— অাসবো মা?
— পুলি? অায় অায়…বাঃব্বা, মেয়ে অাজকাল পার্মিশন নিয়ে ঘরে ঢুকছে দেখো।
— না তুমি রেডিও শুনছিলে ডিস্টার্ব করতে চাইনি।
— না না তুই অাবার কখনো ডিস্টার্ব করতে পারিস?
— কী শুনছিলে গো?
— বুঝলি না?
— মেরা নাম জোকার। জানে কহাঁ গয়ে উও দিন।
— রাইট।
— কিন্তু…
— কিন্তু?
— কিন্তু চ্যালেঞ্জটা কী? গান কী হচ্ছে তো শুনতেই পাচ্ছি। সেটা বলাটা তো নো চ্যালেঞ্জ। অার কী জিজ্ঞেস করবে?
— বটে? কী জিজ্ঞেস করতে পারি?
— গায়ক মুকেশ…কিন্তু সেটাও…
— দুধেভাতে।
— মিউজিক ডিরেক্টর।
— বলে ফেলো।
— শঙ্কর-জয়কিশন।
— গুড গুড, ভেরি গুড। সাল?
— ১৯৭০।
— ১৯৭০? শিওর? ১৯৭১ নয়?
— ১৯৭০। শিওর। ডিসেম্বর মাস।
— এক্সিলেন্ট। অাই হ্যাভ ট্রেইন্ড ইউ ওয়েল পুলি।
— অার?
— অার কী?
— অাসল প্রশ্নটাই করলে না?
— লিরিসিস্ট?
— শৈলেন্দ্র।
— শিওর।
— শিও…না, দাঁড়াও। হসরত জয়পুরিও হতে পারে।
— ঠিক করে বলো পুলি। ভেবে বলো।
— অামার এইটা গুলিয়ে যায়। জীনা ইহাঁ মরনা ইহাঁ অার জানে কহাঁ গয়ে উও দিন। একটা জয়পুরি একটা শৈলেন্দ্র।
— হুম। কোনটা কে?
— বললাম না, গুলিয়ে যায়।
— তাও। ভেবে বলো।
— ওকে। এডুকেটেড গেস। জয়পুরি।
— এডুকেটেড?
— অাচ্ছা অাচ্ছা ভুরু তুলতে হবে না। গেস। পিওর গেস।
— হুম। কারেক্ট গেস, অ্যাজ ইট টার্ন্স অাউট।
— ইয়েস!
— সেলিব্রেট করার কিছু হয় নি। ইট ওয়াজ অা গেস, দো অা ড্যাম গুড ওয়ান!
— হেহে।
— রাগ?
— অ্যাঁ?
— কোন রাগ? জানে কহাঁ গয়ে উও দিন। কোন রাগে বাঁধা?
— এইরে। হেল্প।
— হুম, পথে এসো চাঁদু।
— এই এসব সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন চলবে না খেলবো না।
— সিলেবাস ইউনিভার্সাল সেট মাই ডিয়ার পুলি। সবই ভিতরে।
— পারবো না। ফেল।
— হুম। সকালে সাঁতার হয়েছে?
— হয়েছে। বুঝতে পারছো না?
— রিয়েলি?
— তুমি তো গন্ধ পাও।
— ধূপ, মাই ডিয়ার পুলি, ধূপ। অবস্কিওর্স অল স্মেল্স।
— ও। থুড়ি।
— নো থুড়ি। কটা রাউন্ড?
— দশটা।
— ওনলি? কুড়িটা কাটো না ইউজুয়ালি?
— ইয়েস। কিন্তু ঠান্ডা পড়ছে…
— পুলি!
— অাচ্ছা অাচ্ছা অারো দশটা করে অাসছি…
— দশটা?
— কুড়িটা করতে হবে?
— হোয়াট ডু ইউ থিঙ্ক?
— হায় রে। যাই, এই ঠান্ডায়…
— থামো। তার অাগে উত্তরটা জেনে যাও।
— ও হ্যাঁ কোন রাগ?
— রাগ শিবরঞ্জনী।
— খুব একটা নাম শোনা যায় না।
— না। অতটা সো-কল্ড পপুলার নয়। তবে, একটা খুব ফেমাস কম্পোজিশন এই রাগে হয়েছিল।
— তাই? কোনটা?
— জানে কহাঁ গয়ে উও দিন শুনে বলতে পারবে না?
— ওরে বাবা অামার অত কান নেই গো। ইংলিশ চ্যানেল পার করতে পারলে করে দিতে পারি।
