ডক্টর বৈদ্য নামকরা বৈজ্ঞানিক ছিলেন। কিছু বছর অাগে বিদেশে ল্যাবরেটরিতে কাজ করতে গিয়ে একটা দুর্ঘটনা অন্ধ হয়ে যান। গবেষণার জীবন থেকে অবসর নিয়ে কলকাতায় ফিরে তিনি দুই মেয়েকে মানুষ করা শুরু করেন। বড় মেয়ে নীলিমা বৈদ্য মায়ের মতই বৈজ্ঞানিক, ইদানীং পার্টনার ব্রেন্ডার সঙ্গে ইওরোপে অাছে। ছোট মেয়ে পুলি এখন কলেজের থার্ড ইয়ারে, ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনো করছে। সে অাবার সাঁতারেও অত্যন্ত দক্ষ। মা ও মেয়ের কথোপকথনের মধ্যে কখনও-কখনও বিজ্ঞানের কিছু কিছু বিষয় উঠে অাসে। বৈদ্যবাটী সিরিজে তারই কয়েকটা দেওয়ার চেষ্টা করব।


 

— মা মা, এসে গেছি।
— চান করেছিস?
— হ্যাঁয়্যায়্যা।
— শুকনো কাপড় পরেছিস?
— হ্যাঁয়্যায়্যা।
— সত্যি করে বল। মাত্র পাঁচ মিনিট হয়েছে। এর মধ্যে চান করে…?
— হ্যাঁ গো হ্যাঁ। গপ্পো বলবে, তাই ঝটিপাটি করে এসেছি। এই নাও, ছুঁয়ে দেখ।
— হুম। গুড। নে, বস। হ্যাঁ, কী নিয়ে কথা হচ্ছিল যেন?
— ওই যে, বরফ জলে ভাসে কেন।
— কারেক্ট। অার না ভাসলে?
— না ভাসলে পৃথিবীতে জীবন থাকত না।
— কারেক্ট। কেন বল দেখি।
— এই রে। পাল্টা প্রশ্ন!
— অবশ্যই। সায়েন্স শিখতে এসেছে, প্রশ্ন যেমন করবে প্রশ্নের উত্তরও দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে বৈকি।
— তাও বটে। ছোটবেলায় দিদি যখন বিজ্ঞান শেখাত এভাবেই…যাই হোক, বরফ হাল্কা না হলে কী হত। হুম। ভাবি।
— ভাব। যতক্ষণ ভাবছিস, একটু ফ্রীজ থেকে বরফের ট্রে-টা এনে দে। জলটা বড্ড গরম।
— ইশশ। দেখেছ কান্ড। এই গরমে খাবার জলও খাওয়া যাচ্ছে না। এই নাও মা।
— এনেছিস?
— হ্যাঁ। ক’টা দেব?
— দিবি। তার অাগে, এটা বল তো ট্রে-তে ক’টা খোপ অাছে।
— বরফের ট্রে-তে? এক…দুই…এদিকে ছয় ওদিকে দুই…বারোটা।
— গুড। অার ক’টায় কমপ্লীট জমা বরফ দেখতে পাচ্ছিস?
— সবক’টাই তো…না, দাঁড়াও, নাড়িয়ে দেখি…হুম, গোটা অাষ্টেক।
— গুড। বাকিগুলোর কী অবস্থা?
— খানিকটা বরফ হয়েছে।
— যতটুকু হয়নি, মানে যতটা লিক্যুইড ওয়াটার অাছে, সেটা কি ওপরে ভাসছে?
— না তো। তলায় অাছে। বরফের অাস্তরণটা ওপরে, তলায় জল।
— কারেক্ট। এরকম কেন হল?
— এই চারটে খোপে জল পরে ভরা হয়েছে?
— রাইট। ঘন্টাখানেক অাগে পিকু ভরেছে। কিন্তু তার মানে কী হল? জলের ওপরের লেয়ারে বরফ থাকে, তলায় জল থাকে, যতক্ষণ না পুরোটাই বরফ হয়ে যায়। তাই তো?
— ঠিক।
— এবারে একটা জিনিস বলব যেটা এই গরম বাংলায় বসে তোরা কখনও দেখিসনি। নীলি দেখেছে, তুইও দেখবি, কিন্তু দেখতে গেলে বরফের দেশে যেতে হবে।
— বরফ পড়া?
