৌতে ডুয়েল করতে করতে শুনে নিস। খুড়ো গপ্পোটা ভালোই বলেন, বাবা প্রেশাসস্টোন তো, কোয়ালিটি এমন যে জীবনে বাবুগিরি করতে হবে না। চান্সই নেই।
—  অাহা অাহা চলে যাচ্ছো? যেও না, গান্ধীর সলিউশান বেরোক অাগে।
—  সলিউশান তো সিম্পেল। ওখানে লোকে বানান লেখে গাঁধি, তাই অামরাও লিখবো গাঁধি। হিন্দীতেও লেখে।
—  বাঃ বাঃ, কি উত্তম…না না, এসব ব্যাপারে হাজার পাওয়ার অানলে ফিশফ্রাই কুপিত হবে…কি দেব প্রস্তাব, একেবারে পাগলু কেস, মহাসলিউশান।
—   হেঁ হেঁ, শিখে শেখ বাচ্চু, শিখে শেখ।
—  শিখছি গো, সিলেবাস পুরো চটকে চুয়ান্ন করে শিখছি। থেকে থেকেই চমকে চব্বিশ হচ্ছি, তাই ঘেঁটে ঘ হওয়ার অাগেই উড়ে মালি কাজে লাগাচ্ছি।
—  হ হ, ভাইল্য কইর‍্যা সোন, বাইংলা অকাদেমি অভিধাইন হইলো গিয়া সরেস চীজ, এক্কেবেরে পারমেসান।
—  বুঝলুম। অাই হ্যাভ অ্যানাদার অলসো কোশ্চেন।
—  ডু ইট ডু ইট, ডু দ্য কোশ্চেন ইমিডিয়েট। অর ইউ হ্যাব টু ডু রানিং রানিং, পেট উইল বিপ্লব বিপ্লব।
—  ডু রানিং রানিং, নাকি রান ডুয়িং ডুয়িং?
—  ছিঃ, নোংরা কতা কয় না। বিদ্যাবালানবলেস্য হয়ে এই?
—  অাচ্ছা, তাহলে বাইরের দেশের যেখানে যেরকম উচ্চারণ, সেরকমই যদি অামরা মানি…?
—  মানতে তো হবেই। পুলিসই ধর। শেষটা তো শ উচ্চারণ হয় না কখনো ইংরিজিতে, জাস্ট অামরা ব্যাকওয়াটারের ব্যাকওয়ার্ড বাঙালি শ-শ করে উচ্চারণ করি। স-উচ্চারণ ইজ প্রিম এন্ড প্রপার।
— ভেলিগুড় ভেলিগুড়। এবারে, অামার প্রশ্ন হচ্ছে অারেক। ইংরিজিতে তো অনেক রকম উচ্চারণ হয়। ইংরেজদের ইশাপগুল উচ্চারণ, অামেরিকানদের জোলাপ, অস্ট্রেলিয়দের গোলাপ, অাইরিশদের গিনেস, স্কটিশদের ডেভিড টেনান্ট। কোনটা নেবো?
—  এঃ, ছোকরা এরকম রেসিস্ট কবে থেকে হলি রে? এই শিখিয়েছি ছোটবেলা থেকে?
—  টপিক পাল্টানোর ট্রাই করো না, সেরেফ উত্তর দাও।
—  ইংলিশ, অতি অবশ্যই। মোস্ট স্ট্যান্ডার্ড।
—  তাই কী? শিওর? অামেরিকান নয় তো?
—  না না, ইংলিশ ইংলিশ। অামি অংরেজোঁ কি জমানে কা সেলার। নাবিক ছিলাম, বুঝলি? রয়েল নেভিতে।
—  নাবিক ছিলে? কালই তো বললে পোস্টম্যান ছিলে, অংরেজো কি জমানে কি মেলার।
—  মেলারও ছিলাম বটে। জাহাজে করে চিঠিগুলো তো অামিই অানতুম, তাই না?
—  হুঁ, তাই। এবার শুনবো অংরেজো কি জমানে কি টেলার ছিলে, কাপড়সেলাই করতে।
—  অাহা তা নয় কেন? তাও করেছি। জাহাজে কাপড় সেলাই অাবার কে করবে?
—  তাই তো। অাসরানির প্রপিতামহ যাসরাজা ছিলে নির্ঘাত এককালে।
—  যাসরাজা? ছিলুমই তো। সেই যে একবার…
—  ব্রজদা, ব্যাক টু টপিক। তাহলে ইংরেজ উচ্চারণই নেবো তো?
—  অালবাত অালবাত।
—  দয়া করে পুলিশ ডাকুন।
—  পুলিস? ডাকবো? কেন? কে খুন হয়েছে? নাকি রাহাজানি?
