লোকে বলে, অামি নাকি প্রোক্র্যাস্টিনেট করি।

তা…হুম, মানে, খুব একটা যে ভুল বলে তা নয়।

অাসলে প্রোক্র্যাস্টিনেট করতে অামি খুব যাকে বলে ভালবাসি।

প্রোক্র্যাস্টিনেট করার মধ্যে একটা অনাবিল অানন্দ অাছে। ঠিক যেমন বৃষ্টির দিনে ট্রেনের জানলা দিয়ে এক ফোঁটা এক ফোঁটা জল পড়তে দেখা—

ব্রেক্কে। ব্রেক্কে।

ইয়ে, মানে, সেন্টুর শিশিটা থেকে এসেন্সটা কি একটু—জায়ায়ায়াস্ট একটু—এক্সট্রা পড়ে গেল না?

অাসলে বৃষ্টি-ট্রেন-জানালা এইসব ইনগ্রেডিয়েন্ট একসাথে হলেই নস্টালমোশানের মাত্রাটা মাইল্ড চড়ে যায় অার কী। কেলাশে ক্লিশের লেভেলটাও হোয়াইটবোর্ডের টঙে গিয়ে চড়ে বসে থাকে।

নস্টালমোশান মানে? মোশান জানেন? সকালে হয়। পোস্ট-মডার্ন বানাতে অাগে একটা ই জুড়তে হয়, অাজকাল সবই তো বৈদ্যুতিন কিনা। e-Motion, অর্থাৎ বৈদ্যুতিন মিডিয়ামে রাজ্যের বর্জ্যভাবনা কয়েকপিস বাছাই করা গ্যাসবোমার সহিত জড়ো করা। তার সঙ্গে নষ্টামি, অর্থাৎ কিনা নস্টাল ব্যাপারস্যাপার থাকলে তো কথাই নেই।

হিপোক্রেসি একেই বলে।

যাই হোক, অামার বিরুদ্ধে অারেকটা স্ট্যান্ডার্ড অারোপ অাছে। অামি নাকি কোন কাজ শুরু করে শেষ করি না। অারোপ, নালিশ নয়। কেন নয় জানি না। দুটোই পার্সি না?

যাই হোক, এই পার্টিকুলার অারোপটা যিনি করেন তিনি অামাকে খুব ভাল করেই চেনেন। অার, মানে, ইয়ে, কথাটাও সর্বৈব সত্য।

এনিওয়ে, কথাটা খানিক হলেও ভুল প্রমাণিত করার লোভেই এই লেখা।

তার অাগে ম্যান্ডেটরি রিক্যাপ।

গতকাল একটা কান্ড ঘটেছিল। অামি চা বানানোর চেষ্টা করেছিলুম। খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু না। চা অামি হামেহাল বানিয়ে থাকি। কিন্তু কাল সুপার্বলি সেটা করতে গিয়ে হাত পুড়িয়েছিলাম। কীভাবে সে অসম্ভব সম্ভব করেছিলাম তার অবিস্তারিত বিবরণ প্রথম কিস্তিতে অাছে। না পড়লেও নো লস, কেননা সামারিটা নীচে তুলে দিচ্ছি।

সসপ্যান। ফুটন্ত জল। সসপ্যানের অ্যালুমিনিয়ামের ঢাকনা। তার উপর পাঁচ মিনিট স্টিলের চামচ রাখা। সেই স্টিলের চামচ খালি হাত দিয়ে ততক্ষণ ধরে থাকা, যতক্ষণ না—

অাউচ!

ডিসক্লেমার : অামার নিজেকে ব্যথা দেওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই। গরম চামচটা নামিয়ে রাখিনি কারণ অামি একটা জলজ্যান্ত অাবলদা। কোটটা অামার নয়। স্যুটটাও নয়। টাইটা তো নয়ই।

যাই হোক, পুড়েটুড়ে তো গেল। সিঙ্কের কলে হাত ধরে থাকলাম, কিসুই হল না, মাঝখান থেকে জ্বলুনি অমরীশ পুরিমার্কা একটা অট্টহাস্য দিয়ে বাড়তে লাগল।

ফ্রীজ। ডীপফ্রীজ। বরফ। বরফ? বরফ!?!?!

নোওওওও।

বরফ কই?

এ অাবার কেমনধারা ফ্রীজ রে বাবা! বরফ নেই ক্যান?

মাইব্বাপ! লাইফে এইসা ফ্রীজ দেখিনি মাইব্বাপ! ছোটবেলায় ডায়মন্ডে ফ্রীজ ছিল, রোজ সকালে উঠে তার সামনে গ্লোবাল ওয়ার্মিঙের জ্বলন্ত প্রমাণ থইথই করত। তাপ্পর কল্কেতায় এসে একই কেলভিনেটর কোম্পানির হেলভিনেটর ফ্রীজ অাসে বাড়িতে। ফের সেই বর্ষাকালে কল্কেতার সাদার্ণ অ্যাভেন্যু। অার এ কী রা? বরফ কই?

মানে এরকম বিট্রেইড লাইফে হইনি মাইব্বাপ।

বরফ নেই, তো কী করণ? ইদিকে চায়ের জল ফুটাফাই। কী করণ কী করণ কী করণ?

ক্লিফহ্যাঙ্গার? হোয়াই নট? অাফটার অল, ১৪ ফেব, ডেট-ফেট অাছে। লেখা ক্যান ওয়েট।

(চলবে)

#চামলমও_টুথপেস্ট


#সোঘো, ১৯:১৫, ১৪ ফেব, জয় মা ভ্যালেন্টিনা, ২০১৭, তিলোত্তমা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s