—  এক্সকিউজ মী, শ্রীঘোষ?
—  অ্যাঁ? [ইয়েস?]
—  বাঃ, ঠিক ধরেছেন তো। অাপনার মনে অাছে।
—  মনে…অাছে? [কী মনে থাকবে? কেন মনে থাকবে? নিতাই, হেল্প?]
—  অালবাত। একবার অালাপ, অ্যান্ড ইউ রিমেম্বার মী।
—  রিমেম্বার? অাপনাকে? হ্যাঁ, মানে, তা তো বটেই তা তো বটেই। অাপনাকে না ভুলে পারি, বলুন। [এই নিতাই, ব্রেনবাবাজীকে ফোন লাগা তো, ইনি কে সেটা ফাইল খুলে দেখুক?]
—  গুড গুড, অাই অ্যাম ইম্প্রেস্ড। অাপনার ল্যাক-অফ-পেশাতে অাপনি যে ওয়ান-টাইম অ্যাকোয়েন্টেন্সকে মনে রেখেছেন, তাতে অামি প্লীজ্ড।
—  দেখুন মশাই, লোকে বলে বটে অামার মেমারী খারাপ, ভুলো মন, কিন্তু অাদপে কিন্তু তা নয়। এই ধরুন, অামি ঠিক মনে করে রুমালকে সক্কাল সক্কাল দুধটুকু দি। বা ধরুন চা বসিয়ে জানালা খুলতে চলে যাই না। বা ধরুন…এক মিনিট। ল্যাক-অফ-পেশা? [নিতাই, ইনি কি অামাকে ইন্সাল্ট করছেন?]
—  ভুল বললাম?
—  ভুল…মানে… [ভুল বোধহয় খুব একটা বলেননি, না রে নিতাই?]
—  দেখুন শ্রীঘোষ, লেট্স কাম টু দ্য পয়েন্ট। তাতে অামারও সময় নষ্ট হয় না, অার অাপনার…ওয়েল, অাপনার সময়ের অতটা দাম নেই, সো ইট ডাজন্ট ম্যাটার এনিওয়ে।
—  অামার সময়ের দাম নেই? [সময়ের দাম? অামি জানতাম সময়ের জন্য মাস্টারকার্ড লাগে না। নিতাই, এনি ওপিনিয়ন?]
—  নো শ্রীঘোষ, নেই। বাট, দ্যাট ইজ নট দ্য পয়েন্ট। পয়েন্ট হলো, অামার ক্লায়েন্ট রিসেন্টলি জানতে পেরেছেন যে অাপনি অাপনার ফ্রী টাইম একটু অন্যভাবে ব্যয় করছেন।
—  করছি বুঝি? [ফ্রী টাইম? সেটা কী জিনিস রে নিতাই? কী বললি, অামার সবটাই ফ্রী টাইম, তাই অামি এর মূল্য বুঝি না? হবে হয়তো।]
—  ইয়েস। এবং তাতে অামার ক্লায়েন্ট অত্যন্ত ডিসাপয়েন্টেড।
—  ডিসাপয়েন্টেড? [টাইমটা তো ফ্রী, তাই না নিতাই? তাহলে বাই ডেফিনিশন কীভাবে ব্যয় করছি তাতে কার কী…কার কী…নিতাই, এখানে একটা যুৎসই খিস্তি হলে বেশ হতো, কী বল? খিস্তির ডিক্শনারি কি কেনা হয়েছে? হয়নি? লিস্টে ছিলো না? লিস্টটা হারিয়ে গেছে? দুরছাই। এইজন্যই খিস্তির ডিক্শনারি থাকা চাই। নিতাই, একটা খিস্তির ডিক্শনারি অানবি, এনে ভাল্লো করে ছেঁচকি বানাবি, বানিয়ে ফ্যানগালা ভাতের সঙ্গে দিবি। গলাধঃকরণ না করলে এই দুনিয়াতে টেঁকা দায়।]
—  ফেসবুকটা একটা অদ্ভুত জায়গা, শ্রীঘোষ। শুরু হয়েছিল বন্ধুদের মধ্যে যোগস্থাপনের ইচ্ছে নিয়ে, দাঁড়িয়েছে এসে একটা বিশালাকৃতিক্স প্ল্যাটফর্মে। ওয়ার্ডিং অামার নয়, ক্লায়েন্টের।
—  ক্লায়েন্ট কে অাপনার? [নিতাই, এই বিশালাকৃতিক্স নামটা শোনা শোনা…কে বল তো?]
