— কীরে কী খাচ্ছিস?
— ম্যান্ডুইব।
— কী?
— হ্যান্ডুইশ।
— অ, স্যান্ডুইচ। তো বললেই হতো। অামার ভাগ কই?
— হুইয়ে হ্যাশে।
— কী?!
— {গিলে টিলে} ফুরিয়ে গেছে {হাত উল্টে দেখিয়ে} অার নাই, শ্যাষ।
— {নকল ব্যাঙ্গ করে} অার নাই শ্যাষ। ব্যাটা এক-অাধটা রাখতেও তো পারিস, এই বৃষ্টির দিনে…
— {পকেট থেকে একটা অতি শাদা রুমাল বের করে মুখ থেকে পাউঁরুটির গুঁড়ো অতি সাবধানে মুছে} বৃষ্টি? এই শীতে বৃষ্টি কোথায় পেলে হে?
— শীত? শীত তুই কোথায় পেলি রে? রীতিমতো ঘামছি। বৃষ্টি পড়লে বাঁচি, একটু ঠান্ডা তো ফেরত অাসবে।
— ওই হল। ফ্যান খোলার অবস্থা হয়নি। সন্ধ্যেবেলা ফুচকার তেষ্টাটা চট করে এখনও পায় না। হেন্স, শীত অাছে এখনও।
— শীত এলো না গেল তা কি তুই ফুচকার তেষ্টা দিয়ে বিচার করিস নাকি?
— অালবাত। অার কোনও রিলায়েবেল উপায় অাছে বলে অামার অন্তত জানা নেই।
— স্যান্ডউইচ সত্যিই অার নেই?
— উঁহু।
— কীসের স্যান্ডউইচ ছিল?
— চীইজ, স্যালাড, চিকেন সালামি।
— অারিব্বাস। তুই তো ব্যাটা জাতে উঠছিস। সা-লা-মি! অাগে তো মুড়ি-অালুভাজা দিয়েই কাজ সারতিস।
— মাঝখানে শিঙাড়া স্টেজটা ভুলো না।
— ভুলি কীকরে হতচ্ছাড়া? অাহা, কত সুন্দর গরম গরম ফুলকপির শিঙাড়া, কী খোসবু, অার তুই কিনা শেষে টম্যাটো সস দিয়ে…ছিছিছি।
— তোমার এই টম্যাটো সসের প্রতি বিতৃষ্ণাটা অামি ঠিক ঠাওর করতে পারি না। ভাল জিনিসে ইম্পিওরোটি থাকলে তা প্রশমণ করতে হবে না?
— ইম্পিওরো…এই, কথাটা ইম্পিওরিটি না?
— ওই হল। ইম্পিওরোটি হল অাটা দিয়ে তৈরী পরোটা। বুঝবে না।
— বুঝবো না? হতভাগা ব্যাটাচ্ছেলে…থুড়ি, ব্যাটম্মেয়ে, তোর চেয়ে মিনিমাম দশ বছর এক্সট্রা ডিএলরায় মার্কা এই বসুন্ধরায় ধান্য পুষ্প এটসেটেরা ধ্বংস করে বেড়াচ্ছি, অার অামি বুঝবো না?
— খাবারটার নাম স্যান্ডউইচ কেন হল জানো?
— অ্যাঁ?
— স্যান্ডউইচ। নাম। কেন। জানো?
— {বোকার মতো লেফ্ট-রাইট মাথা ঘুরলো। মুখ বন্ধ, স্পিকটি নট। বোধহয় বুলেট প্রশ্নের অাকস্মিকতায় ঘায়েল হয়েই…}
— স্যান্ডউইচ ইংল্যান্ডের একটা জায়গার নাম জানো?
— {মাথা নাড়ানো রিপীট পার্ফরম্যান্স}
— এই স্যান্ডউইচ এক সময় একটা অার্লডম ছিলো। এখনও অাছে বোধহয়। অার্ল কাদের বলে জানো তো? রাজা বা রানী, তার তলায় ডিউক এবং ডাচেস–উইম্বেলডন দেখো?
— {মেশিনগান স্পীডে বুলেট অাসায় ধরাশায়ী হতে হতে মুখ উজ্জ্বল} হ্যাঁ, দেখেছি, স্টেফি-মার্টিনা-সেরিনা-রজার-বিয়র্ণ-নোভাক…
— অাচ্ছা অাচ্ছা বুঝেছি। এই উইম্বেলডনের শেষে ট্রফি কারা দেয় জানো?
