রিক্যাপ!

গরম চায়ের চামচায় হাত পুড়ে গেছে। হাতে টুথপেস্ট লাগিয়ে ট্যাক্সিতে উঠেছি, গন্তব্য চেতলা। ট্যাক্সিওয়ালা রাস্তা চেনে না, রাস্তা হারিয়ে ঘুরছি, এমন সময় পারোশ্বরীর ফোন!

এন্ড রিক্যাপ!

শিরে সংক্রান্তি।

অাপাতদৃষ্টিতে নিরীহ এই কথাদুটোর পেছনে যে কী লেভেলের প্যানিক টেরর হার্ট্যাটাক লুকিয়ে অাছে তার ইয়ত্তা যে একেবারেরই নেই তা বললে পাপ হবে। তবুও। ছাপা অক্ষরে কী অাজকাল এলসিডির পোটেনশিয়াল ভেরিয়েশ্যনের এই দু’টি কথা দেখতে পেলেই হার্টবীট বেড়ে যায় পাল্স এক্সাইটেড হয় কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে অার—

— পেট্রলপাম্প মানে? কোন পেট্রলপাম্প? অাছ কোথায়?

সং শব্দের অর্থ ক্লাউন। অর্থাৎ ভাঁড়। চায়ের ভাঁড় যেমন ভাঙে তবু মচকায় না, ক্লাউনভাঁড় তেমন মচকায় কিন্তু ভাঙে না। ছোটবেলায় সার্কার খুবই কম দেখেছি, কিন্তু যাও দেখেছি, স্টেজে ক্লাউন অাসলেই কেমন করুণা হত। অাহা রে, বেচারাদের ওইরকম মুখে রঙ মেখে সঙ সেজে — লিটারেলি — ভাঁড়ামি করতে হয়। না করলে নাকি খেতে পাবে না। এদিকে তদ্দিনে চিত্রহারে মেরা নাম জোকারের ক্লাউন গানগুলোও দেখে ফেলেছি। ম্যানুফ্যাকচার্ড প্যাথোসটা বেশ ভালভাবেই তৈরি হয়েছে।

পশ্চিমা দেশে ক্লাউনদের দেখলে নাকি বাচ্চারা ভয় পায়। এমনও শুনেছি অনেক বড় হয়ে লোকেরও প্রধান ফোবিয়া ওই সং। অামার তো ক্লাউন দেখে কোনওদিনও ভয় লাগেনি। মানে অন্তত ২০০৮ সাল অবধি তো নয়ই। তারপর থেকে অামি সং-য়ের ইংরিজি অনুবাদ ক্লাউনই করি। ভুলেও ওই অন্য শব্দটা ব্যবহার করি না।

ইংরিজিতে হীথ কথার অর্থ ঊষর মাঠ বা প্রান্তর। অার লেজার তো খতিয়ান বা হিসেব রাখার খাতা।

ক্রান্তি অর্থে বিপ্লব। রেভোল্যুশ্যন। সর্বনাশ!

জোকারবিপ্লব!

ইশশ, বলে ফেললাম। এবার একশ-অাটবার হোমযজ্ঞ ইত্যাদি করতে হবে, পেপসোডেন্ট দিয়ে জিভ মাজতে হবে।

কী কেলো।

শির।

বল বীর বল উন্নত মম শির।

উন্নত শিরে সংক্রান্তি এসে পড়লে শিরের অবনতি ঘটে*।

— কীহে, চুপ করে গেলে কেন? পেট্রলপাম্প কেন?
— ইয়ে না মানে রাস্তা ভুল পথ…
— ভুল পথ? ভুল পথে গেলে কীকরে? কোথায় ভুল পথে গেলে?
— না মানে ওই পেট্রলপাম্পের অাগে থেকে—
— বাঁদিক নিয়ে জানি তারপর?
— বাঁদিক নিয়ে ডানদিক নিয়ে তারপর—
— বাঁদিক নিয়ে—
— না মানে ওই বাঁদিকটাই নিতে—
— কী কেচ্ছা। তাহলে কি অাবার সবটা—?
— ঘুরে এলাম। সদানন্দ রোডে পড়ে—
— তপন থিয়েটারের পাশ দিয়ে?
— হ্যাঁ। তারপর উজ্জ্বল চানাচুরের পাশ দিয়ে মেন রোডে পড়ে সামনের সিগন্যাল থেকে ইউটার্ন নিয়ে রাসবিহারী থেকে ডানদিকে—
— সে তো নিতে পারবে না।
— না, তাইজন্যই তো ফের পেট্রলপাম্পের—
— বুঝেছি। ইশশ, কী অবস্থা। অাঙুল কেমন অাছে?

তাই তো। গত কয়েক কিস্তি ধরে অাঙুলটা কেমন অাছে তাই তো খোঁজ নেওয়া হয়নি।

— ঠিক অাছে।
— ঠিক অাছে?

পারোশ্বরীর গলায় চূড়ান্ত অবিশ্বাসের সুর।

— একদম।
— ব্যথা?
— নেই।
— নেই?
— উঁহু।
— বুঝেছি। এস, দেখছি কত নেই।

এই “এস” ডাকটার মধ্যে কী যেন একটা অাছে। শুনলেই মনে হয় ট্যাক্সির দরজা খুলে নেমে সোজা দৌড়তে দৌড়তে চলে যাই। রাসবিহারী থেকে এই ল্যাক্টোজেন খাওয়া চেহারায় দৌড় শুরু করলে বছরদুয়েকের মধ্যে চেতলা পৌঁছে যাব। গ্যারান্টী।

ফোনটা পকেটে রাখছি, দেখি ড্রাইভারটা রিয়ারভ্যু মীরর দিয়ে অামার দিকে তাকিয়ে অাছে। অামার সঙ্গে চোখাচুখি হতেই চোখ সরিয়ে নিল।

ব্যাপার কী? ওইসব জিজ্ঞেস করেছি বলে ভয় খেয়ে গেছে নাকি? নাকি অন্য কিছু? পারোশ্বরীকে জানাতে হবে তো ব্যাপারটা।

— অাচ্ছা দাদা, চেতলায় হয়ে অামরা সল্টলেক যাব। ডেস্টিনেশ্যন অাপডেট করে দিলে যাবেন?

লোকটা কি একটু চমকে উঠল? স্টিয়ারিঙে হাতটা কি একটু কেঁপে গেল? নির্ঘাত না বলবে।

— যাব স্যার।

ইন্টারেস্টিং।
(চলবে)


#সোঘো, ১৭:০৪, ৬ মার্চ, ২০১৭, তিলোত্তমা।


  • কবির কাছে অামি ক্ষমাপ্রার্থী। কিছু মনে করো নাকো নজরুল।

** নিতান্তই বাজে কথা। পেছনে সূর্য থাকলে তবেই ওই সিল্ভার লাইন হয়, নচেত নয়।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s