— না। নদী জমে বরফ হওয়া।
— উউউ, কী মজা। দিদি নরওয়ের উপসালা, সুইডেনের বার্গেন, অার অাইসল্যান্ডের রেইকাভিক থেকে ছবি পাঠিয়েছিল। ও অার ব্রেন্ডা স্কেট করছিল। কী মজা!
— ব্রেন্ডা? ব্রেন্ডা নরওয়ে গিয়েও বেঁচে অাছে?
— ওই, কোনওভাবে। গায়ে বোধহয় গোটা কুড়ি গরম জামা চাপিয়েটাপিয়ে কোনওমতে । উপসালা ইউনিভার্সিটিতে কনফারেন্স ছিল ওদের। অার বার্গেন অার রেইকাভিকে কোল্যাবরেটরদের ভিজিট করতে গিছল।
— হুম। স্কেট করা দেখলি?
— দেখলাম বৈকি। স্কেটিং করতে ব্রেন্ডা উৎসাহ দিয়েছিল। শারীরিক ব্যায়াম করতে গেলে তো অাবার দিদির জ্বর অাসে। এদিকে নদীর মাঝখানটায় যেতে ওদের লোকাল গাইড বারণ করছিল, সে জায়গাটা নাকি বরফটা অতটা গভীর নয়…
— থিন অাইস। ওখানে স্কেট করলে বরফ ভেঙে জলে পড়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা।
— হ্যাঁ। রেইকাভিকের তো ওরা বরফের মধ্যেই একটা গোল চাকতি কেটে সেখানে মাছ ধরতে বসে গিছল।
— রিয়েলি? রেইকাভিক? হুম। অামিও ওখানে করেছিলাম বটে। অাইস ফিশিং বেশ মজা।
— হ্যাঁ গো। একবার যেতে হবে।
— রাইট। কিন্তু লক্ষ্য কর, নদীর টপ লেয়ার বরফ, কিন্তু তলায় দিব্যি মাছ-ফাছ ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাই না?
— হ্যাঁ গো। মানে পুরোটা বরফ হয়ে যাওয়ার মত বোধহয় ঠান্ডা নয়…কিন্তু না, অাইসল্যান্ড তো, তাপমাত্রা বোধহয় মাইনাস তিরিশ-চল্লিশ হবে…
— রেইকাভিকে মাইনাস কুড়ির নীচে খুব একটা নামে না।
— ও। তাও, তাহলে তো পুরো নদীটাই বরফ হয়ে যাওয়ার কথা। মানে শীতকাল তো অনেকদিন থাকে, তাই না?
— তাই? শিওর?
— হ্যাঁ। মানে এই বরফের ট্রেতে এই চারটে পুরোপুরি বরফ হয়নি কেননা পিকুদি মাত্র ঘন্টাখানেক অাগে জল রেখেছে। বাকিগুলো গতরাতের, এতক্ষণে জমে জ।
— তাহলে তোর মনে হয় টেম্প্যরেচ্যর যথেষ্ট কম থাকলে অার সময় যথেষ্ট দেওয়া হলে পুরো নদীটাই বরফ হয়ে যাওয়া উচিত?
— তাই তো হওয়া উচিত। না? ভুল বলছি?
— অাগে ট্রে-টা রেখে অায়। সব গলে যাবে।
— রোয়েট। … হ্যাঁ, এসে গেছি।
— এবার বল, পৃথিবীতে টেম্প্যরেচ্যর সবচেয়ে কম কোথায় হয়? কত হয়?
— অ্যান্টার্কটিকায় জানতুম। ভূগোলে পড়েছি। মাইনাস অাশি?
— মাইনাস নাইন্টির অাশেপাশে। মোটামুটি ঠিকই বলেছিস। এবার বল, এত কম টেম্প্যরেচ্যর সত্ত্বেও অ্যান্টার্কটিকার চারপাশে যে সমুদ্র অাছে—অ্যান্টার্কটিক ওশ্যন—সেটা কি পুরোপুরি জমে বরফ হয়ে যায়?
— না, তা তো যায় না। মানে, অ্যান্টার্কটিক মহাসাগরের ওপরটা বরফ, কিন্তু তলায় তো জলই জানতুম।
— তাহলেই ভাব। টেম্প্যরেচ্যর যেখানে মাইনাস সত্তর অাশি নেমে যাচ্ছে সেসব জায়গাতেও জল পুরোপুরি জমে বরফ হচ্ছে না।
— না, হচ্ছে না। কেন গো?