—  সেই প্ল্যাটফর্মে এখন প্রচুর ট্রেন এসে দাঁড়ায়, অাবার ছেড়েও যায়। সবরকমের ট্রেন। এই মালগাড়ি এলো তো সেই বুলেটট্রেন বেরিয়ে গেলো। ওই প্যাসেঞ্জার লোকাল ঢুকলো তো হোই হোত্থা টয়ট্রেন কুঝিকঝিক করে শান্টিঙে গেলো। সমাজতত্ত্বের কালিকট বন্দর বললে ভুল বলা হবে না। এগেইন, নট মাই ওয়ার্ড্স।
—  স্টেশন জিনিসটা অামার বেশ লাগে। প্ল্যাটফর্মও। ভাল ভাল বই পাওয়া যায়। সেগুলো পড়া হয় না সেটা অালাদা ব্যাপ…অামি কি এগুলো ব্র্যাকেটের বাইরে বলে যাচ্ছি? থুড়ি থুড়ি ইগনোর ইগনোর। [কালিকট বন্দর? সেই শরদিন্দুর রক্ত-সন্ধ্যায় ছিল না? ভাস্কোডাগামা? নিতাই, তুই তো পড়লি গল্পটা গত হপ্তায়, ঠিক বলছি?]
—  ফেসবুকে অাধুনিক যুগের রোমান ফোরাম। কিম্বা বাথ, স্নানাগার। রোমানরা ঘটা করে স্নান করতে যেতেন জানেন তো? রোমান বাথস…
—  জানি মশাই। এটুকু জানি। অ্যাস্টেরিক্স অামারও পড়া। হরপ্পাতেও এরকম বাথ ছিল। [নাকি মহেঞ্জোদারো? নিতাই, ব্রেনবাবাজীকে ফোনে পেলি? নাকি স্রেফ কলারটিউন? কী বাজছে রে কলারটিউনে? কুইন? হু ওয়ান্টস টু লিভ ফরেভার? অাহা, অামার ফেভারিট। থাক, ব্রেনবাবাজীর সঙ্গে অার কথা বলে কাজ নেই, গানটাই শুনি।]
—  হরাপ্পা? হরাপ্পাতে বাথ? শ্রীঘোষ, অ্যাম অাই ওয়েস্টিং মাই টাইম হিয়ার, টকিং টু সামোয়ান লাইক ইউ?
—  সে অামি কী জানি? কথা বলতে তো অাপনি এসেছেন। অামি তো স্রেফ কুইন শুনছি, অার মাঝে মাঝে মীম দিচ্ছি। [What is this thing that builds our dreams, yet slips away from us / Who Wants to live forever…? নিতাই, ঠিক গাইছি? সুর বাদ দে, লিরিক্স অ্যাট লীস্ট?]
—  ফেসবুক এখন অনেকটা ইভল্ভ করেছে, লোকে ভিডিও দিচ্ছে গান দিচ্ছে বই লঞ্চ করছে উপন্যাস লিখে কালেজডিগ্রী পাচ্ছে রাজনীতি অার পানুগ্রাফি নিয়ে সেয়ানে সেয়ানে গলাগলি করছে। বাট, অাফটার অল, ফেসবুকের বেসিক মিশনটা কিন্তু পাল্টায়নি। জানেন, সেটা কী?
