বৈদ্যবাটী : জিরোভূত ১ : হের হিলবার্টের হোটেল

এটা জিরোভূত সিরিজের প্রথম লেখা। রিক্যাপ : পুলি সকালে স্লো-সাইকেল রেস করতে গিয়ে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পেয়ে কলেজ না গিয়ে বাড়ি অাছে। ডক্টর বৈদ্য পুলিকে সকালে ভারকেন্দ্র ও টর্ক বুঝিয়েছেন। তারপর পুলির খিদে পেয়ে যাওয়াতে সে ডিম সেদ্ধ করে খেয়ে মা'র অাদেশে রেস্ট নিচ্ছে। ডক্টর বৈদ্য নিজের স্টাডিতে ফিরে তাঁর ই-বাটল্যর জীভসের সাহায্যে পেপার শুনছেন। এই করতে করতে লাঞ্চের সময় হয়ে গেছে। পুলির ফের খিদে পেয়েছে, সে মা'র অনুমতি নিয়ে টেবিলে খাবার সাজিয়েছে। মা-মেয়ে মিলে খেতে বসেছে।

Advertisements

বৈদ্যবাটী : ক্ষিতি ১ : ভারকেন্দ্র কি ভারাক্রান্ত?

বৈদ্যবাটীর পঞ্চভূত সিরিজের ক্ষিতি সাবসিরিজের ১ নং লেখা। রিক্যাপ : পুলি তার সাঁতারের ছাত্রীদের সঙ্গে স্লো-সাইকেল রেস দিতে গিয়ে ব্যালেন্স হারিয়ে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পেয়েছে। মায়ের অাদেশে সে মাথায় অাইসপ্যাক লাগিয়ে রেস্ট নিচ্ছে। ডক্টর বৈদ্য নিজের স্টাডিতে ফিরে তাঁর ই-বাটল্যর জীভসের সাহায্যে পেপার শুনছেন। এমন সময়ে দরজার ঘন্টি বেজে উঠেছে। পুলি উঠে গিয়ে দরজা খুলেছে।

বৈদ্যবাটী : সাইকেল যখন স্লো

ডক্টর বৈদ্য নামকরা বৈজ্ঞানিক ছিলেন। কিছু বছর অাগে বিদেশে ল্যাবরেটরিতে কাজ করতে গিয়ে একটা দুর্ঘটনা অন্ধ হয়ে যান। গবেষণার জীবন থেকে অবসর নিয়ে কলকাতায় ফিরে তিনি দুই মেয়েকে মানুষ করা শুরু করেন। বড় মেয়ে নীলিমা বৈদ্য মায়ের মতই বৈজ্ঞানিক, ইদানীং পার্টনার ব্রেন্ডার সঙ্গে ইওরোপে অাছে। ছোট মেয়ে পুলি এখন কলেজের থার্ড ইয়ারে, ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনো করছে। সে অাবার সাঁতারেও অত্যন্ত দক্ষ। মা ও মেয়ের কথোপকথনের মধ্যে কখনও-কখনও বিজ্ঞানের কিছু কিছু বিষয় উঠে অাসে। বৈদ্যবাটী সিরিজে তারই কয়েকটা দেওয়ার চেষ্টা করব। পঞ্চভূত নিয়ে বৈদ্যবাটীর একটা সিরিজ করার চেষ্টা করছি। পঞ্চভূত অর্থাৎ মামদো-জামদো-ব্রহ্মদৈত্য-পেত্নী-শাঁকচুন্নি নয়, ক্ষিতি-অপ-তেজ-মরুৎ-ব্যোম। ক্ষিতি অর্থে মাটি, ভূমি, পৃথিবী। অপ মানে জল। তেজ মানে অাগুন, এনার্জি। মরুৎ মানে হাওয়া, বাতাস, উইন্ড/এয়ার। ব্যোম মানে অাকাশ হলেও অামি এটাকে মহাকাশ হিসাবেই ধরব। দেখা যাক, কোথাকার অপ কোথায় গড়ায়। এটা পঞ্চভূত সিরিজের ক্ষিতি সাবসিরিজের ০-তম লেখা। শূন্যতম কেননা এটা অাসল লেখাটাকে, মানে যেটাতে বিজ্ঞান অাছে, সেটাকে সেট-অাপ করছে।

বৈদ্যবাটী : অাইসবার্গ ও অার্কিমিডিস

ডক্টর বৈদ্য নামকরা বৈজ্ঞানিক ছিলেন। কিছু বছর অাগে বিদেশে ল্যাবরেটরিতে কাজ করতে গিয়ে একটা দুর্ঘটনা অন্ধ হয়ে যান। গবেষণার জীবন থেকে অবসর নিয়ে কলকাতায় ফিরে তিনি দুই মেয়েকে মানুষ করা শুরু করেন। বড় মেয়ে নীলিমা বৈদ্য মায়ের মতই বৈজ্ঞানিক, ইদানীং পার্টনার ব্রেন্ডার সঙ্গে ইওরোপে অাছে। ছোট মেয়ে পুলি এখন কলেজের থার্ড ইয়ারে, ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনো…

