ডক্টর বৈদ্য নামকরা বৈজ্ঞানিক ছিলেন। কিছু বছর অাগে বিদেশে ল্যাবরেটরিতে কাজ করতে গিয়ে একটা দুর্ঘটনা অন্ধ হয়ে যান। গবেষণার জীবন থেকে অবসর নিয়ে কলকাতায় ফিরে তিনি দুই মেয়েকে মানুষ করা শুরু করেন। বড় মেয়ে নীলিমা বৈদ্য মায়ের মতই বৈজ্ঞানিক, ইদানীং পার্টনার ব্রেন্ডার সঙ্গে ইওরোপে অাছে। ছোট মেয়ে পুলি এখন কলেজের থার্ড ইয়ারে, ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনো করছে। সে অাবার সাঁতারেও অত্যন্ত দক্ষ। মা ও মেয়ের কথোপকথনের মধ্যে কখনও-কখনও বিজ্ঞানের কিছু কিছু বিষয় উঠে অাসে। বৈদ্যবাটী সিরিজে তারই কয়েকটা দেওয়ার চেষ্টা করব।


— ক্লাস হল?
— হ্যাঁ গো। অাজকের মত শেষ।
— গলাটা টায়ার্ড শোনাচ্ছে। ফের চোরের পেছনে ধাওয়া করেছিস নাকি?
— সে তো সকালে।
— অার এখন কী ক্লাস নিলি?
— এখন তো অার সাঁতার নয়। অাজ ইতিহাস ছিল।
— কী পড়ালি?
— টাইটানিকের ডুবে যাওয়াটা।
— ওয়াও। তোর তো ফেভারিট টপিক। কিন্তু এত টায়ার্ড কেন?
— অারে, কী বলব। সকালে তো সেই চোরের পেছনে ধাওয়া করলাম। তার অাগে মেয়েরা চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল।
— কীরকম শুনি।
— রেস হবে। অামি ভার্সাস ওদের বেস্ট পাঁচজন সাঁতারু।
— ইন্টারেস্টিং। কীরকমভাবে হবে? তুই তো ডেফিনিটলি ওদের হারাবি।
— তাইজন্যই শর্তাবলী প্রযোজ্য। ওরা রিলে করবে, অামায় একা সাঁতার কাটতে হবে।
— মানে?
— ধর, অামি অার কমলা একসঙ্গে স্টার্ট নিলাম। পুকুরটা একবার এপার-ওপার করলে একটা ল্যাপ। দুজনেই এক ল্যাপ সাঁতার কাটলাম। অামি প্রথমে স্টার্টিং পয়েন্টে ফিরলাম, টার্ন নিয়ে দ্বিতীয় ল্যাপ শুরু করলাম…
— বেশ।
— কিন্তু, কমলা টার্ন করল না। স্টার্টে এসে থেমে গেল, মালতী জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওর ল্যাপ শুরু করল।
— ক্ল্যাসিক রিলে।
— হ্যাঁ, কিন্তু অামি একা কুম্ভ।
— তাই? তো, বুঁদিগড় রক্ষা হল?
— তা হল। কমলা উইক সাঁতারু, পিছিয়ে পড়েছিল। মালতী স্ট্রং, অনেক চেষ্টা করেছিল, কিন্তু বাকিরা অ্যাভারেজ, পেরে ওঠে নি।
— তাহলে টোটাল ফাইভ ল্যাপস?
— না গো, দশ ল্যাপ। ওরা প্রত্যেকে দু’ল্যাপ করে, অামি পুরো দশ।
— অাঃ। ইন্টারেস্টিং। তুই তো সাঁতারে স্প্রিন্টার বলে জানতুম। এন্ড্যুরেন্সে…?
— অাহা, এন্ড্যুরেন্সও পারি। অতটা ভাল নয়। দশ ল্যাপ শেষ করে খানিকটা দমের অভাব হচ্ছিল। এন্ড্যুরেন্স প্র্যাক্টিস করতে হবে।
— পুলি, তোর কী মনে হয়, রিয়েল লাইফ সিনারিওতে কোনটা বেশি জরুরি, স্প্রিন্ট সাঁতার না এন্ড্যুরেন্স?
— রিয়েল লাইফে? হুম। ধর নদীতে কেউ পড়ে গেছে, বা সমুদ্রে স্নান করতে গিয়ে তলিয়ে যাচ্ছে, তখন যে রেস্ক্যু করবে তাকে স্পীডে সাঁতার কাটা জানতেই হবে। নদী খরস্রোতা বা সমুদ্রে চোরা টান থাকলেও।
— হুম। কিন্তু যদি ধর শিপরেক হোস? ডীপ সী-তে? তখন?