—  [সেটা কী রে নিতাই? এত শক্ত শক্ত প্রশ্ন করলে খেলবো না। এতো শব্দাঁকের চেয়েও শক্ত।]
—  কমিউনিকেশন। যোগাযোগ। অাদান-প্রদান। অাইডিয়ার অাদান-প্রদান। মানুষে মানুষে, সে নিউইয়র্কের উইগ পড়া ব্যবসায়ী হোক কি মুম্বইয়ের ভাটশ্রেষ্ঠ। ছাগলে গরুতে, সে বেনারসের সংস্কারি গরু হোক কি বাংলাদেশের চাপাতি ছাগল। অাল্টিমেটলি, সেই thefacebook.com -এর ফিলোসফিই রয়ে গেছে।
—  সে তো অতি অবশ্যই। একে অপরের মধ্যে কমিউনিকেট করাই তো…
—  অার সেখানে, অাপনি কী কমিউনিকেট করছেন সেটাও ম্যাটার করে শ্রীঘোষ। ভীষণ ম্যাটার করে।
—  অাপনি অামাকে ইন্টারাপ্ট করলেন, অামার ইনার ভয়েস কিছু বলার সুযোগই…
—  এনি ওয়ে, মাই টাইম ইজ অাপ। ক্লায়েন্টের বক্তব্য অাশা করি ঠিকমতো পেশ করতে পেরেছি। ইন ফ্যাক্ট, অামি জানি পেরেছি। অাই অ্যাম গুড অ্যাট মাই জব, অানলাইক ইউ। যদি না বুঝে থাকেন, তাহলে বুঝবেন অাপনি চায়ে বিস্কুট ডুবিয়ে খান।
—  দাঁড়ান দাঁড়ান একটু যদি বুঝিয়ে…[নাঃ, এবার নিজেকে নিজেই ইন্টারাপ্ট করলাম, কী বল নিতাই? অন্তত…]
—  এনিওয়ে, চলি। এই অামার কার্ড। নীচে ফোননম্বর অাছে, কিছু বুঝে থাকলে ফোন করার দরকার নেই। না বুঝে থাকলেও দরকার নেই, কারণ ইন দ্যাট কেস অাপনার লেভেলের লোকের সঙ্গে কথা বলে টাইম ওয়েস্ট করার টাইম অামার নেই।
—  বার-অ্যাট-ল? অাপনি লইয়ার? [নামটা চেনা চেনা লাগছে, তাই না নিতাই?]
—  এই অাপনার মেমরি? তাহলে প্রথমে যে বললেন…ওহ অাই সী, অ্যাঁ। মাই মিস্টেক। অাই শুড হ্যাভ নোন।
—  শুনুন মশাই…[একটু অ্যাগ্রেসিভ হই, কী বলিস নিতাই?]…অাপনি যে এতক্ষণ এতগুলো কথা বলে গেলেন, অামার এতটা সময় নষ্ট করে দিয়ে গেলেন…
—  সময়? অাপনার? কী করতেন শুনি এই সময়টাতে?
—  কী করতাম? [নিতাই, কী করতাম রে?] ইয়ে, মানে, একটা বেশ সুন্দর কথা পেয়েছিলাম, সেটাকে ওই টেক্সটগ্রামে ফেলে…
—  ইজন্ট দ্যাট ইজ দ্য ক্রুক্স অফ দি ম্যাটার শ্রীঘোষ? কটা হল, পাতায় বুড়োঅাঙুল?
—  ৯০৩।
—  কনগ্র্যাচুলেশন্স। অল দি বেস্ট ফর হাজার। পাওয়ার টু ইউ। তবে কী, এই লেখাটা এদের মধ্যে থেকে কজন পুরোটা পড়ে সেটা দেখা যাক, কী বলেন? মানে একে যদি লেখা বলা যায়।
—  লেখা নয় বলছেন? [লেখা নয় বলছে রে নিতাই। নিতাই?]
—  পিকারোদের ক্যাম্পে কুট্টুস ক্যালকুলাসের ওষুধ মেলানো খাবার খেতে বলাতে কী বলেছিল মনে অাছে?
—  স্লপ?
—  সঙ্গে অাপনার শব্দাঁকের মতো একটা হ্রস্ব-ই জুড়ে দিন, বুঝে যাবেন। এনিওয়ে, অাই মাস্ট বী অফ। বেটার থিংস টু ডু। অাপনি কুইন শুনতে শুনতে মীম বানান অার হ্যাশত্যাগ করুন।
—  [নিতাই, অামার লেখাকে স্লপি বলছে। নিতাই? নিতাই??]
—  অার নিতাইকে ডেকে কী লাভ শ্রীঘোষ? ও অার অাসবে না। অাসি।
—  অাপনার ক্লায়েন্টের নামটা বলে যান। প্লীজ।
—  ডেপ্থ, শ্রীঘোষ, অামার ক্লায়েন্টের নাম ডেপ্থ। চলি। লেবুচিঠি।

________________________________________

#সোঘো, বিকেল সাড়ে পাঁচটা, ২০১৬ সাল, তিলোত্তমা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s