— ও মা।
— কী?
— মাঅাঅাঅা।
— বুঝেছি তো। হয়েছেটা কী?
— তোমার কোলটা কী নরম গো মা।
— তাই বুঝি?
— উঁ।
— তো বলি অার কতক্ষণ কোলে মাথা দিয়ে থাকবি শুনি? রেওয়াজ করবো না?
— উঁউঁউঁ।
— শোনো অাহ্লাদি মেয়ে কান্ড। এত বড় হয়ে গেলি অার মা’র কোল পেলে…
— উঁউঁউঁঠবোঁ নাঁঅাঁঅাঁ।
— ঠিক অাছে, তা না উঠলি। রেওয়াজটা তো করি।
— না। তুমি অাজ গপ্পো বব্বে।
— ইশশ, অাদর পেয়ে মেয়ের অাধোঅাধো কথাও ফিরে এসেছে দেখো।
— উঁউঁউঁ।
— এই যে, মিস পুলি, সাঁতার ক্লাস করেছো?
— হুঁউউ।
— সবাই এসছিলো? নাকি ঠান্ডার ভয়ে কেউ কেউ পিঠটান দিয়েছে?
— উফ, মা, দুনিয়াশুদ্ধু লোকে বলে পিট্টান অার তুমিই শুধু…
— এই তো, চোখ ফুটেছে।
— সঅঅঅবাই এসেছিল, বুঝলে? পুলিদিদির ক্লাস, না এসে পারে?
— বুঝেছি। পাড়ার দিদি বলে কথা।
— হেহে।
— সত্যি, কেমন যেন হুট করে সময়টা কেটে গেল। এই তো সেদিন তুই পুকুর দেখলেই “দল দল” করে লাফিয়ে পড়তি। অাটকায় কার সাধ্য। এসব ফিজিকাল অ্যাক্টিভিটিতে তো তোর দিদিটা ইউজলেস। অামাকেই লাফিয়ে পড়ে তোকে রেসকিউ করতে হতো।
— এই, দূর, অামার কোনওদিনও রেসকিউর দরকারই হয় নি।
— না, তা হয়নি। অ্যান্ড দ্যাট ইজ এক্সট্রা-অর্ডিনারি। তোর মধ্যে যেন একটা ইনবর্ন ব্যাপার ছিল, জলের প্রতি একটা সহজাত ক্ষমতা।
— জল অামার ভীষওওওওওওণ প্রিয়।
— হুম। সেটাই অদ্ভুত। মানে তোর দিদির একেবারেই নেই। নাথিং। অ্যাবসোলিউটলি জিরো। জল দেখলেই পালায়।
— হিহি। ওকে প্রথমবার যখন জলে ঠেলে ফেলে দিয়েছিলাম…
— হা হা হা, কী অবস্থা নীলির। হাবুডুবু হাবুডুবু। অামি তো ওকে বহু চেষ্টাতেও সাঁতার শেখাতে পারিনি। শেষে তুইই বাঁচিয়েছিলি ওকে। কত বয়স ছিল তোর?
— অামার? সাত। অার দিদির উনিশ। পেটভর্তি জল খেয়েটেয়ে টৈটম্বুর অবস্থা।
— হুম। ছোটবেলায়, তোর বয়স চার কি পাঁচ, তুই পুকুরে রাউন্ড দিচ্ছিস ওই বয়সে, অার নীলিকে ওয়াচ রাখতে বলা হয়েছে।
— হিহি, দিদি দিব্যি পুকুরপারে বসে টিনটিন গিলছিল। রেড র্যাখাম্স ট্রেজার।
— বাব্বা, তোর মনে অাছে?
— থাকবে না? অামি তিনটে রাউন্ড দিয়ে প্রায় শেষ, তাও অারো দেবো বলে জেদ, অার দিদি ক্লুলেস। এমন সময়ে তুমি এলে। এসে এক বকুনিতে অামায় নিরস্ত করে দিদিকে অারেক বকুনি দিয়ে অামাকে জল থেকে টেনে তুলে দিদিকে হাত ধরে সোজা বাড়িমুখো হলে।
— বই পেলে নীলির অার হুঁশ থাকে না, জানিস।
— বাবা, তা অার জানি না?
— ছোটবেলায়, তুই হোস নি, নীলিরই বয়স পাঁচ কি ছয় হবে, অামরা ওই পুকুরপারে বসে। দুজনে পাশাপাশি। বিকেলবেলা, সূর্য ডুবুডুবু করছে, অাকাশে সিঁদুরের ছোপ লেগেছে, পশ্চিমের অাকাশে তুলি দিয়ে অাঁকা মেঘ। যেন পেন্টিং।
— অাহা। এপ্রিল মাস?