— এই সব শীতের দেশে নদীর জল যে জমে বরফ হচ্ছে, তা কেন?
— যাব্বাবা, ঠান্ডা বলে। তাই না?
— হ্যাঁ, ঠান্ডা, কিন্তু কোনটা ঠান্ডা? কী ঠান্ডা? কোন ঠান্ডা জিনিসের সংস্পর্শে এলে তো জল জমে বরফ হয়, তাই নয় কি?
— বুঝলাম না গো। ঠান্ডা হলেই তো বরফ হবে।
— হুম। অন্যভাবে বুঝিয়ে বলি। তুই বীরবলের গল্প জানিস?
— হ্যাঁয়্যা। বড্ড ভাল লাগে।
— সেই গল্পটা জানিস, যেখানে সেই লোকটা শীতকালে সারারাত ঠান্ডা পুকুরে কোমরজলে দাঁড়িয়ে ছিল…?
— হ্যাঁ হ্যাঁ, অাকবর তাকে পুরষ্কার দিলনা কেননা লোকটা নাকি দূরের একটা টিমটিম করে জ্বলা লম্ফ থেকে তাপ পেয়েছিল।
— রাইট। অার তারপর বীরবল গাছের ওপর…
— …একটা হাড়ি টাঙিয়ে…
— …তাতে চালডাল নুনতেল ভরে…
— …গাছের তলায় অাগুন জ্বালিয়ে…
— …খিচুড়ি রান্নার চেষ্টা করেছিল।
— হিহি। কী মজার গল্প। বড্ড ভাল গল্প মা।
— রান্না শেষমেশ হয়েছিল?
— না, হয়নি তো।
— কেন? হয়নি কেন?
— সেকি? হাড়ি তো গাছের টঙে, অাগুন তো মাটিতে। অত দূরে থাকলে তাপ পাবে কী করে?
— তাহলে কী দাঁড়াল? তাপ পেতে গেলে দু’টো জিনিস টাচ করে থাকতে হবে, তাই তো?
— হ্যাঁ। একে অপরকে ছুঁয়ে না থাকলে তো…
— এবার বল, একটা জিনিস ঠান্ডা হওয়া মানে অাসলে কী?
— অ্যাঁ? ঠান্ডা হওয়া? মানে…মানে…তাপমাত্রা কমা?
— হুঁ। ঠান্ডা হলেই যে সবসময় টেম্প্যরেচ্যর কমবে তাই কী? শূন্য ডিগ্রীতে জল ঠান্ডা করলে বরফ হয়, কিন্তু সেও সেই শূন্যতেই থেকে যায়।
— ও। তাও বটে।
— তুই ফ্রীজের পেছনে কখনও গেছিস?
— যাব না কেন? ছোটবেলায় বল গেলেই হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকতাম। বড্ড গরম।
— হ্যাঁ। ডানপিটেমোয় তুই ছাড়া কেই বা যাবে? বাট, পয়েন্ট ইজ, পেছনটা গরম। গরম কেন?
— গরম কেন? বাঃ, মোটর চলছে না? কম্প্রেস্যর।
— কম্প্রেস্যর চলে কী হচ্ছে?
— ফ্রীজের ভেতরটা ঠান্ডা হচ্ছে…ওও, বুঝেছি। কোনও কিছুকে ঠান্ডা করতে হলে কোনও অন্য কিছুকে…
— …গরম হতে হয়। ইয়েস। হীট, বা তাপ, একধরনের এনার্জি। শক্তির ক্ষয় নেই, তাই তাকে কোথাও না কোথাও যেতেই হবে।
— রোয়েট। এবার মাথায় ঢুকেছে। তার মানে…হুম, বুঝেছি।
— কী বুঝেছ হে পুলিপিঠে?
— বরফ। জল বরফ হতে হলে কোনও একটা কিছুকে গরম হতে হবে।
— হুঁ। গরম, বা অন্তত সেই তাপটা অন্য কোনও কিছুকে নিতে হবে।
— ধারণ করতে হবে।
— ইয়েস। এবার বল, নদীর জল জমে বরফ হচ্ছে কেন? একস্ট্রা হীট, মানে তাপটা কোথায় যাচ্ছে?
