জানিস নিতাই, ফেসবুক জিনিসটা খুব অদ্ভুত। লোকে বলে, এটা নাকি সোশ্যাল মিডিয়া। লোকে বলে, এটা নাকি ভার্চুয়ালি একটা ছোটখাটো দেশ। লোকে বলে, এটা নাকি অনেক জায়গাতেই পাওয়া যায় না। যেখানে যায়, সেখানে এইটে খুলতে পারলে নাকি অসম্ভব সুন্দর কিছু মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়। লোকে বলে, এটা পড়তে পারলে নাকি সুখ-দুঃখ-হাসি-ঠাট্টা-রঙ্গ-তামাশা-খিল্লি-খিস্তি-চাড্ডি-চাপাতি-ইঙ্গ-বঙ্গ-খোট্টা-মাওড়া-প্রেম-ভালোবাসা-মান-অভিমান-অভিসার-অতিসার-রাগ-বিরাগ-অাচার-বিচার-অপচার-হাহাকার সব নেসলের বটলড ওয়াটারের মতো স্বচ্ছ হয়ে যায়। যেন একটা চলমান ছবি, সেই হ্যারিপটারের কাগজের মতো, দিন-অানি-দিন-খাইয়ের ঘাত-প্রতিঘাত-অপঘাত সব ফুটে ওঠে। কিছু লুকোবার জো নেই। যা করছি যা ভাবছি যা ভাববো যা করবো সব এই ফেসবুক কোন মায়ামন্তরে টেনে নিয়ে, মনের অন্তরমহল অন্দরাত্মা থেকে শুষে নিয়ে সবার সামনে মেলে দেয়। ঠিক যেন একটা ছেঁড়া পুরনো সস্তা শাড়ি, ছাতে মেলা, বৃষ্টিতে শুকোচ্ছে, কোণে একছিটে রক্তের দাগ। বৃষ্টির জলটা নোনতা। ছিটেটা দেখতে একদম ওর গালের কাটা দাগটার মতো। নাকি ওনার অনামিকার মুনস্টোন বসানো অাংটিটার মতো? লোকে বলে, জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী মুনস্টোন পুরুষমানুষের রাগ কমায়, মেয়েমানুষের ক্ষোভ কমায় অার বরবউয়ের মধ্যে মোহব্বত বাড়ায়। লোকে কতকিছুই না বলে, তাই না নিতাই? শুনতে হয় রে নিতাই, শুনতে হয়। ফেসবুকে লোকের কথা মন দিয়ে শুনতে হয়। কারণ ফেসবুকে তারা যা বলে, যেভাবে বলে, যখন বলে, সবকুছ ভিতর থেকে বলে, অন্দর দিয়ে বলে। ফেসবুকের কাছে নিজেকে লুকোনো যায় না রে নিতাই। তাই ফেসবুকেই নিজেকে সঁপতে হয়।

অাচ্ছা নিতাই, কখনো ভেবে দেখেছিস, ফেসবুক না থাকলে কী হতো? লোকে কি নিজেদের মধ্যে জিলেট মাখ থ্রী ম্যাচেতে নিয়ে কাটাকাটি করতো? শাদাহেলমেট পাংশুমুখ লাল কাটাগলাটা কি রাস্তায় গড়াগড়ি খেতো? শাদারঙের ব্যাঙের ছাতাটা কি মোটামানুষ ছোটছেলের পেট থেকে বেরোতো? অাচ্ছা নিতাই, ফেসবুক না থাকলে লোকে প্রেমালাপ করতো? কবিতা লিখতো? গান গাইতো? মেঘদূতম রচনা করতো? অাউটসাইডারকে বুঝতো? মেটামর্ফোজ হয়ে গড…থুড়ি গোডোর জন্য অপেক্ষা করতে পারতো? সৃষ্টিসুখের উল্লাসে…

না রে নিতাই, ওই একটা জিনিস বোধহয় পারতো। মানুষ মানে কী জানিস তো নিতাই? অনাসৃষ্টির অাদিগন্ত মরুপ্রান্তরে সৃষ্টির ঠুনকো ওয়েসিস। সৃষ্টিকর্তার অপরূপ এক সৃষ্টি, যে অাপন সৃষ্টিকর্তারই অবুঝ স্রষ্টা।

তাই বলছি রে নিতাই। শোন মন দিয়ে। ফেসবুক দেখ, ফেসবুক পড়, ফেসবুক খোল। এটাই একমাত্র জায়গা, যেখানে সবাই সমান, কিন্তু কেউ কেউ চেষ্টা করে বটে অন্যের চেয়ে একটু বেশি সমান হতে।

কীভাবে খুলবি? কীভাবে পড়বি? দেখবি কীভাবে? অায়নায় রে নিতাই, অায়নায় দেখ।

________________________

#সোঘো, ১০ জুন, ২০১৬ সাল, তিলোত্তমা।

Advertisements

5 thoughts on “ফেসবুক

    1. Prior research has established the phenomenon of the ‘Chilling Effect’ where people constrain the self they present online due to peer-to-peer surveillance on Social Network Sites (SNS). However currently uninvestigated is the possibility that the threat of such surveillance on these sites might constrain the self presented offline in ‘reality’, known here as ‘the extended chilling effect’. The purpose of this study is to examine the existence of this ‘extended chilling effect’. Drawing on theories of self-awareness and self-presentation, the impact of surveillance in SNS is theorized to lead to an awareness of online audiences in offline domains, stimulating a self-comparison process that results in impression management. A mixed methods study of semi-structured interviews (n = 28) and a 2 × 2 between-subjects experiment (n = 80), provides support for offline impression management in order to avoid an undesired image being projected to online audiences. The novel finding that the chilling effect has extended highlights the potential dangers of online peer-to-peer surveillance for autonomy and freedom of expression in our offline lives.

      Like

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s