বৌ, সিনেমা, অার কালোটাকা
____________________________

— এই যে, বিশুর বাচ্ছা, ছিলি কোথায় কাল?
— ছিছি দাদাবাবু, এরম বুলি কেউ বলে? দ্যাখেন তো, ফেউতে লিখছে, এরম বুলি বললে…
— শাটায়ায়ায়াপ! ছিলি কোথায় অাছে বল। নয়তো তোরই একদিন কি অামারই একদিন।
— চটেন কেন দাদাবাবু? এত চটেন কেন?
— চটেন কেন? চটেন কেন?! দাঁড়া, এই জুতোর সুকতলা দিয়ে তোকে চট বানাই কিনা দ্যাখ…
— অাহা দাদাবাবু পেটাইতে ওলে তো অাগে অামায় পাকড়াইতে হইবে। অামার ছিপছাপ চিন্ময়রায় চেহারা, অার অাপনার নাদুসনুদুস ল্যাক্টোজেন খাওয়া…
— তবে রে হারামজাদা…
— ছিছি দাদাবাবু ফেউ সেন্সর এসে…
— কাছে অায়…কাছে অায় বলচি…
— ধরতে পারবেন না দাদাবাবু…
— উফফ…ফফফ…ফফফ…
— এট্টু জিরিয়ে ল্যান দাদাবাবু। অামি অালগেচা করে অানি গে…
— ফফফ…তোর…ফফফ…অ্যাক্সেন্ট…ফফফ…
— শান্ত হোন দাদাবাবু। জিরোন। ধীরে। ধীরে। এই ন্যান অালগেচা…
— এটা অার্লগ্রে…ফফফ…অার্ল গ্রে চা হতভাগা। অালগে নয়।
— অ। ত অামি অতশত বলতি পারিনেকো দাদাবাবু।
— এই যে…ফফফ…তুই ব্যাটা…ফফফ…এত মেকি অ্যাক্সেন্ট বানিয়ে কথা বলিস…
— অ্যাক্সেন্ট কী দাদাবাবু?
— তোর তো অাসলে কোন অ্যাক্সেন্ট নেই। সব তো…ফফফ…ফেক…
— চা খান দাদাবাবু। অাজ কী খাবেন? চিকেনভাত? নাকি ফুলকপি-গাজর দিয়ে ডাল দিয়ে রুটি?
— তুই কাল কোথায় ছিলি অাগে বল হতভাগা।
— কাল? কাল তো দাদাবাবু অামি ছিনিমা দেকতে গিচ্লুম।
— ছিনিমা! সিনেমা দেখতে গিছলি অার তাই অামাকে সারাদিন পার্লেজি খেয়ে থাকতে হলো?
— সেকিগো দাদাবাবু? সারাদিন পার্লেজি…কিছু অানিয়ে নিতে পারলে না জি?
— অানাবো? কোত্থেকে অানাবো?
— কেন দাদাবাবু? অাপনাদের তো কতকিচু এপ-টেপ অাছে অাজকাল। কীসব লুইগি-মারিও ব্যাপার অাছে।
— ওফফ। সুইগি। হ্যাঁ। তো?
— তো এই লুইগি থেকে অানালেই ল্যাঠা চুকে যেতো তো দাদাবাবু।
— অামি? সুইগি থেকে? খাবার অানাবো? অামি?
— কেন গো দাদাবাবু? মুশকিল কই?
— ওরে গর্দভ, অামি যদি অনলাইন খাবার অানাই, তাহলে তো ওরে জেনে যাবে, কী খাবার অানাবো।
— ওরা দাদাবাবু? ওরা কে?
— অারে, ওরা রে, ওরা! বুঝিস না? ধর, অ্যামাজন থেকে বই কিনলুম, বা ফ্লিপকার্ট থেকে টয়লেট পেপার, বা গ্রোফার্স থেকে হারপিক, সবের তো একটা হিসেব থাকছে, তাই না? ওরা সব জানতে পারছে।
— কে জানতে পারছে দাদাবাবু? ইনকামটেস্কের লোকে?
— অারে না না, ইঙ্কামট্যাক্স নয়, ওরা। মানে যারা ইন্টারনেটে কান পেতে থাকে, সবার ইনফর্মেশন নিয়ে জমিয়ে রেখে বেচে দেয়।
— ইন্টেন্নেটে কান পেতে থাকে? বুইলাম না গো দাদাবাবু।
— ধর তুই গুগল বা ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুললি বা কিছু করলি, তোর সমস্ত লাইফটাই পাবলিক ডোমেনে চলে যাচ্ছে, অার প্রাইভেট কিছু থাকছে না।
— সেকিগো দাদাবাবু, অাপনি সেদিন যে পান…
— চুপচুপ, একদম ওসব মুখে অানবি না…এই, তুই জানলি কীকরে রে হতভাগা?
— অামি? হেহে, অামিও দরজার ফাঁক দিয়ে দেকচিলুম কিনা দাদাবাবু। ওই ইভা অ্যাঞ্জে…
— ইঁইঁইঁইঁ…ব্যাটার মুখে কোন কথা অাটকায় না। চোপ!