— তাপটা? হুমম, নদীর জঅঅল…রোয়েট, অাশেপাশের জমি?
— খানিকটা। কিন্তু বেশিটা?
— বেশিটা? বেশিটা…ও, ওপরের বাতাস! বাতাস তো হিম ঠান্ডা। সেখানেই…ঠিক বললাম?
— ইয়েস মিস পুলি। ইউ অার রাইট! ঠান্ডার দেশে শীতকালে প্রথমে জমি ঠান্ডা হয়। সেই জমির সঙ্গে হাওয়া ইন কন্ট্যাক্ট এলে…
— সংস্পর্শে এলে।
— থ্যাঙ্ক ইউ। ইয়েস, সংস্পর্শে এলে হাওয়াটাও ঠান্ডা হবে, অার হাওয়া ঠান্ডা হলে তার সঙ্গে টাচ…তার সংস্পর্শে এলে জলও জমবে, বরফ হবে।
— এইবারে বুঝেছি।
— কী বুঝেছিস?
— কেন তলার জল বরফ হয়না।
— শুনি কেন। লেট্স হীয়ার ইট।
— বরফ জলের থেকে হাল্কা, ঠিক কিনা?
— ঠিক।
— তাহলে জলের ওপরের অাস্তরণটা ঠান্ডা হাওয়ার সংস্পর্শে এসে জমে বরফ হলেও সেই বরফ ডুবে যাবে না। ঠিক কিনা?
— ঠিক ঠিক।
— অতএব, জলের ওপর বরফের একটা অাস্তরণ তৈরী হবে। যদি বরফ ভারী হত, মানে বরফের ঘনত্ব…ঠিক বলছি?
— ডেন্সিটি, ইয়েস, গো অন।
— বরফের ঘনত্ব যদি বেশি হত তাহলে বরফ ডুবে তলায় চলে যেত, অার জলের ওপরের অাস্তরণটা অাবার ঠান্ডা হাওয়ার সংস্পর্শে অাসত। এবং তাতে অারও বরফ তৈরী হত, সেটা জলের তলায় ডুবে যেত, ওপরের অাস্তরণটা ফের বরফ হত, ফের সেটা ডুবত…এমন করে গোটা নদী বা হ্রদটাই জমে বরফ হয়ে যেত। ঠিক?
— ঠিক কিউবড।
— সুতরাং, সুতরাং…এবার ধরেছি। যেহেতু সেটা হয় না, বরফ যেহেতু জলের চেয়ে হাল্কা, তাই ওপরের কয়েকটা অাস্তরণ বরফ হয়ে যাবার পর ঠান্ডা হাওয়া অার জলের নাগাল পায় না। বরফটা জলের ওপর অনেকটা কম্বলের মত একটা অাস্তরণ তৈরী করত। ঠিক?
— বটে।
— ব্যস। হয়ে গেল। তলার জলটা বেঁচে গেল।
— বাট, এখানে অামার একটা প্রশ্ন অাছে।
— করে ফেল।
— হুম। ধরে নিলাম যে বেশ, জলের ওপর নাহয় বরফের একটা লেয়ার ফর্ম করল। সো হোয়াট? সেই বরফের লেয়ারটা তো জলের সংস্পর্শে অাছে। অার লেয়ারটাও ঠান্ডা। হীট নিতেই পারে। তাহলে যে জলটা সেই অাইস লেয়ারটাকে টাচ করে অাছে সেটা জমে বরফ হচ্ছে না কেন?
— অ্যাঁ?
— হুঁহুঁ, ভেবে দেখ। কেন হচ্ছে না?
— ইয়ে, মানে…না, তা কী করে হবে?
— কেন? হবে না কেন?
— না, মানে, জল বরফ হতে গেলে তো একটা তাপ লাগে। মানে জলকে একটা তাপ ছাড়তে হয়, তাই না? অারো ঠান্ডা হতে হয়। দু’টোই শূন্য ডিগ্রীতে, কিন্তু…
— কারেক্ট। রাইট ট্র্যাক। প্রতি গ্রাম জলে অাশি ক্যালরি হীট এনার্জি…
— তাপশক্তি।
— …তাপশক্তি ছাড়তে হয়। এটাকে লেটেন্ট হীট বা এনথ্যাল্পি অফ ফিউশ্যন বলে।
— হ্যাঁ। যদি তাই হয়, তাহলে নীচের জলটাও ওই শূন্য ডিগ্রীতে, তার লাগোয়া বরফটাও শূন্য ডিগ্রীতে, নীচের জলটাকে বরফ হতে হলে…কত বললে?