— হ্যাঁ, জাহাজডুবি হলে বেশিক্ষণ জলে ভেসে থাকা, স্ট্যামিনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারা, লম্বা দূরত্ব একা বা কাউকে টেনে সাঁতার কাটতে পারাটা জরুরি। সেক্ষেত্রে এন্ড্যুরেন্স বেশি জরুরি।
— এন্ড্যুরেন্স থাকাটাই কি যথেষ্ট? ধর মাঝসমুদ্রে জাহাজডুবি হয়েছে। যতই এন্ড্যুরেন্স থাকুক না কেন, কোনও রাফ্ট বা নৌকা বা এমনকি কাঠের পাটাতন না থাকলে কি ভেসে থাকা সম্ভব? অন্তত যতক্ষণ না রেস্ক্যু পার্টি অাসছে?
— সম্ভব হতে পারে গো। অবশ্য তার জন্য হাই ফিটনেস লাগবে।
— হুম। এবার ধর, তোর শিপরেক হয়েছে হাই ল্যাটিচ্যুডে, সময়টা শীত বা বসন্তের শুরু, রাতের বেলা, অন্ধকার, জল ফ্রীজিং কোল্ড…
— ওরে বাবা, তাহলে তো হাইপোথার্মিয়া…এই, তুমি কি টাইটানিকের কথা বলছ?
— হেহে, ইয়েস ইন্ডীড।
— জানো টাইটানিক অামার খুউব ফেভারিট বই?
— তা একটু-অাধটু জানি বৈকি। তোর অার নীলির সেই টাইটানিক নিয়ে কথাবার্তাটার জিস্ট শুনেছি।
— কোন মানে হয়? ওই একটা দরজায় ওরা দু’জনে ধরল না? জ্যাককে মরে যেতে হল? কোনও মানে হয়?
— হুম। বোঝাই যাচ্ছে ক্যামেরনসায়েব বড় গড়বড় করে ফেলেছেন। তোর সঙ্গে কমসাল্ট করে করলে ভাল করতেন।
— এই, টাইটানিক নিয়ে কোন মজা নয়। সেনসিটিভ টপিক।
— সিনেমাটার হিস্টরিকাল এবং, যতদূর শুনেছি, সায়েন্টিফিক অ্যাক্যুরেসি খুব খারাপ না। শোনা কথা কিন্তু, হিয়ারসে।
— তুমি টাইটানিক দেখনি, না?
— না। সিনেমাটা অ্যাক্সিডেন্টের অাগেই রীলিজ করেছিল। কিন্তু ওই সময়টা রিসার্চের পীক পিরিয়ড। হলে গিয়ে সিনেমা দেখার সময়টা অার…এনিওয়ে।
— অাচ্ছা মা, তুমি যে বললে সায়েন্টিফিক অ্যাক্যুরেসি খারাপ না, তুমি কি অাইসবার্গটার কথা বলছ?
— হুম। অাইসবার্গের সঙ্গে ধাক্কাটা ঠিক কীরকম দেখিয়েছে?
— ও। ভাল। হীমশৈলটা দেখতে পেয়ে জাহাজটা মুখ ঘোরাবার চেষ্টা করে, কিন্তু ততক্ষণে বড্ড দেরী হয়ে গেছে। মুখোমুখি ধাক্কা না লাগলেও জাহাজের ডানদিকটা হীমশৈলের সঙ্গে ঘষে যায়। তাতে মস্ত বড় একটা ফুটো তৈরী হয়, তা দিয়ে জল ঢোকে, একের পর এক খোপ জলে ভরতে থাকে, জাহাজ ডুবতে শুরু করে…
— অাচ্ছা অাচ্ছা বুঝেছি। বাই দ্য ওয়ে, ইন্টারেস্টিং, অাইসবার্গের বাংলা হীমশৈল। এটা জানতুম না।
— হ্যাঁ গো। টিনটিনে ছিল।
— তাই? বাঃ। এবার বল, কোলিশ্যনটা…
— ধাক্কা লাগেনি গো, ঘষটে গেছে।
— ওই হল। স্ক্রেপ করে গেছে। সেটা জলের লাইনের তলায় হয়েছে, তাই তো?
— হ্যাঁ। যাব্বাবা, না হলে জাহাজ ডুববে কেন?
