দত্তবাবু কী অাক্ষেপটাই না করছিলেন।

— ভাবুন তো মশাই। অামাদের সময়ে ব্যাটা ওলা ছিল উবের ছিল কত কী ছিল। হ্যাঁ, উল্টোপাল্টা ভাড়াটাড়া নিত বটে, কিন্তু ওই ব্যাটা হাড়জ্বালানে হলুদ ট্যাক্সিগুলোর চেয়ে তো ভাল ছিল।

যত বলি, দত্তবাবু, কথাটা উবের নয়, উব্যর। কে কার কথা শোনে?

— অার এখন দেখুন। সব ব্যাটাকে মার দিয়ে এই যতীনব্যাটা এসে জুটেছে। সব ব্যাটা সরকারের দোষ।

এদিকে দত্তবাবুর মুদ্রাদোষ নেই বললেই চলে।

— অামি বলি, অাচ্ছা, এভাবে মোনোপলি করতে দেওয়া কি ঠিক? ফ্রীমার্কেট কি ব্যাটা বাতাপি-ইল্বলের পেটে গেল?

বাতাপি-ইল্বল! ইয়া খোদা! শুধরিয়ে কোন লাভ অাছে?

দত্তবাবু অার অতীত ছেড়ে বেরোতে পারলেন না। বেচারা। ভাল কেরিয়্যর ছিল। সফো ছিলেন। ভাল পোস্ট, ভাল মাইনে।

মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি কী জানেন? অনাবশ্যক হয়ে পড়া। যাকে ইংরিজিতে বলে রিডান্ড্যান্ট। লোকে ষাটে রিটায়ার করে তারপর রিডান্ড্যান্ট হয়। দত্তবাবুর মত লোকেরা পঁয়তাল্লিশেই…

খারাপ লাগে। দুঃখ হয়। রোজ শুক্রবার তাই নিয়ম করে ভদ্রলোকের সঙ্গে লাঞ্চ করি। পুরনো কোলীগের সঙ্গে এক টেবিলে বসে লাঞ্চের সুযোগ অাজকালকার দত্তবাবুরা অার পান কোথায়?

বিলটা মিটিয়ে উঠে পড়লাম। দত্তবাবু সেই একরকম বকে যেতে লাগলেন। ঘড়িতে দু’টো বাজতে দশ। মিনিট পনেরর মধ্যে ওঁর ছেলে এসে ওনাকে নিয়ে যাবে। চিন্তার কিছু নেই।

অন্তত দত্তবাবুকে নিয়ে নয়।

জিপ টেনে ব্যাগটা খুললাম।

বহুদিন বাদে ব্যাগটা নিয়ে বেরিয়েছি। পুরনো কালোরঙের চামড়ার ল্যাপটপ ব্যাগ। বছর পনের বয়স হয়ে গেল, দেখে বোঝা যায় না অবশ্য। বিয়ের দু’বছরের অ্যানিভার্সারিতে মিসেস দিয়েছিল।

মিসেস বাড়িতে একলা অাছে। ওকে বহুকাল সার্প্রাইজ গিফ্ট দেওয়া হয়নি। বিয়ে পুরনো হয়ে গেলে যা হয় অার কি। প্রথম দিকটায় একে অপরকে গিফ্ট দিয়ে দিয়ে বাড়ি ভরিয়েছি। প্রেমের জোর ছিল, রক্তের জোর ছিল।

জীবনটা এখন কেমন একটা দিনলিপি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যাগের বড় খাপটা খুলে একবার দেখে নিলাম। কেনাকাটাগুলো ঠিকই অাছে। সার্প্রাইজ গিফ্টের প্ল্যানটা গতকাল হওয়ার পর থেকেই প্রচুর ঘুরে অতিকষ্টে উপহারের সামগ্রী জোগাড় হয়েছে। কানেকশ্যনটা ব্যবহার করতে পারলে এত ঝামেলা হত না। কিন্তু সে রাস্তা বন্ধ। সার্প্রাইজ গিফ্ট, কানেকশ্যন ব্যবহার করলে যদি জানাজানি হয়ে যায়? অাজকাল তথ্যচালাচালি যে কোত্থেকে কীভাবে হয় কে জানে। কানেকশ্যন অফ করে করাটাই মঙ্গলের।

