— বাইরের ড্রেনটায় বড় গন্ধ।
— অ্যাঁ! গন্ধ? ড্রেন? চাপা দে চাপা অামার নর্দোবিয়া অাছে।
— কী অাছে?
— নর্দোবিয়া। মানে ড্রেনে ভয়।
— কেন?
— খালি মনে হয়, পড়ে যাব।
— ভয় নেই, পড়বেন না।
— বললেই হল? যদি পড়ে যাই? কে তুলবে? তুই?
— তোলার তো প্র্যাক্টিস অাছে। মনে নেই, ছোটবেলায়—
— রাখ তোর ছোটবেলা। ড্রেন কোথায়? এক্ষুণি চাপা দে। ইমিডিয়েট। ইসী ওয়াক্ত।
— —সেই যে বাচ্চাটা ড্রেনে পড়ে গেল, অার তাকে অাপনি—নাকি অামি—টেনে তুললাম।
— তুই ড্রেন চাপা দিবি কিনা বল। নইলে রেগে জনার্দন হব বলে দিলুম।
— ড্রেন চাপা দিতে পারব না।
— তবে রে! চাপা দে, এক্ষুণি চাপা দে বলছি, নইলে—নইলে—
— রেগে জনার্দন হবেন বুঝি?
— ফেটে মগনলাল হব। ওয়ার্নিং দিচ্ছি। অামার ড্রেনথেরিয়া হয়।
— তবে যে বললেন নর্দোবিয়া অাছে।
— ওই একই হল। নর্দোবিয়া থাকলেই ড্রেনথেরিয়া হয়, অার ড্রেনথেরিয়া না হওয়া অবধি নর্দোবিয়া হবেই।
— সাফ সাফ বলে দিলুম, ওসব ড্রেন চাপা দেওয়া অামার কম্ম নয়।
— দিবি না?
— না।
— দিবি না?
— না।
— অামি—অামি—
— অাপনি বরং শান্ত হয়ে বসুন। নর্দমাটা এখানে নয়।
— এখানে নয়?
— নয়।
— তাহলে খামোখা ভয় দেখাচ্ছিলি কেন রে ব্যাটাচ্ছেলে? ইয়ার্কী, অ্যাঁ? নর্দোবিয়া অাছে বলে—
— অাপনি তো কাল বইমেলায় যাবেন, তাই না?
— কাল? বইমেলা? হ্যাঁ, মানে, যাব বৈকি? কেন, তাতে তোর অসুবিধা অাছে?
— না, না, অসুবিধা থাকবে কেন?
— বইমেলায় যাব অামি, তাতে তোর মাথাব্যথা কেন?
— কই, মাথাব্যথা নেই তো।
— তাহলে পেটব্যথা কেন?
— পেটব্যথাও নেই।
— তাহলে ব্যথা কেন?
— কোনও ব্যথাই নেই। স্রেফ ওয়ার্ন করে দিচ্ছিলুম।
— ওয়ার্ন? অামায়? ব্যাটা সাহস তো কম নয়। অামায় ওয়ার্ন করছে।
— নর্দমা।
— অ্যাঁ?
— মশার কামড় খেতে ভাল লাগে?
— মশা?
— কামড়।
— ওরে বাবা রে।
— ওডোমস?
— র্যাশ বেরোয়।
— মশারি?
— দম অাটকে অাসে।
— অল অাউট?
— গন্ধে অ্যালার্জি।
— তাহলে তো মুশকিল।
— ওরে নিতাই, এর’ম করিস না রে নিতাই রে, প্লীজ রে, অামায় বাঁচা রে।
— বাঁচাতে পারি, একটা শর্তে।
— কী শর্তে? যা বলবি। এনিথিং।
— কাল বইমেলায় যাচ্ছেন তো?
— যাচ্ছি।
— এই বইটা চাই।
— এরকম চিরকুটে লিখে দিলে হারিয়ে ফেলব রে নিতাই।
— হারালে মশা।
— না না হারাব না হারাব না এই ওয়ালেটে রেখে দিলুম।
— গুড। কিন্তু অাগে দেখে নিন, কী বই।
— হোমো ডিউস—
— দেউস।
— ডিউস লেখা অাছে যে?
— ওটা ল্যাটিন। অাপনার ট্যান হবে। পাতি দেউস বলুন।
— কিন্তু হোমো—এইসব গে-ফেদের চক্করে পড়েছিস নাকি রে নিতাই?
— গে? হোমো মানেই গে? ডীল ইজ অফ।
— এই না না, এরকম করিস না রে, পায়ে পড়ি, ভুল হয়ে গেছে…
— অামরা কোন স্পীশীস?
— অামরা? মানে মানুষ?
— মানুষ? কোন প্রজাতি?
— ইয়ে, মানে, ইস্কুলে পড়েছিলুম—
— হোমো সেপিয়েন্স। মনে পড়ে?
— ও হ্যাঁ হ্যাঁ, সেপিয়েন্স সেপিয়েন্স।
— মানুষ নিয়ে কথা। বইটা লিখেছেন য়্যুভাল নোয়াহ্ হারারি।
— হারারি? জিম্বাবোয়ের লোক বুঝি?
— ডীল হল, কাল বইমেলা থেকে এ বই চাই। নাহলে নো ডীল।
— দেব রে, কথা দিলাম, দেব। কোন স্টল একটু বলে দে।
— সেটা ডীলের মধ্যে পড়ে না। বইটা অামার চাই। ব্যস্। কীভাবে, কোত্থেকে, ওসব ডিটেল্স।
— নিতাই রে, এর’ম করলি রে?
— মশা।
— না না, নিয়ে অাসব নিয়ে অাসব…
— কালকের মধ্যে।
— কালকের মধ্যে।
— গুড।


— নিতাইদা, অাসব?
— বিশু? অায়?
— দাদাবাবু ও’রম হন্তদন্ত করে কোথায় গেলেন?
— বইমেলা।
— সেকি! বইমেলা? দাদাবাবু!
— অবাক হচ্ছিস যে।
— দাদাবাবু বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছেন?
— বেরোচ্ছেন বৈকি।
— কীভাবে?
— সিম্পল। ভয় দেখালাম।
— ভয়?
— ভয় সবচেয়ে পাওয়ারফুল ইমোশন, জানিস না?
— অামি তো জানতুম ভালব—
— মশার ভয় দেখালাম।
— মশা? মশা কোত্থেকে অাসবে?
— খোলা ড্রেন থেকে।
— খোলা ড্রেন? এখানে?
— কী মুশকিল, এখানে হতে যাবে কেন?
— বুঝলুম না গো নিতাইদা। তাহলে দাদাবাবু ভয় পাবেনই বা কেন?
— ড্রেনটা যে অাসলে এখানে নয়, তোর দাদাবাবু সেটা জানেন না।
— তাহলে? ড্রেনটা কোথায়?
— বইমেলায়।
— অ্যাঁ?
— হ্যাঁ।


#সোঘো, সকাল ১১:৪৫, ৩০ জানুয়ারী, ২০১৭ সাল, তিলোত্তমা।

#বইমেলা #নিতাই #বিশু #দাদাবাবু

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s