— গ্রামে অাশি ক্যালরি।
— অত তাপ বরফে ছাড়তে হবে। এদিকে বরফ গলে জল হতে গেলেও নিশ্চয় অতটাই তাপ লাগবে, তাই না?
— ইনডীড।
— হয়ে গেল। তাহলে অার বরফ হবে কীকরে? মানে, বরফ হবে, কিন্তু যতটা বরফ হচ্ছে ঠিক ততটাই ফের জল হয়ে যাবে। তাই না? এই গ্রামপ্রতি অাশি ক্যালরি তাপ খালি এহাত-ওহাতই হতে থাকবে।
— দেয়ার ইউ গো। ওয়েল ডান মিস পুলি, ঠিক ধরেছ। তাহলে এবার বুঝলে তো, ফ্রোজেন রিভার বা লেকে…
— জমা নদী বা হ্রদে।
— ইয়েস, হোয়াটেভার, সেখানে স্কেট করতে যাওয়াটা নিতান্ত বুদ্ধিমত্তার কাজ নয়।
— বুঝলাম গো। কিন্তু এর সঙ্গে জীবনের কী সম্পর্ক গো? তুমি বললে বরফ জলের থেকে হাল্কা, মানে কম ঘন হলে পৃথিবীতে হয়ত প্রাণ বলে কিছু থাকত না। কেন?
— কেন মনে হয়?
— না, মানে, নদী বা হ্রদ জমে গেলে সেখানে মাছ প্রভৃতি অার থাকতে পারবে না। সেটা বুঝলুম। কিন্তু সমস্ত পৃথিবীটা তো অার অত ঠান্ডা নয়। বিষুবরেখার কাছাকাছি দেশে তো অার জল জমে বরফ হয় না। গঙ্গা-যমুনা-ব্রহ্মপুত্র-নীলনদ-অ্যামাজন কি কখনো জমে বরফ হয়েছে? অার প্রশান্ত মহাসাগর, অতলান্তিক বা ভারত মহাসাগর? এত বিশাল বিশাল জলাশয় কি কখনও পুরোপুরি বরফ হতে পারে?
— গুড কোয়েশ্চেন। এর উত্তর দেব। বাট ফার্স্ট, তোর কলেজের টাইম হয়ে গেছে, তাই না? দশটা বাজল বলে মনে হল।
— এই রে, ঠিক বলেছ তো। সেরেছে। দৌড় দি। অাজ এগারটায় স্পেশ্যাল ক্লাস, মিস করলে কেচ্ছা।
— সাবধানে যাস। অার, পুলি?
— হ্যাঁ মা?
— তোর চান করতে মিনিমাম কুড়ি মিনিট লাগে। লাইফের তুই কুড়ি মিনিটের কমে চান নামাতে পারিস নি। অাজ তুই পাঁচ মিনিটে করেছিস। হেয়ারড্রায়ারে অাঁচলের কোনা শুকিয়ে অার যাকেই বোকা বানাতে পারিস, তোর মা’কে বোধহয়…
— হিহি। তোমার চোখ এড়িয়ে…সরি।
— নো নো, নো সরি। চোখ নেই তো কী হয়েছে, “চোখ” রয়েছে। তাই নয় কি মিস বৈদ্য?
— রজার উইলকো, ডক্টর বৈদ্য।


#সোঘো, ২২:২৭, ৬ জুন ২০১৭, তিলোত্তমা।


ঘটনাপরম্পরায় যদি পড়তে চান, যদিও তার সঙ্গে বিজ্ঞানের কোনও সম্পর্ক নেই, তাহলে এর ঠিক অাগের লেখাটা এখানে : https://www.facebook.com/ghotibaatea/posts/678235859040645

#ডক্টরবৈদ্য #পুলিপিঠে #পুলিসিরিজ #পুলিওমা #ঘটিবাটী

Advertisements

2 thoughts on “বৈদ্যবাটী : বরফ কেন হাল্কা?

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s