গত ডিসেম্বর মাসে লেখা। পুলি অার দিদির অাড্ডা। কোন কারণে ব্লগে দেওয়া হয়নি, অার দিয়ে থাকলেও খুঁজে পেলুম না।


— দিদি?
— উঁ?
— দিদিই।
— উঁউউ।
— অাঃ, এদিকে তাকাও না।
— কী হয়েছে…ওওও, বেশ লাগছে তো। রংটা বেশ তোর শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করে গেছে।
— গেছে না? উফফ, কি ঝক্কি বাবা। দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলুম দাদা জলপাই রঙের টিপ দিন। সে তো গেছে ব্যোমকে। জলপাই রঙের টিপ অাবার হয় নাকি? অামিও ছাড়বার পাত্তর নই। টিপ একবার পড়ব বলে ঠিক করেছি তো পড়বই পড়ব…
— তো হঠাৎ এরকম মাইন্ড চেঞ্জ কেন? তুই তো বলেছিলি টিপ পরবি না, টিপ ইউজলেস জিনিস, টিপ পরে কে কবে বড় হয়েছে ইত্যাদি।
— বলেছিলুম তো। অ্যান্ড অাই স্ট্যান্ড বাই দ্যাট। টিপ ভিজে গেলে বড় মুশকিল, অাঠা উঠে গিয়ে সুরুত করে কোথায় যে হাওয়া হয়ে যায় তার ইয়ত্তা নেই।
— যাব্বাবা, টিপ ভিজতে যাবে কোন দুঃখে? সকালে তো অার টিপ পরে সাঁতারে যাস না?
— ধুত্তেরি, তা কেন যেতে যাব? বৃষ্টি তো অার পড়ার চান্স নেই।
— ওওও…তাই বলো। রহস্য ইজ উদ্ঘাটিত। দিদিমণি বৃষ্টিতে ভিজলে দিদিমণির টিপ নষ্ট হয়ে যায় বলে দিদিমণি রাগ করে টিপ পরাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। এখন বৃষ্টি নেই বলে রিটায়ারমেন্ট ছেড়ে অাবার ময়দানে নেমেছেন? অামি অাবার ভাবলুম কত কী অাইডিওলজিকাল ব্যাপার। ট্র্যাডিশনের মরুবালুরাশি কেটে বেরিয়ে অাসা, একটা বিপ্লব-রেভলিউশন গোছের…
— দিদিইইই…
— …তা না, শেষে কিনা অাঠা দায়ী?
— …ইইই। নট ফেয়ার। নেহাত সুতির শাড়ি পরি বলে টিপ পরতে পারবো না? জানো…?
— থাক, অার বলতে হবে না, বহুত বার শুনেছি। সিন্থেটিকে কুটকুট করে তো? বাদ দে। টিপটা বেশ। শেষে জলপাই টিপ পাওয়া গেল?
— খুব কষ্টে। অারেকটা দোকানে খবর দিয়ে সেখান থেকে অারেকটা দোকান থেকে অানিয়ে…
— বুঝেছি। কন্টকিত পথ। বাট, অলস্ ওয়েল দ্যাট এন্ডস্ ওয়েল। টিপ পেয়েছো, তোমার জলপাই রঙের শাড়ি সঙ্গে দিব্যি ম্যাচ করে গেছে…
— অামার খুন পছন্দ। জানো…?
— পুলি?
— বলো।
— যখন এই শাড়িটা কিনেছিলাম…কবে কিনেছিলাম?
— এইটা? অাঅা…এই ধরো বছর দুয়েক অাগে।
— তারও বেশি। বছর তিনেক হতে যায়। তেরো সালের মে মাসে। গরমকালে তোর ঘরে পরার জন্য অাটপৌরে কিনেছিলুম মোহনপুর বাজার থেকে।
— হ্যাঁ, ওই যে হরিণঘাটা গেলে।
— ঠিক হরিণঘাটা নয়। হরিণঘাটার কাছে। অাইজার অাছে।
— হ্যাঁ হ্যাঁ। ব্রেন্ডা এসেছিল তো। কী একটা কনফারেন্স হয়েছিল না?
— হ্যাঁ। ওর একটা পোস্টার দেওয়ার ছিল।
— গরম ছিল না?
— ওরে বাবা, তুমুল। ব্রেন্ডা ব্যাটার অাবার এসব গায়েই লাগে না। গরম হোক কি ঠান্ডা, ও ইকুয়্যালি অ্যাট ঈজ।
— অার তুমি ঘেমে একশা।
— ঘেমে মানে? নেয়ে চান করে গিছলুম। সেদিন সন্ধ্যাবেলা তাও একটু গরমটা কমেছিল, ব্রেন্ডা বলল চলো হেঁটে অাসি। সায় দিলুম। ওই হাঁটতে হাঁটতেই দেখলাম একটা জায়গায় অাটপৌরে শাড়ি নিযে বসেছে। অামি দরাদরি করতে দেখে ব্রেন্ডা জিগায়, এই টাইপের শাড়ি কার জন্য নিচ্ছো?ইজন্ট দিস চীপ হ্যান ত্যান। অামাকে তখন এক্সপ্লেন করতে হল যে মাই সিস্টার এই টাইপের শাড়ি ছাড়া কিছু পরেন না। ব্রেন্ডার চোখ কপালে। অামিও ততক্ষণে একটি বেশ সুন্দর জলপাই রঙের অাইটেম চুজ করে ফেলেছি। অাহা, কী সুন্দর রঙ তার। জেল্লা ফুটে বেরোচ্ছে যেন। তার এখন যা অবস্থা…
— অ্যাঁ?
— অ্যাঁ অাবার কী, অ্যাঁ? কত সাধ করে কিনলুম, ব্রাইট অলিভ…
— মোটেও ব্রাইট অলিভ ছিল না। ব্রাইট অলিভ কী বেয়ারা রঙ রে বাবা।
— ওই হল। এরকম মিইয়ে তো যায়নি রঙটা।
— দিদি, বী প্র্যাক্টিকাল। অাড়াই বছর হয়ে গেল…
— এগজ্যাক্টলি মাই পয়েন্ট। এবার ছাড় না বাপু। দিই একটা নতুন কিনে। নাহয় এই টাইপের স্বদেশি শাড়িই দেব, তোর স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী। এটা পরে কলেজ যাস…
— তো? তাতে কী হয়েছে? কলেজ পড়তে যাই না পরতে যাই?
— অ্যাঁ?
— প্রথমটা ড-এ শূন্য ড়।
— ও। না না, তা বলছি না। নিশ্চই পড়তেই–ড-এ শূন্য–যাস। ফ্যাশন শো তো অার নয়। কিন্তু, মানে…
— দিদি, রাখো ওই টপিক। জানো তো অামার এ ব্যাপারে কী ওপিনিয়ন। তার চেয়ে মনে অাছে কী হয়েছিল প্রথম যেদিন শাড়িটা নিয়ে এসেছিলে?
