চা, মলম, ও টুথপেস্ট ১৫

শিরে সংক্রান্তি। অাপাতদৃষ্টিতে নিরীহ এই কথাদুটোর পেছনে যে কী লেভেলের প্যানিক টেরর হার্ট্যাটাক লুকিয়ে অাছে তার ইয়ত্তা যে একেবারেরই নেই তা বললে পাপ হবে। তবুও। ছাপা অক্ষরে কী অাজকাল এলসিডির পোটেনশিয়াল ভেরিয়েশ্যনের এই দু'টি কথা দেখতে পেলেই হার্টবীট বেড়ে যায় পাল্স এক্সাইটেড হয় কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে অার---

Advertisements

চা, মলম, ও টুথপেস্ট ১৪

ছোটবেলায় বহুবার দিল্লী গেছি। থাকতাম ডায়মন্ডহারবার, ভাড়া গাড়ি বা ট্যাক্সিতে করে হাওড়া স্টেশনে এসে বিকেলবেলার রাজধানী ধরতাম। লাল টুকটুকে ট্রেন, বাকিগুলোর মত ধ্যাবড়া নয়। বাইরে শাদা অক্ষরে লেখা থাকত এয়ার কন্ডিটিওন্ড, বা এয়ার কন্ডিটিওনিং...

চা, মলম, ও টুথপেস্ট ১৩

চেন্নাইতে অামি বহু বছর কাটিয়েছি। প্রচন্ড গরম জায়গা, সারাবছর একইরকম গরম থাকে, এপ্রিম-মে মাসটা একেবারে নরক। জুন মাসে অাবার কখনও কখনও বৃষ্টি পড়ে রাতের তাপমাত্রা দুম করে নেমে যায়। সারাবছর প্যাচপ্যাচে গরম বলে চা বা কফির দরকারটা কম পড়বে বলেই মনে হতে পারে। সেরকম মনে হলে ভুল ভাবা হবে। অনেক ছোটবেলায় বাবা একবার...

চা, মলম, ও টুথপেস্ট ১২

অাশির দশকের শেষের দিক বা নব্বুইয়ের প্রথমদিকে ক্রিকেটম্যাচ দেখানর সময় স্লোমোশান যেভাবে করত, খানিক সেভাবে। ধরা যাক, ইমরান খান মনোজ প্রভাকরকে বল করতে অাসছে*****। ইমরানের ছুটে অাসার প্রথম অংশটা স্পীডে হবে, তাতে ইমরান খরগোশের মত গুড়গুড় করে ধেয়ে যাবে। বোলিং ক্রীজের কাছাকাছি পৌঁছতেই স্পীড কমানো হবে, ইমরান ক্যাঙারুর মত চাঁদের মাটিতে লাফ মারবে, বলটাও গুলতির মত সাঁই করে বেরিয়ে মনোজ প্রভাকরের অ্যাব্ডোমিন গার্ডের দিকে ধেয়ে যাবে। টার্গেট একেবারে লক করে। লেজার গাইডেড বলব্রেকার বল। প্রভাকর ক্রীজে একটু নাচবে, একবার ভাববে পালাব কিনা, তারপর মাইন্ড চেঞ্জ করে সর্দিবসা গলায় সারে-জহাঁ-সে-অচ্ছা গাইতে গাইতে চোখ কুঁচকে কুঁচকি বাঁচিয়ে ব্যাটটা অফস্টাম্পের এক ইঞ্চি বাইরে মেলে দেবে, যেন রোদ্দুর ডিডিজাঙ্গিয়া শুকোতে দিয়েছে। ইমরানের বলটা মাঝপথে ভেক্টর পাল্টে অাউটস্যুইঙের মাস্টারক্লাস দেখিয়ে ব্যাটের কোনাটাকে অালতো করে চুমু খেয়ে পেছনে মোইন খানের হাতে গিয়ে টুপুস করে মাকালফলের মত জমা পড়বে। ইমরান ক্যাঙারুর ঠাকুর্দার মত একটা জাম্প দিয়ে হাওয়াতে ট্যুইস্ট মেরে অাম্পায়ারের দিকে ভিট্রুভিয়ান ম্যান সেজে দাঁড়িয়ে পড়বে, প্রভাকরও অাম্পায়ারের দিকে কাতর অাকুতির সঙ্গে তাকাবে — এবার মোরে যেতে দে, নচেত মরে যাব। অাম্পায়ারও সবদিন বিচারবিবেচনা করে ভুরুটুর কুঁচকে মুখ ভেংচে ডানহাতের অাঙুলটা অাকাশের দিকে পয়েন্ট করবে—

