ওই যে বললুম, নাও হতে পারে। দেখলেন তো, অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল। নস্ট্রাডামুস তো সেদিনকার রামদেব।

শেষ যখন অামরা অামাদের হিরোকে—অর্থাৎ অামাকে—দেখি তখন তিনি চা করতে গিয়ে গরম চামচে হাত-টাত পুড়িয়ে দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য হয়ে শেষে ফ্রীজ থেকে মিষ্টির কৌটো বের করে সেটা হাতে জড়িয়ে বসে ছিলেন। কৌটোটা স্টিলের, তাই কাজও দিচ্ছিল। মুশকিল হল, স্টিল তো, হুট করে যেমন ঠান্ডা হয়ে যায়, তেমনই হুট করে গরমও হয়ে যায়। সুতরাং নট অা গুড লং টার্ম সল্যুশন।

তাহলে উপায়?

ছোটবেলা কেটেছে ডায়মন্ডহারবারে। শর্টে ডায়মন্ড। ছোট মফস্বল শহর, শহর না বলে টাউন বললেই ভাল। অাচ্ছা, টাউনের বাংলা কী হয়? মফস্বল?

যাই হোক, এই ছোট মফস্বল ছোট হলেও দরকারি-অদরকারি সব জিনিসই এখানে পাওয়া যেত। শাদাপুল থেকে স্টেশন অবধি লাইন করে রাস্তার দু’পাশে দোকান বসতো। এক টাকায় দশটা ফুচকা পাওয়া যেত। একবারই খেয়েছি মাত্তর। ছোটবেলায় বাইরের খাবারে মানা ছিল। একসেপ্শন ছিল বৈকি। স্টেশনের উল্টোদিকে কাকলিদের দোকানের শিঙাড়া-জিলিপি ওয়াজ যাকে বলে এস-বাছা-বস-বাছা-জল-খাও-বাছা-বাতাসা-নাও-বাছা। অাহা, সের’ম শিঙাড়া-জিলিপি অার কুথা পেলুম না হে।

তো এই ডায়মন্ডহারবারে—শর্টফর্মটা অামার কেমন বং-মাল্লু-গুজ্জু লেভেলের লাগে—দরকারি জিনিস পাওয়া যেত। যেমন বোরোলিন। বা মাছধরার ছিপ। বা বার্নল।

ছোটবেলায় অাঁকার ক্লাসের জন্য পেন্ট কিনতে হত। ট্যুবে করে ওয়াটারকালার অাসত, ক্যামলিনের বোধহয়। রঙের নামগুলো অামার দারুণ লাগত, রঙের নামের প্রতি অামার চিরকালের একটা ফ্যাসিনেশন অাছে। বার্নট সিয়েনা, ব্রাউন রঙের হত। ভার্মিলিয়ন, সিঁদুর রঙের। হলুদ তিনরকমের ছিল। লেমন ইয়েলো হল হাল্কা হলুদ, ঠিক লেবুর রঙের। ক্রোম ইয়েলোটা স্ট্যান্ডার্ড কলার রঙের বা ট্রাফিক সিগনালের রঙের। অার ইয়েলো অকারটা কেমন যেন মেঠো মেঠো টাইপের। ক্রোম ইয়েলো অার লেমন ইয়েলো অামি বেশি ব্যবহার করতাম, ইয়েলো অকারটা ছেলেবেলার ছেলেমানুষিতে অ্যাপ্রিশিয়েট করতে পারিনি। বার্নলের ট্যুবটা ইয়েলো অকার রঙের হত।

বাড়িতে, খুশি কি বাত, বার্নল ঠিক ওই মুহূর্তে—ইয়ে, অামরা কিন্তু ফ্ল্যাশব্যাক শেষ করে রিটার্ন প্রেজেন্টে ফিরে এসেছি—যাকে বলে, ছিল না।

ঘড়িতে ন’টা। বেরোতে হবে। অার সময় নেই। ঘরে ছুটে গিয়ে ব্যাগ কাঁধে চড়াতে যাব, এমন সময় অ্যাসিস্ট্যান্ট ঘরে ঢুকলেন। অত্যন্ত প্যানিক্ড, কোথায় লেগেছে জ্বালা করছে কিনা টুথপেস্ট লাগা হাতটা জলে রাখ অাজ অার বেরোস না ইত্যা—

— ওয়েট অা মিনিট। কী বললে?

— কী বললাম? অাজ অার বেরোস না।

— না না তার অাগে।

— বললাম হাতটা জলে—তার অাগে বললাম টুথপেস্ট লাগা হাতে।

ই। উ। রেকা।

মাসকিছু অাগে ফেবুতে একটা ভিডিও দেখেছিলাম, মাজনের ভাল ভাল সুবিধেগুলো দেখাচ্ছিল। কীভাবে মোবাইল স্ক্রীনে স্ক্র্যাচ পড়ে গেলে মাজন দিয়ে অালতো ঘষলে স্ক্র্যাচ হাওয়া। কীভাবে জুতো ঘষা খেলে টুথপেস্ট লাগিয়ে রিপেয়ার করা যায়। কীভাবে হাত পুড়ে গেলে টুথপেস্ট মাখিয়ে রাখলে ভাল হয়ে যায়।

যেমস্ব ভাবঃতি তেমস্ব করঃতি।

টেবিলেই টুথপেস্টের ট্যুবটা ছিল। ঈগলের মত ছোঁ মেরে ট্যুবটা হাতে তুলে নিয়ে চিপে দ্যাবদ্যাব করে দ্যাবদ্যাবে এক খাবলা মাজন নিয়ে অাঙুলটাতে লাগাতেই—

— ওগো এতো ম্যাজিক তো।

— বলেছিলাম।

ঠিক সাড়ে সাইঁত্রিশ সেকেন্ড বাদে জ্বলুনিটা ফিরে এল।

(চলবে)

#চামলমও_টুথপেস্ট


#সোঘো, রোববারের দুপুর, ১৯ ফেব, ২০১৭, তিলোত্তমা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s