—  অারে ধুত্তেরি, এই বাক্যের ইংরিজি করুন। “দয়া করে পুলিশ ডাকুন”। ইংরেজরা একে কীভাবে বলবে?
—  ও, এ তো সহজ। প্লিজ টু ডাকাফাই দ্য পুলিস।
—  ইংরিজি পড়িয়েছো কখনও?
—  পড়িয়েছি তো। সেই তো ফিফটি এইটে…
—  অামার সর্বাত্মক সিমপেথি টু দ্য ব্যাচ অফ ফিফটি এইট।
—  কেন, ঠিক হয়নি?
—  দয়া করে পুলিশ ডাকুন। প্লীজ কল দ্য প্লিস।
—  দুবার করে পিলিজ বলছিস ক্যান র‍্যা?
—  দুবার করে নয়। ব্রিটিশ ইংলিশে, মানে যাকে রিসিভড প্রোনানসিয়েশান বলে, পুলিশকে প্লিস উচ্চারণ করে। ম্যাট স্মিথ যেমন হোয়াইট হাউসে নিক্সনকে টার্ডিস বোঝাতে গিয়ে…
—  টার্ডিস? নিক্সন? ওয়াটারগেট নামে একটা হাওয়াইয়ান স্যান্ডউইচ খেয়েছিলাম এককালে। ম্যাকডোনাল্ডের ম্যাকট্রাম্প স্পেশ্যাল। কিন্তু পুলিসকে প্লিস বললে তো গড়বড়। মার্কিনে শিফ্ট করি, কি বল?
—  ওই অানন্দে ধেই ধেই করে নেত্য করতে করতে শিফ্টই করতে থাকো। প্লিস লিখতেই যদি অাপত্তি, পুলিস ছাড়া চলবে না, তাহলে গাঁধি কেন? বাংলাদেশের ভূভারতে কেউ গাঁধি বলে না, অার উনি লিখবেন তাই। কেন? নাকি গুজরাতিরা তাই লেখে। লেখে নিশ্চই, কিন্তু ভীষণ কথ্য ভাষা না হলে কেউ সেরকম উচ্চারণ করে না, বুঝলে?
—  দ্যাখ নেতো, বাংলা অকাদেমি অভিধান যা বলছে, তাই গস্পেল তাই মাতা চ পিতা চ। সবার উপরে তাহাই সত্য তাহার উপরে ত্রিপত্র। তুই এসে ফুটনি কাটবি অার অামি দুগালে দুচড় খেয়ে মেনেগুনে নেবো? বাবুয়ানি করি বলে কি অামার অরিজিনাল থিংকিং নেই?
—  না না, তা থাকবে না কেন। কেউ বলেছে কখনো, বলো? যদি বলে থাকে তবে সে বেণুজলে অাবির মেখেছে। এহেন পাপ করে জীবনে সন্তোষ পাবে না, তুলসিতলায় পুজো দিয়ে কালি মেখে রবির স্তব অাওড়াতে হবে।
—  এই তুই এবার ভাগ দিকিনি। দিব্যি দুপুরে চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয় করে দুছিলিম বাংলা টেনে বালিশ জাপটে কোলবালিশ অাঁকড়ে নাকে তিনসের মেখে রেডি হচ্ছিলুম, এমন সময়ে উদয় হয়ে অ্যায়সা রামচিৎকার জুড়লো যেন হোল ভবানীপুর হাফ কালিঘাট সেমিকেষ্টপুর দমকল অ্যামবুলেন্স সৎকার সমিতি বলে দিদ্রিম দিদ্রিম করে ছুটে এসে তিন্তিড়ি তিন্তিড়ি শব্দে সংসদনীতি অাওড়াচ্চে। অার তারপর বাংলা বানান নিয়ে উনি জ্ঞান কপচাচ্ছেন, যেন কত বাংলা অকাদেমি অভিধান ওনার ঘাঁটা। কথাসরিৎসাগর অ্যাক্কেবারে, অাসল জায়গায় তো কাজেহরিৎগায়েজ্বর।
—  দাঁড়াও দাঁড়াও, তাড়াও না। কতা অাছে। জরুরি কতা। মুশকিল মে হ্যাঁয় হম।
—  তোমার মুশকিল তো তুমিই ঠিক করো বাপু। দরকার পড়লে হেল্প চাও। প্রচুর লোক অাছে, চাইলেই লাফাতে লাফাতে অাসবে। পাশেরপাড়ার রাগবাবু, অজন্তা চটিয়ে দিলে তিনদিন ইলেক্ট্রিসিটির চিন্তা নেই। বা পাড়ার ভুলো দ্য ডগ। অলিম্পিক লেভেলের ঘুম দেওয়ার ব্যাপারে টিপ্স চাইলে টুয়েল্ভ টাইম্স গোল্ড মেডেলিস্ট। বা রঘুপতি রাঘব রাজা রাম। চোয়াল ভেঙে বাওয়াল করতে এই চারমূর্তি বোয়ালের চেয়ে বেটার কেউ পারে না। অার ফাইনালি অাছে তোমার পেয়ারের সাইকেল ভিত্তোরিও। গড়ের মাঠে নারকেলকোরা ছিটিয়ে চ্যাম্পিয়ান। বা ডাক তোর ওই সুভাষ সু সপের শ্যাম্পূর্ণাকে, সানসিল্কের ওয়াকিং অ্যাড, চুল ঝলসিয়ে লেফটরাইট করিয়ে দেবে।
—  অারে ওইটে নিয়েই তো ঝামেলা।
—  ওইটে নিয়ে? কোইটে নিয়ে?
