— পূর্ণিমার চাঁদ অার ঝলসানো রুটি।
— গদ্য করছিস?
— না না, ভাবছি এটা মেটাফর কিনা।
— বলা শক্ত।
— ঠিক তাই।
— সুকান্তর ডিপ্রেশন ছিল না, জানিস তো।
— ছিল না বুঝি?
— উঁহুঃ। ছিল না। লাইফে প্রচুর স্ট্রাগলের মধ্যে দিয়ে গেছেন ভদ্রলোক, বাট ডিপ্রেশন, হুঁহুঁবাওয়া, ডিপ্রেশন ওনাকে টাচ করতে পারেনি।
— ইনকোরাপ্টিবেল ছিলেন বুঝি?
— ইভেন মোর দ্যান নোলানের ব্যাটম্যান।
— বাঙালীদের বোধহয় ডিপ্রেশনটা ঠিক হয় না, তাই না?
— নাঃ। এই বাংলা ভাষা একটা শীল্ড, ক্যাপ্টেন অামেরিকার শীল্ডও এর কাছে শিশু।
— তাহলে অ্যালান মূর ভুল?
— ভুল নয়, ঠিক।
— কীরকম?
— কিলিং জোকে জোকার কী প্রমাণ করতে চেয়েছিল?
— যে কারুর একটা বাজে দিন গেলে—মানে সিরিয়াসলি বাজস্য বাজে দিন গেলে—সে মানসিক ভারসাম্য—
— মেন্টাল ব্যালেন্স।
— —হারিয়ে পাগল হতে বাধ্য।
— পাগল? মানে? ম্যাড?
— ওই জোকারের মত।
— মানে মানসিক ভারসাম্যহীন?
— মানে তার কোনও না কোনও মেন্টার ডিসর্ডার হতে বাধ্য।
— কিন্তু অাসলে বাধ্য নয়?
— কোনওমতেই নয়। সুকান্তই তার প্রমাণ।
— অাজ রাতে ঝলসানো মাংসই হোক তাহলে? সঙ্গে রুটি?
— কিন্তু সেটা পয়েন্ট নয়।
— তাহলে? মাংসটা পয়েন্ট নয়?
— অবশ্যই নয়। মাংস কি পেন্সিল, যে পয়েন্ট থাকবে?
— হক কথা।
— পয়েন্ট হল, বেটোফেন।
— বেটোফেন কী?
— কালা ছিলেন।
— মেহমুদ গাইতেন বুঝি?
— মেহমুদ?
— দিলওয়ালে ছিলেন বুঝি?
— টাইম ট্রাভেল করিয়ে রাজ-সিমরনের ট্রেনের তলায় ফেলে দেব। লাস্ট ওয়ার্নিং।
— না না, তুমি ঝলসানো মাংসের কথা বল।
— বেটোফেন প্রথম দিকে অবশ্যই শুনতে পেতেন। পরের দিকে অার পেতেন না।
— কিন্তু তা সত্ত্বেও অার্চড্যুক ট্রিও রচনা করে গেছেন।
— অার্চড্যুক ট্রিও?
— অস্ট্রিয়ার অার্চড্যুকের অনারে। পিয়ানোতে শেষ রচনা। তারপর বদ্ধ কালা।
— অার ডিপ্রেশন?
— বাইপোলার। ম্যানিক ফেজে একসঙ্গে অনেকগুলো রচনা চলত। ডিপ্রেসিভ ফেজে একদম বন্ধ। যেমন হয় অার কি।
— তার মানে লুডউইগও ডিপ্রেশনের হাত থেকে মুক্তি পান নি?
— অবশ্যই না। নিউটন।
— অাইজ্যাক?!
— স্কিৎসোফ্রেনিয়া, বাইপোলার। মাইকেল্যাঞ্জেলো?
— সিস্টীন?
— অটিস্টিক।
— অটিজমকে কি মেন্টাল ডিসর্ডার বলা চলে?
— মাইকেল্যাঞ্জেলো হাই-ফাংশানিং ছিলেন।
— কিন্তু তা বলে…
— লিঙ্কন।
— এব্রাহাম? সেকি!
— অ্যাক্যুট ডিপ্রেশন। অ্যাক্যুট।
— কিন্তু কাজে তো ক্ষতি হয়নি।
— সুইসাইডাল ছিলেন। কিন্তু করেননি। যেমন চার্চিল।
— সুইসাইডাল?
— প্ল্যাটফর্মের ধারে দাঁড়াতেন না। ট্রেন এলে যত দূরে সম্ভব দাঁড়াতেন, কোনও পিলার থাকলে তার অাড়ালে। ট্রেন পুরোপুরি থামলে পর উঠতেন। বা জাহাজের রেলিঙের কাছে দাঁড়াতেন। এক সেকেন্ডের এদিক-ওদিক, ব্যস।
— মোৎসার্ট?
— প্রথম দিকে নয়। পরে বাবা লিওপোল্ড মারা যাওয়ার পরে, ডন জিওভানি রচনার সময় তো সিভিয়ার ডিপ্রেশন।
— অাঁকিয়েদের মধ্যে?
— ভ্যান গখ। এডভার্ড মাঞ্চ।
— তার মানে জিনিয়াস হলেই ডিপ্রেশন?
— না না, তা কেন। রবীন্দ্রনাথ, শেক্সপীয়ার, অাইনস্টাইন, লিওনার্দো—এরা তো ডিপ্রেস্ড ছিলেন না। জিনিয়াস মানেই ডিপ্রেস্ড হতে হবে কোথাও লেখা নেই।
— কিন্তু হতেই পারে? জীবন কঠিন হলেই—
— জীবন কঠিন হতেই হবে কোন মানে নেই। স্বাভাবিক জীবন হলেও ডিপ্রেশন, বাইপোলার ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। সবাই তো অার জোকারের থীম পার্ক নয়।
— মনে বড় অশান্ত ফীল করছি।
— কেন?
— না, মানে, নৃপতিদা যা বললেন, সবই কি গ্যালিগ্যাস্কিন্স?
— অাহা, তা হবে কেন? সইটা তো পেয়েছিস। স্রেফ চেপে যা।
— অাচ্ছা, ফাইনাল প্রশ্ন।
— করে ফেল বৎস।
— এই যে এতজন মনীষীর কথা পরপর অাউড়ে গেলে, এরা যে ডিপ্রেস্ড ছিলেন, সেটা তুমি কী করে জানলে? বা লোকে কীভাবে জানল? অাধুনিক সাইকিয়্যাট্রি তো দু’দিন হল বেরিয়েছে। এখন না হয় জন ওয়াটসন থেরাপীতে যায়, অাগে তো অার যেত না। তাহলে?
— ট্যারা কলতলায় যায় কেন?
— অ্যাঁ?
— হ্যাঁ।


#সোঘো, ১৮:০০, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, তিলোত্তমা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s