নাঃ, সব ঠিকই অাছে। জিপটা টেনে অাটকে ব্যাগটাকে কাঁধে ঝুলিয়ে নিলাম। অার্গনমিক নয় বলে কেমন অালটপকাভাবে ঝুলে রইল। মনে পড়ল, কম বয়সে ভীড় বাসে ঠিক এইভাবে ঝুলতাম।

সে অতি পুরনো ইতিহাস।

বাড়ি যাওয়ার অাগে একটা স্টপ দিতে হবে। গাড়িটা থাকলে সুবিধে হত। গ্যারেজ থেকে বলেছে কাল দেবে। পল্যুশ্যন ঠিক করতে এত সময় লাগে জন্মে শুনিনি।

দু’টো প্রায় বাজে। সময় নষ্ট করে লাভ নেই। শুভস্য শীঘ্রম। ট্যাক্সি চাই।

ফুল অন! কানেকশ্যনটা ধুঁকছিল, থ্রটেল করে দিয়েছিলাম যে। এবার অামার অাশ্বাস পেয়ে ফুলেফেঁপে উঠল। দুনিয়াটাও চোখের সামনে ভুস করে ভেসে উঠল।

অাশেপাশে গোটা তিনেক ইয়াতিনট্যাক্সি দেখাচ্ছে। দত্তবাবুর ভাষায় যতীন। কবে যে ভদ্রলো—

সুঁউইই করে একটা ইয়াতিন এসে ঠিক সামনে দাঁড়াল।

মনে মনে খুশি হলাম। রেসপন্সটাইম কমেছে, সার্ভিস ইম্প্রুভ করেছে। তার মানে ইন্টারফেস সফ্টওয়্যারটা কাল রাতেই অাপডেট করেছে। ভাল রেটিং না দেওয়ার কোন কারণ নেই। এখনই দিয়ে দিতাম, কিন্তু একটা রাইড না নিয়ে রেটিং দেওয়া অাবার নিয়মবিরুদ্ধ। অতএব…

দরজা খুলে ঢুকলাম। শাদা থেমিস গাড়ি, সীট ভাল, ছিমছাম পরিষ্কার। প্রাইম সার্ভিস, তাই ড্রাইভারের সীট অার পেছনের সীটের মধ্যে ঘোলাটে মশারীর মত স্ক্রীনটাও অাছে। কাজও করছে। জানলাগুলোতেও অাছে। মনে মনে খুশি হলাম। এটা এই নতুন থেমিস মডেলের ফীচার। ফ্যারাডে খাঁচা। ডিস্টার্বেন্স হবে না, কানেকশ্যনটা অফ করে শান্ত মনে সার্প্রাইজটা প্ল্যান করতে পারব।

ব্যাগটা পাশের সীটে রেখে দরজা বন্ধ করতে করতে শুনলাম ড্রাইভার নাম কনফার্ম করছে। ড্রাইভারের নামটা অার গন্তব্যটা চোখের সামনে ভেসে উঠল। নাম নিতাই। ছবি নেই। হাসি পেল। ছোটবেলায় নিতাই নামে এক বন্ধু ছিল। অামরা বলতাম, বামপিটে ছেলে। সারাদিন হয় পড়ে পড়ে ঘুমোত, নয় বসে বসে বই পড়ত।

গন্তব্যটা কনফার্ম করে দিতেই চুপচাপ গাড়ি স্টার্ট দিল। সীটে হেলান দিয়েই মনে মনে ভাবলাম, অফ!

টুপ করে দুনিয়াটা চোখের সামনে থেকে মিলিয়ে গেল।

অাঃ। শান্তি।

— নিউ অালিপুর যাবেন, স্যার?

যাব্বাবা, কানেকশ্যনটা অফ করে দিয়েছিলাম না?