— হুম। তার মানে অাইসবার্গ…হীমশৈলটার তলাটাই কিলার, তাই না? নট দ্য টিপ অফ দি অাইসবার্গ, বা দ্য পার্ট দ্যাট ওয়াজ হিডেন।
— হুম। তা ঠিক। তবে হিমশৈলকে খুনী বলতে অামার অাপত্তি অাছে…
— শান্তি। পীস। ওটা কথার কথা। ডোন্ট সিরিয়াস। এবারে ভাব, যদি বরফ জলের চেয়ে ভারী হত, টাইটানিক ডুবত না, তাই না?
— অ্যাঁ?
— রাইট?
— তাই তো! এটা তো ভেবে দেখিনি। জ্যাক অার রোজও তাহলে চিরকাল একসঙ্গে কাটাতে পারত। ইয়েএএএ…
— হাইলি অানলাইকলি। এনিওয়ে, বরফ জলের চেয়ে হাল্কা, দ্যাট ইজ, কম ঘন, লেস ডেন্স। এটা নিশ্চয় এত অালোচনার পর বুঝেছিস।
— মাঅাঅা! অামি দশ ক্লাস থেকে বিজ্ঞান ছেড়ে দিয়েছি বলে এটা বুঝব না?
— জাস্ট চেকিং। এবার বল দিকিনি, এই যে অাইসবার্গের চুড়োটা জলের ওপর উঁকি মারছিল, অার গোড়াটা জলের তলায় ছিল, এদের মধ্যে ভল্যুমেট্রিক রেশিওটা কত?
— কোনটা কত?
— থাক, অার চোখ টেরিয়ে হাঁ হতে হবে না। এদের মধ্যে, ইয়ে, অায়তনের অনুপাতটা কত?
— মানে বলতে চাইছ কত শতাংশ জলের তলায় থাকে, অার কত শতাংশ ওপরে?
— এগ-জ্যাক্টিলি! এগজ্যাক্টলি ওটাই জিজ্ঞেস করছিলাম। জানিস, কত?
— শিখেছিলাম, এক কালে। এখন অার ঠিক মনে নেই। তবে…ওই দশ শতাংশের মত না?
— বাঃ, তোর তো বেশ মনে অাছে।
— ঠিক বলেছি?
— অলমোস্ট। অাসলে ওই ৮%-এর মত।
— মনে ছিল না। কয়েকদিন অাগে শেখরদার ক্লাসে শুনি।
— তাই? শেখরকে বলিস একদিন দেখা করে যেতে।
— বলব গো।
— ইয়েস। সো, ৮%। সুতরাং…হুমম, না থাক। এভাবে হবে না। হাতেনাতে করতে হবে। মিস পুলি?
— মা?
— ফ্রীজে যা, দেখবি ফ্রীজারে একটা ট্রে অাছে। বরফের ট্রে।
— নিয়ে অাসব?
— হ্যাঁ। সঙ্গে কাঁচের জগটাও।
— এনেছি।
— গুড। এই ট্রে-তে এগজ্যাক্ট ১০০ সিসি জল ভরা অাছে। এতক্ষণে অাশা করি বরফ হয়ে গেছে।
— হ্যাঁ, একেবারে জমে জ।
— গুড। তার মানে ওখানে…ওখানে কত বরফ অাছে এখন?
— বরফ? ১০০ সিসি…মানে তো ১০০ মিলিলিটার?
— দ্যাট্স রাইট।
— তাহলে…১০০ গ্রাম বরফ। ১০০ গ্রাম জল, তাই ১০০ গ্রাম বরফ।
— গুড। নট রং। কিন্তু অামি ভল্যুম জিজ্ঞেস করেছি। অাইস ইজ লেস ডেন্স দ্যান ওয়াটার, তাহলে বরফের অায়তন…?
— বাড়বে।
— কারেক্ট! কতটা বাড়বে?
— এই রে। তা তো জানি না।
— দ্যাট্স অল রাইট। বাড়বে বাই ৮.৭%। মানে, ১০০ সিসি জল ছিল, হয়ে গেল ১০৮.৭ সিসি বরফ।
— অাচ্ছা। মানে ওই ৯ সিসির মত ফাউ?
— বলতে পারিস। এবার জলের জগটা অান। কতটা জল অাছে দেখে বল।
— হুম, মোটামুটি অর্ধেক ভর্তি…
— উঁহু, অত ভেগ হলে চলবে না। নিশ্চিত হও। জগটা গ্র্যাজুয়েটেড, সাইডে দাগ কাটা অাছে। কত অাছে দেখে বল।
— ওহ্ হো, তাই তো। দাঁড়াও, রোয়ে…ট। ৬৫০ সিসি।
— গুড। ওখান থেকে সাবধানে ১৫০ সিসি গ্লাসে ঢেলে রাখ, এক্সপেরিমেন্টটা করতে সুবিধে হবে।
— পদার্থবিদ্যায় সবসময় জীবন সহজ করার চেষ্টা চলে, তাই না?
