একটা পুকুর। বেশ বড়, তাতে জল এককালে টলটল করতো, এখন কিঞ্চিত ঘোলা, পানা গজিয়েছে দুএকটা, হয়তো ছ-সাতটা। পাশে ঘাট, বাঁধানো, শাদা সিমেন্টের। ন’টা সিঁড়ি, নীচের ছটা জলের তলায়, শ্যাওলা পড়ে পান্নাসবুজ হয়ে গেছে। ঘাটের দুদিকে দুটো সিমেন্টের স্ল্যাব, তার উপর বাবু হয়ে বসে বছর ছয়েকের ছেলেটা কয়েকটা মার্বেল নিয়ে খেলা করছে। সাধারণ কাঁচের মার্বেল, কয়েকটা চটে যাওয়া, ঘষে যাওয়া, ফিকে হয়ে যাওয়া। তা নিয়েই ছেলেটা একমনে খেলে চলেছে। ঠক ঠক করে গুলিতে গুলিতে লাগার শব্দ অাসছে।

ওপাড়ার মাস্তান রাজু। বলবন্ত ওস্তাদের অাখড়ায় অানাগোনা, রোজ মুগুর ভাঁজে, স্থানীয় বিধায়কের রেডারে অাসতে বেশি দেরী নেই। দলবল অাছে একটা, তাদের সাহস দিনদিন বাড়ছে। উৎপল এই দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড, রাজুর রাইট হ্যান্ড ম্যান। বয়স চোদ্দও হতে পারে, অাঠারোও হতে পারে। বড়লোকদের, অন্তত যাদের দোতলা বাড়ি অাছে, তাদের দুচক্ষে দেখতে পারে নে সে।

মার্বেলটা টুপ করে পুকুরে পড়লো। উৎপল এক হাতে বাকি দুটো মার্বেল অার অন্য হাতে একটা লাঠি পাকড়ে দাঁড়িয়ে, ঠিক যেন সিনেমার হিরো, রবিন হুডের মতো ধনীর থেকে ছিনিয়ে গরীবকে দিচ্ছে। তার সাঙ্গপাঙ্গরা, লিটল জন বা উইল স্কারলেটকে যারা কখনো দেখবে না, তারা হাসছে দাঁত বের করে। ছেলেটা একবার এদের দেখলো, তারপর ঘাড় ঘুরিয়ে পুকুরের দিকে। মার্বেলটা যেখানে পড়েছিল সেখানে পানার মধ্যে একটা ছোট ফাঁক তৈরি হয়েছে।

টুপ! টুপ!
ঝপাস!

উৎপল খানিকক্ষণ হাঁ করে তাকিয়ে রইলো। লিটল জনের দিকে না তাকিয়েই ফিসফিস করে বললো, “সাঁতার জানে?” লিটল জন কিছু বললো না। ছ বছর বয়সে গরীবের ঘরে জন্মালে সাঁতার নিশ্চয়ই জানতো। বড়লোকের ঘরে বলেই তো…

“কিন্তু গুলিটার জন্য ঝাঁপালো কেন?”, উৎপল জিজ্ঞেস করলো। “বড়লোকের ছেলেই যদি হবে…”

______

#সোঘো, রাত বারোটা চব্বিশ, ২৪ অক্টোবর, ২০১৬ সাল, তিলোত্তমা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s