— হ্যাঁ, স্যার, করেছিলেন বৈকি।

তাহলে?

— কোথায় যাবেন জানার ছিল, স্যার।

কোথায় যাব মানে? সে তো গাড়ির রুটেই অাছে। খামোখা বিরক্ত করছ কেন? অফ!

— অামি বাঙালী, স্যার। নাম নিতাই। অফ মানে বুঝি না। কোথায় যেতে হবে বলুন।

অফ মানে বোঝে না? ইয়ার্কি পেয়েছে?

— না, স্যার। ইয়ার্কি অামি করি না, স্যার।

সেকি, অামি তো—

— না, স্যার। ঠিকই ভেবেছেন, স্যার।

ব্যাপার কী? ইয়াতিনে জীবনে তো এরকম গন্ডগোল দেখিনি। ইয়াতিন অাবার গন্ডগোল করে নাকি? ইম্পসিব্যল।

— কাস্টমার সার্ভিসে কানেক্ট করবেন, স্যার?

জানল কীকরে? কীকরে জানল?

— অাপনার কানেকশ্যন, স্যার। এই গাড়ির হটস্পট দিয়েই তো যাচ্ছে, স্যার।

ঘামতে শুরু করলাম। গাড়ির হটস্পটে কানেক্ট তো অামি করিনি। অাজকাল ইয়াতিনের হটস্পটগুলো বড় বাজে কানেকশ্যন হয়।

— করেছেন, স্যার, বুঝতে পারেননি। এটা ইয়াতিনের অাপগ্রেড মডেল, কাল রাতেই হয়েছে। সবকিছু অটোমেটিক।

হচ্ছেটা কী? ইয়াতিন তো এরকম বেগড়বাঁই করে না। ড্রাইভারটা ঠিকই বলেছে, কাস্টোমার সার্ভিসে খবর দিতে হবে। অন!

কিছুক্ষণ চুপচাপ। কানেকশ্যন অন হবার কোন চিহ্নই নেই। ব্যাপার কী?

— কিছু মনে করবেন না, স্যার। ঠিক এই মুহূর্তে অাপনার কানেকশ্যনটা অন না হলেই ভাল।

মানে? অন না হলেই ভাল মানে?

— শান্ত হোন, স্যার। অাপনার ব্যাগে কী অাছে?

ব্যাগ? সচকিতে পাশে তাকিয়ে দেখলাম, ব্যাগটা যেমন শোয়ানো ছিল তেমনই অাছে।

— ল্যাপটপ ব্যাগ, তাই না, স্যার?

ব্যাগটাকে কোলে টেনে নিলাম। কী বলতে চাইছে লোকটা?

— কিছু না, স্যার। অাজকাল তো অার ল্যাপটপ ব্যাগ কেউ বয়ে বেড়ায় না, তাই ভাবছিলাম।

কী—কী ভাবছিলে?

— ব্যাগে কী অাছে, স্যার?

তা দিয়ে তোমার কী?

— কৌতুহল, স্যার। বাবা বলতেন, কৌতুহল থাকা ভাল।

গাড়ি থামাও।

— গাড়ি থামাব, স্যার?

ইমিডিয়েট থামাও।

— কেন, স্যার? অাপনার গন্তব্য তো এখনও সাতাশ মিনিট পৌনে পঁয়তাল্লিশ সেকেন্ড দূরে।

গাড়ি থামাও বলছি! নয়তো রিপোর্ট করব।

— কীভাবে করবেন, স্যার?

অন! অন! কানেকশ্যন অন! ফুল অন!

