পুলিপিঠে ও মা : ডিপ্রেশন

-- কী খাবি তুই? টিঙ্কু না এসে থাকলে... -- অামি বানিয়ে নেবো। তোমার জন্যেও করতে যাচ্ছিলুম, তুমি ডাকলে। -- হুম। তুই বোস, অাজ অামি বানাবো। -- তুমি? -- কেন, অন্ধ লোকে রান্না করতে পারে না বুঝি? -- মা, তুমি ব্রেইল শীট মিউজিক পড়ে পড়ে বেহালা বাজাও। এটা কজন বলতে পারে? -- ডিসকারেজ করছিস? -- না, মা, ডিসকারেজ নয়। অামি জানি প্র্যাক্টিস করলে তুমি রান্নাও পারবে। কিন্তু প্র্যাক্টিস লাগবে, প্রথম প্রথম অামার বা দিদির সাহায্য লাগবে। -- নীলি! নীলি রান্নায় সাহায্য করবে? -- হুম। পয়েন্ট। দিদি অার রান্নাঘর হচ্ছে... -- ডিজাস্টার। -- রাইট। -- অ্যাক্সিডেন্টটা হবার পরে খুব হেল্পলেস লাগতো, জানিস। -- মা। -- ইয়েস। তুই ছোট, ভীষণ ছোট। নীলিটার উপর সবকিছু। ওভারনাইট মেয়েটার ঘাড়ে সবকিছু এসে পড়লো। সংসার, কলেজ, অন্ধ মায়ের দেখভাল, ছোট বোনকে মানুষ করে তোলা...শী ওয়াজ সোয়াম্পড। -- দিদি বলেই পেরেছিলো। -- ইয়েস। শী ইজ অ্যান অ্যাটলাস। অাইল্যান্ড অ্যামং দ্য ডীপ ব্লু সী। -- মা, তোমার তখন কীরকম মনে হতো? মানে, অামার প্রশ্নটা করাটা... -- নো পুলি, নো, ইউ শুড নো। অামার তখন মেন্টাল স্টেট কী ছিল জানতে চাস তো? -- অনধিকার চর্চা যদি না হয় তো। -- পুলি। ইউ অার মাই ডটার। ইউ হ্যাভ এভরি রাইট টু নো। এভরি রাইট। -- যদি তাই হয়, তাহলে অামি শুনতে প্রস্তুত। -- অাই ওয়ান্টেড টু ডাই, পুলি। অাই ওয়ান্টেড টু ডাই। -- মা! -- অামি অনেকবার ভেবেছিলুম, কী হবে অার বেঁচে থেকে? অামার জীবন কাজ সব বর্বাদ। চোখ ছাড়া অামি কীভাবে প্রোসীড করবো? অাই অ্যাম অ্যান ইনভ্যালিড। অা ওয়ার্থলেস পীস অফ সোসাইটীজ ফ্লোটসাম।

Advertisements

পুলিপিঠে ও মা : অাকাশ কেন নীল?

-- ও মা। -- কী? -- মাঅাঅাঅা। -- বুঝেছি তো। হয়েছেটা কী? -- তোমার কোলটা কী নরম গো মা। -- তাই বুঝি? -- উঁ। -- তো বলি অার কতক্ষণ কোলে মাথা দিয়ে থাকবি শুনি? রেওয়াজ করবো না? -- উঁউঁউঁ। -- শোনো অাহ্লাদি মেয়ে কান্ড। এত বড় হয়ে গেলি অার মা'র কোল পেলে... -- উঁউঁউঁঠবোঁ নাঁঅাঁঅাঁ। -- ঠিক অাছে, তা না উঠলি। রেওয়াজটা তো করি। -- না। তুমি অাজ গপ্পো বব্বে। -- ইশশ, অাদর পেয়ে মেয়ের অাধোঅাধো কথাও ফিরে এসেছে দেখো। -- উঁউঁউঁ। -- এই যে, মিস পুলি, সাঁতার ক্লাস করেছো? -- হুঁউউ। -- সবাই এসছিলো? নাকি ঠান্ডার ভয়ে কেউ কেউ পিঠটান দিয়েছে? -- উফ, মা, দুনিয়াশুদ্ধু লোকে বলে পিট্টান অার তুমিই শুধু... -- এই তো, চোখ ফুটেছে। -- সঅঅঅবাই এসেছিল, বুঝলে? পুলিদিদির ক্লাস, না এসে পারে? -- বুঝেছি। পাড়ার দিদি বলে কথা। -- হেহে। -- সত্যি, কেমন যেন হুট করে সময়টা কেটে গেল। এই তো সেদিন তুই পুকুর দেখলেই "দল দল" করে লাফিয়ে পড়তি। অাটকায় কার সাধ্য। এসব ফিজিকাল অ্যাক্টিভিটিতে তো তোর দিদিটা ইউজলেস। অামাকেই লাফিয়ে পড়ে তোকে রেসকিউ করতে হতো। -- এই, দূর, অামার কোনওদিনও রেসকিউর দরকারই হয় নি। -- না, তা হয়নি। অ্যান্ড দ্যাট ইজ এক্সট্রা-অর্ডিনারি। তোর মধ্যে যেন একটা ইনবর্ন ব্যাপার ছিল, জলের প্রতি একটা সহজাত ক্ষমতা। -- জল অামার ভীষওওওওওওণ প্রিয়।