— দ্যাট ইজ ইট্স বিউটি মাই ডিয়ার। যত সরল, তত গভীর, তত সুন্দর। ঢাললি? সাবধানে দেখেশুনে ঢা…
— ঢেলেছি। এখন জগে ঠিক ৫০০ সিসি জল অাছে।
— এক্সেলেন্ট। এবার খুব সাবধানে, ভেঙে না যায়, এই বরফের টুকরোটা ট্রে-চ্যুত করে জলে অালতো করে ফেল। ডেলিকেটলি ড্যজ ইট। কেয়ারফুউউউল…
— হয়েছে! ইয়েএএএ!
— গুড। জগে এখন জলের লেভেল কত দেখাচ্ছে?
— ৬০০ সিসি।
— কেন, ৬০০ কেন?
— ৬০০ কেন? কারণ…ও, না, বরফ তো ১০৯ সিসির মত ছিল।
— তাই যদি হয়, ৫০০ অার ১০৯ যোগ করলে তো ৬০৯ হয়। ৬০০ দেখাচ্ছে কেন?
— এই রে। উম, কারণ…কারণ বরফটা পুরোটা ডোবে নি?
— প্রশ্ন করছিস না উত্তর দিচ্ছিস?
— ইয়ে, মানে, না, উত্তর দিচ্ছি।
— বরফ পুরোটা ডোবে নি তো কী হয়েছে? ভল্যুম ইজ ১০৯ সিসি। ওয়াটার লেভেল শুড বি ৬০৯ সিসি। ৫০০ প্লাস ১০৯…
— রোয়েট। না, তা হবে কেন? বরফের অায়তন ১০৯ সিসি হোক না, ডুবে অাছে তো মাত্র ১০০ সিসি। বাকি ৯ সিসি তো বাইরে। হীমশৈলটার মত।
— অাঃ, গুড, গুড। জাস্ট লাইক দ্যাট অাইসবার্গ। ১০০ সিসি ডুবে অাছে তাই জলের লেভেল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০ সিসি, নট ৬০৯ সিসি। ক্লীয়ার?
— ক্লীয়ার।
— এবার দু’টো প্রশ্ন। ফার্স্ট, বরফটা ভেসে অাছে কীকরে?
— অ্যাঁ?
— হাউ ইজ দ্য বরফ ভাসাফাইং?
— হিহি…থুড়ি। না, মানে, কেননা বরফ জলের থেকে হাল…কা?
— তো?
— হাল্কা হলে ভারী জিনিসের ওপর ভাসবে…
— তুই এবার উত্তরের ফীল্ডে ভেসে বেড়াচ্ছিস। হচ্ছে না। দে, তোর হাতটা দে।
— হাত?
— ইয়েস, ইয়াং লেডি, ইয়োর হ্যান্ড। ইয়োর রাইট হ্যান্ড। গিভ ইট টু মী। নাউ, টেবিলের ওপরের গ্লাসটা ঠেলার চেষ্টা কর।
— ঠেলব? কিন্তু তুমি তো অন্যদিকটা চেপে অাছ।
— ইয়েস ইন্ডীড অাই অ্যাম। পুশ।
— হচ্ছে না। গেলাস নড়ছে না।
— কেন নড়ছে না?
— কারণ তুমি ওদিক থেকে চেপে অাছ বলে।
— যদি চেপে না থাকতাম?
— তাহলে গড়গড়িয়ে চলত।
— তার মানে একই জিনিসকে যদি দু’দিক থেকে একইভাবে চাপা বা ঠেলা হয়, তাহলে সে নড়বে না, তাই তো?
— হ্যাঁ। মানে ওদের ওপর নিট বল তো শূন্য। অামিও কিছুটা বল দিয়ে ঠেলছি, তুমিও উল্টোদিক থেকে একই বল দিয়ে ঠেলছ, কাটাকুটি হয়ে যাচ্ছে।
— গুড। সুতরাং, এই গেলাসটা অামরা দুজনে দু’দিক থেকে ঠেলছিলাম, তাই এ নড়ছে না। মানে অামরা অ্যাক্টিভলি কিছু একটা ফোর্স দিচ্ছি, ফোর্সদু’টো ব্যালেন্স হয়ে ক্যানসেল অাউট হচ্ছে, সো ইট ডাজ নট মুভ। এবার ধর ওই কোণার টেবিলটা। ওটাও নড়ছে না, তাই না?