— ও বাবা, মনে থাকবে না? ফিরলুম বোধহয় ওই ২৭-২৮ মে। কলকাতায় এসে তোকে দিতেই তোর অানন্দ তো অার ধরে না। দিদিইইই…বলে জড়িয়ে ধরে-টরে একাকার।
— দিদিইইই…
— অাঃ, ছাড় ছাড়, হয়েছে, অার দিদিপ্রীতি দেখাতে হবে না। পাশবালিশ নিয়ে শুয়ে লক্ষ্ণী মেয়ের মতো গল্প শুনছিলি গল্প শোন…
— মমম। দাঁড়াও একটু অ্যাডজাস্ট করে নি।
— তো তুই তো জম্পেশ হ্যাপি। বললি পরের দিনই নতুন টিউশন পড়াতে যাবি নতুন শাড়ি পরে। শোন মেয়ের কথা। কোথায় লোকে নতুন শাড়ি পরে ভিক্টোরিয়া-বাবুঘাট যায়, তা না, ইনি গেলেন ছাত্র পড়াতে।
— ছাত্রী।
— হ্যাঁ। কী নাম ছিল যেন?
— রঞ্জনা। রঞ্জনা মিত্র। বনমালি নস্কর রোডে বাড়ি। তখন সেভেনে পড়তো।
— হ্যাঁরে তার খবর কী রে?
— অাছে সে, বহাল তবিয়তে। এখন নাইনে উঠেছে। গুড স্টুডেন্ট, শার্প।
— ওর একটা দাদা ছিল না, মাসতুতো না পিসতুতো? তোর প্রায় নেমসেক?
— জ্যাঠতুতো বোধহয়, মনে নেই। নাম পুলু। প্রভাতচন্দ্র মিত্র। কীসব লেখালেখি করে শুনেছিলাম, গোয়েন্দা গল্প।
— বাব্বা, পুরো নাম অবধি মনে অাছে। কেন রে, ভাল লেগেছিল নাকি তাকে? ভাল লাগে নাকি তাকে? অামাদের পুলিপিঠের কি শেষে একটা হিল্লে হল, অ্যাঁ?
— অাঃ, দিদিই। কী যে বলো? ধুসস, কিস্যু ছিল না।
— যেভাবে মাথা নাড়ছিস…হাইলি সাসপিশাস।
— থাক, তোমাকে অার গোয়েন্দাগিরি করতে হবে না…
— দিদিগিরি বল।
— ওই একই হল।
— একই? দিদিগিরি মানেই গোয়েন্দাগিরি? একথা বলতে পারলি। মুখে এল এ কথা? এইজন্যেই জাতির অাজ বড়ই দুর্দিন।
— থাক। বুঝতেই পারছি তোমার অনেকদিন রিহার্সাল দেওয়া হয়নি। নেক্সট প্রোডাকশন কবে হচ্ছে?
— জানি না রে, প্রিয়তোষকে খোঁচাতে হবে। ঠিকই ধরেছিল, অনেকদিন স্টেজে নামা হয়নি, হাত নিশপিশ করছে।
— এডেলওয়াইসের নাটক অনেকদিন দেখিনি। দিদি, অামি প্রিয়তোষদাকে বলব?
— কেন, তুইও নামতে চাস নাকি?
— না রে বাবা, কনভিন্স করাতে।
— দেখ, অামার মনে হয় গ্রুপের কোন ফিন্যানশিয়াল গন্ডগোল চলছে। রিসেন্টলি বোধহয় একটা স্পনসর হারিয়েছে।
— কাকে?
— সে অামি কি জানি? অামি কি অার কোর মেম্বার অাছি?
— অাবার হও না গো। তোমরাই তো শুরু করেছিলে।
— সেসব এনশেন্ট হিস্ট্রী। তারপর কত সাঁকোর তলায় কত জল গড়িয়েছে। বাদ দে। কী যেন বলছিলুম? ও হ্যাঁ, তোর প্রথম দিন জলপাইটা পরার কথা। পরে তো…
— দাঁড়াও, এটা অামি বলছি। অাফটার অল, তোমার তো সেকেন্ডহ্যান্ড শোনা।
— ওকে ওকে, গো ফোর্থ ইয়াং মিস পুলি, টেক ইট অ্যাওয়ে।
— তো অামার তো বেজায় অানন্দ। নতুন শাড়ি পরব। দিদির দেওয়া নতুন শাড়ি। নতুন জায়গা থেকে অানা নতুন শাড়ি। অার সেটা অাবার রঞ্জনাকে পড়ানোর প্রথম দিন। একটু নার্ভাসও লাগছে, অাবার এক্সাইটেডও লাগছে।
— রঞ্জনা তো অার তোর প্রথম স্টুডেন্ট ছিল না। নার্ভাস লাগার কী ছিল?
— না, ছিল না। কিন্তু নতুন ছাত্রী পড়াতে গেলেই অামার একটু টেনশন হয়। কেমন হবে এ? অামি এর সঙ্গে ঠিক মানিযে নিতে পারবো তো?
— “এ গাধা হবে না গরু? দস্যি হবে না প্রিনসেস?”
— হিহি, না না, সেরকম ঠিক না।
— সেরকম না? ইল্লি? সব টীচার পড়াতে যাওয়ার অাগে এসব ভাবে।
— মোটেও ভাবে না। বললেই হল? অামিও ভাবিনি।
— ভাবিসনি?
— ভাবিনি। অামি ভাবছিলুম এটা নতুন একটা অভিজ্ঞতা হবে, অার ছাত্রী যেমনই হোক না কেন, বেশ মজা হবে।
— হুম। মজা যে তোর হবে সে নিয়ে নো সন্দেহ। যাকগে, টু কন্টিনিউ প্লীজ।
— হ্যাঁ। বেরোলাম বাড়ি থেকে। সঙ্গে মা’র ঝোলা ব্যাগটা।
— মা’র কলেজেরটা?
— মা’র কলেজেরটা।
— ও বাবা, সে ব্যাগ নিয়ে তো রোজ বেরোত। তুই তখনও হসনি। অামার মনে অাছে। ওই ব্যাগ ছাড়া মা’কে দেখতেই পাওয়া যেত না। গেল কোথায় সেটা?
— মা’র অালমারিতে রাখা অাছে। তুমিই তো রাখলে, মনে নেই?
— অামি রাখলুম? কবে…? ও হ্যাঁ, ইয়েস ইয়েস। দেখেছো, ভুলেই মেরে দিয়েছিলুম।
— মা’র প্র্যাক্টিস শেষ হয়নি? কিছুক্ষণ চুপচাপ?
— নতুন সুরটা পড়ছে বোধহয়।
— অাজ নতুন কিছু শিখছে?
— বড়ালদা নতুন নোটেশনটা এনে দিয়েছে না? অফিসে দিলো অামায়। অামি দিলুম মা’কে।
— মা নতুন নোটেশন পেলে ভীষণ হ্যাপি হয়ে যায়।
— শী ডিসার্ভস ইট।
— অাহা, শুধু তা কেন? অামরাও রোববার নতুন জিনিস শুনতে পাবো।
— তাও বটে।
— মা’র এই বেহালাটা কদিন হল?
— বেশ অনেকদিন হল রে। তোর জন্মেরও অাগে। বাবার দেওয়া।
— দিদি!
