দিদিপুলির অাড্ডা : টিউশন

-- দিদি? -- উঁ? -- দিদিই। -- উঁউউ। -- অাঃ, এদিকে তাকাও না। -- কী হয়েছে...ওওও, বেশ লাগছে তো। রংটা বেশ তোর শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করে গেছে। -- গেছে না? উফফ, কি ঝক্কি বাবা। দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলুম দাদা জলপাই রঙের টিপ দিন। সে তো গেছে ব্যোমকে। জলপাই রঙের টিপ অাবার হয় নাকি? অামিও ছাড়বার পাত্তর নই। টিপ একবার পড়ব বলে ঠিক করেছি তো পড়বই পড়ব... -- তো হঠাৎ এরকম মাইন্ড চেঞ্জ কেন? তুই তো বলেছিলি টিপ পরবি না, টিপ ইউজলেস জিনিস, টিপ পরে কে কবে বড় হয়েছে ইত্যাদি। -- বলেছিলুম তো। অ্যান্ড অাই স্ট্যান্ড বাই দ্যাট। টিপ ভিজে গেলে বড় মুশকিল, অাঠা উঠে গিয়ে সুরুত করে কোথায় যে হাওয়া হয়ে যায় তার ইয়ত্তা নেই। -- যাব্বাবা, টিপ ভিজতে যাবে কোন দুঃখে? সকালে তো অার টিপ পরে সাঁতারে যাস না? -- ধুত্তেরি, তা কেন যেতে যাব? বৃষ্টি তো অার পড়ার চান্স নেই। -- ওওও...তাই বলো। রহস্য ইজ উদ্ঘাটিত। দিদিমণি বৃষ্টিতে ভিজলে দিদিমণির টিপ নষ্ট হয়ে যায় বলে দিদিমণি রাগ করে টিপ পরাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। এখন বৃষ্টি নেই বলে রিটায়ারমেন্ট ছেড়ে অাবার ময়দানে নেমেছেন? অামি অাবার ভাবলুম কত কী অাইডিওলজিকাল ব্যাপার। ট্র্যাডিশনের মরুবালুরাশি কেটে বেরিয়ে অাসা, একটা বিপ্লব-রেভলিউশন গোছের...

ফাদার্স ডে

-- ঘোসবাবু? -- ... -- ঘোসবাবু, উঠুন, টাইম হোয়ে গেলো। -- উঁ...অাঁ...কীসের টাইম? -- অারে অাপকো নিকলনা থা না? কাম থা অাপকা। উঠুন, উঠিয়ে। চায়-ওয়ায় পীকে চলিয়ে। -- কটা বাজে? -- সাড়ে ছে বজ গেয়া। -- অারেকটু ঘুমোই? স্বপ্নটা... -- ঘোসবাবু, সোপনো তো অাপ হর রোজ দেখেন, লাভ হোয় কুছ? কিতনা অজীব সব প্লট অাতা হ্যা ড্রীম মে অাপকা, অাপ সব ভুল যাতে হ্যাঁয়। ইটাও ভুলে যাবেন। উসসে বেহেতর হ্যায় কি উঠিয়ে, অাউর রেডি হো জাইয়ে। -- পাঁচ মিনিট, প্লীজ? স্বপ্নটা অাঁকড়ে ধরে রাখা খুব দরকার...খুবই দরকার। অাজ ফাদার্স ডে।

ক্ল্যাপ ক্ল্যাপ ক্ল্যাপ ক্ল্যাপিট্টি ক্ল্যাপ

ভারতবর্ষের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীশ্রীনরেন্দ্রমোদী মহাশয় সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন শহরে সেনেটে ইমপ্রম্পটু এক্সটেমপোর বক্তৃতা দিয়ে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হয়েছেন...থুড়ি, হাততালি কুড়িয়েছেন।