— না।
— এর ওপর কি কেউ চাপ দিচ্ছে?
— না।
— কিন্তু এর ওজন তো অাছে।
— হ্যাঁ।
— মানে গ্র্যাভিটি একে টানছে। টুওয়ার্ড দ্য সেন্টার অফ দি অার্থ।
— তা টানছে…কিন্তু মাধ্যাকর্ষণ তো সব কিছুকেই টানে। তাই জন্যই তো অামরা লাফালে মাটিতে ফিরে অাসি, বা অাপেল গাছ থেকে বেড়াল নামধারী বৈজ্ঞানিকদের মাথায় পড়ে।
— তারপর? মাটিতে ফিরে এলে বুঝি মাধ্যাকর্ষণ হাওয়া হয়ে যায়?
— উমম, না, তা তো যেতে পারে না।
— তাহলে অামরা মাটিতে দাঁড়িয়ে কেন? পৃথিবীর সেন্টারে গিয়ে সেদ্ধ হচ্ছি না কেন?
— বাঃ। জমি অাছে না?
— রাইট। জমি! গ্র্যাভিটি যেমন অামাদের টানছে, জমির ওপর দাঁড়িয়ে অাছি বলে জমিটা উল্টোদিকে ঠেলা মারছে। এবং একই ফোর্স দিয়ে। নিউটনের থার্ড ল। এভ্রি অ্যাকশ্যন…?
— …হ্যাজ অ্যান ইকুয়্যাল অ্যান্ড অপোজিট রিয়্যাকশ্যন। ঠিক ঠিক।
— সুতরাং, ফোর্স ব্যালেন্স হয়ে গেলে কোনও জিনিস অার নড়বে না। বা অ্যাট লিস্ট অ্যাক্সিল্যরেট করবে না। তাই তো?
— হ্যাঁ। নিউটনের প্রথম গতিসূত্র।
— এগজ্যাক্টলি। অামি এটাও বলতে পারি যে কোন অবজেক্ট যদি না নড়ে, অ্যাট রেস্ট থাকে, তাহলে ফোর্সেস অার ব্যালেন্সড? উল্টো দিক থেকে বলছি কিন্তু।
— হ্যাঁ, সেটা বলতে পারো।
— গুড। নাউ, ব্যাক টু দ্য অাইসবার্গ। অামাদের জগে এখন একটা মিনি-সমুদ্র অার তাতে ভাসমান একটা মিনি-অাইসবার্গ তৈরী হয়েছে। তাই তো?
— হ্যাঁ। কিন্তু…
— কিন্তু?
— এটা তো খাওয়ার জল। সমুদ্রে তো নোনা জল থাকে।
— তো?
— তার ঘনত্ব পাল্টাবে না?
— দ্যাট ইজ অা গুড কোয়েশ্চেন। ইয়েস, পাল্টাবে। কিন্তু অামাদের ডেমনস্ট্রেশ্যনের জন্য এটা কোয়াইট অল রাইট।
— অাচ্ছা।
— নাউ। অামাদের মিনিবার্গটা ফ্লোট করছে, তাই তো?
— হ্যাঁ। তা করছে।
— তার মানে সেটা অ্যাট রেস্ট অাছে, তাই তো?
— হ্যাঁ। স্থির অাছে বৈকি।
— তার মানে ওর ওপর ফোর্সেস অার ব্যালেন্সড?
— হ্যাঁ। অাছে।
— এবার বল, এর ওপর কী কী ফোর্স অ্যাক্ট করছে?
— মাধ্যাকর্ষণ। ওর ওজন।
— গুড। কোন দিকে অ্যাক্ট করছে?
— নীচের দিকে। পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলের দিকে।
— তাহলে সেটাকে ব্যালেন্স কে করছে? হুইচ ফোর্স?
— প্লবতা।
— কী?
— বয়ান্সি।
— ফাইনালি! বয়ান্ট ফোর্স। তুই সাঁতারু, এই ফোর্স নিয়ে তোর ডেলিকার কাজ। সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবছিস না বিকজ অফ ইয়োর প্লবতা। অার এটা বলতে গিয়ে এত হিমশিম?
— থুড়ি তো। গুলিয়ে গিছল।
— হুম। এখন ক্লীয়ার?
— ক্লীয়ার। বরফের টুকরোটা ব্যালেন্সড।
— এবার ব্যালেন্সড মানে কী?
— মানে? তার মানে বয়ান্ট ফোর্সটা বরফের টুকরোটা ওজনের সমান?
