লেডি গ্রে চা-টা বেশ ভাল।

অামি অার্লগ্রের ভক্ত। অামার লেখা যাঁরা রেগুলার পড়েন তাঁরা হয়ত এটা জানবেন। অার্লগ্রে অাদপে ভালো কোয়ালিটির কালো চা-পাতা, তাতে বার্গ্যমট ফলের এসেন্স দেওয়া। লেডিগ্রে একই ব্যাপার, শুধু এর ওপর লেবু ও কমলালেবুর খোসাও থাকে।

লেডিগ্রে চা পাওয়া সহজ নয়। লন্ডনের ট্যুইনিং কোম্পানীর চা, কলকাতার সব সুপারমার্কেটে পাওয়া যায় না। সল্টলেক সিটিসেন্টারে সিথ্রী থেকে অাজ যোগাড় করলাম। করেটরে স্টাডিতে ফিরে পত্রপাঠ এককাপ বানিয়ে এই লিখতে—

রিক্যাপ!

জয় মা পারোশ্বরী!

না না, অারেকটু অাগে থেকে।

অ।

রিক্যাপ!

গরম চায়ের চামচায় হাত পুড়ে গেছে। হাতে টুথপেস্ট লাগিয়ে ট্যাক্সিতে উঠে ফোনে এসোএস ছেড়েছি। জবাবেও এসোএস পেয়েছি। ওলা ট্যাক্সিতে ডেস্টিনেশ্যন দিতে ভুলে গেছি। চেতলার বদলে তাই এক অজানা অজেয় অপূর্ব রাস্তায়—

{— ওহে বুদ্ধিমান, এটা সদানন্দ রোড।}

গলাটা পারোশ্বরীর। গতবার বললাম না, অামার সোর্সকোডে সামহাউ একটা সাবরুটিন ঢুকিয়ে রেখেছে, বাবা লোকনাথের মত বিপদে-অাপদে ঠিক অ্যাক্টিভেট করে যায়। মে-ডে টাইপের।

সদানন্দ রোড। হুম। তার মানে ভুল রাস্তা। তার মানে দেরী—

রোক্কে রোক্কে!

ঘ্যাঁচ করে ট্যাক্সি ব্রেক কষল।

ভাগ্য ভাল সিংজী সিংজী বলে উঠিনি।

— কী হয়েছে স্যার?

ড্রাইভারটি ভালমানুষ। রাস্তা খুব একটা যে চেনেন বলে মনে হচ্ছে না, কিন্তু মানুষ ভাল। কিন্তু ভাই, চেতলা কে না চেনে? অন্তত ট্যাক্সি ড্রাইভার?

— চেতলা যাব তো? অাপনি সোজা চলে এলেন যে?
— অাপনি তো ডেস্টিনেশান দেননি স্যার। নেভিগেশান—
— কী মুশকিল, চেতলা যাব বললাম তো।
— তা অামি তো চেতলা চিনি না স্যার।
— চেতলা চেনেন না!?
— না স্যার।
— ট্যাক্সি চালাচ্ছেন চেতলা চেনেন না?
— স্যার অামি দমদমের ছেলে। জন্মেছি কোন্নগরে, তারপর পনের বছর থেকে সিঁথির মোড়ে বাড়ি। এদিকটায় তেমন অাসা হয়নি।
— যাঃ। তাহলে উব্যর কীকরে চালাচ্ছেন?
— উবের নয় স্যার, ও—
— হ্যাঁ হ্যাঁ, ওলা। কীকরে চালাচ্ছেন?
— নেভিগেশান দিয়ে স্যার।
— কদিন চালাচ্ছেন?
— দু’মাস স্যার।
— গাড়ি চালাচ্ছেন দু’মাস?!
— না স্যার, ওলা চালাচ্ছি দু’মাস।
— তাই বলুন।
— অাগে জেরক্সের দোকানে কাজ করতাম দাদা। সমর জেরক্স। পাড়ার দাদার দোকান, সমরদা, সমর হালদার। অাগে এলাইসি এজেন্ট ছিল দাদা। টাকা জমিয়ে দোকান করেছিল।
— চাকরী ছাড়লে কেন?
— অাজকাল এস্মার্টফোন অাসাতে লোকে অার অত জেরক্স করে না স্যার।
— স্মার্টফোন? যাব্বাবা, স্মার্টফোনের সঙ্গে জেরক্সের কী সম্পর্ক? স্মার্টফোনে তো অার জেরক্স হয় না।
— না স্যার, তা বলতে পারব না স্যার। তারপর ওই মোদী বলল না, পাঁচশ-হাজার চলবে না, তারপর থেকেই সমরদার বিজনেস মার খেল দাদা।
— পাঁচশ-হাজার না চললে জেরক্সের দোকান মার খাবে কেন? জেরক্স তো পাঁচ-দশ টাকার ব্যাপার, তার সঙ্গে পাঁচশ-হাজার—
— না স্যার, সেসব বলতে পারব না, কীসব ব্যাপার ছিল।
— হুম। ঠিক করে বল তো, কেন দোকানটা উঠেছিল।
— স্যার, বলতে পারব না স্যার। অাপনি কোথায় যাবেন বলুন।