— অাচ্ছা, ওকে, সরি।
— কতবার বলেছি?
— অনেকবার। সরি রে। ভুল করে বেরিয়ে গেছে।
— কী দরকার ওসব কথা মনে করে? মা, তুমি, অামি। এনাফ না?
— ওরে এনাফ তো বটেই। অাই অ্যাম সরি রে পুলি, মুখ ফসকে…
— একটা অচেনা মানুষের বিষয়ে কথা বলার দরকারটাই বা কী?
— অচেনা তোর কাছে হতে পারে, অামার কাছে তো নয়। অামার তো এক সময়ে জীবন বলতে ওরা দুজনেই ছিল। তারপর তুই এলি, অার অামার সেন্টার অফ ইউনিভার্স পাল্টে গেল।
— অার তারপর লোকটা কেটে পড়ল। অামাকে ছেড়ে দিব্যি লাফাতে লাফাতে…
— পুলি! রাখ ওসব কথা। তুই-ই তো বললি, একটা অচেনা মানুষকে নিয়ে টানাটানি কেন?
— লোকটার কথা ভাবলেই অামার গা-পিত্তি…
— স্টপ ইট! সত্যি তো, কী হবেটা কী ভেবে। হি ইজ নো লঙ্গার ইন অাওয়ার লাইভস্। তাই নয় কী? অামরা তিনটি প্রাণী, উই মেক অা কমপ্লীট ফ্যামিলি। তাই নয় কী?
— হুম।
— অই। মুখ তোল, বালিশে গুঁজে রাখতে হবে না, মুখ তোল, অামার দিকে তাকা…
— উম।
— বল, উই মেক অা কমপ্লীট ফ্যামিলি।
— …
— না না, দীর্ঘশ্বাস উইল নট ডু। রিপিট অাফটার মী, উই মেক অা কমপ্লীট ফ্যামিলি।
— উঁউঁ…
— অাবার কাঁদে বোকা মেয়ে। অই, কাঁদতে নেই সোনা, দেখো তোমার দিদ্দি কাঁদে? তুমি দিদ্দির থেকে স্টং না? বল, স্টং না?
— উঁ…অাঁমি দিঁদ্দির থেঁকে স্টং।
— এই তো, গুড গার্ল! স্টং গার্ল! অামার পুলিপিঠে কত বলো হয়ে গেছে। পুলিপিঠে অার কাঁদে না। পুলিপিঠে এখন নিজেই পুলিদিদি। দিদিদের কাঁদলে চলে?
— নাঁ।
— অায়, অামার চুর্ণীটা দিয়ে তোর চোখের জল মুছিয়ে দি।
— দিদিইই।
— কী হয়েছে পুলিপিঠে…ওকি ওকি জড়িয়ে ধরছিস কেন?
— তুমি অামাদের কখনও ছেড়ে যাবে না তো?
— ধুর বোকা, অামি কখনও যাই? যেতে হলে তো সুযোগ ছিলই, গেলুম?
— কিন্তু ব্রেন্ডা কত দুঃখ পেল।
— সে পেল। সে অার কী করা যাবে বল? উই মেক অা কমপ্লীট ফ্যামিলি। অামি ফ্যামিলি ছেড়ে অার নিজের সেলফিশ ইচ্ছাগুলো নিয়ে চড়ে বেড়াতে পারি না।
— কিন্তু তুমি কতো খুশি হতে ব্রেন্ডার সঙ্গে।
— থাকতাম হয়তো, কিছু দিন। কিন্তু চিরকাল তো অার জার্মানি থাকতে পারতাম না, ফিরতেই হত। অার ফিরলেই তো…
— দিদি এটা কবে বদলাবে?
— জানি না রে। ওদিকে তো তাও একটু হেলদোল হচ্ছে। এদিকে…
— দেখ, অামি ঠিক বলছি, একদিন তুমি অার ব্রেন্ডা একসঙ্গে হবেই হবে। সে যতই দুজনে বুড়ি হয়ে যাও কিনা।
— তুই চিরকালের রোম্যান্টিক। যাকগে, মনে পড়ল, চা খাবি?
— খাবো!
— হুম, চায়ের কথা শুনলেই তোর লেজটি তিরতির করে নড়তে থাকে। দাঁড়া, অানবো, অারেকটু বাদে, মা’র প্র্যাক্টিস শেষ হোক। ততক্ষণ তোর গল্পটা শেষ কর না।
— দাঁড়াও, পাশবালিশটা একটু অ্যডজাস্ট করে নি। পাশবালিশ বুকের নীচে না থাকলে গল্প ঠিক জমে না…
— হক কতা।
— হ্যাঁ, এইবারে ঠিক অাছে। কোথায় ছিলাম যেন?
— তুই জলপাইটা পরে যাচ্ছিলি রঞ্জনাকে পড়াতে।
— ইয়েস। ক’দিন ধরেই বেশ গরম যাচ্ছিল। বেশ মানে, বেশ বেশি যাকে বলে। টিপিক্যাল কলকাত্তাই ওয়েদার। রোদ্দুরে বেরোলে চাঁদি রোস্ট, অার শেডে থাকলে স্টীম বাথ।
— কতবার বলেছি, ওইরকম রোদ্দুরে একটা ছাতে নিযে বেরোবি তো। সানস্ট্রোক হয়ে গেলে?
— অত সহজ না। বিসাইডস্, অামার শাড়ি অাছে, সেরকম রোদ থাকলে ঘোমটা দিয়ে নেব।
— পয়েন্ট।
— তো সেদিন মানে একটা বেশিরকমের গরম। বাড়ি থেকে বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে মনে হল একটা লিকুইড হীটের সমুদ্রে ঢুকে পড়েছি, পা ফেলে এগোতেই চাপ। সে যাকগে, এসব অামি ডরাই না…
— ফিক্।
— হাসছো কেন?
— না মানে বেরিয়ে গেছে। তুই বলে যা।
— নো রুকাওট। বলতে দাও। হুঁ, তো এগিয়ে গেলুম। ওদের বাড়ি যাওয়ার বাস এখান থেকে ছাড়ে না, অনেকটা হেঁটে যেতে হয়।
— ওরে বাবা, সেই স্টপটা? সে তো প্রায় কুড়ি মিনিটের হাঁটা পথ।
— চল্লিশ। তুমি যেটা ভাবছ ওটা নয়।
— বাপরে। গেলি চল্লিশ মিনিট হেঁটে? অটো নিতে পারতি তো।
— গেলুম হেঁটে। ওই গরমে হাঁটার স্পীড স্লো করে দিলুম, লাগলো প্রায় এক ঘন্টা। অটো ছিলো না, কীসব স্ট্রাইক না কীসব ছিল। বাই দ্য টাইম পৌঁছোলাম মাথায় ঘোমটাও তেমন কাজ দিচ্ছে না। মনে হচ্ছে ফুল স্পীডে হান্ড্রেড মীটার দৌড়ে এলুম। দরদর করে ঘামছি, জলের বোতলটা ভরতেও ভুলে গেছি।
— কিন্তু তোরা তো অ্যাথলীট। এইটুকু পারবি না?