— এই তো, ইউ অার ব্যাক! গুড। কারেক্ট। বরফের যা ওজন, যা ওয়েট, ততটাই বয়ান্ট ফোর্স অাছে। মনে রাখবি ওয়েট ইজ অা ফোর্স।
— হ্যাঁ, এটা তো জানি। ওজন বা ভারও একপ্রকারের বল।
— গুড। তাহলে, ওই যে বরফের টুকরোটা ভেসে অাছে, ওটার ওপর কত বয়ান্ট ফোর্স পড়ছে?
— রোয়েট। বরফের টুকরোটা ১০০ সিসি…না, জলটা ১০০ সিসি ছিল, যেটা জমে বরফ হয়েছে। জলের ঘনত্ব সিসি প্রতি ১ গ্রাম, তাহলে ১০০ গ্রাম। তাহলে বরফের ওজনও ১০০ গ্রাম।
— অ্যান্ড দ্যাট মীনস?
— প্লবতাও ওই ১০০ গ্রামই…কিন্তু না, গ্রাম তো ভরের একক। ভারের একক…
— একই ব্যাপার। সবই তো ৯.৮ দিয়ে গুণ হবে। ১০০ দিয়ে ভাবলেও চলবে। ভুল নেই।
— অাচ্ছা।
— এবারে তাড়াতাড়ি বল, বরফটা গলে যাওয়ার অাগেই, গলে গেলে জলের লেভেলটা কোথায় দাঁড়াবে?
— গলে গেলে?
— ইয়েস। এখন ৬০০ সিসি, রাইট?
— হ্যাঁ।
— গলে গেলে কত হবে? বাড়বে, কমবে, নাকি একই থাকবে?
— ওরে বাবা, এ তো সেই প্রশ্ন। মাধ্যমিকে পদার্থবিজ্ঞানে অাসত। উত্তরটা মনে অাছে। কারণটা মনে নেই।
— উত্তরটা শুনি।
— একই থাকবে। মানে গলে গেলেও ৬০০ সিসি।
— হুম। ইন্টারেস্টিং। কারণটা মনে নেই?
— না গো, একদম মাথা থেকে বেরিয়ে গেছে।
— হুম। নো ওয়ারিজ। উই শ্যাল ওয়ার্ক ইট অাউট। কিন্তু, তার অাগে, একটু সামারাইজ করা যাক। জগে ৫০০ সিসি জল ছিল। ট্রে-তে ১০০ সিসি জল রাখা হয়েছিল, যার ওজন ১০০ গ্রাম। তাই তো?
— হ্যাঁ।
— ওকে। এবার জলটা জমে বরফ হল, ওজন একই থাকল, ১০০ গ্রাম, কিন্তু অায়তনে বেড়ে দাঁড়াল মোটামুটি ১০৯ সিসি। ঠিক?
— ঠিক।
— সেটাকে এবার সাবধানে জলে ডোবানো হল। কিছুটা ভেসে রইল, বাকিটা জলের তলায় রইল। জলের লেভেল উঠে দাঁড়াল ৬০০ সিসি। রাইট?
— রাইট।
— তার মানে, ওই ১০৯ সিসির বরফের টুকরোটা ১০০ সিসি জল ডিস্প্লেস করল, স্থানচ্যুত করল। ঠিক?
— উমম…
— সন্দেহ অাছে?
— না, তা নেই।
— গুড। ১০০ সিসি জল যে ডিস্প্লেস হল, তার ওজন কত?
— ১০০ গ্রাম।
— অার মিনিবার্গের?
— একই। ১০০ গ্রাম। নাহলে তো ব্যালেন্স…এক মিনিট। ব্যালেন্স তো হচ্ছে প্লবতার জন্য। বয়েন্ট ফোর্স তো ১০০ গ্রামের সমান। কিন্তু…
— কিন্তু, দেখা যাচ্ছে ডিস্প্লেস্ড জলটার ওজনও ১০০ গ্রাম, তাই তো?
— তাই হচ্ছে তো। তার মানে…?
— তার মানে খুব সহজ। যতটা জল স্থানচ্যুত হয়েছে, ততটাই বয়ান্ট ফোর্স গিয়ে মিনিবার্গটার ওপর পড়েছে।
— ভারী মজা তো!