— কারেক্ট। কীকরে বুঝলি?
— এর পর কালবৈশাখি এসেছিলো?
— রাইট। নীলি গল্পটা করেছে?
— ঠিক এটা নয়। তবে এরকম গল্প করেছে। কালবৈশাখির অাগের অাকাশগুলো ওর খুব প্রিয়।
— প্রিয় শুধু নয়। রীতিমতো অ্যানালিসিসের বিষয়। রংগুলো নিয়ে ওর সবচেয়ে ফ্যাসিনেশন। অাকাশের পরতে পরতে সোনালী লাল গাঢ় লাল। তারপর মেঘের রং। গ্রে, ডার্ক গ্রে, স্লেট গ্রে, কালো, তারপর বেগুনি। এগুলো দেখে ও হাঁ করে তাকিয়ে থাকতো।
— এখনো থাকে।
— হেঃ। দ্যাট ইজ রাইট। তবে কী জানিস, শুধু দেখে ও ক্ষান্ত হতো না। প্রশ্নও করতো।
— প্রচুর প্রশ্ন। সারাক্ষণ? কানের পোকা নড়িয়ে দেওয়ার মতো?
— সার্প্রাইজিংলি, নো। বাচ্ছাদের একটা রেপুটেশন অাছে, কিউরিয়াস হলেই নাকি হাজার একটা প্রশ্ন করে তিতিবিরক্ত করবে। নীলি ওয়াজন্ট লাইক দ্যাট। শী উড অাস্ক কোয়েশ্চেন্স, বাট দে উড বী থট অাউট কোয়েশ্চেন্স। ভেবেচিন্তে প্রশ্ন করতো।
— কীরকম কীরকম?
— ধর, বেসিক প্রশ্ন। হোয়াই ইজ দ্য স্কাই ব্লু? অাকাশ কেন নীল?
— এটা থট অাউট?
— এমনিতে কেউ করলে নয় হয়তো। কিন্তু ও প্রশ্নটা করেছে অাকাশের বিভিন্ন রংগুলো দেখে তারপর। এর মধ্যে একটা রিলেশন বার করার চেষ্টা করেছে।
— কী উত্তর দিলে?
— কীসে? অাকাশ কেন নীল?
— হ্যাঁ।
— প্রশ্নটা ও করেছিল অারো ছোট বয়সে। তখন তিন কি চার। অামরা রবিবার বিকেলে বসে অাছি পুকুরপারে। অাকাশে লালের ছোপ লেগেছে। তুই যেমন বললো, মাসটা এপ্রিল। বেশ গরম পড়েছে। চান্সেস অফ নরোয়েস্টার।
— তারপর?
— ওয়েল, শী অাস্কড দ্য কোয়েশ্চেন। অামি এটা জন্য দু-বছর ওয়েট করছিলাম। ছোটবেলা থেকে ওর মেন্টাল ক্যাপাসিটির খোঁজ পাওয়ার পর থেকেই। যখন করলো, অাই ওয়াজ শিওর হোয়াট টু সে।
— বোঝালে?
— নীলি বুঝতো। অামি যদি বলতাম যে দিনের অালো অাসে সূর্যটা থেকেই, ওটা একটা লাইট সোর্স, খুব ব্রাইট।
— যদি বলতে? বলো নি?
— শোন না পুরোটা।
— অাচ্ছা অাচ্ছা বলো বলো।
— অার ধর যদি বলতাম যে, দুর্গাপুজোর পর একাদশীতে যে পাড়ায় নাটক হয়, তাতে যে রঙবেরঙের অালো হয়, সূর্যের অালোতেও সেই অালো অাছে। মানে দেখতে শাদা হলেও সব রং মিলেমিশেই শাদা।
— তারপর?
— এবার, অামাদের চারপাশে কী অাছে?
— অামাদের চারপাশে? মানে এখন, এক্ষণি, এখানে?
— হুঁ। এনিটাইম। অল দি টাইম। পৃথিবীর সব জায়গায়। কোন জিনিসটা অলওয়েজ অাছে?
— জীবন?
— পৃথিবীর সব জায়গায়?
— হুম। না।
— তাও, খানিকটা রাইট ট্র্যাকে। জীবন থাকতে গেলে–মানে ওই সমুদ্রের ফ্লোরের ব্যাক্টেরিয়া ছাড়া–কী প্রয়োজন?
— জল? না, সমুদ্রে তো জল অা…হাওয়া! বাতাস। অক্সিজেন!
— এয়ার। ইয়েস। সর্বত্র এয়ার অাছে। এটাই অামাদের অ্যাটমস্ফেয়ার।
— বায়ুমন্ডল।
— ইয়েস। অার এয়ার মানে কী? বিভিন্ন গ্যাস, তাই তো?
— অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডায়াক্সাইড…
— মেইনলি প্রথম দুটো। বাকিগুলো খুব কম অ্যামাউন্টে অাছে। এবার সানলাইটকে তো এই গ্যাসগুলোর মধ্যে দিয়ে অাসতে হবে, তাই না?
— হবে।
— অার এই গ্যাস মলিকিউলগুলোর মধ্যে দিয়ে অাসতে গেলে অালোটা স্ক্যাটার্ড হয়ে যাবে। যত বেশি অালোর এনার্জি, বা ফ্রিকোয়েন্সি, তত বেশি রেলে স্ক্যাটার্ড হবে।
— হবে।
— এটা তুই জানিস?
— হুঁউউ।
— রেলে স্ক্যাটারিং জানিস?
— হুঁউউউ। দিদি বুঝিয়েছিল।
— তাই বল।
— হিহি।
— থাক, অার দাঁত বের করে হাসতে হবে না।
— হিহি।
— সবই তো জেনে বসে অাছে মেয়ে।
— না না মা তুমি বলোওওও অামি কিস্যু জানি না অামি মুখ্যু গ্রামের মেয়ে সাঁতরে খাই।
— হা হা হা হা…পারিসও বটে।
— হিহি, অাই ট্রাই। কিন্তু তুমি বাকিটা বলো। এগুলো দিদিকে বললে অার বুঝে গেল?
— বাকিটা শুনবি নাকি এন্ডিঙে চলে যাবো?
— না না, তুমি বলো হম সুনতা।
— স্ক্যাটারিং। ব্লু লাইটের এনার্জি বেশি, তাই সূর্য মাথার উপরে থাকলে বাকি অাকাশটা নীল দেখায়। মানে সূর্যর অালোটা, যেটা হয়তো অ্যাটমস্ফেয়ার না থাকলে স্রেফ এদিক ওদিক চলে যেত, বায়ুমন্ডলে ঘোঁত্তা খেয়ে প্রথমে সাতরঙে ভাঙে, তারপর চারদিক থেকে অামাদের চোখে অাসে। অ্যাটমস্ফেয়ারটা যেন একটা জায়ান্ট লেন্স গোছের, বা লাইট-রিডাইরেক্টার বলা যায়। সকালদুপুরে ব্লু-লাইট রিডাইরেক্ট করে, ভোর-বিকেলে লাল-কমলা।
— না হলে অামাদেরও অাকাশ চাঁদের মতো কালো হতো।
— এগজ্যাক্টলি। অ্যাটমস্ফেয়ার অাছে বলেই নীল বা লাল-কমলা।
— কিন্তু…
— কিন্তু কী? কী বুঝিসনি?
— না না, সব বুঝেছি। দিদি বুঝিয়েছিল। ডঃ বৈদ্যরা কোন বিজ্ঞানের জিনিস বোঝালে লোকে বুঝবে না এমন অসম্ভব।
— ওকে। থ্যাঙ্ক ইউ।
— দিদি এত কিছু ওইটুকু বয়সে বুঝে গিছলো?
— নীলি? নীলি ইজ বেসিকালি অা জিনিয়াস, কিন্তু না, এতকিছু একবার শুনলে হুট করে ওর পক্ষেও বোঝা সম্ভব হতো না। হয়তো।
— তাহলে?
— অামাকে জিজ্ঞেস করলো, জানিস? অাকাশ কেন নীল। অার বললাম না, অাই ওয়াজ শিওর হোয়াট টু সে।
— কিন্তু শেষমেশ বললে না?
— না। বললাম না।
— কেন? কী বললে?
— বললাম, না রে নীলি, অাকাশ কেন নীল জানি না।
— তাতে দুঃখ পেলো না? মা হিরো, মা জানে না?
— একটু পেল। মানে পাচ্ছিল, পেতে যাচ্ছিল।
— কী বললে?
— বললাম, জানি না রে নীলি। নির্ঘাত কোন রহস্য। মিস্ট্রী। কোনও সিক্রেট।
— বললে?
— অার বললুম, নীলি, সিক্রেটটা অামি জানি না। কিন্তু তুই যদি খুঁজে বের করতে পারিস, অামায় জানাবি তো?
— তাই বললে?
— বললুম।
— কী করলো দিদি?
— চুপ করে অামার দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থাকলো। তারপর অাস্তে করে, কিন্তু রেজোলিউটলি, দৃঢ়ভাবে, একবার ঘাড়টা ডানদিকে নাড়ালো।
— অাঃ। তারপর?
— তারপর দেখি, বই ঘাঁটছে। এমনিতেও ঘাঁটতো, সায়েন্সের বই পেলে তো কথাই নেই। এবার অারো বেড়ে গেল।
— তারপর?
