— ঘোসবাবু—
— না, না, একদম না, এগ-দম না।
— কেয়া হুয়া? ইতনা ইক্সাইটেড কিঁউ?
— অামি শুনতে চাই না চাই না চাই না।
— অার কেয়া মুশকিল কী শুনতে চান না?
— যেটা বলতে অাসছেন অাপনি।
— অরে কেয়া বোলতে অাসছি উও হি তো অাপকো পতা নহী হ্যায়।
— পতা নহী হ্যায়? বিলকুল হ্যায়। অালবৎ হ্যায়।
— সেকী। অাপ হিন্দী বোলছেন? অাজ সূরজ কোই পশ্চিম সে তো নহী নিকলা?
— দেখুন মশাই, সাফ সাফ বলছি, না।
— না?
— না।
— কিঁউ?
— খুব সিম্পল। গত এক বছর পাঁচ মাস পাঁচ দিন ধরে লোকে ভেবে এসেছে যে অাপনি মগনলাল, তাই নয় কী?
— হামি মোগোনলাল? মতলব মেঘরাজ?
— রাইট। এক্সট্রা-অার্ডিনারি বুদ্ধি মগনলাল।
— হাহাহাহা।
— হাসবেন না হাসবেন না, দেখছেন না হামি কোতো ডিস্ট্রেস্ড?
— হাসব না অাবার? হাসির খোরাক পেলে হাসব না?
— নহী। হসিবেন না। হামি—
— কী হল? অাটকে গেলেন কেন?
— হামি হিন্দী বোলছি কেন?
— অার অামিও বাংলা বলছি। শুনতেই তো পা—পড়তেই তো পাচ্ছেন।
— ইয়ে কেয়া হো রহা হ্যায়?
— কী অাবার? খুব সিম্পল। অামরা দুজনে অাদপে তো অাসল মানুষ নই, চরিত্র মাত্র।
— চরিত্র? ক্যারেক্টার?
— অালবাত। অার চরিত্র জন্মায় লেখিকার মাথায়। ইন দিস কেস, লেখিকা একজন লেখক।
— অামি…ঘোসবাবু নই?
— কেন হবেন না? অাপনার নাম ঘোসবাবুই। শুধু যিনি লিখছেন তিনি অাপনি নন। অাপনি তাঁর একটা সত্তা মাত্র।
— অার অাপনি? অাপনিও চরিত্র? অাপনার নাম কী?
— অামার নাম নেই। থাকার প্রয়োজনও নেই। অামি লেখকের সৃষ্টি এক চরিত্র, লেখকেরই অারেক সত্তা।
— কী বাজে বকছেন। অামি সত্তা হতেই পারে, অাপনি কীভাবে হবেন?
— কেন? হতে দোষ কী?
— না, মানে, এটা তো অসম্ভব। লেখক তো পুরুষ, অামিও তো পুরুষ, অাপনি তো স্রেফ—
— নারী?
— মহিলা।
— কেন হতে পারব না? লেখকের সেক্স পুরুষ হলেই তার সমস্ত সত্তাই পুরুষ হতে হবে এমন কোন কথা অাছে নাকি?
— কী বলছেন কী?
— শুনে চোখ কপালে উঠে গেল?
— উঠবে না? অাপনি লেখককে কী বলে অ্যাক্যুজ করছেন জানেন?
— জানব না কেন? জেনেশুনেই বলছি।
— উনি স্ট্রেট—
— তার সঙ্গে তো এর কোন সম্পর্ক নেই। এই অালোচনা সেক্সুয়াল ইনক্লিনেশন নিয়ে হচ্ছে না, হচ্ছে মেন্টাল অাইডেন্টিটি নিয়ে।
— অাপনি তার মানে বলতে চাইছেন লেখক মেন্টালি হিজরা?
— না, তা চাইছি না। অ্যান্ড ফ্র্যাঙ্কলি, অামার মনে হয় অাপনার এডুকেশ্যনটা একটু কম হয়েছে।
— অামার এডুকেশ—অাপনার সাহস তো কম নয়।
— দেখুন ঘোসবাবু, দোষ অাপনার নয়। লেখক অাপনাকে যেভাবে বানিয়েছেন। হয়ত অানেডুকেটেড রাখাটাই ওনার ইচ্ছা ছিল—
— অাই অ্যাম ফিলিং ভেরি ইন্সাল্টেড।
— ইন্সাল্টেড ফীল করে লাভ নেই। অাপনিও চরিত্র, অামিও চরিত্র, অামার কে কী ফীল করছি তাতে কারও কিছু এসে যায় না।
— বাট দিস ইজ অাউটরেজাস। মানুষের হ্যুমান রাইটস থাকলে অামার ক্যারেক্টার রাইটস থাকতেই পারে।
— পারে। যদি লেখক ইচ্ছা করেন, তাহলে নিশ্চয় পারে।
— বাট—
— দেখুন ঘোসবাবু। অাপনি হলেন লেখকের সারোগেট। অাপনাকে শিখন্ডী বানিয়ে লেখক এতদিন লিখে গেছেন। অাপনার মর্যাদা অামার চেয়ে অনেক বেশি।
— অাম—অামার বেশি? কীকরে জানলেন?
— প্রথমত, অাপনি পুরুষ। অাপনার নামে চলনেবলনে—ওয়েল, শুধু বলনে, অবাক-অালাপে তো অার চলনটা বোঝানো যায় না।
— অবাক-অালাপ?
— লেখকের লেখার ঝঁর। লেখক যাঁকে পারোশ্বরী বলেন, তাঁর মাথা থেকে শব্দটা বেরিয়েছে।