— ফের সামারাইজ। ১০৯ সিসি অায়তনের ১০০ গ্রাম ওজনের বরফের টুকরো জলের ওপর ভেসে থাকে, কারণ তার ওপর বয়ান্ট ফোর্স ১০০ গ্রাম। স্থানচ্যুত জলের ওজন ১০০ গ্রাম, পরিমাণও ১০০ সিসি। যতটা জল ডিস্প্লেস্ড, ততটা বয়ান্ট ফোর্স।
— ব্যাপারটা একদম জলের মত পরিষ্কার। থ্যাঙ্ক ইউ মা।
— অামায় থ্যাঙ্কস দিয়ে লাভ নেই। দিতে হলে অার্কিমিডিসকে দে।
— বলো কী? সিরাক্যুজের রাস্তা দিয়ে সেই…
— ইয়েস, সেই।
— তাহলে এতক্ষণ যেটা বোঝালে সেটা অার্কিমিডিসের তত্ত্ব?
— ইন্ডীড।
— বোঝো। ছোটবেলায় ইস্কুলে কিছুই বুঝিনি।
— নীলি বোঝায় নি?
— দিদি বুঝিয়েছিল। কিন্তু ঠিক এভাবে নয়। অামিই ঠিক বুঝতে পারিনি।
— নীলি ইজ মোর অফ অা রিসার্চার দ্যান অা টীচার। এনিওয়ে, এবার ক্লীয়ার?
— হ্যাঁয়্যায়্যা।
— এই তো, এতক্ষণ সিরিয়াস হয়ে ছিলি। এবার গাপুচির দিদি ফিরে এসেছে।
— গাঅাঅা…
— এই এই, একদম না। বরফটা গলে গেছে, দেখ দেখ।
— …পুউউউ…গলে গেছে?
— গেছে কিনা সেটা অামি কীকরে বলব? তুই চেক কর।
— ও, হেহে। হ্যাঁ গো, গলে গেছে।
— অার জলের লেভেল?
— ৬০০ সিসি! দারুণ তো।
— এবার বল, জলের লেভেল পাল্টাল না কেন?
— ওও, তাই তো। এটা তো ভাবা হয়নি।
— কোনও প্রবলেম নয়। যেটা বুঝলি সেটার মধ্যেই উত্তরটা রয়েছে। থিঙ্ক, ডীয়ার ডটার, থিঙ্ক।
— হুম। রোয়েট…
— রোয়েট বলেছে মানে এবার উত্তর অাসছে।
— অাচ্ছা, অারেকবার রিভ্যু করছি, কেমন?
— বী মাই গেস্ট।
— ১০০ গ্রাম জল জমে ১০০ গ্রাম বরফ হয়েছে, তার অায়তন ১০৯ সিসি। তাকে ৫০০ সিসি জলে ডোবালে জলের লেভেল হয় ৬০০ সিসি। তার মানে বরফের ১০৯ সিসির মধ্যে ১০০ সিসি জলের তলায়, ৯ সিসি বাইরে। এবার, বরফের ওজন ১০০ গ্রাম, তাই জল যতটা বেড়েছে সেটাও ১০০ গ্রাম, সেটাই প্লবতা। ওকে…
— এই তথ্যটা কি এই বিশেষ প্রশ্নে কোন কাজে অাসবে? ভেবে দেখ।
— উমম, না, সেটা এখানে লাগবে না। কেননা…কেননা, না, দাঁড়াও, ১০০ সিসি বরফ জলের তলায় অাছে, ৯ সিসি বাইরে অাছে। তাই জলের উচ্চতা বেড়েছে ১০০ সিসি। এবার, এই ১০৯ সিসির বরফের টুকরোটা যদি গলে যায়…জলের ঘনত্ব বরফের চেয়ে বেশি…তাহলে ১০৯ সিসি বরফ ফের সেই ১০০ সিসি জলেই ফিরে যাবে। তাই তো?
— কোয়াইট সো। যদি কোন ইভ্যাপোরেশ্যন না হয়ে থাকে…বাট দ্যাট ইজ ইররেলেভেন্ট। গো অন।
— তার মানে, শেষমেশ, মানে নিট যে ফল হবে সেটা হল, ওই যে ৯ সিসি বরফ নাকটা বের ছিল, সেটা ভ্যানিশ করে যাবে।
— লিটারেলি নয়, বাট, ইয়েস। অ্যাজ ইফ ভ্যানিশ হয়ে যাবে।
— হ্যাঁ। জলের তলায় ১০০ সিসি বরফ ছিল, তাই জলের লেভেল ১০০ সিসি বেড়েছিল। বরফ গলার পর জলের তলায় ১০০ সিসি বরফগলা জল রয়েছে, তাই লেভেলে কোনও ফারাক অাসবে না।
— ব্রাভো! এত ভয়লা!
— পেরেছি?
— একশয় একশ!
