— প্রফেসর, গুড মর্নিং। প্লীজ, টেক অা সীট।
— ধন্যবাদ।
— কফি? টী?
— অাই অ্যাম ফাইন, থ্যাঙ্ক ইউ।
— বলুন প্রফেসর, এত সকাল সকাল মীটিং?
— দি অার্লি বার্ড ক্যাচেস দি ওয়ার্ম, জেনারেল।
— তা বটে, তা বটে। তো বলুন, ইমার্জেন্সিটা কীসের?
— ইমার্জেন্সি?
— ন্যাচেরালি। নয়তো এই সকাল ছটায় অামার বাড়িতে এসে হঠাৎ মীটিং…
— জগিং করে ফিরেছেন, জুস তৈরি করছেন, এটাই তো বেস্ট টাইম। ডিস্টার্বড হবো না।
— ট্রু ট্রু। জুস?
— থ্যাঙ্ক ইউ।
— চা-কফি খান না, তাই তো?
— না। বাবাও খেতেন না।
— না, তা খেতেন না বটে।
— অাই’ল কাম টু দ্য পয়েন্ট, জেনারেল।
— বাই অল মীন্স।
— অাজ দুপুরে একটা ইঙ্কারশান হবে, কাশ্মীরে।
— অাই বেগ ইয়োর…
— হবে। এ নিয়ে কোন দ্বিমত নেই।
— কোথায় হবে? পি থেকে? নন-স্টেট?
— নন-স্টেট, ইয়েস।
— হাউ ডিড ইউ…নেভার মাইন্ড। কোথায় হবে? কখন?
— দুপুর দুটো। ইন ব্রড ডেলাইট।
— এদের সাহস বেড়েছে দেখছি। দাঁড়ান, একটা ফোন করতে হবে…
— জেনারেল, প্লীজ, এত এক্সাইটেড হবেন না, জুস খান।
— মানে?
— অপারেশন হেয়ারড্রায়ার।
— …
— কী হল, জেনারেল। চুপ করে গেলেন যে।
— অপারেশন…?
— হেয়ারড্রায়ার। শিওরলি এর কথা অাপনি জানেন।
— এটা ওদের ইঙ্কারশানের কোডনেম? অপারেশন…তাহলে কি স্টেট অ্যাক্টর্স?
— জেনারেল, প্লীজ। এই ন্যাকামো…সরি, এই অ্যাক্টিং অন্য কারুর কাছে করবেন। অামার কাছে এর কোন ফল হবে না জানেন।
— ইউ অার অা ডেঞ্জারাস ক্রীচার, প্রফেসর।
— ডেফিনিটলি। এবং ডেঞ্জারটা ওদের এবার অাস্তে অাস্তে জানাতে দেওয়া উচিত, তাই নয় কি?
— হুম। হাউ?
— অাজ দুপুর দুটোয় ইঙ্কারশান হচ্ছে। বাট, নট ফ্রম ওয়েস্ট টু ঈস্ট, অ্যাম অাই রাইট?
— অাপনার কাছ থেকে কিছু গোপন করা তো দেখছি…
— অাপনি যা ভাবছেন সেটা না ভাবাই মঙ্গলের। অামাকে বন্দী করার মতো ক্ষমতা অাপনাদের নেই। বাবা এদেশের ছিলেন, এদেশের মুখ বিশ্বে বহুবার উজ্জ্বল করেছেন, তাই অামার এদেশের প্রতি একটা স্বাভাবিক টান অাছে। এটাকে জেপার্ডাইজ না করাটাই অাপনার, এবং অাপনাদের, পক্ষে মঙ্গলের।
— হুম। অাপনার…বাবা, অামার ভাল বন্ধু ছিলেন, এটা জানেন তো?
— চিনতেন অাপনাকে, ব্যস। মিলিটারিকে যমের মতো এড়িয়ে চলতেন। ভাল করেই জানতেন, ওনার অাবিষ্কার অাপনাদের হাতে পড়লে কী হতে পারতো।
— উনি যদি তখনই কো-অপারেট করতেন এতদিন এই ঠান্ডা যুদ্ধ চলতো না প্রফেসর, এটা বুঝছেন? অারো দশ বছর অাগে…অারো পনেরো বছর অাগে বুদ্ধ হাসতো। বাষট্টিতেও অামরাই জিততাম।
— লুক, জেনারেল, ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার মতো সময় বা ইচ্ছে অামার একেবারেই নেই। বাবার নিজস্ব কিছু অাইডিয়াল ছিল, প্রিন্সিপাল ছিল, ভ্যালু ছিল। উনি চিরজীবন সেগুলি ভীষণভাবে মেনে চলেছেন। ইন দ্যাট, অাই রেস্পেক্ট হিম।
— অার অাপনার? অাপনার কি এসব অাছে? অাই ডাউট।
— অাছে, জেনারেল। বাবা অামাকে ভালই ট্রেনিং দিয়েছিলেন। তবে কী, সব ছেলেই তার বাবার চেয়ে একস্টেপ এগিয়ে যেতে চায়, তাই না? অামিও তেমন বাবার ট্রেনিঙের বাইরে যেতে পেরেছি।
— ইনডীড। সো, অপারেশন হেয়ারড্রায়ার, হাঁ?
— অাপনারই ব্রেনচাইল্ড, জেনারেল। বিনয় অাপনার পোষায় না।
— হাউ ডিড ইউ…অাঃ নেভার মাইন্ড। অাই নীড অা ড্রিঙ্ক।
— সূর্য ডুবতে বারো ঘন্টা দেরী জেনারেল। অার ইউ শিওর? এস্পেশালি অাজকের দিনে?
