বার্মুডা ট্রায়াঙ্গল
________________

— বার্মুডা ট্রায়াঙ্গলের নাম শুনেছিস?
— অাজ্ঞে না দাদাবাবু। অামি ছাপোষা মানুষ…
— খুব রহস্যজনক জায়গা।
— …খেটে খাই।
— অ্যাটল্যান্টিক ওশানে। বাংলায় অতলান্তিক মহাসাগর।
— অাজ্ঞে তাই যদি হয় তাহলে হোক দাদাবাবু।
— বাহামা-বার্মুডা দ্বীপের কাছে।
— অাজ্ঞে বারমুটা তো এক ধরনের পেন্টুলুন শুনেচি দাদাবাবু।
— বিশাল এরিয়া। প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ বর্গমাইল।
— পুঁটুর দোকানে কেচে দেয় দাদাবাবু। ডিকসাউন্ডে।
— মানে প্রায় পনেরো লাখ বর্গকিলোমিটার।
— নোংরা হয়ে গেলে বারমুটা কাচতে হয় দাদাবাবু।
— কেউ কেউ বলে অারো অনেক বড়।
— জীনিসও কাচতে হয় দাদাবাবু।
— প্রায় পনেরো লাখ বর্গমাইল।
— জীনিস না কাচলে ডিকসাউন্ড থাকে কখনো?
— মানে অামাদের ভারতবর্ষ অার গোটা পাকিস্তান ঢুকে যাবে তার মধ্যে।
— অামি অত ভারী জীনিস কাচতে পারি নে দাদাবাবু। পিঠে গিঁট ধরে।
— ভেবে দেখ, জায়গাটার মাহাত্ম্য। ইন্ডিয়া-পাকিস্তানকে কোলাকুলি করিয়ে দিলে।
— পুঁটু খুব ভাল কাচে। সাবান ইম্পোটেড।
— এই জায়গায় বহু দিন একটা মিস্ট্রী অাছে।
— বিদেশ থেকে অানায় দাদাবাবু। ইস্পেশাল ডেভিলারি।
— মানে যাকে বলে গভীর রহস্য।
— বলে সাপ্লায়ার নাকি নিজেই সাবান বানায়।
— গত কয়েকশো বছর ধরে, মানে যতদিন মানুষ বড় বড় পালতোলা জাহাজে করে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে।
— নিজেরই বাড়ির তলায়। কী যেন বলে, বেসমেনে।
— এই জায়গায় বহু জাহাজ নিখোঁজ হয়েছে।
— মানে কোন ফেক্টোরি নেই।
— প্লেনও ভেঙে পড়েছে। বা কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি।
— নিজেই বানান নাকি। একাই।
— লোকে ভাবতো, হয়তো চুম্বকের খেলা। পৃথিবী তো একটা চুম্বক, কম্পাস নয়তো কাজ করবে কীকরে। তো বার্মুডা ট্রায়াঙ্গলে নাকি এই চুম্বকের শক্তিটা মাঝে মাঝে হঠাৎ বেড়ে যায়।
— পুঁটু এনার খোঁজ নাকি ইন্ডানেটে পেয়েচিল।
— কেউ কেউ বলে কোন অজানা সামুদ্রিক গ্যাস এখানে থেকে বেরিয়ে পাইলট বা মাঝি-মাল্লাদের অাচ্ছন্ন করে দেয়।
— কী যেন বলে, একটা সাইটে।
— অাবার কেউ কেউ অারেকধাপ এগিয়ে যায়।
— নাম বললো নাকি ফাস্টোরুল নাকি যেন।
— বলে কিনা এলিয়েনরা এসে এদের তুলে নিয়ে যায়।
— পুঁটু বলে এনার সাবান নাকি খুব সস্তা।
— মানে যাকে বলে রহস্য-রোমাঞ্চ-সায়েন্সফিকশনের জন্য ঊর্বর ভূমি।
— একটু কড়া। কিন্তু তা কাউকে বলতে পুঁটু বারণ করে দিয়েচে।
— কিন্তু এই কয়েকদিন অাগে দেখা গেল তার রহস্য নাকি ভেদ হয়ে গিয়েছে।
— পুঁটু এনাকে লিখে নালিশও জানিয়েছিল।
— বিজ্ঞানীরা নাকি এর সমাধান বের করেছেন।
— কিন্তু কোন উত্তর পায়নি।
— সবই নাকি মেঘের খেলা।
— তাই ভাবছে কনজুমার পোরামে গিয়ে নালিশ করবে।
— মেঘ ও বায়ুর খেলা।
— তবে সেখানে গিয়ে লোকটার নাম অার কোম্পানীর নাম দিতে হবে।
— ছকোনওয়ালা মেঘ, অনেকটা মৌমাছির চাকের মত।
— তাই পুঁটু তাই জোগাড় করছিল কাল সন্ধের দিকে।
— তা থেকেই নাকি হাওয়া নীচের দিকে ধেয়ে যায়।
— অামি গিচলুম ওর বাটি। অামার লুঙ্গিটা কাচতে দিয়েচিলুম।
— গিয়ে সমুদ্রে বুকে অাঁছড়ে পরে। ঘন্টায় একশো সত্তর মাইল স্পীডে।
— সেটাকে দেকি কেচেকুচে পরিষ্কার করে রেকেচে…
— সেই ধাক্কাতে সমুদ্রে ঢেউ ওঠে…
— …এবং তা পেতে পুঁটুর বউ পুঁটুর তিনমাসের বাচ্চাকে তেল মালিশ করচে…
— …সেই ঢেউ পঁয়তাল্লিশ ফুট উঁচু হয়ে ওঠে…
— …তাতেই সে হিসি কচ্চে…
— …এবং চারদিকে ছড়িয়ে যায়…
— …তা দিয়েই মুচিয়ে দিচ্চে…
— …অার তারই ধাক্কায়…
— …সেটাই কামড়ে ধরে পুঁটুলেট মাড়ির বেয়াম করচে।
— …অাশেপাশের যত জাহাজ ধরাশায়ী।
— অামি পুঁটুর কলার খামচে ধরতে যাবো…
— অার ওই হাওয়ার ফানেলটার…
— …ধরে দুচারঘা দিতে যাবো…
— …মানে চোঙাটার…
— …সে বলে, এইটে পড়ে দেবে বিশুদা?
— …মধ্যে এরোপ্লেন পড়লে…
— দেখি, একটা খাম। নাম কোম্পানীর নাম লেকা অাচে…
— …তার বারোটা বেজে বত্রিশ।
— টাইলার ডার্ডেন, ফাইট ক্লাব।
— অ্যাঁ?!
— অাজ্ঞে হ্যাঁ দাদাবাবু। জয় মা ইম্পোটেড মালের জয়!!!
________________

#সোঘো, বিকেল চা-চা-চারটে বেজেটেজে এখন পাঁচটা পাঁচ, চা-চা করচে মনপ্রাণশরীর, ২৫ অক্টোবর, ২০১৬ সাল, তিলোত্তমা।

#বিশুদাদাবাবু #ঘটিবাটী

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s