হাইলি সাসপিশাস।

গুগলম্যাপ খুললাম। লোকেশ্যন অন করলাম। কোথায় অাছি দেখলাম। তপন থিয়েটার পেরিয়ে কালী টেম্পল রোডের ক্রসিং ক্রস করে দাঁড়িয়ে অাছি। সামনে থেকে ডাইনে নিলে উজালা চানাচুরের গলিটা। উজালার উল্টোদিকে বগলিংগেম্স ক্যাফে। কতদিন ভেবেছি যাব, যাওয়া হয়নি।

— সামনে থেকে ডাইনে নিন।

ড্রাইভারটা চুপচাপ গাড়ি স্টার্ট দিল। একটাও কথা না বলে উজালার রাস্তাটায় ঢুকে মেন রোডে, অর্থাৎ এসপিমুখার্জিতে এসে বাঁদিকে ঘুরল, ঘুরে অারও চুপচাপ হাজরা রোডের ক্রসিং থেকে ইউটার্ন নিয়ে ব্যাক টুওয়ার্ড্স রাসবিহারী।

হাইলি সাসপিশাস। এলাইসি এজেন্ট, সে টাকা জমিয়ে দোকান দিয়েছে, তারপর ডিমানিটাইজেশ্যন হতেই সে দোকান গায়েব—?

— দোকান উঠে যাওয়ার পর এই সমরবাবু কী করছেন?

তক্ষুণি তক্ষুণি উত্তর এল না। অারেকবার প্রশ্নটা করলাম। কী জানি, হয়ত শুনতে পায়নি। এবারেরবার কেমন যেন নিস্পৃহভাবে জবাব দিল লোকটা।

— ওই, ইনশিওর এজেন্টের কাজেই ফিরে গেছে স্যার।

গলায় এক ফোঁটা কনভিকশন নেই।

যাকে বলে, বেশ পুঁদিচ্চেরী ব্যাপার*।

যাই হোক, প্ল্যান ইজ দিস। ভেরী সিম্বুল। উই গো রাসবিহারী। উই টার্ন রাইট। উই গো চেতলা ব্রীজ। ট্রালালাটোস্টেডচীজ—

ট্রিংট্রিং। ট্রিংট্রিং।

সেরেছে।

পারোশ্বরী!

— হ্যালু!
— কৈ গো, কোথায়?
— ইয়ে মানে, রাসবিহারী।
— রাসবিহারী?! মানে?! এত জ্যাম?
— না, মানে, জ্যাম তেমন নেই—দাদা ডানদিকে নেবেন—
— জ্যাম নেই মানে? অার ডানদিকে মানে? ডানদিকে কোথায় নেবে? ডানদিক তো নেই।
— অ্যাঁ? কী? ডানদিকে নো রাইট টার্ন?
— কী বলছ? অাছো কোথায়?
— বলছে ডানদিকে নো রাইট টার্ন।
— কোথায় বলছে? কোথায় নো রাইট টার্ন?
— দাদা তাহলে অাপ—একমিনিট বলে দি—দাদা তাহলে অাপনি সোজা নিয়ে অাবার সেই পেট্রলপাম্পের রাস্তা দিয়ে—
— পেট্রলপাম্প?!

সেরেছে!

(চলবে)

(#চামলমও_টুথপেস্ট)


#সোঘো, ২১:০৮, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, তিলোত্তমা।
* মিক্সড মেটাফর হতে পারে, অার মিক্সড রেফারেন্স হতে পারে না? না হয় একই লেখাতে ফ্রম জটায়ু টু প্যালা, ফ্রম লালমোহন টু কমলেশ, ফ্রম মাণিক টু নারাণ গেলাম, তাতে হয়েছেটা কী, অ্যাঁ?

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s