ফেসবুক

জানিস নিতাই, ফেসবুক জিনিসটা খুব অদ্ভুত। লোকে বলে, এটা নাকি সোশ্যাল মিডিয়া। লোকে বলে, এটা নাকি ভার্চুয়ালি একটা ছোটখাটো দেশ। লোকে বলে, এটা নাকি অনেক জায়গাতেই পাওয়া যায় না। যেখানে যায়, সেখানে এইটে খুলতে পারলে নাকি অসম্ভব সুন্দর কিছু মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়। লোকে বলে, এটা পড়তে পারলে নাকি সুখ-দুঃখ-হাসি-ঠাট্টা-রঙ্গ-তামাশা-খিল্লি-খিস্তি-চাড্ডি-চাপাতি-ইঙ্গ-বঙ্গ-খোট্টা-মাওড়া-প্রেম-ভালোবাসা-মান-অভিমান-অভিসার-অতিসার-রাগ-বিরাগ-অাচার-বিচার-অপচার-হাহাকার সব নেসলের বটলড ওয়াটারের মতো স্বচ্ছ হয়ে যায়। যেন একটা চলমান ছবি, সেই হ্যারিপটারের কাগজের মতো, দিন-অানি-দিন-খাইয়ের ঘাত-প্রতিঘাত-অপঘাত সব ফুটে ওঠে। কিছু লুকোবার জো নেই।

ফ্যাদম

-- এক্সকিউজ মী, শ্রীঘোষ? -- অ্যাঁ? [ইয়েস?] -- বাঃ, ঠিক ধরেছেন তো। অাপনার মনে অাছে। -- মনে...অাছে? [কী মনে থাকবে? কেন মনে থাকবে? নিতাই, হেল্প?] -- অালবাত। একবার অালাপ, অ্যান্ড ইউ রিমেম্বার মী। -- রিমেম্বার? অাপনাকে? হ্যাঁ, মানে, তা তো বটেই তা তো বটেই। অাপনাকে না ভুলে পারি, বলুন। [এই নিতাই, ব্রেনবাবাজীকে ফোন লাগা তো, ইনি কে সেটা ফাইল খুলে দেখুক?]

হাড়াম্বে

-- অাপনার নাম? -- রাজা। রাজা গান্ধী। -- সেদিন জুগার্ডেনে কেন গিছলেন? -- বন্ধ হয়ে যাবে বলে। শেষ জুগার্ডেন। শেষবারের মতো একবার দেখবো। -- অাগে গেছেন? -- একবার মাত্র। ছোটবেলায়। মা-র সঙ্গে। -- মাত্র একবার? -- মা জুগার্ডেনের ইতিহাস শুনিয়েছিল। সে শুনে অার যেতে ইচ্ছে করেনি। -- বিপ্লবের ইতিহাস? -- বর্বরতার ইতিহাস। পাশবিক বর্বরতা। এই শান্তিপূর্ণ পৃথিবীতেও...ছিছি। ভেবেও ক্ষণে ক্ষণে শিউরে উঠি। -- জুগার্ডেনে কী হল বলুন। -- সারাদিন সব এগজিবিট দেখলাম। খুব দুঃখ হল, এভাবে নির্বোধ জীবগুলিকে অাটক রাখা। -- অার তো হবে না। গতকাল থেকেই সব বন্ধ হয়ে গেছে। -- সেটা ভেবেই ভাল লাগছিল। সারাদিন ঘুরে শেষে এনক্লোজারটায় এলাম। -- ইয়েস। এনক্লোজারে। কী হল বলুন সেখানে।

সো-কল্ড ভাট

-- ডিস্গাস্টিপেটিং! -- কী হোলো ঘোসবাবু? এক্সাইটেড কেনো? -- ইন্সালটিহেটিং! -- অরে কেয়া হুয়া তো বতাইয়ে। -- অামি মানহানির মামলা করবো। -- সেকি! অাপকা মানহানি হুয়া হ্যায়? কৌন কিয়া হ্যায়, বতাইয়ে, দেখ লেঙ্গে উসকো। -- অারে না না অামার হতে যাবে কেন, সমগ্র ভারতবর্ষের হয়েছে। -- হোল ইন্ডিয়ার?! ক্যায়সে? -- বলে কিনা তথাকথিত! -- তোথা...কেয়া? -- তথাকথিত। সো-কল্ড।