ক্যানসার কারে কয়?

ক্যানসার একপ্রকারের মারণ রোগ। ইতিহাসের পাতাভাঁজের মধ্যে এর অবস্থান। এর ক্ষয় নেই, ক্ষতি নেই, মার নেই, মরণ নেই। এ এমন রোগ, যা হতে জীবাণু লাগে না। এ রোগ ভিতর থেকে হয়। নিজের অংশবিশেষ থেকেই হয়।

ক্যানসার দুই প্রকারের। শরীরের ক্যানসার, অার মনের ক্যানসার।

কোষের ধর্মই হল দুভাগে ভাগ হওয়া। বেশি ভাগ হতে শুরু করলে মুশকিল, তখন তা টিউমার হয়ে দেখা দেয়। টিউমার ছড়িয়ে পড়লে ক্যানসার হয়। ক্যানসার হলে বাঁচা যায় না।

মনের ক্যানসার অারও গোলমেলে। মনের কাজই অাইডিয়া নিয়ে। একবার একটা গোলমেলে অাইডিয়া ঢুকলে তাকে নিকেশ করা যায় না। সে অাইডিয়া ভাল হলে, ‘বিনাইন’ হলে, তা থেকে অারও ভাল ভাল অাইডিয়া জন্ম নেয়। মোৎসার্ট লেগাতো গতিতে পিয়ানো বাজায়, ভ্যান গখ তুলিতে কর্ণফ্লাওয়ার ব্লু রঙ মেশায়, বসু প্রেসিডেন্সীর লাল ঘরে বসে রেডিও টিউন করে।

বিনাইন সবসময় হয় না। তখনই গড়বড়।

শরীরে যখন ম্যালিগন্যান্সি হয় তখন তার কারণ হয় শরীর নিজেই। কোন জেনেটিক ডিফেক্ট হয়ত, বা হয়ত কোন জীন ট্রান্সক্রিপশনে মিসম্যাচ। বাইরের কোন ফ্যাক্টর থাকলেও সেগুলো নিতান্তই ক্যাটালিস্টের কাজ করে। যেমন, মানুষচিমনি হয়ে যাওয়া, মানুষমদস্পঞ্জ হয়ে যাওয়া, মানুষঅমানুষ হয়ে যাওয়া।

মনে যখন ম্যালিগন্যান্সি অাসে তখন এক্সটার্নাল ফ্যাক্টররা শুধু ক্যাটালিসিসে অাবদ্ধ থাকে না। তারাই নিজরূপ অারও ভয়ঙ্করভাবে ধরে ইনসেপশনের কাজ শুরু করে দেয়। অার একবার ইনসেপশন শুরু হলে তা অাটকানো লিওনার্দোরও ক্ষমতা নেই।

ইনসেপশন সিনেমাটা নাকি মেটাসিনেমা। কেন? কেননা সিনেমার প্রধান চরিত্রগুলো যেন একটা সিনেমার ক্রু। ডি ক্যাপরিও ডিরেক্টর, পেজ প্রোডাক্শন ডিজাইনার, হার্ডি অ্যাক্টর, অার ওয়াতানাবে?

এই ওয়াতানাবে ছাড়া কিন্তু কিছুই হত না। এই ওয়াতানাবে—থুড়ি, ওয়াতাবাবের চরিত্রটাই তো ইনসেপশন করতে প্রথমে বরাত দিয়েছিল। অার কী দিয়েছিল? না, লিওনার্দোকে দেশে ফেরার ক্লীন চিট। অার?

অার দিয়েছিল টাকা।

ওয়াতানাবে প্রোড্যুসার।

টাকা মাটি, না মাটি টাকা?

মাটি থেকেই টাকা বেরোয়। মাটি খুঁড়তে হয়। অনেকটা খুঁড়তে হয়। ঠিক জায়গায় খুঁড়তে হয়। প্রোফেসর ক্যালকুলাসের পেন্ডুলাম বগলে বাগিয়ে খুঁজেপেতে খুঁড়তে হয়। খুঁড়েটুড়ে তরল কালো পদার্থ পেলে হয় চ্যুয়িংগাম চিবুতে চিবুতে শাদা চামড়ার এম-১৬ বা শারিয়া চিবুতে চিবুতে কেফিয়েধারী চাপাতি এসে ডেকে হেঁকে কিলিয়ে মেরে সেটা নিয়ে ড্যাং ড্যাং করে চলে যায়। ইহাই পরম সত্য।

এই তেলতেলে টাকা যায় কোথায়? কেন? কেফিয়ের নির্যাতিত ভাইরা (বোনেরা নির্যাতিত হয় না, হতে পারে না, শারিয়ায় তাই বলে অর্থাৎ তাই শারিয়া) যে হবু বাংলাস্তানের অাদারেবাদারে নির্যাতিত হচ্ছে, সেগ্রিগেটেড হচ্ছে, শোষিত-পেষিত-উদ্বেলিত হচ্ছে। চল চল চল, ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদ—অ্যাই!!! বাজে মানে? শারিয়া। ম্যুজিক হারাম হ্যায়।

কিন্তু, মানে, স্যার, বাংলা—থুড়ি, হবু বাংলাস্তানে তো হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই। শারিয়ার তো দূর হঠ্! শারিয়া-সালাফি ভাই ভাই, বাকি সব তকফির, এই পুঁদিচ্চেরি কাজটা হবে কীকরে? প্রীচ করে? লোকজনকে বুঝিয়ে? ওরা কাফির, ওদের সঙ্গে মিললে হরাম, এইসব বলে?

ধুস্সালা, তোর মাথাও তকফির। অাইডিয়া নিজে থেকে অাগুন ধরাতে পারে, কিন্তু অাগুনে ফুঁ-টা কে দেয়?

মানি মানি মানি
ইট্স সো ফানি
অামি সেটা জানি
করে বহুত হানি।

(সরি অ্যাবা)

সুতরাং অচিরেই হবু বাংলাস্তানে ক্যানসার দেখা দিল। মানে দিল না, কেননা ক্যানসারের বিশেষত্বই হল দেখা না দেওয়া। ক্যানসার ভীষণভাবে অ-জেমসবন্ডসুলভ স্পাই, দুমদাম-মারমার-কাটকাট-অস্টিমমার্টিন-কন্ডমইজফরলুজার্স এইসবের চৌকাঠও মারায় না।

তাই দাদার কুর্তা (পাঞ্জাবি বললেই তকফির) অার ভাইয়ের শলওয়ার (পাজামা বললেই ডবল তকফির) পরে চোখে তনুজার তনুজাত লাগিয়ে মিঁঞা বলিউডি গান গাওয়ার জন্য অাট বছরের মেয়ের মুখ ভেঙে দাঁত ফেলে দেয়, বিবিকে (বউ বললেই…) বোরখা পরিয়ে ঘরের ভিতর খাঁচার পাখির শিকল করে রাখে, দেশকে দ্যেশে পরিণত করে তোলে।

অার অামরা তখন ঘুমোই।

নাকের তেল কি কম পড়িয়াছে মিঁঞা?


#সোঘো, ১৩:৪০, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, তিলোত্তমা।

#ক্যানসারবাইসোঘো

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s