— অামি তো জলের লোক, গরম দেখলেই পুল বা পুকুর খুঁজি। গরম সহ্য করা অামার কাজ?
— বাঃ, একটু অাগেই তো বললি, এসব অামি ডরাই না।
— হুম। সে লেভেলের গরম পেলে একটু-অাধটু…অার একচিলতে বাতাস নেই, একটা পাতা নড়ছে না, গরমটা যেন অাষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছে।
— অাচ্ছা সে যাক, বাস পেলি?
— অারে তক্ষুণি কি অার পাই? দাঁড়াতে হল প্রায় অারো পনের মিনিট।
— ওখানে টাইম দেওয়া ছিল না?
— সেরকম কোন স্পেসিফিক ছিল না। সকালবেলা, এনি টাইম। ওরও ছুটি ছিল গরমের।
— শেষে পেলি বাস?
— পেলাম। উঠে পড়লাম, ভীড় ছিল, তবে অতটা নয়।
— বসতে পারলি?
— না, তা পারলুম না। তাতে অার কী? মোটামুটি ফাঁকাই ছিল, রোদ থেকে বেরিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলুম। টিকিট কেটে গুছিয়ে দাঁড়িয়েছি, বাস চলছে বলে একটু হাওয়ায় অাসছে, একটু স্বস্তি পেয়েছে কি পাইনি বাস গিয়ে পরের স্টপেজে দাঁড়ালো। ওরে বাবা।
— লোক উঠলো?
— উঠলো মানে? বোধহয় মিনিট পাঁচেক লাগলো সবাইকে উঠতে। অাবার যখন চলতে শুরু করলো তখন লোক পাদানিতে ঝুলছে।
— অফিস টাইম?
— অফিস টাইম তখন পেরিয়ে গেছে। কোথাও একটা মিছিল-সমাবেশ কীসব ছিল যেন।
— বাসে তখন…?
— তিলধারণের জায়গা নেই। ঝোলাটা বুকের সামনে এক হাত দিয়ে ধরে কোনওরকমে অন্য হাতটা রডে দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। এত ভীড় যে নিঃশ্বাস নেওয়া মুশকিল হয়ে যাচ্ছিল।
— লেডিস সেক্শনে ছিলি তো?
— না, কিন্তু তার দরকার পড়ে নি। মিছিলে যারা যাচ্ছিল তারা ৯৫% মহিলা, বাসটা একেবারে মাতৃভূমি বাস হওয়ার জোগাড়।
— ও বাবা, এ তো রেয়ার ব্যাপার।
— যাই হোক, দম প্রায় অাটকে অাসছে, কন্ডাক্টরের গলা খুব ক্ষীণভাবে শুনতে পাচ্ছি। ঠিক স্টপে নামার অাশা তখন ছেড়েই দিয়েছি। বুঝলাম, মিছিলের স্টপ অবধি অামার এভাবেই স্যান্ডউইচ হয়ে যেতে হবে, যদি অজ্ঞান হয়ে যাই–যথেষ্ট চান্স ছিল হওয়ার…
— হ্যাঁ, তোর তো অাবার মাইল্ড ক্লস্টরোফোবিয়া…
— একটা ব্যাপারে শিওর ছিলাম, নামতে কষ্ট করতে হবে না। এই জনস্রোতের সঙ্গে দিব্যি ক্যারেড হয়ে নেমে যাবো, সজ্ঞানে হোক কি অজ্ঞানে। এমন সময়ে, হঠাৎ মনে হল, অাবার নিঃশ্বাস নিতে পারছি। কই, বাস তো চলছে, স্টপ তো কোন অাসেনি, লোকও নামেনি, বাতাস অাসে কোথা হতে? বুঝলাম, অাস্তে অাস্তে ঠান্ডা হচ্ছে ভিতরটা, অার অালোটাও কম।
— বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে।
— তখনও নয়। প্রিপারেশন নিচ্ছে। মেঘ-ঠান্ডা বাতাস ইত্যাদি উপকরণ চুল্লির পাশে রেডি, কড়ায় তেল দেওয়া হয়ে গেছে, গরম তেলে পাঁচফোড়ন পড়ে গেছে, পাড়াটা সেই গন্ধে ম-ম করছে…
— অারিব্বাস, বেড়ে ডেস্ক্রিপশন দিলি তো।
— হিহি, মেসি। ওই পাঁচফোড়নের গন্ধে পাড়া ম-ম করছে ওটা টুকলি, কোন একটা অানন্দমেলায় ছিল।
— বুঝেছি। টু কন্টিনিউ প্লীজ।
— যাই হোক, অামার তো ধড়ে প্রাণ এল। বৃষ্টি পড়বে, বা অ্যাট লীস্ট পড়ার চান্স অাছে। গরমটা তো কমলো। জ্ঞান হারাবো না।
— কতক্ষণ বাসে রইলি?
— সে অনেকক্ষণ। সমাবেশ হবে বলে পুরো কলকাতা জ্যাম, বাস প্রায় এগোচ্ছেই না। একটু এগোয় তো অাবার দাঁড়ায়। ভাবলাম পৌঁছতে দুপুর হবে। যেই না ভেবেছি অমনি কন্ডাক্টর একটা রাম-চিৎকার ছাড়লো, অার হুড়মুড়িয়ে তিনভাগ বাস ফাঁকা। অামি খানিকক্ষণ ভ্যাবলার মতো এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখলাম, একটা সীট ফাঁকা। গিয়ে বসলাম, মুখ দিয়ে অটোম্যাটিক একটা “অাঃ” বেরিয়ে এলো। একটু তরিবৎ করে বসতে যাব এমন সময় অাবার সিংহনাদ। অামার স্টপ এসে গেছে। অগত্যা উঠে পড়লুম, অার নেমেও পড়লুম। দুপা গিয়ে ফুটপাথে, উঠে ঝোলাটা অ্যাডজাস্ট করে কোনদিকে যেতে হবে বোঝার চেষ্টা করছি, বাসটাও একঝাঁক ধোঁয়া উড়িয়ে হাওয়া হয়েছে, এমন সময়ে…
— টিপ-টিপ করে?
— অারে ধুর, সেসবের পরোয়াই করলো না। ওয়ান সেকেন্ড, নাথিং। নেক্সট, ঝমঝম মুষলধারা। মানে কোন ওয়ার্নিঙের ব্যাপারই নেই। সোজা বালতি ঢেলে যাকে বলে, সেই ব্যাপার।
— অাশেপাশে কোন দোকান দেখলি না?
— ছিল দুয়েকটা, একটার শাটার বন্ধ, একটার সামনে সোজা ফুটপাথ। শেড নেই। ইউজলেস।
— বৃষ্টি থেকে বাঁচতে পারলি না বলে তুই কমপ্লেন করছিস, এটা তো শুনিনি কখনও।
— টিউশন যাচ্ছি তো, তায় প্রথম দিন, একটা তো খচখচ করেই। ভিজে কাক হয়ে ছাত্রীর দোরগোড়ায় উপস্থিত হলে কীরকম দেখাবে?
— তো কীরকম দেখালো?