— নট ব্যাড। নট ব্যাড অ্যাট অল।
— তারপর দেখুন, অাপনার একটা নাম অাছে। ঘোসবাবু! নামটা লেখকেরও হতে পারত। ইন ফ্যাক্ট, অামি যদি বাস্তব হতাম, তাহলে লেখককে অামি ওই নামেই ডাকতাম।
— হ্যাঁ, মানে অামি তো ঘো—
— অারেকটা জিনিস। অামি যে নারী সেটা কিন্তু লেখক এতদিন কম্প্লীট চেপে গেছেন।
— চেপে গেছেন? না না কয়েকজনকে বলেছেন…
— কয়েকজনকে বলা অার সরাসরি ডিক্লেয়ার করাটা এক নয় ঘোসবাবু।
— না, মানে হয়ত কোন বিশেষ কারণে করেননি। হয়ত একটা রহস্যের বাতাবরণ—
— রাখুন অাপনার রহস্য। নাম দেননি বিকজ দিতে চাননি।
— বাট বাট, অাপনি যদি চরিত্রই হোন, তাহলে নাম দেবেন না কেন? লেখকের তো বেশিরভাগ চরিত্রই মহিলা, নামধারী মহিলা।
পুলি, নীলিমা বৈদ্য, ডক্টর বৈদ্য…
— সে হোক না। তারা তো সম্পূর্ণ কাল্পনিক চরিত্র। অামায় নাম না দেওয়ার পিছনে একটা বিশেষ কারণ অাছে ঘোসবাবু।
— অাপনি কি এদের চেয়ে অালাদা?
— হ্যাঁ, অত্যন্ত অালাদা। অামি যে শুধু চরিত্র নই, অামি যে লেখকেরই এক সত্তা।
— সে তো অামিও।
— ব্যাপারটা বুঝছেন না? অাপনাকে সত্তা হিসাবে অ্যাকনলেজ করতে লেখকের কোন অাপত্তি নেই। কেন? কেননা অাপনি পুরুষ, লেখকও পুরুষ। কিন্তু পুরুষের এক সত্তা নারীসুলভ, সমাজ তো তা মেনে নেবে না।
— লেখক সমাজ বুঝে কাজকম্ম করেন বুঝি?
— করেন নিশ্চয়ই।
— অামি তো বহুবার—থুড়ি, লেখক তো বহুবার ফাইনম্যান অাওড়েছেন। What do you care what other people think?
— এটাও তো ফাইনম্যানের স্ত্রীই ফাইনম্যানকে বলেছিলেন, তাই না?
— হ্যাঁ। অার্লীন ফাইনম্যান।
— দেখছেন তো, অার্লীন ফাইনম্যান। অার্লীন গ্রীনবাউম বললেন না—
— নামটা কি এতটাই—
— ইম্পর্ট্যান্ট। ইয়েস ঘোসবাবু, ইম্পর্ট্যান্ট। বাত অাইডেন্টিটি কি হ্যায়। অাজ উইমেন্স ডে হ্যায়, অাজ দুনিয়া মে হর কোই মহিলাওঁ কো বধাই দেঙ্গে, কহেঙ্গে হ্যাপি উইমেন্স ডে। কিতনে লোগ ইসকি অসলি কীমত সমঝেঙ্গে? নারী কি কীমত হোতা কেয়া হ্যায়? পতা হ্যায় অাপকো?
— নারীর মূল্য? না মশাই, অামি জানি না। অামি অাদপে নারীই নই, জানব কীকরে?
— সহী ফরমায়া অাপনে। নারী তো হ্যাঁয় নহী, হ্যাঁয় তো অাপ অাদমী, অাপকো কেয়া মালুম?
— সেটাই তো বলছি।
— চলিয়ে অাপসে ইস বারে মেঁ লিখাই-ফিখাই এক্সপেক্ট করনা হি গলত হ্যায়। চলিয়ে ম্যাঁয় চলতী হুঁ, অাদিওস।
— অারে যাবেন কোথায়? ২০১৭ সালে শহরে প্রথম বৃষ্টি, কলকাতা তিলোত্তমা হয়ে উঠেছে। একটু রুখে যান, বৃষ্টি কমলে যাবেন না হয়।
— অগর রুখ গয়ী তো পহলী বারিশ মিস হো যায়গা। ভীগনা নহী হ্যায়?
— ভেজা? নাঃ, অার বয়স নেই। অাপনারও নেই। কী হবে ঠান্ডা লাগিয়ে? অাসুন, অামি এক কাপ অার্লগ্রে বসাই, অাপনার জন্য এক কাপ লেডিগ্রে?
— লেডিগ্রে? পিলায়েঙ্গে?
— অালবৎ অালবৎ। খাওয়াব বৈকি। সোফায় অারাম করে বসুন। চা খেতে খেতে গল্পসল্প করা যাবে, বইটই পড়া যাবে। ভাল কালেকশ্যন অাছে অামার।
— এক শর্ত হ্যায়।
— বলে ফেলুন।
— খিচড়ী মিলেগা?
— শুধু খিচুড়ি?
— উইথ অমলেট?
— মিলেগা।
— ডান।
— এক্সিলেন্ট। পাঁচ মিনিট, চা বানিয়ে অানি।
— অাসুন। ওহ্, বাই দ্য ওয়ে।
— উঁ?
— হ্যাপি উইমেন্স ডে।

 

#নারীরমূল্য


#সোঘো, ১২:৫৪, ৮ মার্চ, ২০১৬, তিলোত্তমা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s