চা, মলম, ও টুথপেস্ট ১০

— হ্যালু! — কৈ গো, কোথায়? — ইয়ে মানে, রাসবিহারী। — রাসবিহারী?! মানে?! এত জ্যাম? — না, মানে, জ্যাম তেমন নেই—দাদা ডানদিকে নেবেন— — জ্যাম নেই মানে? অার ডানদিকে মানে? ডানদিকে কোথায় নেবে? ডানদিক তো নেই। — অ্যাঁ? কী? ডানদিকে নো রাইট টার্ন? — কী বলছ? অাছো কোথায়? — বলছে ডানদিকে নো রাইট টার্ন। — কোথায় বলছে? কোথায় নো রাইট টার্ন? — দাদা তাহলে অাপ—একমিনিট বলে দি—দাদা তাহলে অাপনি সোজা নিয়ে অাবার সেই পেট্রলপাম্পের রাস্তা দিয়ে— — পেট্রলপাম্প?! সেরেছে!

চা, মলম, ও টুথপেস্ট ৯

কালিধন পেরিয়ে ফুটপাথে একটা অাড্ডাখানা অাছে। রোজ সকালে পোলো টীশার্ট ট্র্যাকপ্যান্ট বা শর্টস পরা জনৈক পঁয়ত্রিশ থেকে পঁয়ষট্টির অাপিসের বাবুরা কাগজের গেলাশে চা ভরে গাছের ছায়ায় লালরঙা নীলকমল চেয়ার বা টুলে বসে কথার তুফান তোলেন। রোজ দেখি অার ভাবি, এই অাড্ডার জন্যই তো কলকাতা ক্যলকত্তা না হয়ে তিলোত্তমা হয়েছে।

চা, মলম, ও টুথপেস্ট ৮

ট্যাক্সির ড্রাইভারটা ভাল। রেডিওটা রেট্রো চ্যানেলে দিয়ে রেখেছে। পুরনো দিনের গান চলছে, হিন্দী গান। রফি গাইছেন। কী গান মনে রাখা অামার পক্ষে সম্ভব নয়, তবে রফির গলায় অলওয়েজ একটা মৌতাত থাকে, একটা হাল্কা মাদকতা, মনটাকে মেহফিল করে দেয়। লেকের পাশ দিয়ে, তার পর সাদার্ণ অ্যাভেন্যু ধরে যাচ্ছি, ফুরফুরে হাল্কা ঠান্ডা হাওয়া, অাঙুলের জ্বলুনিটা প্রায় ভুলতে বসেছিলাম। চ্যাঁ! ভ্যাঁ! ক্যাঁ! হর্ন ওকে প্লীইইইইজ। ভ্যাঁপ্পোর ভ্যাঁ! ভইয়া দোঠো নোট দেদো ভইয়া।

চা, মলম, ও টুথপেস্ট ৭

ট্যাক্সিটা এসে সামনে স্টাইল করে ব্রেক কষে দাঁড়াল। নম্বরটা অাগেই মিলিয়ে নিয়েছিলাম, ব্যাগের স্ট্র্যাপটাও অালগা করে নিয়েছিলাম, পিছনের বাঁ সাইডের দরজাটা খুলে ব্যাগটা কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে ডানদিকের সীটে অালগোছে ছুঁড়ে ফেলে নিজে বাঁ সীটে সেঁধিয়ে অাঙুল বাঁচিয়ে দরজা বন্ধ করতে করতে নিজের নামটা কনফার্ম করে ড্রাইভারকে গন্তব্য বলে সীটের স্যুইটস্পটটা খুঁজে বের করে গা এলিয়ে দিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পকেট থেকে ফোনটা বের করে নম্বর টিপলাম।

চা, মলম, ও টুথপেস্ট ৬

ইদানীং ওয়েস্টওয়ার্ল্ড বলে একটা টিভি সিরিজ দেখছি। মূল লেখাটা মাইকেল ক্রাইটনের*, সত্তরের দশকে এটা সম্ভবত একটা সিনেমাও হয়েছিল। কিছু বছর অাগে জনাথন নোলান, যিনি দাদা ক্রিস্টোফার নোলানের ব্যাটম্যান ট্রিলজি লিখে খ্যাত, অার তাঁর স্ত্রী লিসা জয় এই ওয়েস্টওয়ার্ল্ডকে টিভিতে অানার প্ল্যান করেন। দশটা এপিসোড, এইচবিওতে, খানিকটা গেম অফ থ্রোন্সের মত অ্যাম্বিশাস। দুর্ধর্ষ গল্প, পার্ফেক্ট অ্যাক্টিং (অ্যান্টনি হপকিন্স মুখ্য ভূমিকায়), দারুণ নির্দেশনা অার টপক্লাস ম্যুজিক (রামিন জাওয়াদি, যিনি গেম অফ থ্রোন্স অার অায়রন ম্যান ১ সিনেমাতেও ম্যুজিক দিয়েছেন)।