— অারো তিরিশটা। ডিফিটিস্ট অ্যাটিচিউডের জন্য।
— ইয়া অাল্লাহ। অাজ অার কলেজ হলো না। সাঁতারই কাটবো অার নিউমোনিয়া বাঁধাবো।
— ডোন্ট টক রট পুলি। ঠান্ডা লাগবে? তোমার? তাহলেই…হাসছো যে।
— ডোন্ট টক রট! {খিল খিল খিল} এতো ভিন্টেজ কমল মিত্র।
— হা হা হা, ওয়েল, অাই হ্যাভ মাই ট্যালেন্টস।
— হিহি।
— অাকাশবাণীর ওপেনিং থিমটা।
— অ্যাঁ?
— অাকাশবাণীর শুরুর মিউজিকটা। শুনেছো নিশ্চয়ই।
— শুনবো না? সেই অক্টোবরের শেষের শীতের সকাল, ফিলিপ্সের কালো রেডিও, এরিয়ালটা ত্যারছা করে ব্যাঁকানো, জানলার পাশে বসানো, বাবা বেসিনে দাঁড়িয়ে শেভ করছে…
— কী হলো? চুপ করে গেলে?
— অামায় ক্ষমা করে দাও মা। অামি বাবার কথাটা তুলতে চাইনি।
— ইট্স অল রাইট মাই ডিয়ার পুলি। তোমার সাবকনশাস তুলেছে। কোয়াইট ন্যাচেরাল।
— বিশ্বাস করো…
— ইট্স…অল রাইট পুলি। ইট্স অল রাইট। মুভ পাস্ট ইট।
— অামি…
— লেট্স গেট ব্যাক টু টপিক। তোমার কথা শুনে বুঝলাম যে তুমি অাকাশবাণীর ওপেনিং মিউজিক শুনেছো।
— …হ্যাঁ। শুনেছি।
— এটাও রাগ শিবরঞ্জনী।
— জানতাম না।
— এবার জানলে। এবার বলো, এর কম্পোজার কে?
— রবিশঙ্কর…না, উনি তো দূরদর্শনের থীমটা লিখেছিলেন। না, দাঁড়াও, অাকাশবাণী…
— তার অাগে। দূরদর্শনটা কবে?
— ১৯৭৩।
— কে বাজিয়েছিলেন প্রথম?
— উস্তাদ অালি অাহমেদ হুসেন খাঁ। শানাই।
— ভেরি গুড! কুড়িটা ল্যাপ।
— এক্সট্রা?!
— না, তিরিশ থেকে কমে কুড়ি।
— যাক বাবা।
— কিন্তু রেডিও?
— রেডিওটা জানি না। অল ইন্ডিয়া রেডিও তো ১৯৩৫ নাগাদ…
— ১৯৩৬।
— …১৯৩৬ নাগাদ হয়েছিল। কিন্তু কে? জানি না গো। অাবার তিরিশ?
— হাহা, না, ঠিক অাছে, এটা জানা মুশকিল। ওয়াল্টার কাউফম্যান।
— সেকি!
— ইয়েস।
— জার্মান?
— চেক।
— ভারতে এসেছিলেন?
— এসেছিলেন। ভারতীয় সঙ্গীত শিখেছিলেন…মাস্টার করেছিলেন। অার এঅাইঅার টিউন কম্পোজ করেছিলেন। ইন রাগ শিভারাঞ্জনী।
— বোঝো।
— অার এটা ভায়ালিনে প্রথম বাজিয়েছিলেন মেহলি মেহতা।
— মেহতা? ভায়ালিন? তার মানে…
— জুবিন মেহতার বাবা!
— অারিব্বাস।
— ইন্ডীড। অনেক কিছু শিখলে। নাও, যাও, সাঁতার কেটে এসো, এসে চেঞ্জ করো…
— করতেই হবে?
— রিয়েলি? সিরিয়াসলি? অাফটার অল দিস হোয়াইনিং?
— অাচ্ছা অাচ্ছা যাচ্ছি।
— করে ব্রেকফাস্ট করে এসো। ওয়াল্টার কাউফম্যানকে নিয়ে অারো গল্প বলবো। ভেরি ইন্টারেস্টিং লোক।
— হামি অভি যাতা অাউর অভি অাতা।
— কুড়ি ল্যাপ। ফুল।
— ইয়েস ডঃ বৈদ্য। রজার উইলকো!

______________

#সোঘো, সন্ধ্যে সাতটা এগারো, ষোলই নভেম্বর, ২০১৬ সাল, তিলোত্তমা।

#পুলিওমা #ঘটিবাটী

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s