— ড্যাম ইউ, প্রফেসর। হোয়াট দ্য হেল ডু ইউ ওয়ান্ট?
— সিম্পল। অাজ, ফর দ্য ফার্স্ট টাইম, এদিক থেকে ওদিকে ইঙ্কারশান হবে। নন-স্টেট অ্যাক্টর্স, হাইলি ট্রেইন্ড অফ কোর্স, সার্জিকাল স্ট্রাইকস।
— হুম।
— তফাত হচ্ছে, এরা সুইসাইড স্কোয়াড নয়। ইন অ্যান্ড অাউট, তাই তো? অাপনি যতই টাফ হোন, নিজেদের লোকদের সুইসাইড মিশনে পাঠানোর মতো ক্রুয়েলটি অাপনার, বা বর্ডারের এদিকের অাপনাদের রক্তে এখনো বোধহয় মিশে যায় নি, তাই না?
— হুম।
— সো, দ্য ম্যাটার ইজ, টীমটাকে ফিরতে হবে, তাই তো।
— ইয়েস।
— প্রিফারেবলি সবাই।
— ইয়েস।
— অার যদি ধরা পড়ে? অাপনারা ডিনাই করছেন?
— ইয়েস।
— অত সোজা নয়। টীমের কেই ধরা পড়লে সে কোত্থেকে এসেছে সেটাও বেরিয়ে পড়বে। এটা অাটকাতে পারবেন না, অাপনি যতই ট্রাই করুন না কেন। ইন্টারন্যাশানাল স্টেজে মরাল হাই গ্রাউন্ডটা খোয়াবেন।
— ধরা কেউ পড়বে না।
— এটা কি শিওর হয়ে বলতে পারছেন? এরকম অপারেশনে পার্সোনেল ধরা পড়তেই পারে। তারপর এরা এরকম ইঙ্কারশান অাগে কখনো করেনি। মিয়ানমার এবং সোমালিয়া ছাড়া। পি অন্য বল গেম, জেনারেল।
— ধরা। কেউ। পড়বে। না।
— ওঃ। অাই সী। অাই…সী। অাই অান্ডারএস্টিমেটেড ইউ। কেসিএন?
— ইয়েস।
— থট সো।
— থট সো?
— ভেবেছিলাম, পসিবেল সিনারিও। ইন ফ্যাক্ট, এই জন্যই এই মীটিং।
— অাপনি জানতেন, কেসিএন ইউজ করার অর্ডার অাছে?
— ইয়েস। জেনারেল, কাম অন, অামি জানবো না তো কে জানবে?
— ইন্ডীড।
— এনিওয়ে, যার জন্য অাসা। কেসিএন-এ চলবে না।
— চলবে না?
— নোপ। চলবে না।
— অাপনার অফুরন্ত জ্ঞানের থেকে অামায় এক ছটাক দিয়ে কৃতার্থ করুন।
— সিম্পল। কেসিএন খেলো, উইদিন অা ফিউ সেকেন্ডস সে মারাও গেল, তাই তো?
— সেরকমই তো হয় শুনেছি।
— অাঃ, সার্কাজম, অাই লাইক ইট।
— ইয়োর পয়েন্ট, প্রফেসর?
— মারা তো গেল, কিন্তু তার জিনিসপত্র? তার বডি? সেগুলো তো রয়ে গেল।
— ইয়েস।
— সেগুলো ক্যাপচার করলেও যথেষ্ট ইনফরমেশান পাবে ওরা। দ্যাট উইল বী এনাফ।
— দ্যাট ক্যান্ট বী অ্যাভয়েডেড। হোয়াট মোর ডু ইউ ওয়ান্ট। দে অার গোয়িং টু ডাই ফর দ্য কজ।
— উঁহু, যদি কজের জন্যই ডেডিকেটেড তাহলে শুধু মরলে চলবে না, নিশ্চিহ্ন হতে হবে।
— বম্ব?
— নিশ্চিহ্ন হবে না। ডেবরি থাকবে। ভাল ফরেনসিক সায়েন্টিস্ট তার থেকেই…নো জেনারেল, দ্যাট পার্সন উইল হ্যাভ টু ডিসাপিয়ার। ভ্যানিশ। বি অ্যানাহিলেটেড।
— অার সেটা হবে কীকরে?
— বাবারই অাবিষ্কার। সেটাকে অামি একটু মডিফাই করেছি। বড়ি অাকারে। কেসিএনের বদলে এইটে থাকবে নকল দাঁতের খাপে। চিবোলে পাঁচ মিটার রেডিয়াসে সব কিছু ভ্যানিশ!
— অ্যানাহিলেটেড?
— বাবা যখন এটা ইনভেন্ট করেন তখন যা ভেবে করেছিলেন, সেটাকে বেশ একটা মজার টুইস্ট দিলাম।
— এনেছেন সঙ্গে?
— এই শিশিতে অাটটা অাছে। অাটজনের জন্য। সময় বেশি নেই। ফ্লাই অাউট করান। ওয়েদার ঠিক থাকবে।
— ইউ অার ইন্ডীড ডেঞ্জারাস, প্রফেসর ভট্টাচারিয়া।
— কল মী বিধু জেনারেল। অাফটার অল, উই অার ফ্রেন্ডস, অার উই নট?

________________

#সোঘো, দুপুর পৌনে একটা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সাল, তিলোত্তমা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s