রিক্যাপ।

চা। সসপ্যান। ফুটন্ত জল। অ্যালুমিনিয়ামের ঢাকনা। স্টিলের চামচ। অাউচঅাউচঅাউচঅাউচ।

ঠান্ডা জল। অাউচঅাউচঅাউচ। ঠান্ডা কৌটো। অাউচঅাউচ। টুথপেস্ট। অাউচ।

ট্যাক্সি। এস। ও। এস। ওবি ওয়ান, ইউ অার মাই ওনলি হোপ।

এন্ড রিক্যাপ।

ট্যাক্সিটা এসে সামনে স্টাইল করে ব্রেক কষে দাঁড়াল। নম্বরটা অাগেই মিলিয়ে নিয়েছিলাম, ব্যাগের স্ট্র্যাপটাও অালগা করে নিয়েছিলাম, পিছনের বাঁ সাইডের দরজাটা খুলে ব্যাগটা কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে ডানদিকের সীটে অালগোছে ছুঁড়ে ফেলে নিজে বাঁ সীটে সেঁধিয়ে অাঙুল বাঁচিয়ে দরজা বন্ধ করতে করতে নিজের নামটা কনফার্ম করে ড্রাইভারকে গন্তব্য বলে সীটের স্যুইটস্পটটা খুঁজে বের করে গা এলিয়ে দিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পকেট থেকে ফোনটা বের করে নম্বর টিপলাম।

নম্বর টিপলাম বলাটা বোধহয় টেকনিকালি ভুল। নম্বর সেভ করাই অাছে, স্পীডডায়ালের শর্টকাট হোম স্ক্রীনেই অাছে, গোল চাকতিটাকে একবার টিপলেই ফোন ঠিক জায়গায় চলে যাবে।

রিং রিং। রিং রিং।

চানে অাছে বোধহ—

— গুডমর্নিইইং!

লোকে বলে, মুখই নাকি অন্দরের অায়না। টেনশন, উদ্বেগ, ভয়, কষ্ট, ব্যথা, বেদনা, দুঃখ — ভেতরে ভেতরে যাই চলুক না কেন, বাইরে মুখে ধরা পড়বেই। শুধু নেগেটিভ কেন, অানন্দ খুশি রিলীফ — এসবও নাকি মুখের অায়নায় হুবুহু ফুটে ওঠে। অামি নিজে বিজ্ঞানের ছাত্র, এক্স ইক্যুয়েল টু এফ অফ এক্স বুঝি, মানুষের মুখ অার তার মনের অবস্থার মধ্যে কী সম্পর্ক লুকিয়ে অাছে, কী কোরিলেশন অাছে তা বুঝতে অামি খুব একটা ভাল যে পারি তা নয়। যাকে ফোন করছি, সে কিন্তু খুব ভালই পারে। মুখ দেখেই বলে দিতে পারে খেয়েছি কিনা, বা কোন ব্যাপারে অত্যধিক অতিরিক্ত চিন্তাটেনশন করছি কিনা, বা ঘুম হয়েছে কিনা। কীভাবে পারে বলতে পারব না, কিন্তু ডেমনস্ট্রেশন প্রচুর দেখেছি তো, কোনবার ভুল পাইনি। একজন বৈজ্ঞানিকের পক্ষে এতটুকু যথেষ্ট*।

গুডমর্নিংটা শুনে অামার মুখে যে পরিবর্তনটা এল সেটা যদি সেই ব্যক্তি দেখত তক্ষুণি ডায়াগনসিস দিত যে অামার ভেতরের টেনশন চিন্তা উদ্বেগ সব এক নিমেষে ড্রেন দিয়ে সোজা ঈস্ট কলকাতা ওয়েটল্যান্ডের দিকে পাড়ি দিয়েছে, অার তার বদলে এসেছে এক উজ্জ্বল হাসি। যাকে বাংলায় বলে স্মাইল।

— গুডমর্নিং!
— গাড়িতে উঠেছ?
— এইমাত্র উঠলাম।
— ঘুম হল ভাল?
— সুপার্ব।
— সুপার্ব?
— সুপার্ব।
— হুম, তার মানে রাতে ঘুম ভেঙেছে। ক’টায়?

হয়ে গেল। বোঝে কী করে?

— না মানে—
— গলায় কিছু একটা অন্য টেনশন শুনছি। কী হয়েছে?
— কী হয়েছে? কী হবে?
— কী হয়েছে ঠিক করে বল।

এ যেন ওয়েস্টওয়ার্ল্ডের অ্যানালিসিস মোড। গলায় এই টোন শোনা অার সোডিয়াম পেন্টোথ্যাল** খাওয়া একই ব্যাপার।

— ইয়ে মানে—
— কী হয়েছে?
— না, মানে—
— শোন। তোমার এই ইয়ে মানে না মানে যদি চলতে থাকে তাহলে কপালে দুঃখ অাছে। সাফ সাফ বতাও, কী হয়েছে?

অ্যানালিসিস মোড : অন। থায়োপেন্টাল ইঞ্জেকশন : অ্যাডমিনিস্টার্ড।

অার, সেদিক থেকে দেখতে গেলে, ডান হাতের তর্জনীতে পুরু করে টুথপেস্ট লাগান। একটু পরেই দেখতে পাবে। তার চেয়ে গুস্তাখী কবুল করাই মঙ্গলের।

— চায়ের চামচটা গরম ছি—
— হাত পুড়ে গেছে? ইশশ। কোন মানে হয়? কী লাগিয়েছ? বার্নল তো নেই বাড়িতে। ঠান্ডা জল—বরফ লাগিয়েছ? তা তো অাবার বাড়িতে থাকবে না। টুথপেস্ট—টুথপেস্ট লাগিয়েছ?

জানল কীকরে? কীকরে জানল? হাউ ইজ দিস পসিবল?

— ইয়ে মানে—
— অাবার?
— হ্যাঁ। লাগিয়েছি। পুরু করে।
— গুড। শিগগীর এস। অামি মলম লাগিয়ে দেব।

কলটা অফ করে ফোনটা লক করে পকেটে পুরে বাইরে তাকালাম। বসন্তের সবুজ চারদিক অালো করে রেখেছে। দূরে একটা কোকিল ডাকছে, গাড়ির ইঞ্জিনের অাওয়াজের উপরেও অাবছা শুনতে পাচ্ছি। ফুরফুরে না-ঠান্ডা না-গরম একটা প্রাণকাড়া হাওয়া বইছে।

অাঃ। নিশ্চিন্তি। শান্তি।

(চলবে)

(#চামলমও_টুথপেস্ট)


#সোঘো, ১৫:১৭, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, তিলোত্তমা।
* টেকনিকালি বলতে গেলে, না। এটা থিওরিকে রিইনফোর্স করছে, প্রুভ করছে না। কিন্তু এটা পদার্থবিদ্যা নয়, মনুষ্যবিদ্যা, ফাজি লজিক এখানে রাজা। অতএব…

** ট্রুথ সেরাম। অারেকটা নাম সোডিয়াম থায়োপেন্টাল। একধরনের বার্বিটুরেট। হায়ার ব্রেন ফাংশান সাপ্রেস করে। যেহেতু মিথ্যে কথা বলা সত্যি বলার চেয়ে বেশি জটিল, থায়োপেন্টাল দিলে সত্যিটা বেরিয়ে অাসার সম্ভাবনা বেশি। অনেকটা বেশিরকম মদ গিললে যা হয় অার কি।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s