ভাষাদিবস

-- ঘোসবাবু, কী কোরছেন? -- রাতে ভাল ঘুম হয়নি। ভাল ব্রেকফাস্ট হয়েছে, একটা ন্যাপঘুম দেওয়ার তালে অাছি। -- ন্যাপঘুম বাদ মে দিবেন। অাজ কোন ডেট মালুম অাছে অাপনার? -- অাজ? ডেট? অাছে নাকি? কিন্তু সের'ম তো কিছু--- -- অরে নেহী নেহী, অাপকা অাজ ডেট নহী হ্যায়। অামি অাজকের ডেট, ইয়ানি কি তারিখের কোথা বলছিলাম। -- অাজ? অাজ তো বুধবার। -- ইয়াল্লাহ্, মুঝে উঠা লে। অাজ মঙ্গলওয়ার হ্যায় ঘোসবাবু। কেলেন্ডার দেখেন। -- ও, তাই বুঝি? হেহে।

ব্রেকফাস্ট

-- হ্যাঁরে নিতাই, তোর মুখটা কেমন শুকনো লাগছে। -- মুখ? শুকনো? আমার? আমার জিঞ্জিভাইটিস হয়েছে??? নহীইইইইইইইইই... -- বেশি নাটুকেপনা করতে হবে নে। নিতাইয়ের খিদে পেয়েছে। -- খিদে? আমার? হমারা? মোয়া--- -- আর বেশি কথা কইলে এক থাবড়ায় জয়নগরে পাঠিয়ে দেব। নেও খেতে বসো।

চা, মলম, ও টুথপেস্ট ৫

কোল্ড ওপেন। দ্য স্টোরি সো ফার। সকাল। চা। সসপ্যান। ফুটন্ত জল। অ্যালুমিনিয়ামের ঢাকনা। স্টিলের চামচ। অাউচ। রিক্যাপ শেষ। টাইটেল কার্ড। জামিন রাওয়াদির ম্যুজিক। এস্টাব্লিশিং শট। টালিগঞ্জ। কুইক কাটস। বাড়ির বিল্ডিং। ফ্ল্যাটের দরজা। অামার ঘর। অামি। অাঙুলে টুথপেস্ট। মুখে বিরক্তি। টুথপেস্টের মাহাত্ম্য মহান, এ কথা অাগেই বলেছি। এ খবরের সোর্স সেই সোর্স, যার কোন সোর্স নাই। অর্থাৎ ইন্টারনেট।

স্যান্ডুইচ, পুলুদা, ও পার্শে

-- কীরে কী খাচ্ছিস? -- ম্যান্ডুইব। -- কী? -- হ্যান্ডুইশ। -- অ, স্যান্ডুইচ। তো বললেই হতো। অামার ভাগ কই? -- হুইয়ে হ্যাশে। -- কী?! -- {গিলে টিলে} ফুরিয়ে গেছে {হাত উল্টে দেখিয়ে} অার নাই, শ্যাষ। -- {নকল ব্যাঙ্গ করে} অার নাই শ্যাষ। ব্যাটা এক-অাধটা রাখতেও তো পারিস, এই বৃষ্টির দিনে... -- {পকেট থেকে একটা অতি শাদা রুমাল বের করে মুখ থেকে পাউঁরুটির গুঁড়ো অতি সাবধানে মুছে} বৃষ্টি? এই শীতে বৃষ্টি কোথায় পেলে হে? -- শীত? শীত তুই কোথায় পেলি রে? রীতিমতো ঘামছি। বৃষ্টি পড়লে বাঁচি, একটু ঠান্ডা তো ফেরত অাসবে। -- ওই হল। ফ্যান খোলার অবস্থা হয়নি। সন্ধ্যেবেলা ফুচকার তেষ্টাটা চট করে এখনও পায় না। হেন্স, শীত অাছে এখনও। -- শীত এলো না গেল তা কি তুই ফুচকার তেষ্টা দিয়ে বিচার করিস নাকি? -- অালবাত। অার কোনও রিলায়েবেল উপায় অাছে বলে অামার অন্তত জানা নেই।

চা, মলম, ও টুথপেস্ট ৪

ওই যে বললুম, নাও হতে পারে। দেখলেন তো, অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল। নস্ট্রাডামুস তো সেদিনকার রামদেব। শেষ যখন অামরা অামাদের হিরোকে—অর্থাৎ অামাকে—দেখি তখন তিনি চা করতে গিয়ে গরম চামচে হাত-টাত পুড়িয়ে দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য হয়ে শেষে ফ্রীজ থেকে মিষ্টির কৌটো বের করে সেটা হাতে জড়িয়ে বসে ছিলেন। কৌটোটা স্টিলের, তাই কাজও দিচ্ছিল। মুশকিল হল, স্টিল তো, হুট করে যেমন ঠান্ডা হয়ে যায়, তেমনই হুট করে গরমও হয়ে যায়। সুতরাং নট অা গুড লং টার্ম সল্যুশন। তাহলে উপায়?