—  ঘোসবাবু?
—  …
—  ঘোসবাবু, উঠুন, টাইম হোয়ে গেলো।
—  উঁ…অাঁ…কীসের টাইম?
—  অারে অাপকো নিকলনা থা না? কাম থা অাপকা। উঠুন, উঠিয়ে। চায়-ওয়ায় পীকে চলিয়ে।
—  কটা বাজে?
—  সাড়ে ছে বজ গেয়া।
—  অারেকটু ঘুমোই? স্বপ্নটা…
—  ঘোসবাবু, সোপনো তো অাপ হর রোজ দেখেন, লাভ হোয় কুছ? কিতনা অজীব সব প্লট অাতা হ্যা ড্রীম মে অাপকা, অাপ সব ভুল যাতে হ্যাঁয়। ইটাও ভুলে যাবেন। উসসে বেহেতর হ্যায় কি উঠিয়ে, অাউর রেডি হো জাইয়ে।
—  পাঁচ মিনিট, প্লীজ? স্বপ্নটা অাঁকড়ে ধরে রাখা খুব দরকার…খুবই দরকার। অাজ ফাদার্স ডে।
—  অচ্ছা, ফাদার্স ডে মোনে অাছে অাপনার? ভেরি সারপ্রাইজিং।
—  হ্যাঁ, মনে অাছে।
—  লেকিন ম্যায়নে কভী তো অাপকো ফাদার্স ডে মনাতে হুয়ে দেখা ইয়া সুনা নেহি।
—  না, সেরকমভাবে করি নি বটে।
—  পিতাজীকো কার্ড-ওয়ার্ড ইয়া কুছ গিফ্ট-ভিফ্ট দিয়ে হ্যাঁয় কভী?
—  সেরকম মনে পড়ে না।
—  অচ্ছা, অাপকো কব সে মালুম হুয়া কি ফাদার্স ডে কি কোই চীজ হোতি হ্যায়?
—  অাপনি অামায় পাঁচ মিনিট দেবেন না, না?
—  অাপনি অাননেসেসারিলি চিন্তা কোরছেন। অাপকা ড্রীম কা জো পার্ট অাপকো চাহিয়ে উও ম্যায়নে অাপকে লিয়ে পকড়কে রখা হ্যায়। ডোন্ট ওয়ারি ঘোসবাবু, ইওর ড্রীম ইজ সেফ।
—  তাই? অাপনার এত ক্ষমতা?
—  হামার কিতনা খোমোতা তা নিয়ে ডিস্কাশন বাদ মে ঘোসবাবু। ফার্স্ট, অাপ মেরা কোশ্চেন কা জওবাব দীজিয়ে।
—  ফাদার্স ডে ব্যাপারটা ঠিক কবে থেকে চালু হয়েছে বলতে পারবো না। এরকম একটা দিন যে অাদৌ অাছে, সেটাই জেনেছি বোধহয় কিছু বছর হল। মজার ব্যাপার হলো, ঠিক কবে যে জেনেছি সেটাও এখন ঠিক ঠাওর করতে পারছি না। কিছু এসে যায় না অবশ্য।
—  হোয়াই? অাপনার কোখোনো ইচ্ছা কোরেনি, পিতাজী কো ফাদার্স ডে পে উইশ করি?
—  না মানে যেখানে রেগুলার ফোনে কন্ট্যাক্ট, সেখানে অালাদা করে…
—  স্পেশ্যাল, ঘোসবাবু, উনকো স্পেশ্যাল ফীল হোনে কে লিয়ে ইয়ে হ্যায়। অাপনি ফাদার্ড ডে তে উনার জন্য স্পেশ্যাল এক ব্যাগ ওরেঞ্জ পিকো টী লিয়ে গিলেন, উনাকে লিয়ে বাহর রিস্টোরান্ট মে লাঞ্চ কোরলেন, মেবী সিনেমা দেখলেন…
—  বাবার সঙ্গে মেট্রিক্স দেখেছিলাম। নিরানব্বুই সালে। নিউ এম্পায়ারে। কী মজাই না হয়েছিল। প্ল্যান ছিল পরের সপ্তাহে অাবার যাবো। অার হয়ে ওঠে নি।
—  কিঁউ? উনকা তবিয়ত বিগড় গেয়া থা?
—  হ্যাঁ। কানে ইনফেকশন হয়ে ব্যালেন্স সেন্টার বিগড়ে গিয়ে এলাহি কান্ড। শেষে হাসপাতাল অাইসিউই অবধি গড়িয়েছিল।
—  বোলেন কী? ইন্টেন্সিভ কেয়ার জরুরত হোয়েছিল?
—  হ্যাঁ। গোলমেলে ব্যাপার।
—  তব তো অাপ ছোটে থে?
—  ওই অার কি, স্কুলে পড়ি।
—  এডাল্ট হোয়ে মোনে হয় নি, ফাদার্স ডে পে পিতাজী কো উইশ করুঁ?
—  করেছিলাম। কয়েক বার।
