— নমস্কার, অাসুন অাসুন।
— নমস্কার। অামাদের…
— বসুন স্যার, বসুন ম্যাডাম। জল? বাইরে যা গরম, এই এপ্রিল মাসেও ঘেমে অস্থির হওয়ার অবস্থা।
— থ্যাঙ্কু, অামরা খেয়ে এসেছি। যা বলছিলাম, অামাদের…
— চা? চা বলি? দোকানের এসিটা…এই ভিনয়, থোড়া এসি বাড়িয়ে দো না প্লীজ।
— দেখুন, চা-ফা লাগবে না, ধন্যবাদ, এক্ষুণি লাঞ্চ করেছি। খুব সময় নেই হাতে, অারেকটা জায়গায় যেতে হবে। চাই…
— কোনও চিন্তা নেই স্যার, অাপনি ঠিক জায়গায় এসেছেন। ফাস্ট ফাস্ট অাপনার ফার্নিচার পেয়ে যাবেন। ডেলিভারি গ্যারান্টীড।
— অামি তো কী নেবো তাই বলিনি অাপনাকে।
— অাঃ, নেবেন তো বটেই, নাহলে এখানে অাসবেন কেন?
— দেখুন, লাগবে একটা স্টাডি টেবিল…
— স্টাডি টেবিল অামাদের প্রচুর মডেল অাছে ম্যাডাম, কোনটা চান। বড় ছোট মাঝারি সব প্রাইস রেঞ্জে। এই যে এদিকে…
— দেখছি। অারো কিছু লাগবে, অাগে বলে নি?
— নিশ্চয়ই ম্যাডাম। কাস্টোমার ইজ কিং…মানে, কুইন অলসো।
— স্টাডি টেবিল একটা। অার তার সঙ্গে গোটা দুই অফিস চেয়ার, অার একটা এমনি চেয়ার।
— ভেরিগুড ম্যাডাম। অাপনি এদিকে অাসুন অামি দেখাচ্ছি…
— এক্সকিউজ মী।
— বলুন স্যার।
— ওই ভদ্রমহিলা চ্যাঁচাচ্ছেন কেন ওভাবে?
— কী বলবো অার স্যার। বুঝতেই তো পারছেন। অবাঙালি। ভদ্রতাটা…
— খালি বলছেন নাকি ডেলিভারি দিতে দেরী হয়েছে এক্ষুণি দরকার ছিল…
— অাসলে অামাদের ডেলিভারি ভ্যান কাল খারাপ হয়ে গিছলো। ওনাকে ব্যাপারটা বলতে উনি শোনেন নি, বেমক্কা এসে চোটপাট। এরকম কাস্টোমার পেলে কী অার করা যাবে বলুন।
— কিন্তু অাপনার যে সেল করেছে সে বলেনি ভ্যান খারাপ ছিল?
— সে কীকরে জানবে বলুন? কখন খারাপ হয়েছে না হয়েছে তা তো তার ডিপার্টমেন্ট নয়। তাও, জানেন তো, মানে, এখানকার সেলসম্যানরা তেমন ইয়ে নয়।
— “ইয়ে” নয়?
— তেমন কোয়ালিফায়েড নয়, বুঝলেন। গন্ডা গন্ডা মাইনে পায়, কাজ কিচ্ছু জানে না। কাস্টোমারের সঙ্গে কীভাবে ডীল করতে হয়…
— অাপনার ব্যবহার ভালই।
— হেঁহেঁ থ্যাঙ্কু স্যার। অামি এই কয়েকদিন অাগে পর্যন্ত মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলাম।
— চাকরী বদলালেন কেন?
— কী অার বলবো স্যার। একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল। স্কুটার চালাতে গিয়ে। পা-টায় গোলমাল। তাই অত হাঁটতে পারি না…
— তাই সারাদিন দোকানে দাঁড়িয়ে থাকেন?
— কী অার করবো স্যার। পেট তো চালাতে হবে। বাড়িতে লোকজনের পেট তো চালাতে হবে। তাও ভাবছি এই চাকরী অার করবো না।
— ছেড়ে দেবেন?
— হ্যাঁ স্যার। অার ভাল লাগে না। দোকানটারও…
— কেন কিছু গন্ডগোল অাছে নাকি?
— না না ম্যাডাম, গন্ডগোল নেই। তবে কী জানেন, কেউ কাজ ভাল করে করতেই চায়। সবাই কমিশন ইন্সেন্টিভ নিয়ে চিন্তিত। সেল করতে পারলেই হলো। পরে কী হবে না হবে তা নিয়ে কেউ চিন্তিত নয়। এরকম হলে হয় বলুন? কাস্টোমার কেয়ার বলে একটা ব্যাপার অাছে তো। অামি সেল করছি, দায়িত্ব তো অামারই, তাই না, বলুন?
— সে তো বটেই।
— অাসলে ব্যাপারটা কী জানেন? ওরা, মানে অন্য সেলের লোকেরা, অামার ট্র্যাক রেকর্ড দেখে জেলাস। দেখতে পারে না অামায়।
— কেন বলুন তো?
— অারে অামি ওদের থেকে তো বেশি কোয়ালিফায়েড। এডুকেশন বেশি। কীভাবে কাস্টোমারের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করতে হয় জানি।
— অাই সী। বাই দ্য ওয়ে, টেবিলটা…
— হ্যাঁ হ্যাঁ, অাসুন অাসুন…
— ডেলিভারিটা?
— দুদিনের মধ্যে হয়ে যাবে ম্যাডাম। অাপন মাই ওয়ার্ড।
— অার গন্ডগোল হলে?
— হলে অামায় ফোন করবেন ম্যাডাম। এনি টাইম। অাই অ্যাম অলওয়েজ অ্যাভেলেবল। পবন সরকার প্রমিসেস ইউ।

* * *

— কীরে, পবনা? কী খবর?
— দে তো দুটো ফিল্টার।
— বাব্বা, একেবারে দু-দুটো! কেন, ভাল সেল করলি নাকি?
— হেঁঃ হেঁঃ। ভজা পার্টি। হাজবেন্ড ওয়াইফ।
— কাকে ফাঁসালি? চার্মস, না উইলস?
— অারে চার্মস নয় রে, মেয়েছেলেটা শার্প। হাজব্যান্ডটা হদ্দ।
— কটা গছালি?
— চারপিস। টেবিল, তিনটে চেয়ার।
— কপিস যাবে?
— তিনপিস।
— এসে তো রিফান্ড চাইবে।
— তা চাক না। অামার কী? অামার তো সেল হয়েই গেল। বাকিটা কোম্পানী বুঝবে।
— পবনা রে, তোর হেডে থোবড়া অাছে।
— নে নে, দে দুটো ফিল্টার। জলদি।

__________________

#সোঘো, রাত এগারোটা উনচল্লিশ, ১২ নভেম্বর, ২০১৬ সাল, তিলোত্তমা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s