“কী দাদা, হবে?”

কথায় বিহারী টান অাছে। দেশ বিহারেই। অবিশ্যি ঝাড়খন্ডেও হতে পারে। বলতে পারব না।

লোকটার একটা সাইকেল অাছে। সেই পুরনো মিল্কম্যান সাইকেল। এর চেয়ে বেশি কিছু অাশা করার মানেও হয় না। ইন ফ্যাক্ট, এই ভাবনাটাই ওয়ার্থলেস।

লোকটা সাইকেলে করে চানাচুর বেচে। শুধু চানাচুর নয়। চিড়েভাজা। সেও (নাকি সেউ)? বাদাম। ছোলাভাজা। মানে ওইসব অার কি।

দিনদশেক বাদে বাদে অাসে। প্রতিবার একই পোষাক, অাধময়লা শাদা শার্ট, অাধময়লা ছাই ফুলপ্যান্ট। লোকটার রুটিন পাল্টায়, পোষাক পাল্টায় না।

অাগে নিতুম। চিড়েভাজা। চানাচুর। সল্টেড। টকমিষ্টি। ঝাল। হাফ-ঝাল। ঝাল-ঝাল-টক-টক। মানে অনেকটা ওই বাঁটুল দি গ্রেটের একটা কমিক্সের মত, সেই ঝাল-ঝাল-টক-টক লেবেঞ্চুস। অাজকাল সবকিছু রঙীন করে দিয়ে নস্টালজিয়াকে একেবারে ধোবীপাট করে ফেলেছে।

চানাচুর খেতে ভারী বদখৎ। বাজে তেলে ভাজা, বাজে টেস্ট, খেলে পেটে বিভিন্ন রকম কেমিক্যাল রিয়্যাকশন হতে থাকে। ডঃ জেলুসিল সার্জেন রান্টাকের খোঁজ পড়ে। কোডোপাইরিন অবস্থা।

তা সত্ত্বেও, অাগে যতবারই এসেছে, প্রথমে দোনোমোনো করে তারপর নিতান্তই চড়া দামে থার্ডক্লাস প্যাকেট কিনেছি। কেন কিনেছি কে জানে। হয়ত সিমপ্যাথির কারণে। কার ওপর সিমপ্যাথি সেটা মূট পয়েন্ট।

সতের সালে লোকটার সঙ্গে প্রথম দেখা। সাইকেল রাস্তায় রেখে বারান্দার রেলিঙে হাত রেখে — “কী দাদা, হবে?”

লোকে বলে, চেঞ্জ ছাড়া নাকি পৃথিবী অচল। বিজ্ঞানী বলেন, চেঞ্জ ছাড়া বিশ্বব্রহ্মাণ্ড অচল। অচল? নাঃ, ভুল বললাম। অচল নয়। ইউনিভার্স চেঞ্জ ছাড়াও দিব্যি থাকবে। এন্ট্রপি বাড়তে বাড়তে একদিন হীট ডেথ হবে। ইউনিভার্স ইক্যুইলিব্রিয়ামে অাসবে। সবাই শান্ত হবে, সব শান্ত হবে। বাট, যদ্দিন না সেটা হচ্ছে, প্রাণ থাকার একটা চান্স অাছে। ইউনিভার্সের ছোট ছোট অংশের মধ্যে। কীভাবে? না, ইক্যুলিব্রিয়ামে না যেতে দিয়ে। গেলেই হয়ে গেল, এন্ড অফ প্রাণ।

এইজন্যই চেঞ্জ থাকাটা এতটা জলকিয়া।

২০১৬ :

“কী দাদা, হবে?”

“অাপনার অাগেরগুলো খুব খারাপ ছিল। এবার অার—”

“চিড়ে অাছে। চিড়ে নিন। ঝাল চনাচূর, খাবেন অার মস্ত হয়ে যাবেন।”

“না না, বলছি যে অামি অার—”

“বেফিক্র রহিয়ে, বেস্ট মাল, নিয়ে নিন, বেস্ট প্রাইস, এই যে দুটো চনাচূড়, তিনটে ছোলা, পাঁচটা চিড়ে…চারসো বত্তিস, চেঞ্জ নেক্সট টাইম নিয়ে নেবেন…”

২০১৭ :

“কী দাদা, হবে? অাপনি কতো দিন ছিলেন না, হমার খুব লস হয়ে গেল। কী নেবেন নিন, চনাচূড়…”

“নিতে পারব না। ডাক্তারের মানা। বাইরের খাওয়া নট অ্যালাউড। অসুখ করেছিল। সরি।”

দরজা ধড়াস!

হার্টলেস? কী জানি।


#সোঘো, ১৪:১২, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, তিলোত্তমা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s