—  অাপকো ইয়াদ রহতা থা কি অাজ ফাদার্স ডে হ্যায়, উইশ করনা হ্যায়?
—  অাজকাল তো অার নিজেকে এসব কথা মনে রাখতে হয় না। অাগে রাখতে হতো। অাগে অাবার এসব জিনিস ছিলই না তেমন।
—  হাঁ। অাজকল ফেসবুক ইয়া তো ফির নিউজপেপার অ্যাড ইয়ে সব এনশিওর করতা হ্যায় কি অাপকো ইয়াদ রহে।
—  হ্যাঁ। ফেসবুক খুললেই ফাদার্স ডে, টাইমস অফ ইন্ডিয়া অ্যাপে ফাদার্স ডে, এসএমএসে ফাদার্স ডে। “হ্যাভ ইউ উইশড ইয়োর ফাদার ইয়েট” গোছের ব্যাপার। বাবাকে যদি ভালোবাসেন, তাহলে হয় অ্যামাজন থেকে হ্যান কিনুন নয়তো ফ্লিপকার্ট থেকে ত্যান অর্ডার দিন। উবের-ওলাতে ফ্রী রাইড, গ্রোফার্স-সুইগিতে ডেলিভারি চার্জ মকুব, গুগলে বড় জুতো ছোট চটির ডুডল।
—  টু মাচ লাগে, ঘোসবাবু? সামটাইমস?
—  কালকে একটা জায়গায় গিছলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে দেখি পাশে একজন–সহযাত্রী তিনি–হোয়াট্স্যাপ না এসএমএসে মেসেজ পেয়েছেন, হ্যাপি ফাদার্স ডে। তিনি বললেন, “অারে, অামি কি দশ-বারোটা বাচ্ছা বাবা নাকি যে অামায় ফাদার্স ডে জানাচ্ছে?”
—  অ্যায়সা কহা কেয়া?
—  কী বলেছেন সেটা পয়েন্ট নয়, পয়েন্ট হল অ্যাডভার্টাইজিংটা।
—  ব্রড-স্পেকট্রাম বোলছেন?
—  ইয়েস। দেখুন, এরা সব ফাদার্স ডে সেলিব্রেট করতে বলছে, বাবাকে গিয়ে উইশ করতে বলছে, গিফ্ট দিতে বলছে, ওয়েল অ্যান্ড গুড। কিন্তু একটু ভেবেচিন্তে করলে ভাল হতো নয় কি? মানে একটু সেনজিটিভলি?
—  নেহী ঘোসবাবু, দিস ইস নট অলওয়েজ পসিবেল।
—  সম্ভব নয়?
—  দেখিয়ে, ইয়ে সব কাম্পানী কো তো প্যায়সা বনানা হ্যায়, রাইট?
—  রাইট।
—  ইয়ে সব কাম্পানী কা যো মার্কেটিং ইয়া পাবলিসিটি টীম হ্যায়, ইনকে উপর রিস্পন্সিবিলিটি হ্যায় কি ইনকা প্রডাক্ট পাবলিক বাই করে, রাইট?
—  রাইট। চাকরির টানাটানি হয়ে যাবে নয়তো।
—  ইগজাক্টলি। জোব কা বেপার অাছে। তো ইনকো অ্যাডভার্টাইজ করনা হ্যায়। লেকিন ক্যায়সে করেঁ য্যায়সে কি ম্যাক্সিমাম ইম্প্যাক্ট হো?
—  মার্কেট সার্ভে?
—  রাইট। মার্কেট সার্ভে প্লাস কুছ কমন সেন্স সে ইয়ে বাত ক্লীয়ার হ্যায় কি ফ্যামিলি রিলাশানশিপওয়ালা অ্যাঙ্গেল পপুলার হোতা হ্যায়। পুছিয়ে কিঁউ।
—  সেন্টিমেন্টে অাঘাত দেয়?
—  কারেক্ট। অগর অাপ ফাদার্স ডে পে অাপকে পিতাজী কো উইশ নেহী কিয়ে, অ্যামাজন-ফ্লিপকার্ট সে গিফ্ট খরিদকে নেহী দিয়ে, তো অাপ গিল্টি হো। গিল্টি ফীলিং ঘোসবাবু, গিল্টি ফীলিং।
—  তাই এভাবে অ্যাড-বম্বার্ড করে ইমোশানালী ব্ল্যাকমেল করা?
—  ইগজাক্টলি।
—  কিন্তু এটার তো ভালো দিকও অাছে, তাই না? কারুর বাবার সঙ্গে হয়তো অনেকদিন কথা নেই, সে কাজের চাপে হোক কি কলহের, তাদের মধ্যে হয়তো অাবার একটা রিমাইন্ডারের মতো এসে মিটমাট করে দিলো ফাদার্স ডে।