বৈদ্যবাটী : পৃথিবী যখন তুষারগোলক

পঞ্চভূত নিয়ে বৈদ্যবাটীর একটা সিরিজ করার চেষ্টা করছি। পঞ্চভূত অর্থাৎ মামদো-জামদো-ব্রহ্মদৈত্য-পেত্নী-শাঁকচুন্নি নয়, ক্ষিতি-অপ-তেজ-মরুৎ-ব্যোম। ক্ষিতি অর্থে মাটি, ভূমি, পৃথিবী। অপ মানে জল। তেজ মানে অাগুন, এনার্জি। মরুৎ মানে হাওয়া, বাতাস, উইন্ড/এয়ার। ব্যোম মানে অাকাশ হলেও অামি এটাকে মহাকাশ হিসাবেই ধরব। দেখা যাক, কোথাকার অপ কোথায় গড়ায়। এটা পঞ্চভূত সিরিজের অপ সাবসিরিজের দ্বিতীয় লেখা।

বৈদ্যবাটী : বরফ কেন হাল্কা?

ডক্টর বৈদ্য নামকরা বৈজ্ঞানিক ছিলেন। কিছু বছর অাগে বিদেশে ল্যাবরেটরিতে কাজ করতে গিয়ে একটা দুর্ঘটনা অন্ধ হয়ে যান। গবেষণার জীবন থেকে অবসর নিয়ে কলকাতায় ফিরে তিনি দুই মেয়েকে মানুষ করা শুরু করেন। বড় মেয়ে নীলিমা বৈদ্য মায়ের মতই বৈজ্ঞানিক, ইদানীং পার্টনার ব্রেন্ডার সঙ্গে ইওরোপে অাছে। ছোট মেয়ে পুলি এখন কলেজের থার্ড ইয়ারে, ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনো করছে। সে অাবার সাঁতারেও অত্যন্ত দক্ষ। মা ও মেয়ের কথোপকথনের মধ্যে কখনও-কখনও বিজ্ঞানের কিছু কিছু বিষয় উঠে অাসে। বৈদ্যবাটী সিরিজে তারই কয়েকটা দেওয়ার চেষ্টা করব। পঞ্চভূত নিযে লেখার ইচ্ছে অাছে। এটা অপ সিরিজের প্রথম লেখা হিসাবে ধরা যেতে পারে।

পুলিপিঠে ও মা : চেজ সিকুয়েন্স

--- ওফ ওফ... --- কী হল রে? হাঁপাচ্ছিস কেন? --- হাঁ...ওফ...পাচ্ছি...ওফওফ...কী অার সা...ওফ...ধে... --- ব্যাপার কী? চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু সদা সুপারফিট মিস পুলিপিঠের এরকম অবস্থা কেন? --- অারে...ওফ...অার বলো না। যা গরম...ওফ...দাঁড়াও...ওফ...ঠান্ডা জল...ওফ... --- হুম, গরম। তো? --- অাঃ, শান্তি। তো? তো অাবার কী? কিছুই না। ক্লাস নিচ্ছিলাম। --- সাঁতারের? --- অাবার কীসের? অামি একদলকে ব্যাকস্ট্রোক শেখাচ্ছি, ওদিকে ক্লাসঘরে শেখরদা অারেকদলকে ট্রিগনোমেট্রি শেখাচ্ছে। --- শেখর? অাজ এসেছিল? কই, দেখা করে গেল না তো। --- অারে পার্বতীদির সঙ্গে সিনেমা দেখবে বলে নাচতে নাচতে চলে গেল। --- সিনেমা? অাবার? কালই দু'খানা দেখল না? --- দেখল তো। অাজ ফের দেখবে। বাহুবলী। --- অাবার বাহুবলী! --- হ্যাঁ। মানে। হুম। --- সিনেমাটা এত ভাল বুঝি? --- খারাপ নয় গো। --- হুম। কিন্তু তুই হাঁপাচ্ছিলি কেন তো বুঝলাম না। --- ও। ভুলেই তো গিছলাম। শেখরদা। --- কী করেছে? --- মানিব্যাগ। --- মানিব্যাগ? হারিয়েছে? --- অারে না না, হারালে অামি হাঁপাবো কেন? ছিনতাই। --- ছিনতাই!

