কোল্ড ওপেন।

দ্য স্টোরি সো ফার।

সকাল। চা। সসপ্যান। ফুটন্ত জল। অ্যালুমিনিয়ামের ঢাকনা। স্টিলের চামচ। অাউচ।

রিক্যাপ শেষ।

টাইটেল কার্ড। জামিন রাওয়াদির ম্যুজিক।

এস্টাব্লিশিং শট। টালিগঞ্জ।

কুইক কাটস। বাড়ির বিল্ডিং। ফ্ল্যাটের দরজা। অামার ঘর। অামি। অাঙুলে টুথপেস্ট। মুখে বিরক্তি।

টুথপেস্টের মাহাত্ম্য মহান, এ কথা অাগেই বলেছি। এ খবরের সোর্স সেই সোর্স, যার কোন সোর্স নাই। অর্থাৎ ইন্টারনেট।

অামার বাঙালী। তাই তো? সুতরাং সব ব্যাপারে পোস্ট-কলোনিয়াল মার্কিন-গ্লোবাহিপ্নটিজমের বশবর্তী না হয়ে কোন কোন ক্ষেত্রে সহজাতভাবে যে ইংরিজি শব্দটা সুরুৎ করে মেট্রোর স্টেশন অাসার সময় হলে যত ভীড়ই থাকুক না কেন যতীনদাসপার্কের পাব্লিক ঠিক ঠেলেঠুলে দরজার কাছে যেমন ম্যাজিকালি উদয় হয় ঠিক তেমনই জিভের অাগায় ফুড়ুৎ করে উড়ে এসে চড়ে বসে সে…

কাট্ কাট্। বাক্যটা কেমন জানি বড় হয়ে গেল, তাই না? খেই পাচ্ছি না। রিটেক!

রোল ক্যামেরা। বোল সাউন্ড। সাইইইলেন্স…

অন্তর্জাল। জঘন্য শব্দ। শুনলেই ছোটবেলাকার ইন্দ্রজাল কমিক্সের কথা মনে পড়ে যায়। মানে ইন্দ্রজাল কমিক্সকে অামি নস্টালজিয়ার মত ভালবাসি, বাট স্টিল। জেম্স হ্যাডলি চেজের পার্লেপপিন্সমার্কা অনুবাদগল্পের নামের মত শোনাচ্ছে। সুতরাং, ইন্টারনেট।

এই ইন্টারনেট অতি অদ্ভুত এক জীব। শুরু যখন হয়েছিল তখন নাম ছিল অারপানেট, পরে নাম বদলে হয় ডারপানেট। মাছধরারনেট হয়নি এই ভাগ্যি। এই ইন্টারনেটের মাধ্যমেই অাজকাল সবকিছু হয়। এর উপরেই ওয়ার্ল্ডওয়াইডওয়েব দাঁড়িয়ে অাছে, ফেসবুক দাঁড়িয়ে অাছে, ক্যাশলেস সোসাইটিও দাঁড়িয়ে অাছে।

সোসাইটিকে ক্যাশলেস করতে গিয়ে মানিলেস করে দেয়নি এই ভাগ্যি। বেশ কিছু লোকের জীবন চিরকালের মত নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে যেমন এটিএম ক্যুতে দাঁড়িয়ে হার্ট্যাটাক করা মিঃ অমুকও অাছেন, তেমনই ছোট ব্যবসা হারানো শ্রীমতি তমুকও অাছেন, অাবার রিয়েল এস্টেটের ধাক্কাটা সহ্য না করতে পেরে বারো বোতল ৪০% ভদকা খেয়ে সুইসাইড করা শেঠ নিমকলালও অাছেন। ক্যানসার। কিমোথেরাপি। চোখের জল।

এন্ড অ্যাসাইড। ব্যাক টু প্রেজেন্ট অ্যাকশ্যন।

অাঙুলের টুথপেস্ট লাগাতেই জ্বলুনিটা কমে এল না, এক্কেবারে টাটা-বাইবাই করতে করতে নেতাজি সুভাষের বোর্ডিং পাস নিয়ে গেট নং ৩এ অবধি গিয়ে হঠাৎ বাক্সপ্যাঁটরা বগলে রিভার্স গীয়ার মেরে সোজা ব্যাক টু অাঙুল। টোটাল টাইম, ঠিক সাড়ে সাঁইত্রিশ সেকেন্ড।

কী গেরো।

হাউএভার, রিঅ্যানালাইজ। ফিরে এসেছে বটে, কিন্তু—কিন্তু—কিছু একটা ভুলে এসেছে মনে হচ্ছে না? চেক-ইন লাগেজটা নিয়ে অাস—ইয়েস, কম্প্লীট ভুলে গেছে। চেক-ইন লাগেজ : তিনটনের টিনের ট্রাঙ্ক গোটা অাড়াইশো, পঁচিশটা হোল্ডল, বারোশো খইয়ের বস্তা, অার সাড়ে বত্রিশখানা কমোড — স্রেফ এয়ারপোর্টে ফেলে এসেছে। এতক্ষণে সে অান্তনভ ৩১৪-এ চড়ে নর্থহোলে রওনা দিয়েছে। এক্সট্রা ভাড়াটা গেল। বেশ হয়েছে।

মানে যাকে বলে ছিল ভুট জলকিয়া, হল পাতি ধানি লঙ্কা।

এদিকে টুথপেস্ট লেপা ডান হাতের তর্জনী অাউট অফ অ্যাকশ্যন, সুতরাং জুতো পরা এটসেটেরাতে নির্ঝঞ্ঝাট লাফালাফির অানন্দ লাভ করলুম।

হাতফাত মিলিয়ে বাইফাই বলে সাঁই করে দরজা দিয়ে বাঁই করে বেরিয়ে গিয়ে ট্যাক্সির খোঁজ করলুম। ভাগ্য যে কেন বাধ্যতে সেটা বুঝেই গিছলাম, ট্যাক্সি পেতে সময় লাগল পৌনে কুড়ি মিনিট। অ্যালিসের শাদা খরগোশটারও বোধহয় এতটা প্যালপিটেশন হয়নি।

কাঁ করে ট্যাক্সির পিছনের দরজাটা খুলে ধাঁ করে পিছনে ধপাসিয়ে হাঁ করে নিঃশ্বাস নিয়ে শাঁ করে ঠিকানাটা বাতলাতেই ট্যাক্সিটা সাঁ করে হুউউশ করল।

অামিও পিছনের বাঁদিকে স্যুইটস্পটটা খুঁজেপেতে বের করে বডি ছেড়ে দিয়ে পকেট থেকে ফোনটা বের করে নম্বর টিপলাম।

এস। ও। এস।

মাই ওনলি হোপ।

(চলবে)

(#চামলমও_টুথপেস্ট)


#সোঘো, ১৪:৪০, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, তিলোত্তমা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s