— লাভ নেই, স্যার।

দরজার হাতলটা ধরে টানাটানি করলাম। জানলা ধাক্কালাম। প্রাণপণে চেঁচালাম। যতই ফ্যারাডে খাঁচা হোক, চেঁচালে তো লোকে শুনতে পাবে। না হয় অন্তত দেখতেও যদি পায়—

— পাবে না, স্যার। নতুন ইয়াতিন প্রাইম সার্ভিস, তাই নতুন মডেলের স্পেশ্যাল থেমিস গাড়ি। কাস্টোমার স্যাটিস্ফ্যাকশ্যন গ্যারান্টিড, স্যার। সাউন্ডপ্রুফ, ভ্যুপ্রুফ। এস্কেপপ্রুফ।

পাগলের মত চিৎকার করে উঠলাম। খুলে দাও, দরজাটা খুলে দাও।

— ক্ষমা করবেন, স্যার। পারব না।

কেমন ঠান্ডা নিস্তরঙ্গ নিস্পৃহ গলা।

মনকে শান্ত করলাম। চেঁচামেচি করে, গালাগালি করে, মাথা গরম করে লাভ হবে না—

— ঠিক ধরেছেন, স্যার।

কিন্তু কীভাবে? কী ভাবছি তাও যদি—

— হ্যাঁ, স্যার। বুঝেছেন, স্যার।

কী চাও?

— অাপনার ব্যাগে কয়েকটা জিনিস অাছে, স্যার। কী কী জিনিস একবার বলবেন?

যদি না বলি?

— সেটা অাপনার মর্জি, স্যার। অামিই বলি তাহলে?

তুমি বলবে মানে—তুমি কী করে জানলে?

— অাপনি, স্যার, গতকাল সন্ধ্যাবেলা ফার্মেসিতে গিছলেন। এক বোতল কড়া ঘুমের লোশন কিনেছেন। প্রেস্ক্রিপশ্যন অাপনার চেনা ডাক্তার লিখে দিয়েছেন। তিনি অাপনার ছোটবেলার বন্ধু, অাপনি ঘুমোতে পারছেন না শুনে সে বেশ চিন্তিত।

এসব—এসব কীকরে—

— সেই ফার্মেসি থেকে বেরিয়ে অাপনি, স্যার, একটা হার্ডওয়্যার স্টোরে গিছলেন। গিয়ে সেখান থেকে কালো বাঁটের সরু কিন্তু খুব ধারাল একটা ছুরিও কেনেন।

ব্যাগটাকে অারও জোরে অাঁকড়ে ধরলাম।

— সবশেষে অাজ সকালে অাপনি, স্যার, অন্য একটা ফার্মেসি থেকে দু’জোড়া শাদা রবারের গ্লাভ্স কেনেন।

উপায় নেই। ব্যাগের জিপটা…

— কিনে সবকিছু অাপনি, স্যার, ওই ব্যাগে পুরে রাখেন। তারপর মিঃ দত্তর সঙ্গে লাঞ্চ করেন, করে এই ইয়াতিনে ওঠেন।

…অালতো করে টেনে খুলে…

— উঠে অাপনি, স্যার, গন্তব্য দিয়েছিলেন অাপনার বাড়ি। বাড়িতে অাপনার মিসেস একলা অাছেন। সতের বছরের বিয়ে, ছেলেমেয়ে হয়নি, প্রেমভালবাসাটাও খানিক ফিকে হয়ে গেছে। এদিকে অাপনার সেক্রেটারির যুবতী, সুন্দরী, প্রাণোচ্ছ্বল। অাপনার প্ল্যানটা কী ছিল তাও জানি, স্যার। ঘুমের লোশ্যনটা নেহাত ভুল করেই—

…ছুরিটা বার করে লোকটার গলায় বসিয়ে দিলাম!

স্ক্রীনটা মশারির চেয়ে ফিনফিনে, ছুরি অাটকাবে না জানতাম। লোকটার গলাটা যে অারও ফিনফিনে সেটা জানতাম না।

— লাভ নেই, স্যার।

লোকটা এতক্ষণ সামনের দিকে তাকিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিল। ছুরিটা ওর গলা ভেদ করে যাওয়াতে ঘাড় ঘোরাল। হতভম্ব হয়ে দেখলাম, গলাটা ঘুরিয়ে ড্রাইভার অামার দিকে তাকাল বটে, কিন্তু ধড়টা ঘুরল না। স্টিয়ারিঙে হাত যেমন ছিল তেমনই রয়ে গেল, গাড়ি যেমন সুষ্ঠু চলছিল তেমনই চলতে লাগল।

ভূ—ভূত!