পুলিপিঠে ও মা : পিতৃরিয়া

-- মা, ও মা। -- কীরে, কী হয়েছে? -- এই শাড়িটা কেমন হয়েছে মা? -- কাছে অায়, দেখি... -- অাজ রমাদির বিয়ে। তাই একটু সাজুগুজু করেছি। -- বেশ ভালই তো লাগছে। ফ্যাব্রিকটা বেশ হাই-কোয়ালিটি। কাজও তো মনে হচ্ছে ভালই। জামদানী? -- হ্যাঁ গো। -- রং? -- লাল রঙের। -- খুব সুন্দর তো। কবে কিনলি রে? অামাকে বলিসনি তো। -- অারে কিনি নি গো। তোমার কী মনে হয়, অামি এরকম জমকালো শাড়ি কিনবো? -- না কেনার কারণ কী, শুনি। -- অামি ওসব পরতে ভালবাসি না... -- সেটা তো এক্সকিউজ। নিজের পকেটমানি বাঁচিয়ে সুইমিং ক্লাসের জন্য জামাকাপড় কিনে না দিলে কি তোর কাছে ভাল শাড়ি কেনার টাকা থাকতো না? -- এসব কী বলছো মা? -- ঠিকই বলছি। অার ঠিক এইজন্যই অাই অ্যাম সো প্রাউড অফ মাই ডটার! -- অ্যাঁ? -- কী ভেবেছিলি? তোর মা হঠাৎ বাংলা সিরিয়ালের ভিলেন হয়ে গেছে? -- ইশশ। মায়ায়া... -- ওরে বাবা, ছাড় ছাড়, বুঝেছি। মেয়ে বড় হলেও সেই ছোটই অাছে। -- হিহি। তাহলে শাড়ি পসন্দ্? -- সে তো পসন্দ্। বাট হু? -- ও, এটা অামায় কেউ কিনে দেয়নি। বা অামিও কিনিনি। -- অ। বুঝেছি। দিদিরটা ঝপাস? -- দিদিরটা ঝপাস। -- বার্লিন থেকে ফিরে যদি দেখে তার পেয়ারের শাড়ি...

পুলিপিঠে ও মা : ডিপ্রেশন

-- কী খাবি তুই? টিঙ্কু না এসে থাকলে... -- অামি বানিয়ে নেবো। তোমার জন্যেও করতে যাচ্ছিলুম, তুমি ডাকলে। -- হুম। তুই বোস, অাজ অামি বানাবো। -- তুমি? -- কেন, অন্ধ লোকে রান্না করতে পারে না বুঝি? -- মা, তুমি ব্রেইল শীট মিউজিক পড়ে পড়ে বেহালা বাজাও। এটা কজন বলতে পারে? -- ডিসকারেজ করছিস? -- না, মা, ডিসকারেজ নয়। অামি জানি প্র্যাক্টিস করলে তুমি রান্নাও পারবে। কিন্তু প্র্যাক্টিস লাগবে, প্রথম প্রথম অামার বা দিদির সাহায্য লাগবে। -- নীলি! নীলি রান্নায় সাহায্য করবে? -- হুম। পয়েন্ট। দিদি অার রান্নাঘর হচ্ছে... -- ডিজাস্টার। -- রাইট। -- অ্যাক্সিডেন্টটা হবার পরে খুব হেল্পলেস লাগতো, জানিস। -- মা। -- ইয়েস। তুই ছোট, ভীষণ ছোট। নীলিটার উপর সবকিছু। ওভারনাইট মেয়েটার ঘাড়ে সবকিছু এসে পড়লো। সংসার, কলেজ, অন্ধ মায়ের দেখভাল, ছোট বোনকে মানুষ করে তোলা...শী ওয়াজ সোয়াম্পড। -- দিদি বলেই পেরেছিলো। -- ইয়েস। শী ইজ অ্যান অ্যাটলাস। অাইল্যান্ড অ্যামং দ্য ডীপ ব্লু সী। -- মা, তোমার তখন কীরকম মনে হতো? মানে, অামার প্রশ্নটা করাটা... -- নো পুলি, নো, ইউ শুড নো। অামার তখন মেন্টাল স্টেট কী ছিল জানতে চাস তো? -- অনধিকার চর্চা যদি না হয় তো। -- পুলি। ইউ অার মাই ডটার। ইউ হ্যাভ এভরি রাইট টু নো। এভরি রাইট। -- যদি তাই হয়, তাহলে অামি শুনতে প্রস্তুত। -- অাই ওয়ান্টেড টু ডাই, পুলি। অাই ওয়ান্টেড টু ডাই। -- মা! -- অামি অনেকবার ভেবেছিলুম, কী হবে অার বেঁচে থেকে? অামার জীবন কাজ সব বর্বাদ। চোখ ছাড়া অামি কীভাবে প্রোসীড করবো? অাই অ্যাম অ্যান ইনভ্যালিড। অা ওয়ার্থলেস পীস অফ সোসাইটীজ ফ্লোটসাম।