পুলিপিঠে ও মা : ইয়ে অাকাশবাণী হ্যায়

-- অাসবো মা? -- পুলি? অায় অায়...বাঃব্বা, মেয়ে অাজকাল পার্মিশন নিয়ে ঘরে ঢুকছে দেখো। -- না তুমি রেডিও শুনছিলে ডিস্টার্ব করতে চাইনি। -- না না তুই অাবার কখনো ডিস্টার্ব করতে পারিস? -- কী শুনছিলে গো? -- বুঝলি না? -- মেরা নাম জোকার। জানে কহাঁ গয়ে উও দিন। -- রাইট। -- কিন্তু... -- কিন্তু? -- কিন্তু চ্যালেঞ্জটা কী? গান কী হচ্ছে তো শুনতেই পাচ্ছি। সেটা বলাটা তো নো চ্যালেঞ্জ। অার কী জিজ্ঞেস করবে? -- বটে? কী জিজ্ঞেস করতে পারি? -- গায়ক মুকেশ...কিন্তু সেটাও... -- দুধেভাতে। -- মিউজিক ডিরেক্টর। -- বলে ফেলো। -- শঙ্কর-জয়কিশন। -- গুড গুড, ভেরি গুড। সাল? -- ১৯৭০। -- ১৯৭০? শিওর? ১৯৭১ নয়? -- ১৯৭০। শিওর। ডিসেম্বর মাস। -- এক্সিলেন্ট। অাই হ্যাভ ট্রেইন্ড ইউ ওয়েল পুলি। -- অার? -- অার কী? -- অাসল প্রশ্নটাই করলে না?

দিদিপুলির অাড্ডা : ১

-- কীরে পুলি? কী ভাবছিস? -- রূপাদির কথা। -- রূপাদি? মানে বারাসাতের রূপাদি? -- হ্যাঁ গো। -- কেমন অাছে রূপাদি? শরীর কেমন? -- ওই যেরকম থাকে অার কী। প্রেশারটা তো অার কমছে না। -- কতবার বলেছি, একটু হাঁটাহাঁটি করো। কে কার কথা শোনে। খালি সারাদিন বাড়ির কাজ অার বসে বসে চিন্তা অ্যাংজাইটি। -- অার কীই বা করবে বলো। শ্বশুরবাড়ির ব্যাপারস্যাপার। -- অার এই বয়সে তুই শ্বশুরবাড়ি দেখাতে অাসিস না। নিজেই শাশুড়ি হয়ে গেল... -- শ্বশুরবাড়ি মানে তো স্বামীও ইন্ক্লুডেড, তাই নয় কী? -- কেন, নিরঞ্জনদা কী করেছে? -- কিছুই করেনি। কিন্তু কিছু একটা করতে পারে। -- ব্যাপারটা কী খুলে বলতো। -- রূপাদির নিজের কোন অায় নেই তো তুমি জানো। -- জানি। কতবার বলেছি... -- অাঃ, বলতে দাও না। -- হুম, বল। -- তাও সময়ে-অসময়ে কুড়িয়ে-কাঁচিয়ে কিছু টাকা জমিয়েছে। -- তাও ভাল। কত? -- পনেরো হাজার। -- মাত্র? -- কী বলছো গো? যার হাত দিয়ে কোন টাকার লেনদেনই হয় না, নিরুদাই সবকিছু দেখে, সেখানে পনেরো হাজার কম বুঝি? -- হুম। তা নয়। তো কী হয়েছে? সব বুঝি হাজার-পাঁচশো টাকার নোট? -- তেরোশো টাকা একশোর নোটে। সাতশো পঞ্চাশ দশ কুড়ির নোটে। বাকি তেরো হাজার...