— হিহি, কীরকম অার হতে পারে? ঝমঝম করে নেমেছিল, সেই ইন্টেনসিটিতে কুড়ি মিনিট টেনে দিলো। অনেকদিনের জমা জ্বালা-যন্ত্রণা ঢেলে দিলো অামাদের মেঘপ্রবর। অবিশ্যি টানার দরকার ছিল না অতক্ষণ, যে স্পীডে নেমেছিল, পাঁচ মিনিট ওয়াজ এনাফ। দিনের থার্ড টাইম চান হয়ে গেল। নতুন জলপাই জবজবে সপসপে। সেই অবস্থায় ওখানে গেলুম। দরজা খুলল রঞ্জনা নিজেই, অামার অবস্থা দেখেই সে তো হেসেই খুন।
— দিদিমণির কাকস্থ অবস্থা দেখে হেসে খুন? কী স্টুডেন্ট সত্যি।
— অারে শুনবে তো। ওর হাসি দেখে অামিও সমানে হেসে লুটোপুটি। হাসাহাসির কম্পিটিশন শুনে রঞ্জনার মা বাইরে এসে থ। অামার অবস্থা দেখেই ডিক্লেয়ার করলেন যে অামার ঠান্ডা লাগবে, জ্বর অাসবে, নিউমোনিয়া হবে এটসেটেরা। সুতরাং অামাকে ইমিডিয়েট ভিজে কাপড় ছেড়ে শুকনো কাপড় পড়তে হবে, মাথা মুছতে হবে, চুল শুকোতে হবে। অামি একটু প্রোটেস্ট করতে যাচ্ছিলাম…
— হ। তা তুমি করবা।
— অাঃ শোন না। প্রোটেস্ট করতে যাচ্ছি, এমন সময় রঞ্জনা অামাকে সাপোর্ট করে বলে কিনা, সেও দিদিমণির সঙ্গে বাইরে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজবে।
— বোঝ। যেমন গুরু তেমনি চ্যালা।
— অামিও সায় দিতে যাচ্ছি এমন সময় কাকিমা রঞ্জনার কানটি ধরে সোজা গিয়ে পড়ার টেবিলে বসিয়ে দিলো, অার অামাকে হাতটি ধরে বাথরুমে পুরে হাতে গামছা-তোয়ালে ধরিয়ে, নিজের একটা শাড়ি দিয়ে থ্রেট দিলো, চেঞ্জ না করলে অামাকে বাথরুমেই অাটকে রাখবে, যেতে দেবে না। অগত্যা। শাড়ি পাল্টে জলপাইটা নিঙড়ে ওখানেই রেখে দিলুম…
— বাথরুমে?
— অাবার কোথায়?
— তো এই সেন্সটা বাড়িতে লোপ পায় বুঝি? রোজ তো বাথরুম থেকে লাইন দিয়ে শাড়ি থেকে পড়া জল তোর চেয়ার অবধি গিয়ে শেষ হয়, বাথরুমে রাখতে পারিস না বাড়িতে?
— অাহা, বাড়িতে তো অামার নিজের শুকো দেওয়ার প্ল্যান থাকে। এখানে তো ব্যাপারটা অন্যরকম।
— এক্সকিউজেস এক্সকিউজেস।
— অাচ্ছে শোন না। তো মোটামুটি শুকনোঅাত্তি হয়ে বেরুলাম, গিয়ে পড়ার টেবিলে বসে রঞ্জনাকে অারেকবার অফার দিতে যাবো বাইরে পালিয়ে বৃষ্টিতে ভেজার…
— শোন মেয়ের কতা। কোথায় পড়াতে গেছে না খেলু করতে গেছে। তুই অার জীবনে বড় হবি না।
— অারে বাবা সে তো অাড়াই বছর হয়ে গেল। বড় হই নি কি অার এর মধ্যে?
— এই বর্ষাখেলু করার ব্যাপারে তুমি সেই অাট বছরেরই রয়ে গেছো।
— হিহি, থোড়া তো চলতা হ্যায় না সিস্টার? যাহাই হোয়ুক, সে বুদ্ধি…
— বদবুদ্ধি।
— …সদবুদ্ধি রঞ্জুকে দেওয়ার অাগেই কাকিমা হাজির, পিছন পিছন গরম গরম ফুলুরি, পকোড়া, অার অাদা চায়ের গন্ধ।
— অারিব্বাস।
— অারিব্বাস বলে অারিব্বাস? দুজনেই হামলে পড়লুম। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে থালাবাটি সাফ। ঢেঁকুর সহকারে চায়ে চুমুক দিয়ে পড়ানো শুরু হল।
— সেদিন তো অনেকক্ষণ পড়িয়েছিলি তাই না?
— ও বাবা, দেড়টা বাজতে কাকিমা এসে অর্ডার দিলো যে অামিও ওখানেই লাঞ্চ খেয়ে যাব। কাকিমার অর্ডার মানে তো মানতেই হবে।
— হ্যাঁরে কাকিমা কেমন অাছেন রে? অনেকদিন কথা হয়নি, দেখা-সাক্ষাৎ নেই।
— ভালো অাছে। অামার সঙ্গে এই কিছুদিন অাগেই রঞ্জুর দেখা হল, বলল সব ঠিক অাছে ওবাড়িতে।
— যাক। একদিন যাব ওদের বাড়ি।
— নিশ্চই। এই শনিবার যাবে?
— ডান। তুই একটু জানিয়ে রাখিস।
— ফোন করে দেব রঞ্জুকে।
— তো খেলি লাঞ্চ?
— খাবো না মানে? অতক্ষণ পড়িয়ে ফুলুরি-টুলুরি সব হজম হয়ে গিছলো। তিনজনে খেলাম, কাকু শুনলাম অফিসের ক্যান্টিনে খেয়ে নেন।
— অার প্রভাতরা?
— ওরা তো দুটো বাড়ি পরে থাকে। এক বাড়ি নয়।
— দেখা হল না প্রভাতের সঙ্গে?
— অারে সে গল্পই তো করতে যাচ্ছি। খেয়ে-দেয়ে কাকিমা দুজনকে বললেন একটু রেস্ট নিয়ে নিতে, এই তিনটে নাগাদ অাবার ধরতে। তো তাই বেশ, তিনটে থেকে শুরু করে সাড়ে চারটে অবধি কীকরে যে সময়টা কেটে গেল বুঝলামই না। রঞ্জুকে পড়িয়েও অারাম, খুব শার্প, ঝট করে ধরে ফেলে ব্যাপারটা। অার ইতিহাসে বেশ উৎসাহ…
— হুঁ হুঁ বাপু, বন্ধুত্ব হবে না?
— হিহি। সুযোগ পেলেই ইতিহাসের কিছু গল্প শুনতে চাইতো। অামারও স্টক নিতান্ত মন্দ নয়…
— অাই ক্যান অ্যাটেস্ট টু দ্যাট।
— থ্যাঙ্কু। যাই হোক, সোয়া চারটের সময় কাকিমা চা অার চিঁড়েভাজা এনে তাড়া লাগালো। দেরি হয়ে যাচ্ছে, বাচ্ছা মেয়ে অামি, অনেকটা পথ ফিরতে হবে, সময় ভাল নয়, হ্যান হতে পারে ত্যান হতে পারে ইত্যাদি। রঞ্জু অার অামারও মোটামুটি সেদিনকার পড়ার কোটা খতম, উঠে পড়লুম। অাবার তিন দিন বাদে অাসবো হোমওয়ার্ক করে রেখো এসব বলে বললুম, কাকিমা, শাড়ি পালটাবো।
— জলপাইটা শুকিয়েছিল?
