ছোটবেলায় বহুবার দিল্লী গেছি। থাকতাম ডায়মন্ডহারবার, ভাড়া গাড়ি বা ট্যাক্সিতে করে হাওড়া স্টেশনে এসে বিকেলবেলার রাজধানী ধরতাম। লাল টুকটুকে ট্রেন, বাকিগুলোর মত ধ্যাবড়া নয়। বাইরে শাদা অক্ষরে লেখা থাকত এয়ার কন্ডিটিওন্ড, বা এয়ার কন্ডিটিওনিং।

ট্রেনে উঠেই মনে হত, স্বর্গরাজ্যে এসে পড়েছি। ডায়মন্ডহারবার হোক কি কলকাতা, গরম রোদ ঘাম লেগেই অাছে। তাও অাবার ল্যাক্টোজেন খাওয়া চেহারা। ট্রেনের এয়ারকন্ডিশনিঙে ঢুকে তাই হাতে ফিরদৌস পেতাম।

যখন অারও বাচ্চা ছিলাম, মানে কোলেওঠা-লেভেলের, তখন প্রথমবারের জন্য রাজধানীতে উঠেছিলাম। গন্তব্য একই, দিল্লী। দাদা পৌঁছে দিতে এসেছিল। মে মাস, গরম প্রচন্ড। ট্রেনে ঠান্ডা কামরায় উঠে নাকি অামার মুখে এক ফিরদৌসী হাসি ফুটে উঠেছিল*।

দাদা মানে অামার একমাত্র মামা। ডায়াপারবেলা থেকে মা-মাসির মুখে শুনে অাসছি, এই লম্বা একহারা ভুরুওয়ালা শ্যামলা রঙের ভদ্রলোকটির নাম “দাদা”। সুতরাং ছোটমানুষের অব্যর্থ লজিক অনুযায়ী ইনি অামার কাছে দাদাই রয়ে গেলেন।

— অাচ্ছা বাবা, এই এয়ার-কন্ডিটিওনিং ব্যাপারটা কী?

দাদা সেবার হাওড়ায় তুলে দিতে অাসে নি। ইংরিজির প্রশ্নটা তাই বাই ডিফল্ট সিনিয়রঘোষের কাছেই গেল। ভুরুতে ভাঁজ পড়ল।

— এয়ার-কন্ডিটিওনিং? মানে?

হাত তুলে লালট্রেনের গায়ে শাদা অক্ষরগুলো দেখালাম।

— ওই যে ওই যে, এ-অাই-অার এয়ার, সি-ও-এন-ডি-অাই-টি-অাই-ও-এন-অাই-এন-জি।

সিনিয়রঘোষ অামার মুখের দিকে তাকিয়ে সেই সিনিয়রঘোষমার্কা হাসিটা দিল।

— ওটাই এয়ার-কন্ডিশনিং। টি-অাই-ও-এন, উচ্চারণ শ্যন।

চট করে অারও বছরখানের অাগেকার একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল।

অামার ছ’বছরের জন্মদিনের অাগের দিন বাবা দিল্লী থেকে এসে পড়ল। হাতে একটা ব্রাউন কাগজে মোড়া প্যাকেট। অ্যাডভান্স গিফ্টের দাবী তুলে ব্রাউন কাগজে মোড়া প্যাকেটটা হস্তগত করলুম, করে সিনিয়রঘোষের কাছেই খুলে দিতে অাবদার করলুম। সিনিয়রঘোষমার্কা হাসিটে হেসে সিনিয়রঘোষ একটা ছোট্ট ছুরি দিয়ে প্যাকেটটা কাটতে গিয়ে যথারীতি হাত কাটলেন।

সর্বনাশ-ডেটল-জল-তুলো-ডেটল-ব্যান্ডেড-অারেনানাঅামারকিছুহয়নি-রক্ত-ডাক্তার-অ্যাম্বুলেন্স-অাহাকীকরছেন-ডেটল—

ঘন্টাতিনেক বাদে প্রলয় ক্লান্ত হয়ে মোড়ায় ধপ করে বসতে গিয়ে মেঝেতে চিৎপটাং হলেন**। অামিও সুট করে ব্রাউন কাগজে মোড়া প্যাকেটটা বগলদাবা করে ভোঁতা কাঁচিটা গ্যাড়াফাই করে সোজা দোতলায় ছাপ্পরখাটে লম্বা হয়ে কচাকচ-কচ।

সরু দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল, মুহূর্তের মধ্যে দড়ি কাটল না। পাঁচ বছর তিনশো চৌষট্টি দিনের গায়ের জোর লাগিয়ে মিনিট কুড়ির মধ্যেই কাজটা নামিয়ে ফেললাম। কেল্লা ইজ ফতে!