— তো এইসব জিনিস পাবলিক জেনে যাবে গো দাদাবাবু?
— যাবেই তো। প্রাইভেসি বলে একটা কথা নেই?
— তাহলে ওইসব এমাজন গোফার্টস করে কী দরকার গো দাদাবাবু? দোকানে গিয়ে মাল নিয়ে এসো।
— মাল? দোকান? অানবো? ওরে বলদ, টাকা কে দেবে, তোর বি…থুড়ি, সেন্সর, তোর…ইয়ে, ট্যাঁক?
— কেন গো দাদাবাবু, টাকা নেই একাউনে?
— তা থাকবে না কেন? ক্যাশ নেই। সব তো পাঁচশো-হাজার ছিল।
— তো অাপনার তো এটিমকাড অাছে তো দাদাবাবু। এটিম থেকে নিয়ে অাসুন।
— অারে ধুর। অত লম্বা লাইনে কে দাঁড়ায়। চাঁদি চচ্চড়ি হয়ে যাবে না?
— এটিমে লম্বা লাইন পড়ছে বটে দাদাবাবু।
— তাহলেই বোঝ। কী অবস্থা দেশের। লোকে না খেতে পেয়ে মারা যাচ্ছে।
— কিন্তু দাদাবাবু অামি তো দিব্যি কাল মাংসভাত খেলুম।
— অা মোলো যা। কর্তা এদিকে বাড়িতে বসে মনের দুঃখে পার্লেজি খাচ্ছেন অার খাসনামা বসে বসে সিনেমা দেখছে অার মাংসভাত সাঁটাচ্ছে। কলি, কলি, ঘোরতর কলি।
— কী করি দাদাবাবু? বৌটা বললো, ওগো, চলো গো, অনেকদিন হাতে হাত রেখে সিনেমা দেখা হয়নি। চলো না গো, দেখে অাসি।
— বৌ? তোর অাবার বৌ কবে থেকে হলো রে অলপ্পেয়ে? গাঁজাটা কবে থেকে নিচ্ছিস?
— অাজ্ঞে গত ডিসেম্বর গো দাদাবাবু।
— গত ডিসেম্বর! বিয়ে কবে করলি? খেতে ডাকিসনি তো।
— অাজ্ঞে বিয়ে করিনিগো দাদাবাবু।
— মানে?
— মানে পয়সা নেই গো দাদাবাবু। বিয়ে করতে তো পয়সা লাগে।
— কেন, তোর পয়সা নেই বুঝি?
— কোথায় গো দাদাবাবু? ওই জমি বিক্কিরি করে যা একটু পেয়েছিলুম, তাও প্রায় শেষ।
— অার অামি? অামি যে তোকে মাইনে দি, সেটা কী করিস? বাংলা খেয়ে ওড়াস বুঝি?
— ছিছি দাদাবাবু, অামি মদ খাইনে। মানে খাই, তবে কি, বৌয়ের সামনে।
— বৌয়ের সামনে মদ খাস?
— ওই অার কি দাদাবাবু। অার অাপনিও তো ঠিক মাইনে দ্যান না।
— মাইনে দি না? মানে?
— দ্যান না দাদাবাবু। ভুলে যান।
— সেকি! ঠিক হ্যায়, নেক্সট মাসে অাসিস, ঠিক দিয়ে দেবো।
— তাই করবো দাদাবাবু।
— অার তোর হবু বৌ? সে কিছু করে না?
— অাজ্ঞে করে স্যার। কিন্তু সে বেচারিকেও তো সংসার চালাতে হয়।
— স্যার? হঠাৎ দাদাবাবু ছেড়ে স্যার যে?
— অাজ্ঞে অন্যমনস্ক ছিলাম দাদাবাবু। টেইপো হয়ে গেছে।
— বৌয়ের নাম কী?
— নাম জিজ্ঞেস করছেন দাদাবাবু?
— কেন? সেটা জিজ্ঞেস করা যাবে না বুঝি?
— না দাদাবাবু, তা কেন? নামটা অামার নামের সঙ্গেই মিলিয়ে। বৌয়ের নাম…
— যাঃ! লোডশেডিং!
— দাদাবাবু বসে থাকুন ওখানে। অামি মোমবাতি জ্বালছি।
— মোমবাতি জ্বালবি?
— একটু বসুন দাদাবাবু, দেশলাইটা বের করেই…
— ওরে ইডিয়ট, এটা দিনের বেলা, মোমবাতি জ্বালিয়ে হবেটা কী?
— তাই বলুন দাদাবাবু। অামি ভাবি, কী স্ট্রেঞ্জ ব্যাপার। ডাক্তার ডাকতে হবে কিনা।
— ডাক্তার? স্ট্রেঞ্জ?
— অাজ্ঞে হ্যাঁ দাদাবাবু। পরের বারই বুঝবেন।

____________________________

#সোঘো, দুপুর পৌনে বারোটা বেজে দুমিনিট, ১৪ নভেম্বর, ২০১৬ সাল, তিলোত্তমা।

#ঘটিবাটী #Ghotibaatea

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s