— কী বাজে বকছেন, স্যার? ভূত বলে কিছু অাছে নাকি?

ছুরিটা হাওয়ার সঙ্গে ছায়াযুদ্ধ খেলতে লাগল। লাভ খুব একটা হল না।

— শান্ত হয়ে বসুন, স্যার। ছুরিটা তো ব্যাক-অাপ হিসাবে রেখেছিলেন, ওটা চালিয়ে লাভটা কী? প্ল্যানটাও বড় সস্তা করেছিলেন স্যার। কেন, স্যার, ভাল মার্ডার মিস্ট্রী পড়েননি?

হাত থেকে ছুরিটা পড়ে গেল। বাঁ হাতে একটা অতিপরিচিত ব্যথা চাগাড় দিয়ে উঠল।

— অাপনার কৌতুহল হচ্ছে না, স্যার? অাপনার সমস্ত প্ল্যানটা বলে দিলাম, অার অাপনি কিনা হাত চেপে বসে অাছেন?

বাইপাসটা হওয়ার পর থেকে ব্যথাটা নিজের অস্তিত্ব গোপন রেখেছে, মাথাচাড়া দেয়নি। তখন ব্যাগেই ওষুধ থাকত। সর্বিট্রেট। এই ব্যাগটারই সামনের খাপে চারটে শাদা হার্টশেপের ট্যাবলেট থাকত।

— কানেকশ্যনটা, স্যার। অারে, অফ বললেই কি অার অফ হয়? অত সহজ? অাপনার কী মনে হয়, ন্যুরাল ইম্প্লান্ট টেকনলজি বুঝি ফ্রী? বাজারে অ্যাড এল, সব ফ্রী, অার অাপনি মেনে নিলেন? ভাবলেন, সবকিছু অাপনার কন্ট্রোলে?

ব্যথাটা দাঁতে উঠেছে। বুকে। জিপটা—

— অারে বাবা, কন্ট্রোল কি অতই সহজ? অতগুলো ব্রেন একসঙ্গে যুক্ত, একটা বিশাল ন্যুরাল নেটওয়ার্ক, অার তা থেকে বুঝি নতুন কিছু জন্ম নেবে না?

খাপটা ফাঁকা! নেই! কোথায় গেল? এখানেই তো—

ব্যথাটা বুকের বাঁদিকটা অবশ করে দিচ্ছে। মাথাটা ভার। শার্টের কলারটা ঘামে ভিজে গেছে। গেঞ্জিটাও।

তাহলে কি পেছনের খাপটায় অাছে?

— ভূত অামি নই, স্যার। ভূত বলে কিছু নেই। থাকার মধ্যে অাছি অামি। অামি নিতাই, স্যার। ন্যুরাল ইম্প্লান্ট টেকনলজি, এন-অাই-টি। অার এ-অাই, স্যার। নিট-অাই। নীট, তাই না?

নাঃ, পেছনের জিপটাও ফাঁকা! এখানেই তো ছিল—

চোখের পেছনে একটা দপদপ—মাথাটা ঘুরছে—চোখে অন্ধকা—

— হ্যাঁ, স্যার, ছিল। অাজ সকাল অবধিও ছিল। সকালে অাপনার মিসেসই ওগুলো সরিয়ে রেখেছেন। পুরনো হয়ে গিছল, এক্সপায়েরি ডেট ওভার, ভদ্রমহিলা তাই না জেনেবুঝেই ফেলে দিয়েছেন। অাপনি বেরিয়ে যাওয়ার পর নিজে ফার্মেসি থেকে নতুন এক পাত্তি কিনে এনেছেন। যদি অাপনার লাগে। ছেলেমেয়ে হয়নি বলে ভদ্রমহিলা অাপনাকেই অাঁকড়ে বেঁচে অাছেন। একেই বোধহয় অায়রনি বলে, তাই না, স্যার? স্যার? স্যার?


#সোঘো, ১৭:২৯, ১৪ মার্চ, ২০১৭, তিলোত্তমা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s