—  দ্যাট ইজ পোসিবেল ঘোসবাবু, অালওয়েজ পোসিবেল। লেকিন, ইয়ে সোচিয়ে, অগর ইয়ে মেসেজ নন-কমার্শিয়াল মোটিভ সে অাসতো, বেটার হোতো না কি?
—  নো ডাউট। কিন্তু এটাও বুঝুন, নন-কমার্শিয়ালের এত টাকা কোথায়, যে এরকম ব্রড-স্পেক্ট্রাম ব্রডকাস্ট মেসেজ পাঠাবে?
—  হিউমান ইমোশানস ভি কন্ট্রোল্ড বাই ফিনানশিয়াল ট্রান্জাক্শনস, ঘোসবাবু?
—  কন্ট্রোল্ড। অাবার কখনো কখনো কিকস্টার্টেড, সাপোর্টেড। অার্টিস্টদেরও তো পেট্রন লাগে, তাই না?
—  মতলব নেসেসারি ইভিল?
—  বলতে পারেন। মুশকিল কী জানেন তো, অামাদের জীবনের সঙ্গে ফিনান্স-কমার্স-কর্পোরেট-মার্কেটিং-অ্যাডভার্টাইজিং-কমার্শিয়ালাইঝেশান এমন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে যে সাচ্চা ইমোশান কোথায় শেষ হচ্ছে অার স্পনসর্ড একতাকাপূর কোথায় শুরু হচ্ছে, বোঝার জো নেই।
—  ঘোসবাবু, অাপ ইস ফাদার্ড ডে ক্যায়সে বিতায়েঙ্গে? কীভাবে কাটাবেন?
—  একটা ঘর, জানেন। মানে বাড়ির বাইরের বারান্দা গোছের, ঘেরা। একটা দরজা, কোল্যাপ্সিবেল গেট, দুটো সিঁড়ি নেমে চলে গেছে, তলায় একটা কালো স্ট্র্যাপ দেওয়া জুতো। ঘরের, মানে বারান্দাটার ভিতরে অাসবাব বলতে একটা ডিভান, হয়তো একটা চেয়ার-টেবিল, অার একটা সাইডবোর্ড।
—  সাইডবোর্ড?
—  ওই বড় কাঠের রাক হয় না, ড্রয়ার থাকে…
—  চেস্ট অফ ড্রয়ার্স?
—  হ্যাঁ, ওই রকম। সন্ধ্যে হয়ে গেছে, বা হবো-হবো করছে। অালো-অাঁধারি, বারান্দায় একটা হাল্কা অালো জ্বলে উঠেছে।
—  বাল্ব?
—  টিউবলাইটও হতে পারে। মোটকথা অালো অাছে। দরজাটা যদি উত্তরমুখী হয় অালোটা তাহলে পশ্চিমদিক থেকে অাসছে।
—  অার বারান্দা মে অাপ খড়ে হ্যাঁয়?
—  বাবাও অাছে। দুজনেই দাঁড়িয়ে অাছি। সাইডবোর্ডের উপর দুটো চায়ের কাপ রাখা। গরম দুধ দেওয়া কম চিনির চা।
—  অাপ তো দুধ-চিনি চা লাইক কোরেন না।
—  করতাম। এককালে।
—  পিতাজী কে সাথ চা খিলেন?
—  খেলাম।
—  কুছ বাত হোলো?
—  না।
—  কুছ ভী নেহি?
—  হয়ে থাকলেও মনে নেই।
—  মোনে নেই কেনো?
—  অানইম্পর্ট্যান্ট। একসাথে চা খাওয়াটাই…
—  ক্রাক্স অফ দি ম্যাটার?
—  চা ভীষণ ভালবাসতো, জানেন। দিনে চার-পাঁচ-ছ-সাত যত কাপ চা দাও না কেন, সব খেয়ে নিতো। গরম-গরম। দিল্লীর মে মাসেও চা পেলে বর্তে যেতো। তখন বুঝতুম না। এই গরমে তো দিল কোল্ডড্রিঙ্ক মাংতা। এখন বুঝি, গরম চায়ের মাহাত্ম্য।
—  ঘোসবাবু, ইয়ে যো ড্রীম থা অাপকা, অাপ ইস সোপনোটা ভুলবেন কোনোদিন?
—  না, মনে তো হয় না। স্মৃতিটাই তো সব, তাই না?
—  ডাউটলেস, ঘোসবাবু, ডাউটলেস। অাই উইশ ইউ অা ভেরী গুড ডে।

____________________________

#সোঘো, দুপুর পৌনে দুটো, ২০ জুন, ২০১৬ সাল, তিলোত্তমা।

Advertisements

2 thoughts on “ফাদার্স ডে

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s