ক্লিপ অার হ্যাঙ্গার, এই দুটো জিনিস ভারী কাজের।

ম্যান্ডেটরি রিক্যাপ : সকালবেলা। বেরোব। হুটোপাটি করে চা বানাচ্ছি। খিদে পেয়েছে। সসপ্যানে জল চড়িয়ে অ্যালুমনিয়ামের ঢাকনার ওপর স্টিলের চায়ের চামচাটা রেখে বাইরে ডাইনিং টেবিলের রাখা প্লাস্টিকের শিশির মধ্য থেকে চারখানা মিল্কবিকিস বিস্কুট বের করে জলের বোতল থেকে দু’ঢোক জল খেয়ে কশমশিয়ে শিবিয়ে ফের দৌড়ে রান্নাঘরে ঢুকে দেরী হয়ে গেছে এই রে সোজা স্টিলের চায়ের চামচাটা খালি হাতে ধরে অাকাশপাতাল ভাবতে ভাবতে চামচাটা হাতেই ধরে রেখে সিঙ্কের লীক করা জলের কলটা বন্ধ করতে গিয়ে…

অাউউচ।

অার বন্ধটন্ধ না খুলে কলটা ফুলস্পীডে খুলে দিয়ে জলের তলায় হাতটা ধরে থাকলুম। থেকে বুঝলাম, স্পেসিফিক হীটের কতবড় মাহাত্ম্য।

চাই বরফ।

বরফ যে কত দুর্লভ বস্তু, ফ্রীজ অাবিষ্কারের অাগে বরফের নাগাল পাওয়া যে মাকন্দতেও সম্ভব ছিল না, সেটা রন্ধ্রেরন্ধ্রে অনুভব করা। বিশেষ করে ডানহাতের তর্জনীতে।

এদিকে চায়ের জল ফুটে গেছে। রান্নাঘরে অামার অ্যাসিস্ট্যান্ট ততক্ষণে ডবল ইমার্জেন্সীতে প্যানিক অ্যাটাকে ঘায়েল। একেবারে যাকে বলে মালদোনাদো ব্যাপার।

জ্বলা জ্বলুনি কীরকম ওয়াইপোনেনশিয়ালি* বাড়ে এবং সেটা নিয়ে একটা মুচমুচে পেপার লেখা যায় কিনা এসব ভাবতে ভাবতে অাউচ অাউচ করতে করতে চা ছাঁকলাম। স্পেসিফিকালি বলতে গেলে এক কাপ ছাঁকতে পারলাম। বাকি তিনটে কাপ বিস্কুটের অপেক্ষায় বসে থাকা রাস্তার পেটরোগা মনদুঃখী কুতুয়াগুলোর মত জুলজুল করে অামায় দেখতে লাগল। কোনক্রমে একটা সরি তিনটে থুড়ি পাঁচটা পারছিনাবহুতজ্বলছে ছুঁড়ে দিয়ে সোজা ফের ফ্রীজের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশি হিট ছবির মত শিট বলে দরজাটা খুলে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করলাম, মিষ্টি।

হে পাঠক, শ্রীমান সোঘোর কার্যকলাপ নিয়ে যদি অাপনার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহও থেকে থাকে, তাহলেও জানবেন, মিষ্টির প্রতি মিষ্টার সোঘোর অদম্য অনীহার কথা অনস্বীকার্য।

অ্যাঁ? ক্বী বল্লেন? অনীহা? চশমাটশমা খুলে চোখ রগড়ে ভুরু ডলে ঘাম মুছে ঠিক শুনছি তো? বাঙালীর বাচ্চা হয়ে অনীহা? মিষ্টিতে? এ যে একবিংশ শতাব্দীতে রেসিডেন্ট-ননরেসিডেন্ট বাঙালীর বাচ্চা হয়ে বিরিয়ানীতে অনীহার সমান। স্যাক্রিলেজ! স্যাক্রিহেডও হতে পারে। স্যাক্রিস্যাকেরচুল হলেও অাশ্চর্য হব না।

অাই বেটার ওয়াইপ্লেন*।

দিনতিনেক অাগে বাড়ির কাছের হরগৌরী নামধারী মিষ্টির দোকান থেকে ছ’পিস সরভাজা, ছ’পিস ভাঙাগল্ফবল সন্দেশ, অার সোয়াসের মাখা সন্দেশ কিনেছিলুম। বাড়িতে তিন প্রাণী, তাও একজনের মিষ্টিতে অ্যালুমিনিয়ামরাহুলগান্ধী, তাই বাকি দু’জনের পক্ষে এই উপঢৌকন মন্দার বোসের মত ভ্যানিশ করে ফেলা নিতান্তই ডক্টর হাজরার অজিতের চারিত্রিক শক্তির মত ননএগজিস্টেন্ট। সুতরাং স্টিলের কৌটো, তার মধ্যে এক্সট্রা মিষ্টি, ইন ফ্রীজ। ফ্রম লাস্ট নাইট। সুতরাং ঠান্ডা বরফ।

বরফ!

এক নিমেষে হাতে তুলে নিয়ে তর্জনী দিয়ে অাষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরলাম স্যার কৌটোকে। অাঃ। কী অারাম। জ্বলুনিটা যেন অাসছে-বছর-অাবার-হবে বলতে বলতে বিসর্জনে যাচ্ছে।

চা করা মাথায় উঠেছে। ভাগ্য ভাল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিকভার করে চায়ের ভারটা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। অ্যাটলাস না হলেও, উৎরে যাবে।

কিন্তু একী? কৌটো যে গরম হয়ে যায়। জ্বলুনি যে যাঃ-ট্রেন-ক্যানসেল বলে বাড়ি ফেরত অাসে। অাউচ যা সিকুয়েল করে।

এবার?

জানতে হলে চোখ রাখুন এই চ্যানেলে, কাল, একই সময়ে**।

*এক্স ইজ অাজকাল এক্স

** নাও হতে পারে। তবে চোখ রাখুন।

(চলবে)

#চামলমও_টুথপেস্ট


#সোঘো, ১৭:০০, ১৫ ফেব, ২০১৭, তিলোত্তমা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s