“—অাসছে!”

চমকে উঠলাম। ঘুমটাও ভেঙে গেলো।

স্বপ্নটাও কোথায় যেন হারিয়ে গেল।

স্বপ্ন?

সামনে এয়ারহোস্ট দাঁড়িয়ে। হাসিহাসি মুখ।

নাম ধরে ডাকছে।

“ডক্টর বৈদ্য। উঠুন। কলকাতা অাসছে।”

ঘুমিয়ে পড়েছিলুম।

কিন্তু সে অার অাশ্চর্য কী?

দিল্লীর ফ্লাইটটা যা লেট করলো।

লুফথান্সার ফ্লাইট। সরাসরি ফ্র্যাঙ্কফুর্ট থেকে। টাইমেই অাসছিল। গোল বাধালো দিল্লীর কুয়াশা।

“প্লেনটা কত ডিলে হবে?”

জার্মানে প্রশ্ন করলাম।

“অার বেশিক্ষণ না। এয়ারপোর্টের অাশেপাশে খুব কুয়াশা। তবে পাইলট বলছে বেশি দেরী হবে না।”

স্টিউয়ার্ড। বা এয়ারহোস্ট। নাম ফ্রিৎস। ফ্রিৎস ট্রাউম। জার্মান। বাচ্ছা ছেলে। খুব ভাল সার্ভিস দিয়েছে। তার মানে পুরো ফ্লাইটে একবারও বিরক্ত করেনি। নির্ঘাত টিএসের লোক।

ফ্রিৎস ট্রাউম। নামটা অাজকাল খুব একটা চোখে পড়ে না। অাগে পড়তো। ট্রাউম মানে ড্রীম।

কুয়াশা অার কমে না। প্লেনটা দিল্লীর চারপাশে ঘুরে চলেছে তো চলেইছে। সার্কেল কাটছে, সার্কিট দিচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই করতে পারছে না।

এরকম হলে শিডিউলের সাড়ে দেড়টা বাজবে।

তার মানে টিএসের ব্রীফিংটাও লেট হবে।

টিএস যে তাতে খুব একটা খুশি হবে তা বোধহয় নয়।

অবশ্য এর জন্য দায়ী খানিকটা অামিই।

কথা ছিল হাইডেলবার্গের কাজ শেষ করে সোজা ব্যাক করা। মাঝে যে বার্লিনে দুটো দিন কাটিয়ে যাবো সেটা টিএস অাগে থেকে জানতো না। জানলে বার্লিনের অাশা ত্যাগ করতে হতো।

কথায় বলে না? পার্মিশন চাওয়ার চেয়ে ক্ষমা চাওয়া অনেক সহজ।

কিন্তু এক্ষেত্রে ক্ষমার সঙ্গে বেশ ভালোরকম একটা—

ফোনটা বেজে উঠলো।

এই হাইটে নেটওয়ার্ক নেই, ন্যাচেরালি। যেটা অাছে সেটা হল লুফথান্সার ফ্লাইনেট ওয়াই-ফাই, স্যাটেলাইট অাপলিঙ্ক। ৮ এমবিপিএস লাইন। ভিডিও কলিং সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে ভিডিও অবান্তর।

“মা?”

“নীলি? ল্যান্ড করেছিস?”

“না গো। দিল্লীতে কুয়াশা। চক্কর কাটছে।”

“হুম। কতক্ষণ লাগবে?”

“পাইলট শিওর নয়।”

“শিওর নয়? সেকি?”

“কী অাবার। চক্কর কাটছে। অাধঘন্টার মধ্যেই তো নামবে বলে মনে হচ্ছে। অাশা করি।”

“পুলি এয়ারপোর্ট যাচ্ছে, তোকে রিসীভ করতে।”

“ওকে।”

“তোকে মেসেজ করেছে। প্লেন ল্যান্ড করে দেখে নিস।”

“এসএমএস?”