— কোথায়? সকালে বৃষ্টি ধরার পর কাকিমা গিয়ে বারান্দায় মেলে দিয়েছিলো, কিন্তু বৃষ্টি বারে বারে হচ্ছিল, ধরছিল, হচ্ছিল, অাবার ধরছিল। বেচারি বারে বারে গিয়ে তুলেছে মেলেছে…
— তুই সেসব জানতিস? এই যে কাকিমা এইসব এক্সারসাইজ করে বেড়িয়েছেন?
— ঘুণাক্ষরেও না। বেশ কিছুদিন বাদে রঞ্জু বলে।
— কিন্তু শেষরক্ষা হল না।
— হয় নাকি? সারাদিন ওই বৃষ্টি, কিছু শুকোয়? শাড়ি পাল্টাবো শুনে কাকিমা কিছুতেই রাজি হবেন না, বললেন জলপাইটা নাকি একেবারেই শুকোয়নি, অামি যেন ওনার শাড়িটা পরেই চলে যাই, পরের দিন নিয়ে অাসি, উনিও জলপাইটা শুকিয়ে রাখবেন ইত্যাদি। অামিও নাছোড়বান্দা, দিদির দেওয়া নতুন শাড়ি, প্রথম দিন পরছি, না নিয়ে বাড়ি ঢুকবো না ইত্যাদি।
— হুঁ। গোঁয়ার্তুমিপুরে তো তুই এ-ক্লাস সিটিজেন।
— কাকিমাও কম যায় না। চা চিঁড়েভাজা খেতে খেতে অনেকক্ষণ এ নিয়ে বাকবিতন্ডা হল। অামি শেষে বললুম যে দেরি হয়ে যাচ্ছে, একা মেয়ে, অনেকটা পথ ফিরতে হবে, যত ডিসকাস করবো তত দেরি হবে, সময় ভাল নয় এটসেটেরা।
— উফফ…মানে ওনার মেডিসিন ওনাকেই গেলানো?
— একদম। রঞ্জু দেখলাম হাঁ করে সবকিছু দেখছে অার নোট নিচ্ছে।
— মানে তোর টিচারি সাকসেসফুল? স্টুডেন্ট তো নয়, ডিসাইপেল তৈরি করেছিস।
— হিঃ হিঃ হিঃ। টোটালি।
— শেষে কাকিমা ফেল ইন লাইন?
— হার মানতেই হল। ঠান্ডা লেগে যাবে এইসব বলে একটা শেষ চেষ্টা করেছিল, রোজ সাঁতার কাটতে গিয়ে ঘন্টাখানেক জল ঘাঁটি শুনে চোখ কপালে উঠে গেল।
— শাড়িটা তো শুকোয়নি?
— জলটা প্রায় ঝরে গিছলো, যদিও পুরোটা নয়। খানিকটা অাধভিজে স্যাঁতস্যাঁতে ন্যাতা টাইপের অবস্থা ছিল, খানিকটা তখনও বেশ সপসপ করেছিল, নিঙড়ানি দিলে জল বেরোবে।
— পরতে অসুবিধা হল না?
— সে অামার প্র্যাক্টিস অাছে। দিদি, অামি শাড়ি পরায় এক্সপার্ট। নিভি-বাঙালি-মাদিসার-কাষ্টা-গুজরাতি এতগুলোয় স্টাইলে শাড়ি পরতে ও পরাতে জানি। তার সঙ্গে গাছকোমর তো অাছেই।
— কিন্তু সে তো বাপু শুকনো শাড়ি। ভিজে শাড়ি পরার অভ্যেস…যাক গে, কাকে জিজ্ঞেস করছি। তুই বোধহয় এ বিষয়ে ওয়ার্লড চ্যাম্পিয়ান। কীকরে যে ঝেলাফাই করিস কে জানে।
— অামি এসব খুব একটা পাত্তা দি না। গায়ে শাড়ি থাকলেই হল। মরুভুমিতে গেলে বালি ঢুকতো, সুন্দরবনে গেলে কাদা লেপতো। উত্তর মেরুতে বরফ অার চিলেকোঠায় ধুলো। শাড়ি অাবার কী, শরীরের অাবরন, লজ্জা নিবারণের উপায়, ঠান্ডার থেকে রোদের থেকে প্রোটেক্শন। এছাড়া তো অার কিছু নয়। ওই ফ্যাশন, বা পরে নিজেকে কীরকম দেকাচ্চে…নট মাই স্টাইল। অামি সবেতে স্বচ্ছন্দ। কী হল, কী দেখছো?
— দেখছি বোনু এত বড় কবে হল।
— অামি বরাবরের ম্যাচিওর।
— অালবাত। নিঃসন্দেহে। এই তোর টেডি কই গেল রে?
— অ্যাঁ? গা-পু-চিইইইই….?
— হ্যাঁ ওই বালিশের তলাটা দেখ। নেই? অন্য বালিশগুলো? অাচ্ছা পাশবালিশটার তলায়? চেয়ারের উপর দ্যাখ। বুককেসের উপর? ওকে কম্পিউটারের পিছনে পড়ে যায় নি তো? অালনার পিছনে? না? কী হল রে? টেডি কই গেল?
— এই দিদি, ওঠো না, বীন ব্যাগের তলায়…
— অাঃ, অারাম করে বসে অাছি ওঠাবি?
— তুমি গা-পু-চির উপরে বসে অাছো। ওঠো।
— মোটেও না। বসে থাকলে টের পাবো না?
— না তুমি বসে অাছো ওঠো।
— হরগিজ নেহী। ইনোসেন্ট পার্সেন কে নিয়ে টানাটানি। ফায়ার-পুলিশ-অ্যাম্বুলেন্স…
— ওঠো বলছি। তুমিই লুকিয়ে রেখেছো নির্ঘাত। গিব মি মাই গা-পু-চি।
— এই এই পড়ে যাবো এই…অাউউ। গেল রে কোমর গেল হাঁটু গেল মাজা গেল…
— গাঅাঅা-পুউউউ-চিইইই…
— বোঝ। দিদি মাটিতে পড়ে যন্তন্নায় কাতরাচ্ছে, অার মেয়ে টেডিকে অাদর করছে।
— গা-পু-চিইই। অামার থোট্ট গাপুচি।
— উফফ। কী কুক্ষণেই না এনেছিলাম একে। সতীনের সঙ্গে ঘর কচ্ছি।
— এই অামার গাপুচিকে কিছু বলবে না।
— না না, অামার ঘাড়ে ক’টা মাথা?
— মমম…
— থাক অার টেডিকে চটকাতে হবে না। মা’র হয়ে এলো, গপ্পো ফিনিশ করো।
— হুঁ। কোথায় ছিলুম যেন?