বিশুদাদাবাবুর বকবক : ৫

-- এই যে, বিশুর বাচ্ছা, ছিলি কোথায় কাল? -- ছিছি দাদাবাবু, এরম বুলি কেউ বলে? দ্যাখেন তো, ফেউতে লিখছে, এরম বুলি বললে... -- শাটায়ায়ায়াপ! ছিলি কোথায় অাছে বল। নয়তো তোরই একদিন কি অামারই একদিন। -- চটেন কেন দাদাবাবু? এত চটেন কেন? -- চটেন কেন? চটেন কেন?! দাঁড়া, এই জুতোর সুকতলা দিয়ে তোকে চট বানাই কিনা দ্যাখ... -- অাহা দাদাবাবু পেটাইতে ওলে তো অাগে অামায় পাকড়াইতে হইবে। অামার ছিপছাপ চিন্ময়রায় চেহারা, অার অাপনার নাদুসনুদুস ল্যাক্টোজেন খাওয়া... -- তবে রে হারামজাদা... -- ছিছি দাদাবাবু ফেউ সেন্সর এসে... -- কাছে অায়...কাছে অায় বলচি... -- ধরতে পারবেন না দাদাবাবু... -- উফফ...ফফফ...ফফফ... -- এট্টু জিরিয়ে ল্যান দাদাবাবু। অামি অালগেচা করে অানি গে...

সেল্সম্যান

-- নমস্কার, অাসুন অাসুন। -- নমস্কার। অামাদের... -- বসুন স্যার, বসুন ম্যাডাম। জল? বাইরে যা গরম, এই এপ্রিল মাসেও ঘেমে অস্থির হওয়ার অবস্থা। -- থ্যাঙ্কু, অামরা খেয়ে এসেছি। যা বলছিলাম, অামাদের... -- চা? চা বলি? দোকানের এসিটা...এই ভিনয়, থোড়া এসি বাড়িয়ে দো না প্লীজ। -- দেখুন, চা-ফা লাগবে না, ধন্যবাদ, এক্ষুণি লাঞ্চ করেছি। খুব সময় নেই হাতে, অারেকটা জায়গায় যেতে হবে। চাই... -- কোনও চিন্তা নেই স্যার, অাপনি ঠিক জায়গায় এসেছেন। ফাস্ট ফাস্ট অাপনার ফার্নিচার পেয়ে যাবেন। ডেলিভারি গ্যারান্টীড। -- অামি তো কী নেবো তাই বলিনি অাপনাকে। -- অাঃ, নেবেন তো বটেই, নাহলে এখানে অাসবেন কেন? -- দেখুন, লাগবে একটা স্টাডি টেবিল... -- স্টাডি টেবিল অামাদের প্রচুর মডেল অাছে ম্যাডাম, কোনটা চান। বড় ছোট মাঝারি সব প্রাইস রেঞ্জে। এই যে এদিকে... -- দেখছি। অারো কিছু লাগবে, অাগে বলে নি? -- নিশ্চয়ই ম্যাডাম। কাস্টোমার ইজ কিং...মানে, কুইন অলসো। -- স্টাডি টেবিল একটা। অার তার সঙ্গে গোটা দুই অফিস চেয়ার, অার একটা এমনি চেয়ার। -- ভেরিগুড ম্যাডাম। অাপনি এদিকে অাসুন অামি দেখাচ্ছি... -- এক্সকিউজ মী। -- বলুন স্যার। -- ওই ভদ্রমহিলা চ্যাঁচাচ্ছেন কেন ওভাবে?

বিশুদাদাবাবুর বকবক : ৪

-- অনাচার, ঘোর অনাচার। -- অাজ্ঞে দাদাবাবু যা বলেচেন দাদাবাবু। -- বলছি। পাঁচশো বার বলছি। হাজার বার বলছি। -- অাজ্ঞে দাদাবাবু তার অার কোন মূল্য নাই দাদাবাবু। -- দেশটা উচ্ছন্নে যাচ্ছে। -- দেশ তো চিরকালই উচ্ছন্নে যায় দাদাবাবু। -- দেশ কী? পৃথিবীটা উচ্ছন্নে যাচ্ছে। -- অাজ্ঞে দাদাবাবু যা বলেচেন দাদাবাবু। -- মানে কান্ডটা ভেবে দ্যাখ একবার। -- সত্যিই কান্ডটা বড়ই কঠিন দাদাবাবু। -- মানে কোন কথাই হল না? -- অাজ্ঞে না দাদাবাবু। -- এটা অন্যায়। -- অাজ্ঞে হ্যাঁ দাদাবাবু। -- এ নিয়ে নালিশ জানাবো। -- অাজ্ঞে কোথায় দাদাবাবু? -- রেগুলেটরি কমিটিতে। -- অাজ্ঞে দাদাবাবু। -- রিটেন নালিশ। লিখিত কমপ্লেন্ট। -- অাজ্ঞে দাদাবাবু। -- টাইপ করে। ইন ট্রিপলিকেট। -- অাজ্ঞে দাদাবাবু, একটা কতা দাদাবাবু। -- কী কথা? -- কীসের গুলতাড়ি কমতি দাদাবাবু?