বইমেলা ১

-- বাইরের ড্রেনটায় বড় গন্ধ। -- অ্যাঁ! গন্ধ? ড্রেন? চাপা দে চাপা অামার নর্দোবিয়া অাছে। -- কী অাছে? -- নর্দোবিয়া। মানে ড্রেনে ভয়। -- কেন? -- খালি মনে হয়, পড়ে যাব। -- ভয় নেই, পড়বেন না। -- বললেই হল? যদি পড়ে যাই? কে তুলবে? তুই? -- তোলার তো প্র্যাক্টিস অাছে। মনে নেই, ছোটবেলায়— -- রাখ তোর ছোটবেলা। ড্রেন কোথায়? এক্ষুণি চাপা দে। ইমিডিয়েট। ইসী ওয়াক্ত। -- —সেই যে বাচ্চাটা ড্রেনে পড়ে গেল, অার তাকে অাপনি—নাকি অামি—টেনে তুললাম। -- তুই ড্রেন চাপা দিবি কিনা বল। নইলে রেগে জনার্দন হব বলে দিলুম। -- ড্রেন চাপা দিতে পারব না। -- তবে রে! চাপা দে, এক্ষুণি চাপা দে বলছি, নইলে—নইলে— -- রেগে জনার্দন হবেন বুঝি? -- ফেটে মগনলাল হব। ওয়ার্নিং দিচ্ছি। অামার ড্রেনথেরিয়া হয়। -- তবে যে বললেন নর্দোবিয়া অাছে। -- ওই একই হল। নর্দোবিয়া থাকলেই ড্রেনথেরিয়া হয়, অার ড্রেনথেরিয়া না হওয়া অবধি নর্দোবিয়া হবেই। -- সাফ সাফ বলে দিলুম, ওসব ড্রেন চাপা দেওয়া অামার কম্ম নয়। -- দিবি না? -- না। -- দিবি না? -- না। -- অামি—অামি—

Advertisements

ক্রীম অফ বোরফেসনেস

ভাল অাছেন? ভাল থাকলেই ভাল। অামিও ভালই অাছি, বুঝলেন। ভাল না থেকে উপায় অাছে? অাসলে ভাল থাকা, অার ভাল না থাকার মধ্যে যে একটা সূক্ষ্ণ থিন রেড লাইন অাদপে নেই, বা কোনদিনই ছিল না, সে কথা জনার্দনপুরের রহিম শেখকে অার কে বোঝাবে?

ফ্লাইট ৭৬০

"—অাসছে!" চমকে উঠলাম। ঘুমটাও ভেঙে গেলো। স্বপ্নটাও কোথায় যেন হারিয়ে গেল। স্বপ্ন? সামনে এয়ারহোস্ট দাঁড়িয়ে। হাসিহাসি মুখ। নাম ধরে ডাকছে। "ডক্টর বৈদ্য। উঠুন। কলকাতা অাসছে।" ঘুমিয়ে পড়েছিলুম। কিন্তু সে অার অাশ্চর্য কী? দিল্লীর ফ্লাইটটা যা লেট করলো।

পুলিদি, পুলুদা, ও সিনেমার টিকিট

-- হারাল্ড বোড কে ছিলেন জানো? হয়েছেটা কী, গতকাল...না, গতপরশু, অর্থাৎ পয়লা তারিখ পুলুদা টিকিট কেটে অামাকে সিনেমা দেখাতে নিয়ে গিছলো। পুলুদা! টিকিট কেটে? মানে গাঁটের পয়সা খরচা করে টিকিট কেটে সিনেমা...! বেসিকালি মা'র এইরকম একটা রিয়্যাকশন হয়েছিল। "অসম্ভব!" মা ডিক্লেয়ার করেছিল, ক্যাপ্টেন যেভাবে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে একদমই সেরকমভাবে নয়। "সম্ভব," হাই তুলতে তুলতে অামি বলেছিলুম, "কেসটা বুঝতে হবে। মানে নাটকের এভ্রি চরিত্রকে অাগে ছকতে হবে, নয়তো বুঝবে না।" "কী অাবোলতাবোল বকছিস?" বিছানার চাদর ঝাড়তে ঝাড়তে মা বলেছিল। "ঘুম পেয়েছে তোর, বিছানা প্রায় রেডি, ঘুমিয়ে পড়।" "অাহা," হাত-পা নেড়ে অামি বলি, "অাগে শোনোই না। পুলুদার পুলিদির প্রতি মাইল্ড ব্যাথা অাছে।" খ্যাংড়া ঝ্যাঁটা দিয়ে খাট ঝাড়ছিল মা। কথাটা শোনার সময় অান্দ্রে অাগাসিসুলভ একটা ব্যাকহ্যান্ড নিতে যাচ্ছিল, ফুল ব্যাপারটা মাথায় রেজিস্টার হতে হতে সুইংটা প্রায় শেষ হয়েছিল, কাইনেটিক এনার্জি ভর করে ট্যানজেনশিয়ালি ঝাঁটাটা সাঁই শব্দে গিয়ে মামার শখের ডোকরার ফুলদানিটাকে সোজা অ্যাম্বুলেন্সে পাঠাতে পাঠাতে একটুর জন্য মিস করলো।