— ন্যাতাভিজে জলপাইকে পরার ধান্দায় ছিলি।
— বাথরুমে গিয়ে পরে বেরিয়েছি, বাইরের ঘরে গিয়ে ঝোলাটা কাঁধে তুলতে যাব এমন সময় ডোরবেল।
— ঝোলাটা ভেজেনি?
— টোটাল। একপাশে রাখা ছিল, সঙ্গে মা’র ফিউচার বকুনি ওয়েট করছিল।
— হুম, ওইসব জিনিস বড়ই পেশেন্ট। ওৎ পেতে থাকে, হোয়েন ইউ লীস্ট এক্সপেক্ট অানলীশ হয়ে যায়।
— অচানক অ্যাটাক।
— উফফ, ডেঞ্জারাস। যাকগে, ডোরবেল।
— ইয়েস, ডোরবেল। অামি দরজার কাছেই ছিলুম, কাকিমা কী জন্য একটা ভিতরে গিছলো, রঞ্জু সোফার উপর ছেতরে পরে ছিল। অামি ওর দিকে তাকাতে ও একটা “উঠতে পারছিনা খুলে দাও না প্লীজ লজেঞ্চুস খাওয়াবো গডপ্রমিস” গোছের একটা লুক দিলো। অামিও দিলুম খুলে। অার দিতেই মূর্তিমান…
— প্রভাত?
— পুলুবাবু হুড়মুড়িয়ে “কাকিমা খিদে পেয়েছে” বলে একটা হুঙ্কার ছেড়ে ঘরে ঢুকেই অামার সঙ্গে ডিরেক্ট কোলিশন।
— ওরে বাবা।
— মানে ঢুকেছে একেবারে লাইক এ গন্ডার। স্ট্রেট, কোন এদিক-ওদিক নেই। পরে শুনেছি রঞ্জু এসবে অভ্যস্ত, পুলু অাসছে ইনটিমেশন বা ইনটুইশন পেলে ও সেফলি একদিকে সরে গিয়ে দরজা খুলে।
— তোকে বলতে ভুলে গিছলো? অাহা বেচারি সারাদিন পড়াশুনো করে টায়ার্ড ছিলো।
— টায়ার্ড না হাতি। যে লেভেলে নেক্সট পনেরো মিনিট হেসে গেল…
— ও তার মানে গট-অাপ কেস?
— টোটালি। রঞ্জু জানবে না ওর দাদা কখন বাড়ি অাসে? নিজের বাড়ি ঢোকার অাগে কাকিমার হাতের যা একটা কিছু খেয়ে-টেখে তারপর যায়? এটা ডেলি রুটিন।
— বোঝ।
— যাই হোক, পুলু খুব একটা যে বড়সড় অাদমি তা নয়। অার অামিও সুইমিং-টুইমিং করে মাসল্-ফাসল অাছে?
— তাই নাকি? দেখি দেখি।
— অাঃ, এখন কি অার ট্রেনিঙে অাছি? ছিল একটু-অাধটু, গোয়িং-গোয়িং-গন হয়ে গেছে।
— তাও? বাইসেপ অাছে?
— সাঁতারুর বাইসেপ তো অার তেমন ডেভেলাপ করে না। ডেল্টয়েড অাছে একটু, এই পিছনে ঘাড়ের কাছে কাঁধের ঠিক উপরে। অামি উপুড় হয়ে শুচ্ছি, টিপে দেখ। না না, যেখানে হাতটা শরীরে জয়েন করছে, শোল্ডার জয়েন্ট।
— ও বাবা, তাই তো।
— ওরই পাশে অারেকটু উপরে ঘাড়ের নীচে দেখ ট্র্যাপেজিয়াস। বুঝছো?
— বুঝছি। অার?
— এবার উঠে বসতে হবে। না, দাঁড়াও দাঁড়াই। হ্যাঁ এবার পেটটা টেপো।
— অারিব্বাস। কী শক্ত। একেই কি ওয়াশবোর্ড অ্যাব্স বলে?
— না না, অামার তো অার পেশি দেখতে পাচ্ছো না। হার্ড ফ্ল্যাট স্টমাক। নাহলে অার সাঁতরাই কেন রোজ সকালে?
— বাপরে। তো সেই হার্ড ফ্ল্যাট স্টমাক দিয়ে পুলুবাবুকে রুখে দিলি?
— ইযার্কী হচ্ছে? কী স্পীডে ঢুকেছিল জানো? গন্ডার কি অার সাধে বলেছি? অামাকে নিয়ে সোজা পপাত ধরনিতলে।
— সেরেছে। মানে মেঝেতে ফ্ল্যাট? দুজনে জড়াজড়ি করে? হাউ রোম্যান্টিক।
— রোম্যান্টিকের মাথা অার অামার মুন্ডু। চকিত অাক্রমণ, অামি ধরাশায়ী। পুলুও ঠিক বুঝে উঠতে পারছিল না সামনে অবস্টাকলটা কী। রঞ্জু এতটা লম্বা বা ওয়েল বিল্ট হবে না, অার সে বোকার মতো দাদার পথেও দাঁড়াবে না। সামথিং ওয়াজ রং, এটা পুলুর মাথাতেও ঢুকেছিল। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও দিচ্ছিল রঞ্জু, ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে হযবরল বেড়ালটার মতো…
— ধরে পেটাতে ইচ্ছে করল না?
— অারে তখন অামার উপর চেপে বসেছে দুমণি দেহটা। অামি রঞ্জুকে পেটাবো না দম নেবো? শেষে…
— এই যে বললি বড়সড় চেহারা নয়।
— নয় তো।
— তবে যে দুমণি বলছিস।
— এক মণ মানে কত কিলো?
— চল্লিশ না সাঁইতিরিশ তো জানতুম।
— ও। না না, তাহলে দুমণি না।
— যাক।
— সে যাকগে, সে তো কোনোমতে নিজেকে ছাড়িয়ে অামাকে মাড়িয়ে উঠল।
— তোকে মাড়িয়ে! সাহস তো কম নয়।
— সাহসের ব্যাপারই নয়। তার ব্রেনে সিগন্যালটা রীচ করতে একটু একস্ট্রা সময় নেয়, অার রীচ করার পর সে একটু চা-জলখাবার-পান্তাভাত-লঙ্কা খায়, জিরোয়-টিরোয়, এক ছিলিম তামাক টানে, খানিকক্ষণ পিএনপিসি করে, তারপর হাই-টাই তুলে অ্যানালিসিস সেন্টারের দিকে পা বাড়ায়।
— পোয়েটিক।
— থ্যাঙ্কু। তো সে অামাকে সম্পূর্ণ রোডকিল করে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে শার্ট-প্যান্ট ঝেড়েটেড়ে লক্ষ্য করলো, তার সামনের কিছু অংশ কিঞ্চিত ভিজে অাছে।
— সেকী, সেও বৃষ্টি থেকে এসেছে না?
— পুলু ভিজবে? তাহলেই হয়েছে। সে বৃষ্টি হতে পারে এই অাশঙ্কায় রেনকোট-ছাতা নিয়ে বেরিয়েছিল। তার বর্ষায় অ্যালার্জি অাছে।
— যাঃ।
— কী হল?