— তারপর অার কী? অামার মিশন শেষ। শুধু ডেলি কলেজ স্ট্রীট থেকে গন্ডাগন্ডা বিজ্ঞানের বই কিনে অানতুম। প্রথমে ওর বয়সের, তারপর অারো বড়দের, তারপর অারো বড়দের। পাড়ার লাইব্রেরিতে মেম্বার হলো, তারপর ন্যাশানাল লাইব্রেরিতে। সময় পেলেই নিয়ে যেতুম। অার পরীক্ষা-নীরিক্ষা। কত যে কেমিস্ট্রী সেট, কত যে হাতে বানানো এক্সপেরিমেন্ট। ইয়ত্তা নেই। সবসময় নতুন কিছু জানা চাই, নতুন কিছু শেখা চাই।
— অার অাকাশ কেন নীল? সেটা বোঝালো কবে?
— খেপে খেপে। পুরো ইকোয়েশান-টিকোয়েশান দিয়ে বুঝিয়েছিল চোদ্দ বছর বয়সে। ঠিক দশ বছর বাদে। কমপ্লীট সায়েন্টিফিক অান্সার।
— তোমার জবাব নেই মা।
— অামার নয় রে, সব ক্রেডিট তোর দিদির। ওইরকম ব্রেনটা…
— মা। দিদির ব্রেনটা ইউনিক সন্দেহ নেই। কিন্তু ওরকমভাবে বললে বাচ্ছারা উদ্বুদ্ধ হবেই। এটা তোমার ক্রেডিট। অন্য কেউ হলে হয়তো একটা গোঁজামিল দিয়ে উত্তর দিতো। ঠিকই উত্তর দিতো, কিন্তু সেটা একটা উত্তর হতো, বাচ্ছাটা শিখতো, ঘাড় নাড়তো, পরীক্ষার খাতায় মার্কস পেতো। কিন্তু তুমি…বলে না, অা গুড টীচার টীচেস, অা গ্রেট টীচার ইন্সপায়ার্স। ইউ, মা, ইউ ইন্সপায়ার।
— অামি অাবার টীচার হলাম কবে থেকে রে পুলি?
— তুমি অামাদের টীচার মা। দুটো মেয়েকে তুমি বড় করে তুলেছো, শিখিয়েছো, পড়িয়েছো, মানুষ করেছো। অার এখন তারা তোমার উদাহরণ দেখে নিজেরাই মানুষের সেবায় নেমেছে। একজন পাড়া লেভেলে, অারেকজন পৃথিবী লেভেলে। বা একটু বেশিও। এতো তোমার ইন্সপিরেশন ছাড়া হতো না। ইউ অার অা গ্রেট টীচার।
— পুলি?
— হ্যাঁ মা?
— তুই যে সাঁতার শেখাস, পাড়ার বাচ্ছাগুলোকে।
— হ্যাঁ মা?
— যখন শেখাস…নিজে ল্যাপ দিস?
— খকখক…
— কাশি পেলো?
— না, মানে, গলায়…
— অাজ দিস নি, তাই তো?
— অাহেম…অাজ, মানে, হাঁটুজলে…
— ওইজন্যেই খাটে পা না তুলে মাটিতে বসে কোলে মাথা দিয়েছিস। অা গ্রেট টীচার লীডস বাই এগজাম্পেল। রাইট, মিস বৈদ্য?
— রাইট, ডঃ বৈদ্য।
— সো, মিস বৈদ্য?
— ইয়েস, ডঃ বৈদ্য?
— হোয়াট অার ইউ স্টিল ডুয়িং হিয়ার, মিস বৈদ্য?
— ইয়েস, ডঃ বৈদ্য।
— টেন ল্যাপ্স, মিস বৈদ্য।
— ইয়েস, ডঃ বৈদ্য।
— অন দি ডাবল, মিস বৈদ্য।
— ইয়েস, ডঃ বৈদ্য।
— নাউ! মিস বৈদ্য।
— রজার উইলকো, ডঃ বৈদ্য!

_________________________

এই লেখার মূল অনুপ্রেরণা লুনারবেবুনের একটি ওয়েবকমিক থেকে। লোকটা ব্যাপক কিছু কমিক্স অাঁকে/লেখে। এই বিশেষ কমিকের লিঙ্কটা এইখানে, অার ওনার ওয়েবসাইট এখানে

_________________________

#সোঘো, বিকেল পাঁচটা ষোলো, বাইরে পুরো অন্ধকার, ২২ নভেম্বর, ২০১৬ সাল, তিলোত্তমা।

#পুলিওমা #ঘটিবাটী

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s