হাল্কা প্যাকেট, খুব মোটা নয়, লম্বায়-চওড়ায় অনেকটা রাশিয়ান রাদুগার ছবির বইগুলো মত। ব্রাউন কাগজটা সরিয়ে যেটা বেরোল, দেখে তেমন রাদুগা-রাশিয়ান মনে হল না যদিও। প্রচ্ছদটা অদ্ভুত। বেশিরভাগটাই কালো, কিম্বা গাঢ় নীল। মাঝখানে একটা গোল চাকতির মত জায়গা, তাতে সবুজরঙের সমুদ্র, অাকাশিরঙের অাকাশ, কমলারঙের একটা ভেলা, তিনটে মানুষ, একটা শাদা কুকুর। একটা মানুষের মুখে দাড়ি, পরনে শাদা গেঞ্জি কালো প্যান্ট। সে একটা কাঠের লাঠিতে একটা নীলরঙা জার্সি বেঁধে প্রাণপণে ওড়াচ্ছে। একটা মানুষের সোনালি চুল, ব্রাউন জ্যাকেট, হলদে শার্ট, সবুজ প্যান্ট। বাঁ হাত তুলে কাউকে প্রাণপণে ডাকছে। এর একটা চোখ জলদস্যুদের মত কালো দিয়ে ঢাকা। তৃতীয় লোকটা—লোক নয়, ছেলেই বলা চলে—বেঁটে, মাথায় তেমন চুল নেই বললেই চলে, শুধু সামনের দিকে একগাছে চুল উঁচু হয়ে রয়েছে। এর পরনে নীল সোয়েটার, কমলা রঙের হাঁটুর নীচে শেষ হয়ে যাওয়া প্যান্ট। এ দু’হাত তুলে বাকি দু’জনের মতই কারুর যেন দৃষ্টি অাকর্ষণের চেষ্টা করছে।

ছবিটা দেখামাত্র সারা শরীরে একটা শিহরণ খেলে গেল। মনে হল, এই তো, এই গল্পের জন্যই তো অামি একুশশোউননব্বুই দিন অপেক্ষা করে অাছি। এই হবে অামার সারাজীবনের সাথী!

মাঝখানের গোল অংশটায় কিছু লেখা লক্ষ্য করলাম। বাংলা মোটা মোটা হরফে কালোর ওপর শাদা দিয়ে লেখা। তার ওপর একটা সরু হলদে ব্যান্ড, তার বাঁদিকে ওই বেঁটে ছেলেটা হাসিহাসি মুখে তাকিয়ে অাছে, পাশে শাদা কুকুরটা মুখে একটা হাড় পাকড়ে বোকাবোকা হাসছে। যেন বলতে চাইছে — কী, কেমন দিলুম, অ্যাঁ? হলদে ব্যান্ডটায় সরু কালো অক্ষরে কিছু লেখা, তারও ওপরে সরু শাদা অক্ষরে অারও কিছু লেখা। হয়ে অাকার, বর্গীয়জয়ে রেফ। এরকম শব্দ অামার ২১৮৯ দিনের জীবনে লাইফে দেখিনি। এর মানে কী? বুঝলুম না।

নীচে বড়বড় মোটামোটা অক্ষরগুলোর ওপর ফের চোখ গেল। প্রথম কথাটা বুঝলুম না। লয়ে ওকার, হয়ে হস্বই***, ত। এটাও লাইফে শুনিনি। পরের কথাটা সহজ, যদিও সাগরের জল সবুজ হয় জানতুম না। ম্যাপে ছবির বইতে তো নীলই দেখায়। তৃতীয় শব্দটা প্রথমদুটোর তলায় লেখা, কেমন অালদা হয়ে একলা হয়ে পড়েছে। দুঃখ লাগল। একটা হ, তারপর একটা অা-কার, একটা ঙ, একটা র। ইংরিজিটাও জানতুম। শার্ক!