— ফস্কে গেল।
— কী ফস্কে গেল?
— তোর সঙ্গে বৃষ্টিতে অ্যালার্জি হওয়া লোকের…নেভার।
— কী যে বলে…যাক গে, সে শার্ট-প্যান্টে জলের ছোপ দেখে বেশ বিরক্ত হয়ে অ্যাট লাস্ট অামায় দেখতে পেল, ভূলুন্ঠিত।
— হাত ধরে তুলল না?
— না সেটুকু অাছে। মানে শিভালরাস লোক। নট এনটায়ার্লি গোবর।
— হাতে-হাত দিয়ে তুলল?
— তুলল। হয়েছে?
— হাউ রোম্যা…
— থামো। তুলে অামার অবস্থা দেখে সে তো হাঁ।
— মানে ধরাশায়ী ফ্ল্যাটেন্ড অবস্থা?
— অারে না না, ন্যাতাভিজে শাড়িপরা অবস্থা।
— ওওও…কখনও তোর বয়সি সুতিশাড়িপরিহিতা মেয়েকে দেখেনি বুঝি?
— সে তো নয়ই, তার উপর ভিজেসুতিশাড়িপরিহিতা মেয়ে। মানে সিনেমার বাইরে মনে হয় না দেখেছে।
— দিনকাল কী পড়েছে। তো তার কী রিয়্যাকশন? লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট?
— উঁহু, ওসবও কিনেমাতেই হয়। সে বাকরুদ্ধ।
— কিনেমা অাবার কী?
— ওই অাজকাল সিনেমা দেখতে যে লেভেলের গাঁটখরচা হয়, সিনেমা না বলে কিনেমা বলাই ভাল।
— অ। বুয়েছি।
— সে বাকরুদ্ধ, অার রঞ্জনা তখন হাসতে হাসতে খাবি খাচ্ছে। এমন সময় কাকিমার অাবির্ভাব।
— ক্লাইম্যাক্স!
— একেবারে। কাকিমা অবিশ্যি প্র্যাক্টিকাল মানুষ, উইদিন দু মিনিট “পুলু এ রঞ্জনার নতুন টিউশনি পড়াবে দেরি হয়ে গেছে এবার বেরোবে তুই বোস তোর জন্য লুচি-অালুভাজা হচ্ছে রঞ্জু হাসি থামিয়ে এক্ষুনি ভিতরে গিয়ে অালুভাজাটা দ্যাখ পুড়ে না যায় পুলি এই তোমার ঝোলা এবার এসো দেরি হয়ে যাবে” বলে অামাকে অালতো করে ঠেলে বের করে দিয়ে “সাবধানে এসো অাবার পরের দিন এসো পুলু এগিয়ে দেবে?”…
— পুলু এগিয়ে দেবে?
— পুলু এগিয়ে দেবে। পুলু অবিশ্যি তখনও বাকরুদ্ধ। ভিজেসুতিশাড়িপরিহিতামেয়ে এই অাইডিয়াটার ততক্ষণে চা-জলখাবার হয়ে গেছে, জিরোবার তাল করছে।
— ওফফ…অার হাসাস না…মা চলে অাসবে…
— কাকিমা পুলুকে “এগিয়ে দিয়ে অায় লুচি রেডি রাখছি” বলে সিমিলার অালতো-ফার্মলি ঠেলে বের করে দিয়ে বাসস্ট্যান্ডের দিকে মাথাটা ঝাঁকালো। অামিও অার দেরি না করে পা চালালুম, পুলুও দেখলাম সম্বিৎ ফেরত পেয়ে অামার সঙ্গে স্টেপ ফেলল।
— চোখ সরাতে পারছিল তোর থেকে?
— একবার দেখছিল, মানে ব্যাপারটা তখনও ঠিক মাথায় ঢুকছিল না তার। কনসেপ্টটা সেকেন্ড ছিলিম অফ তামাক অবধি পৌঁছেছিল। অার পরমুহূর্তে একটি মেয়ের দিকে…
— ভিজেসুতিশাড়িপরিহিতামেয়ে।
— …ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে অাছে বুঝতে পেরে কান লাল করে চোখ সরিয়ে দৃষ্টি কোন একটা নিউট্রাল জায়গায় গ্যারেজ করছিল।
— অার তুই অাড়চোখে সবকিছু অবসার্ভ করছিলি?
— করবো না? এরকম কমেডি কেউ ছাড়ে?
— এরকম ঠিক নয়। ভালো ছেলে, এরকম লেগপুল করতে হয় কখনও?
— অারে ওর যে লেগপুল হচ্ছে বুঝলে তো? সে যাকগে, বাসস্ট্যান্ডে এসেই দেখি একটা বাস অাসছে, হোয়াট লাক, দৌড়ে বাসে উঠে পড়লাম।
— যাঃ। গুডবাই হল না?
— গুডবাই কোথায়, হ্যালো অবধি হয় নি। মিস্টার মিত্র তো পুরোটা রাস্তা একবারও মুখ খুলতে পারেননি।
— কী অবস্থা। বেচারা।
— হেহে…রোয়েট, মা’র শেষ মনে হচ্ছে?
— উই অার দ্য রাইট। তার মানে নাউ টাইম ফর চা। জল বসাই। তোর কড়া করে তো?
— হুঁ।
— গলাটা একটু খুসখুস করছে? কত করে বললাম ডিসেম্বরের বৃষ্টি, তোরও সর্দি লাগবে। শুনলি না তো।
— অারে ধুর সে তো এক সপ্তাহ অাগে। ধুলো খেয়েছি একগাদা অাজ লাইব্রেরিতে। সম্রাজ্ঞীদির একটা পুরনো বই দরকার ছিলো, তার অাবার অ্যাস্থমার ধাত, রেগুলার ইনহেলার নিয়ে ঘোরে, তাই বেশ কিছু ধুলিধূসরিত বই হাঁটকাতে হয়েছে।
— বুয়েছি। একটু অাদা দি?
— কেন? সর্দি তো অার করেনি।
— তাও দি।
— দাও।
— দাঁড়া, এক্ষুনি অানছি।
— অাচ্ছা দিদি?
— চা-টা করে অানি?
— শোন না। লাস্ট কথা।
— অাচ্ছা বল।
— এই যে এতক্ষণ এগুলো বললাম, এসব ঘটনা তো অামাদেরই জীবনে ঘটেছে, তুমিও সবই জানো, তাহলে অামরাই অাবার একে অপরকে বলি কেন? সবই তো অাছে স্মৃতিকোঠায়।
— ওরে, স্মৃতিকোঠা বলে কি তাতে ধুলো পড়ে না? কখনো-সখনো একটু গিয়ে ঝাঁট দিয়ে অাসতে হয়। তাহলে তাজা থাকে। জলে…?
— চূণ তাজা!
— অার তেলে…?
— চুল তাজাঅাঅাঅা!
— দ্যাট্স মাই পুলিপিঠে। হাই ফাইভ?


সোমদেব ঘোষ, ২০১৫-১২-১০, রাত সাড়ে এগারোটা, কলিকাতা শহর।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s