—  অারে ওই জুতোর দোকানটা, সুভাষ শু শপ।
—  ভুল করছিস। শু শপ নয়, সু সপ।
—  সু সপ?
—  সু সপ।
—  তাই তো, কাকে অার জিজ্ঞেস করছি। সানন্দে সমগ্র সান্যালহত্যাকারিদের সালিশি সাহায্য? অাশা করাই বৃথা।
—  দেখ নিতাই, অামার পেশেন্স কিন্তু একেবারে তলানিতে। মানে চাপাতাতলানির চেয়েও বেশি তলানিতে। বেশি বুরবকি থামিয়ে ঝেড়ে কাশ। হাটে হাড়ি ভাঙ। বীন স্পিল কর। বস্তা থেকে বেড়াল বের কর। মানে যাকে বলে ইমিডিয়েট। ইসি ওয়াক্ত।
—  বলেই ফেলি, বলো?
—  কাইন্ডলি পিলিজ।
—  ষ-ৎকার ষমিতি।
—  সৎকার? কার সৎকার কবে সৎকার কেমন সৎকার শ্রাদ্ধে বাটনমিরিয়ানি অাছে তো?
—  বাটনমিরিয়ানি তোমার অার এযাত্রায় হল না। সৎকার নয়, ষ-ৎকার, মূর্ধন্য ষ। অার ষমিতি, এও সেই।
—  মূর্ধন্য ষ?
—  মূর্ধন্য ষ।
—  বলিষ কি?
—  এদের মিষন…দুচ্ছাই, মিশন স্টেটমেন্ট, দুনিয়াকে ষ-মুক্ত করো। এদের প্রথম কোপ অনেক অাগেই পড়েছিল। অনেক বছর অাগে, সেই স্কুল জীবনে, বায়োলোজির নিবারণ মাষ্টার। খাতায় সেল-এর বাংলা কোশ লিখেছি, পিটিয়ে সিধে করে দিয়েছিলো।
—  হুঁ, তা তো হবেই। অামি তোর খাতা পেলে সিধিয়ে পিটে দিতুম।
—  সেই ভয়েই তো অামি জীবনে সে বানান ভুল করিনি। কোশ হলে বিস্তর হাঁটাহাঁটি করতে হতো, তাই চাপ অার নিইনি।
—  উত্তম চিন্তা।
—  কিন্তু, বুঝলে, ষ-ৎকার ষমিতি। এরা ইনফিল্ট্রেট করেছে। ধীরে ধীরে সুস্থে সুস্থে।
—  ইনফিল্ট্রেট?
—  চোরাগোপ্তা। ফল্স পাসপোর্ট অাইডেনটিটি কার্ড কী করেনি? একেবারে হুতোমহুতোমপটাশপটাশ ব্যাপার।
—  তো তাদের এজেন্ডা কী?
—  খুবই সহজ। কোশ-প্রেমীদের ধরে ধরে ইনডক্ট্রিনেট করেছে।
—  ইনডক্ট্রিনেট?
—  ঘিলুকাচন। দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর তাদের ট্রেনিং দিয়েছে, এপমোস্ট এররিস্ট এক্সারসাইজ করিয়েছে। তারই ফলস্বরূপ তারা এখন নির্ভয়ে কোষকে কোশ অার কেসকে জন্ডিস করে চলেছে।
—  কী নাম বললি এর? ষ-ৎকার ষমিতি?
—  ষ-ৎকার ষমিতি। সব ষ। মানে এদের মিশন স্টেটমেন্ট হলো যে দুনিয়ার শেষ ষ থাকবে এদের নামেই। অার কেউ ষ ব্যবহার করতে গেলে অফসাইড জার্সি গায়ে এরা মাঠে নেমে পড়বে।
—  তো এর সঙ্গে সুভাষের জুতোর দোকানের কী সম্পর্ক?