হলদে ব্যান্ডটায় চোখ গেল। প্রথম কথাটা কিছুটা বুঝলুম। দু, বিসর্গ, সা, হ, স-এ দীগ্ঘী। বেশ সাহসী বলতে হবে। নিশ্চয়ই ওই অদ্ভুত চুলওয়ালা ছেলেটাকে বোঝাচ্ছে। পাশে যে শব্দটা অাছে সেটাও কখনও শুনিনি। অান্দাজ করলাম ছেলেটার নাম। টয়ে হস্বই, দোন্তেন্ন। টয়ে হস্বই, দোন্তেন্ন।

ডাহার বাড়ির পেছনের ছাতে একটা টিনের কৌটো থাকত। নাফেডের ছেঁড়া কাগজটা অনেকদিন লেগেছিল। সিনিয়রঘোষেরই অামদানী। বোধহয় প্রিজার্ভড অানারস ছিল। টিন মানে তো কৌটো বোঝায়, অন্তত অামার অভিজ্ঞতা তো তাই বলছে।

তাই পরপর দু’বার টিন কথাটার রিপিটিশ্যনটা প্রথমে ঠিক বুঝলাম না। এর মানে কী? কৌটোকৌটো? এর’ম কোন নাম হয় নাকি?

— টিনটিন। ছেলেটার নাম টিনটিন। বেলজিয়ামের ছেলে তো, নাম ওরকমই হয়।

সিনিয়রঘোষ। হাতে মোটা শাদা ব্যান্ডেজ, মুখে সিঘোমার্কা হাসি।

বেলজিয়াম কী? অামার চপাট প্রশ্ন।

— অ্যাটলাসটা নিয়ে এস।

অ্যাটলাসটা দাদা ব্যুরোর ওপর ছিল। অক্সফোর্ড স্কুল অ্যাটলাস, তেইস না চব্বিশনম্বর এডিশ্যন মনে নেই। দৌড়ে গিয়ে নিয়ে এলুম। বাবা খাটে হেলান দিয়ে বসে অামাকে কাছে টেনে নিয়ে অ্যাটলাসটা খুলে পাতা ওল্টালো।

— এটা কী?

এই তো সেই ডাইনোসর! গতবার বাবাই শিখিয়েছিল।

— ইওরোপ!

সিঘোস্মাইল।

— এইটে হল…?

জানি জানি এটা জানি ওই যে ওরা ফুটবল খেলে রুডবুলেট-রাইকার-ব্যানমাস্তেন…

— হল্যান্ড!

সিঘোস্মাইল।

— নেদারল্যান্ডও বলে। অার তার পাশে এই হল…?

অামার চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

— বেলজিয়াম!!!

— রাইট!

পিঠ চাপড়ানি। বাবা খুব খুশি। অামিও অারও খুশি। ক্যুইজ জিতেছিইইই।

মাসছয়েক ফাস্টফরোয়ার্ড। ক্রিসমাসের ছুটি, সিনিয়রঘোষ এসেছে। কী মজা!

তদ্দিনে লোহিত সাগরের হাঙর বারপনের পড়া হয়ে গেছে। টিনটিন, কুট্টুস, ক্যাপ্টেন হ্যাডক, স্কাট — এদের সঙ্গে খুব ভাল বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। এদের গল্প যে লোহিত সাগরেই শেষ নয়, বরফঘেরা তিব্বতে বন্ধু চ্যাংকে খুঁজে পেতে টিনটিন যে বদ্ধপরিকর, সে তথ্য লোসাহার ব্যাককভারেই পেয়েছি। ঠিকঠাক সময়ে অাবদারও হাইকমান্ডের কাছে পৌঁছে গেছে।

ডাহাতে যে খুব বেশি বইয়ের দোকান ছিল বলব না। ছোটবেলায় পড়া বেশিরভাগ বই হয় বাড়িতেই ছিল, নয় মা শিয়ালদা স্টেশ্যন বা কলেজস্ট্রীট থেকে অানত। লোসাহা পড়ার পর টিনটিনের নেশায় পেয়ে বসল। দাদা মাসি উত্যক্ত হয়ে একদিন ডাহার দু’টি বইয়ের দোকানের একটায় নিয়ে গেল।

দোকানের নাম সম্ভবত বাণীবিতান। ভাল মনে নেই। দোকানের মালিক দাদাকে চিনত। ব্যানার্জীবাবু অাসুন বসুন করে খুব অাপ্যায়ন করল। কী নেবেন বলুন, সঙ্গে দেখি কাঁচের গ্লাসে জল। অামার চোখ তো তখন বুকশেল্ফে চলে গেছে। খুব বেশি যে বই অাছে তা নয়। অবশ্য তাতে অামার ভ্রূক্ষেপ নেই। তিননম্বর শেল্ফের একদম ওপরের থাকে যা চাইছিলাম তাই।

দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পর বই নিয়ে অামি সোজা দোতলায়। তারপর বই শেষ না করে শান্তি নেই। শুরুটা হয়েছিল বেচারা চ্যাং দিয়ে, মাঝে পরপর বেচারা ষাঁড় বেচারা ক্যাপ্টেন বেচারা টিনটিন বেচারা কুট্টুস ইত্যাদি মনে হল। একদম শেষে বেচারা ইয়েতি ভাবতে গিয়ে কয়েক ফোঁটা জল গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে শেষ পাতার ৬২ সংখ্যাটাকে চিরকালের মত মুছে দিল।

তারও কয়েক মাস পরে ক্রিসমাস। ক্যাথলীনের কেক হাতে সিনিয়রঘোষের অাবির্ভাব। খুব হইহুল্লোড় মজা। পরের দিন সকালে নীচের ঘরের খাটে বসে সিনিয়রঘোষকে নতুন বই দেখানো চলছে।

— এই যে বাবা, লোহিত সাগরের হাঙরের পরে এই পরের অ্যাডভেঞ্চার।

— তাই? অ্যাডভেঞ্চার মানে কী বল তো?

— অ্যাডভেঞ্চার মানে ওই—ওই কয়েকজন লোক মিলে যখন সবাই কোথাও যায়, অার সেখানে মিস্ট্রী থাকে অার লোকে সেই মিস্ট্রীটাকে সল্ভ করে অার মজা হয়।

সিঘোমার্কা স্মাইল দেখে বুঝলাম, ক্যুইজে পাশ।

— অামি জোরে জোরে পড়ি বাবা?

সিঘোমার্কা স্মাইল ঘাড় হেলাল — এগিয়ে যাও, গো অ্যাহেড।

কাট টু অারও বছরখানেক বাদে। তিব্বতের টিনটিনের পর পান্না কোথায়?, পান্না কোথায়?-এর পর টিনটিন কোথায়?

অার তো টিনটিন নেই। এই তিনটেই।

মাথায় অাকাশ ভেঙে পড়ল। অ্যাস্টেরিক্সের সাথে পরিচিত থাকলে ভাইটালস্ট্যাটিস্টিক্স ওরফে বিশালাকৃতিক্সের ভয়টা সত্যি হত।

টিনটিন ছাড়া বাঁচব ক্যামনে****?

বাবার কাছে নীলকাগজে এসোএস গেল। চিঠি লেখা রপ্ত করছি, হলদে শক্ত কাগজ হলে পোস্টকার্ড, তাতে কী লেখা অাছে টুক করে পড়া যায়। নীল নরম কাগজ হলে ইনল্যান্ড লেটার, অাঠা লাগাতে হয়, ছোট প্লাস্টিকের পেপারকাটার দিয়ে কেটে পড়তে হয়।

হলদে কাগজেই উত্তর এল। চিন্তা নেই, তোমার জন্য ইংরিজি টিনটিন অানছি।

টিনটিন ইংরিজিতেও হয়?

লালটুকটুকে হাওড়ারাজধানী ঠিক দশটা পাঁচে ইন করল। প্ল্যাটফর্মে সিঘোকে রিসীভ করতে ডাহা থেকে বড় দল এসেছে। টীমলীডার অবশ্যই অামি, মনের সুখে তখন স্ট্র দিয়ে গোল্ডস্পট টেনে যাচ্ছি। বাঁ হাত ধরে দাদা, পাশে মাসি, অার গাড়ি চালিয়ে নিয়ে এসেছে দাড়িওয়ালা রাধামামা। রাধামামা ডাহাতে অামাদের প্রতিবেশী ও একসময়কার ভাড়াটিয়া। ব্যাঙ্কে চাকরী করে। মা কলেজে।

মালপত্র সমেত সিঘো গাড়িতে এসে উঠল। সিঘো সামনে, পাশে অামি, পেছনে দাদা ও মাসি। পুরনোদিনের অ্যাম্বাস্যাডর গাড়ি, সোফা সীট, সামনে তিনজন বসার কোন প্রবলেমই নেই।