— ইয়েএএএ…ডিলাগ্রান্ডিমেফিস্টোফিলিইইইইস…
— একই উত্তর অার্কিমিডিস প্রিন্সিপ্যল দিয়েও বলা যায়। মানে ওয়েট দিয়ে, ভল্যুম নয়।
— শুনি শুনি।
— কোয়াইট সিম্পল। বরফের ওয়েট ১০০ গ্রাম-ওয়েট, সো বয়ান্ট ফোর্স ১০০ গ্রাম-ওয়েট।
— গ্রাম-ওয়েট।
— বিকজ ইট ইজ অা ফোর্স। নেভার মাইন্ড। সো, যেহেতু ফোর্সেস অার ব্যালেন্সড, সো বরফ নড়ছে না। নাউ, বরফ গলে জল হচ্ছে, বরফগলা জলের ওয়েট ইজ অলসো ১০০ গ্রাম, সো নো চেঞ্জ। বয়ান্ট ফোর্স = ডিস্প্লেড ওয়াটার ওয়েট = ১০০ গ্রাম। ১০০ গ্রাম জল হচ্ছে ১০০ সিসি জল। বরফ হোক কি বরফগলা জল, সেই ১০০ সিসি জলই ডিস্প্লেস্ড হবে। দ্যস…
— বাঃ। এটা তো ভাবিনি।
— দু’টো একস্প্লেনেশ্যনই ভ্যালিড। যেটা সুবিধা হয়।
— কী মজা। শেখরদার কাছে একটু বড়াই করতে হবে।
— অাচ্ছা? করিস। দেখ কী হয়। এনিওয়ে, ক’টা বাজল?
— ক’টা বাজল? সাড়ে ন’টা বেজে গেছে। বাপরে। ও মা খিদে পেয়েছে ও মা।
— হুম। অামি বলামাত্রই খিদে পেয়েছি, না?
— অামি খাবার বাড়ছি।
— অাচ্ছা, তোর পড়াশুনো নেই?
— কেন থাকবে না?
— সেটা কখন হবে শুনি? অাজ চোর ধরলি রিলে সুইম রেস করলি অামার সঙ্গে বকবক করলি। পড়াশুনোটা কখন হবে?
— খেয়ে নিয়ে?
— হুম। গলা শুনে তো মনে হচ্ছে এক্ষুণি ঘুমিয়ে…শোন, খাবার নে। খেয়ে যদি পড়তে ইচ্ছে না করে সোজা ঘুম। অাজ তোর ওপর দিয়ে প্রচুর ধকল গেছে। ইউ নীড রেস্ট।
— ইয়েএএএ…কিন্তু মা।
— ইয়েস?
— এই যে বরফ গললে জলের লেভেল বাড়ে না, এটা নিয়ে গ্লোবাল ওয়ার্মিঙের কিছু একটা সংযোগ অাছে না?
— অাছে বৈকি। সেটা কাল বলব। কেমন?
— অাচ্ছা। অার বিকেলবেলা তুমি যে বলছিলে ইওরোপার কথা…
— মিস বৈদ্য! এসব কাল হবে। এখন তুমি খাবে, অার তারপর স্ট্রেট টু বেড। ডু ইউ কপি?
— লাউড অ্যান্ড…{বিশাল হাই}…ক্লীয়ার…
— ইশশ। নে, কুইকলি খাবার নে। কুইক কুইক, ভেরি কুইক।
— রজার উইলকো…{ফের হাই}…ডক্টর বৈদ্য।


#সোঘো, ১৮:১৯, ৮ জুন ২০১৭, তিলোত্তমা।


পঞ্চভূত নিয়ে বৈদ্যবাটীর একটা সিরিজ করার চেষ্টা করছি। পঞ্চভূত অর্থাৎ মামদো-জামদো-ব্রহ্মদৈত্য-পেত্নী-শাঁকচুন্নি নয়, ক্ষিতি-অপ-তেজ-মরুৎ-ব্যোম। ক্ষিতি অর্থে মাটি, ভূমি, পৃথিবী। অপ মানে জল। তেজ মানে অাগুন, এনার্জি। মরুৎ মানে হাওয়া, বাতাস, উইন্ড/এয়ার। ব্যোম মানে অাকাশ হলেও অামি এটাকে মহাকাশ হিসাবেই ধরব। দেখা যাক, কোথাকার অপ কোথায় গড়ায়।

এটা পঞ্চভূত সিরিজের অপ সাবসিরিজের তূতীয় লেখা।

#ডক্টরবৈদ্য #পুলিপিঠে #পুলিসিরিজ #পুলিওমা #ঘটিবাটী

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s