— ওই তো টাকমাথা দারুণ লম্বা লোকটি, অার একজন শাদাচুল ভদ্রমহিলা।
— ওরা ডিউক অার ডাচেস অফ কেন্ট। এই কেন্ট একটি কাউন্টি। অার্ল টাইটেলটাও সেরকমই। অ্যাংলো-স্যাক্সন ইয়ার্ল (jarl) থেকে এসেছে।
— কিসুই বুঝলাম না।
— হুম। সে অার অাশ্চর্য কী? যাক গে, একজোন বিশেষ অার্লের কথা বলি। ইনি স্যান্ডউইচ নামক এক জায়গার অার্ল ছিলেন।
— স্যান্ডউইচ সত্যিই একটা জায়গার নাম?
— তা নয় তো কী? সন্দেহ থাকলে অ্যাটলাস খুলে দেখে নাও।
— অ্যাটলাস অাবার কে খোলে। বিধুজ্যাঠার কাছে অ্যাটলাস দেখে দেখে যখন বেরোই তখন মুখ দিয়ে অটোম্যাটিক “অ্যাট লাস্ট” বেরিয়ে পড়ে। তুই অার শুরু করিস না।
— ওকে। তাহলে অামার কথাই বিশ্বাস করো। স্যান্ডউইচ একটা জায়গার নাম। তার অনেক অার্ল ছিল, কিন্তু এদের মধ্যে একজনের তাস খেলার ভীষণ নেশা ছিল। সারাদিন বসে বসে তাস খেলতেন বন্ধুদের সঙ্গে।
— খেতেন না?
— সেটাই তো ব্যাপার। ওনার নেশা এমন ছিল যে খেতে ওঠার ফুরসতও থাকতো না। অারে খেতে উঠলেই তো তাস থেমে যাবে।
— কী খেতো লোকে তখনকারদিনে? ভাত-মাছ নিশ্চই নয়।
— এটা ইংল্যান্ড পুলুদা, পাঁউরুটি অার মাংস। ঝোল-তরকারি না, রোস্ট কিম্বা স্মোকড।
— বাঃ, বেশ তো।
— তোমার রোচবে বা। তোমার যা বাঙালী বিরিয়ানী খাওয়া প্যালেট…
— প্যালেট? রঙ করবো?
— অারে বাবা পেন্টের প্যালেট নয়, জিভের স্বাদ বোঝার রেঞ্জকে প্যালেট বলে। যাকগে, তো এই অার্লকে লোকে স্যান্ডউইচ বলেই ডাকতো। সেটাই রীতি, ডিউক-অার্লদের তাদের জায়গা অনুযায়ী নাম দেওয়া।
— কিন্তু একটা খাবারের নামে লোককে ডাকা? ভেবে দেখ, তোকে যদি অামি পার্শে বলে ডাকতাম…এঃ হে, এমনিতেই তো ডাকি হি হি।
— উফফ, তখনও তো খাবারটা অাবিষ্কারই হয়নি, স্যান্ডউইচ মানে লোকে জায়গাই জানতো।
— কী অদ্ভুত সিচুয়েশন সত্যিই।
— হুম। তো সেই স্যান্ডউইচ তো সারাদিন তাস খেলে খেলে অার খাওয়ার সময় পান না, টেবিল ছেড়ে উঠে গিয়ে ব্রেড-মীট খাওয়া মুশকিল। তাই তিনি যেখানে খেলতেন, সেই ট্যাভার্নের মালিককে বললেন…
— নিজের বাড়িতে বসে খেলতেন না?
— লোক পাবেন কোথায়? ট্যাভার্নে সবাই অাসবে, সুবিধে।
— তাও বটে।
— তো সেই মালিককে বললেন, দুটো পাঁউরুটির টুকরোর মধ্যে মাংস পুরে দিতে।
— স্লাইস পাঁউরুটি তখন মিলতো?
— ওরে বাবা একেবারে না। বড় বড় চাকলা চাকলা ব্রেড পাওয়া যেত, ভেঙে-টেঙে খেতে হতো।
— তাহলে তো দুটো স্লাইসের মধ্যে…?
— ঠিক স্লাইস নয়, দুটো খন্ডের মধ্যে বলতে পারো। সেই নিযে স্যান্ডউইচ দিব্যি তাসের টেবিলে বসে বসেই খেলতে খেলতেই খেতে পারতেন।
— তা অার নতুন কী? পাওয়ার লাঞ্চ লোকে করে না?
— পাওয়ার লাঞ্চই বটে।
— পাওয়ার—উফফ, পুলুদা। চল চল বিধুজ্যাঠা ডেকেছেন কীসব নতুন জিনিস নিয়ে বলবেন চল চল।


#সোঘো, ১৭:২১, ৮ ফেব ২০১৬ – ১৯ ফেব ২০১৭, তিলোত্তমা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s