গুছিয়েটুছিয়ে বসেটসে গাড়ি স্টার্ট নিয়েছে, এমন সময় কোলের কালো ব্যাগ থেকে ব্রাউন কাগজে মোড়া একটা প্যাকেট বেরোল। ঠিক টিনটিনের সাইজে। সঙ্গে হাতব্যাগ থেকে একটা ছোট্ট কাঁচি বেরোল। কুটুস করে কুট্টুস বেরিয়ে পড়ল।

Tintin in Tibet।

দিনদুই পরেকার ঘটনা। ডাহার বাড়িতে সকালবেলা খাবারদাবার সেরে সিঘোর সঙ্গে নীচের ঘরের খাটে বসে গল্পগুজব করছি। টিনটিন ইন টিবেট পড়ে শোনাচ্ছি। সিঘো চোখ অাধবুজে অারামসে শুনে যাচ্ছে।

ক্যাপ্টেন, টিনটিন ও প্রফেসর ক্যালকুলাস ছুটি কাটাতে পাহাড়ে এসেছে। হোটেল ডের সমেট্স না ডেস সমেট্স, ঠিক মনে নেই। রাতে টিনটিন দুঃস্বপ্ন দেখেছে, তার বন্ধু চ্যাং নাকি তুষাররাজ্যে বন্দী, সে নাকি টিনটিনের সাহায্য চাইছে। টিনটিন অত্যন্ত বিচলিত, ক্যাপ্টেন স্বপ্ন-ফপ্ন একেবারেই মানেন না, অার ক্যালকুলাস টিনটিনকে একটু চ্যাম্প্যাগ্নে খেতে বলছেন।

ঠিকঠাক ঘটনাটা অামার মনে নেই। কে কাকে কী খেতে বলেছিল সেটাও না। তিব্বতে টিনটিন শেষ পড়েছি বছর পনের হয়ে গেল। কিন্তু উচ্চারণটা স্পষ্ট মনে অাছে, অার সিঘোর হাল্কা “কোঁক” করাটাও মোটামুটি মনে অাছে।

— শব্দটার বানান কী?

অালতো মোলায়েম গলায় প্রশ্ন।

বানান বললাম। সি-এইচ-এ-এম-পি-এ-জি-এন-এ। চ্যাম্প্যাগ্নে।

সিঘোমার্কা হাসি।

— ঠিকই বলেছ। কিন্তু অারেকটা মজার জিনিস জানো?

মাথা নেড়ে না বললুম।

— ধর তুমি ওই চ্যাম্প্যাগ্নেটা যদি শ্যাম্পেন উচ্চারণ কর, তাহলে কী মজা হবে, তাই না?

অামার চিন্তা হল।

— কিন্তু ভুল বললে বন্ধুরা যদি হাসাহাসি করে? টীচার যদি বকা দেন?

— শ্যাম্পেন বললে টীচার তো বকবেনই না, উল্টে ভাল বলবেন। বন্ধুরাও ভাববে, তাই তো, সোমদেব তো ভাল উচ্চারণটা জানে।

এইভাবেই চ্যাম্প্যাগ্নে সেদিন থেকে শ্যাম্পেন হল। কন্ডিটিওনিং অারেকদিন শুধরে কন্ডিশ্যনিং হল।

বাবার শেখান।

থ্যাঙ্ক্যু সিনিয়র ঘোষ।
(চলবে)


#সোঘো, ১৭:১৮, ৫ মার্চ, ২০১৭, তিলোত্তমা।


  • শোনা ঘটনা। ডাহার লোডশেডিং-ওয়ালা মশাওয়ালা সন্ধ্যেবেলায় তক্তপোষে শুয়ে শুয়ে মাসির মুখে শোনা ঘটনা।

** প্রলয় কোন মানুষ নন। প্রলয়ঙ্কর ঘটনার অ্যান্থ্রোপোমর্ফিকেশ্যন। এই ফুটনোটটা দেওয়ার কোন প্রয়োজন ছিল না, দিলাম শোঅফ করতে, হুঁহুঁ বাওয়া অামি কত শক্ত ইংরিজি ওয়ার্ড ভুল জানি।

*** হ্রস্বই বলাটা অনেক পরে চালু হয়েছে।

**** একটু রঙ চড়ানো ইমোশ্যন। কলেজস্ট্রীট থেকে মা তখন রেগুলার বইয়ের স্টেডি সাপ্লাই দিয়ে যাচ্ছে। ভাঁড়ারে ফুড ফর থট যথেষ্ট মজুত।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s