—  অারে সে কথা বলতেই তো হন্তেদন্তে অাসা। অাজ সকালে এরা ফার্স্ট স্ট্রাইক করেছে, মানে যাকে বলে সদর্পে অাত্মপ্রকাশ করেছে।
—  সুভাষ শু শপ এদের ফার্স্ট ভিক্টিম?
—  অামি তো দেখেই একছুট্টে তোমার কাছে।
—  যুদ্ধক্ষেত্রের বর্ণনা দাও।
—  কী অাবার? সুভাস সু সপ।
—  তা তো ঠিকই অাছে। তোরা বেড়ালপার্টি একটুতেই তেড়েমেড়ে উঠিস।
—  বেড়ালপার্টিগিরি করি বলে তালব্য শ-য়ের এগেনস্টে শ্রদ্ধানন্দ পার্কে গিয়ে গরম গরম ডালমুট বক্তৃতা দিও না হয়, অামারাও অডিয়েন্স থেকে রুমালের রুল কপচাবো। কিন্তু ষ ইজ নিউট্রাল টেরিটরি, এহেন মহাজোটের সুযোগ এভরিডে অাসবে না।
—  তো ষ নিয়ে কিছু করলে তো। শ-কে পাল্টে স করেছে, অামার সর্বান্তকরণে সাপোর্ট অাছে। দেখতে পেলে অামি তাদের অভীকপুরের সরকারী বাদামখোসা খাওয়াবো।
—  শ-কে পাল্টে শুধু স করেনি, সুভাষের ষ-কে পাল্টে স করেছে। সুভাষের। এরকম নির্লজ্জ লজ্জাজনক ঘটনার কোন বিহিত করবেনা?
—  অ্যাঁ, সুভাষের ষ-য়ের গায়ে হাত! ব্যাটাদের পাই, কেষ্টপুরের গুড়বাতাসা যদি না খাওয়াতে পারি তবে অামার নাম অনুব্রজই নয়।
—  মহাজাতিতে মহাজোটের উদঘাটন সেরে ফেলি তাহলে?
—  বেশক বেশক। ইমিডিয়েট ইসী ওয়াক্ত। ষ-য়ের উপর হাত দেওয়া চলবে না চলবে না।
—  এই তো ব্রজদা ব্যাক টু ফর্ম। তাহলে রিক্রুটমেন্ট স্টার্ট করে দি, বলো? ভুলো দ্য ডগ ট্রেজারার রাগবাবু ইনভার্টার অার ভিত্তোরিও সাপোর্টার।
—  দাঁড়া দাঁড়া, একটা জিনিস বাদ যাচ্ছে। সামথিং ইজিং মিসিং।
—  বাদ যাচ্ছে? কী জিনিস? নাম বোলনেকা লাশ ফেলনেকা।
—  নাম! কারেক্ট! নিতাই তুই জিনিয়াস।
—  থ্যাঙ্কু থ্যাঙ্কু। চেষ্টা করে থাকি।
—  নাম দিতে হবে একটা, বুঝলি। জম্পেশ নাম। নাম বিনা গোলাপ অার জোলাপের মধ্যে কোন ফারাক থাকে না। নাম ভাব একটা।
—  অামি? নাম? সেরেছে। ষ-বিনয়ে নিবেদন?
—  হবে না। বড্ড বেশি পোলাইট।
—  অাচ্ছা, ষ-বাঁচাও অ্যাষোষিয়েষন?
—  অাটার ফেলিওর। Zঘন্য।
—  ষচ্ছ বাংলা অভিযান?
—  নট ব্যাড, তবে পাঞ্চটা অাসছে না।
—  ষ-বাঁচাও ষমিতি?
—  ওটা পাবলিশড। রাইটস রিভার্ট করে গেছে।
—  পেয়েছি। এটা শিওরফায়ার। লাগ লাগ লাগ ট্যাঙস ট্যাঙস।
—  নাচবি পরে। নামটা বল। ফটাফট।
—  ষ-কে রক্ষা করতে হবে, তাই তো?
—  ষার্টেনলি।
—  মানে তাকে সেফ রাখতে হবে, সুরক্ষিত রাখতে হবে।
—  ষন্দেহ নেই।
—  ষু-রক্ষা সমিতি!
—  ষু-রক্ষা সমিতি?
—  ষু-রক্ষা সমিতি।
—  নিতাই?
—  ইয়েস, ব্রজদা?
—  ইউ অার অা ড্যাম জিনিয়াষ।
________________________________

ষোঘো, সন্ধ্যে সাড়ে সোয়া সাতটা, ৯ মে, ২০১৬ সাল, কলিকাতা শহর।

Advertisements

2 thoughts on “ব্রজবুলি ৭ : ষ-ৎকার ষমিতি

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s