“হ্যাঁ। তোর বোনের তো অাবার টেকনলজিতে অ্যালার্জি।”

“ফ্যামিলি বিজনেস চালাতে হলে অ্যালার্জি পুট করে পালিয়ে যাবে।”

“পুলিকে দিয়ে ফ্যামিলি বিজনেস করাবি? তোর মাথাটা গেছে।”

“হ্যাঁ। টিএসের হার্ট অ্যাটাক হবে।”

“সে অার নতুন কী?”

“ইন্ড্যাল্ফের সঙ্গে কথা হল?”

“মা!”

“নীলি! কাম অন। লাইন ইজ সিকিওর।”

“কথা হলো।”

“কোনও সুরাহা হলো?”

“একটা সলিউশন পেয়েছি। তবে সেটাকে ইমপ্লিমেন্ট করাটা…”

“ঠিক অাছে। টিএসকে ব্রীফ করবি তো?”

“যদি কোনওদিনও ল্যান্ড করতে পারি।”

“ঠিক অাছে। টিএস ফোন করেছিল।”

“বাড়িতে?”

“অামার লাইনে।”

“ও।”

“কথা বলতে চায়। তিনজনে মিলে।”

“ব্রীফিঙের সময়ে—”

“না। হাইডেলবার্গের সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নেই। অন্য একটা ইস্যু। স্পষ্ট করে কিছু বললো না অবশ্য।”

“রজার উইলকো ডক্টর বৈদ্য। ল্যান্ড করে জানাচ্ছি।”

“ওভার অ্যান্ড অাউট ডক্টর বৈদ্য।”

টিএস চিন্তিত। তার মানে সিরিয়াস কিছু। প্লেনটা—

“দিস ইজ ইয়োর ক্যাপ্টেন স্পীকিং। নজিরবিহীন মাত্রায় কুয়াশার কারণে অামাদের পক্ষে দিল্লীতে নামা সম্ভব হবে না। ফ্লাইট এখন অামরা মুম্বইয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। সেখানে ল্যান্ড করে রিফিউয়েল করবো। কুয়াশা কমা মাত্র অামরা দিল্লী ফিরে অাসবো। অসুবিধার জন্য দুঃখিত।”

নাঃ। এতো দেরী করলে তো চলবে না।

শাদা পেনটা ব্যাগেই ছিল। বহুদিন ব্যবহার হয়নি। হাইডেলবার্গে প্রয়োজন পড়েনি।

নীচু হয়ে ঝুঁকে পেনটা বের করলাম। বের করে তাকে চালু করলাম। ককপিটের দিকে তাক করার প্রয়োজনও নেই।

“দিস ইজ ইয়োর ক্যাপ্টেন স্পীকিং। মুম্বই এয়ারপোর্ট ব্যস্ত, তাই অামরা রিরুট করছি। গন্তব্য কলকাতা।”

শাদা পেন ব্যাগে চালান হলো। অার অাড়াই ঘন্টা।

হাইডেলবার্গে থাকতে থাকতেই মনে হয়েছিল, কোথাও না কোথাও কিছু একটা গড়বড় হচ্ছে। কিছু একটা অ্যাড অাপ করছে না। ইন্ড্যাল্ফের ইস্যুটাকে নিয়ে নয়। অন্য কিছু একটা। একটা পুরনো—

ঘুম পাচ্ছে। ফ্র্যাঙ্কফুর্ট থেকে দুপুর দেড়টায় ফ্লাইট ছেড়েছে। এখন দুটো তেরো। কাল রাতে ঘুম হয়নি একফোঁটা। কলকাতায় ফিরেই টিএসের সঙ্গে বসতে হবে। রাত বলে কোন প্রবলেম নেই। সারাদিনে টিএসের ঘুম বরাদ্দ দু’ঘন্টা।

এই রে। পুলিকে বলা হলো না। ও তো সকালে এয়ারপোর্ট অাসবে বলে প্ল্যান করেছে। মা’কে বললে—

কী ব্যাপার? এত ঘুম হঠাৎ কোত্থেকে অাসে? এত ঘুম তো পাওয়ার কথা নয়।

মা’কে জানাতে হবে। সামথিং ইজ ভেরি রং। পুলি—


#সোঘো, ০৫/০১/১৭, ২৩:০০, ২২.৫০°উ, ৮৮.৩৫°পু

(#ffff00)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s