চা, মলম, ও টুথপেস্ট ১১

চায়ের দোকান অামার কাছে একটা অত্যন্ত রহস্যময় থ্রীলিং জায়গা ছিল। মানে খুব যে এক্সাইটিং তা নয়, কেমন চুপচাপ থ্রীলিং। সার দিয়ে থাকেথাকে কাঠের বাক্সে বিভিন্ন কোয়ালিটির বিভিন্ন ভ্যারাইটির চা পাতা — কিছু দার্জিলিং, কিছু অাসাম। কিছু হয়ত অন্য কিছু, মনে নেই। চায়ের বাক্সগুলোর রঙ বার্নিশ করা কাঠের মত — কেমন ঘোর লাগিয়ে দিত। কত প্রাচীন গাছের অাত্মা যে বাস করছে ওর মধ্যে। মনে হত, এখানেই বসে যাই, কত গল্পই না হবে, কত পুরনো স্মৃতিই না মনের কোটর থেকে ফের চোখের সামনে ভেসে উঠবে।

চা, মলম, ও টুথপেস্ট ১০

— হ্যালু! — কৈ গো, কোথায়? — ইয়ে মানে, রাসবিহারী। — রাসবিহারী?! মানে?! এত জ্যাম? — না, মানে, জ্যাম তেমন নেই—দাদা ডানদিকে নেবেন— — জ্যাম নেই মানে? অার ডানদিকে মানে? ডানদিকে কোথায় নেবে? ডানদিক তো নেই। — অ্যাঁ? কী? ডানদিকে নো রাইট টার্ন? — কী বলছ? অাছো কোথায়? — বলছে ডানদিকে নো রাইট টার্ন। — কোথায় বলছে? কোথায় নো রাইট টার্ন? — দাদা তাহলে অাপ—একমিনিট বলে দি—দাদা তাহলে অাপনি সোজা নিয়ে অাবার সেই পেট্রলপাম্পের রাস্তা দিয়ে— — পেট্রলপাম্প?! সেরেছে!

চা, মলম, ও টুথপেস্ট ৯

কালিধন পেরিয়ে ফুটপাথে একটা অাড্ডাখানা অাছে। রোজ সকালে পোলো টীশার্ট ট্র্যাকপ্যান্ট বা শর্টস পরা জনৈক পঁয়ত্রিশ থেকে পঁয়ষট্টির অাপিসের বাবুরা কাগজের গেলাশে চা ভরে গাছের ছায়ায় লালরঙা নীলকমল চেয়ার বা টুলে বসে কথার তুফান তোলেন। রোজ দেখি অার ভাবি, এই অাড্ডার জন্যই তো কলকাতা ক্যলকত্তা না হয়ে তিলোত্তমা হয়েছে।

চা, মলম, ও টুথপেস্ট ৮

ট্যাক্সির ড্রাইভারটা ভাল। রেডিওটা রেট্রো চ্যানেলে দিয়ে রেখেছে। পুরনো দিনের গান চলছে, হিন্দী গান। রফি গাইছেন। কী গান মনে রাখা অামার পক্ষে সম্ভব নয়, তবে রফির গলায় অলওয়েজ একটা মৌতাত থাকে, একটা হাল্কা মাদকতা, মনটাকে মেহফিল করে দেয়। লেকের পাশ দিয়ে, তার পর সাদার্ণ অ্যাভেন্যু ধরে যাচ্ছি, ফুরফুরে হাল্কা ঠান্ডা হাওয়া, অাঙুলের জ্বলুনিটা প্রায় ভুলতে বসেছিলাম। চ্যাঁ! ভ্যাঁ! ক্যাঁ! হর্ন ওকে প্লীইইইইজ। ভ্যাঁপ্পোর ভ্যাঁ! ভইয়া দোঠো নোট দেদো ভইয়া।

চা, মলম, ও টুথপেস্ট ৭

ট্যাক্সিটা এসে সামনে স্টাইল করে ব্রেক কষে দাঁড়াল। নম্বরটা অাগেই মিলিয়ে নিয়েছিলাম, ব্যাগের স্ট্র্যাপটাও অালগা করে নিয়েছিলাম, পিছনের বাঁ সাইডের দরজাটা খুলে ব্যাগটা কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে ডানদিকের সীটে অালগোছে ছুঁড়ে ফেলে নিজে বাঁ সীটে সেঁধিয়ে অাঙুল বাঁচিয়ে দরজা বন্ধ করতে করতে নিজের নামটা কনফার্ম করে ড্রাইভারকে গন্তব্য বলে সীটের স্যুইটস্পটটা খুঁজে বের করে গা এলিয়ে দিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পকেট থেকে ফোনটা বের করে নম্বর টিপলাম।

চা, মলম, ও টুথপেস্ট ৬

ইদানীং ওয়েস্টওয়ার্ল্ড বলে একটা টিভি সিরিজ দেখছি। মূল লেখাটা মাইকেল ক্রাইটনের*, সত্তরের দশকে এটা সম্ভবত একটা সিনেমাও হয়েছিল। কিছু বছর অাগে জনাথন নোলান, যিনি দাদা ক্রিস্টোফার নোলানের ব্যাটম্যান ট্রিলজি লিখে খ্যাত, অার তাঁর স্ত্রী লিসা জয় এই ওয়েস্টওয়ার্ল্ডকে টিভিতে অানার প্ল্যান করেন। দশটা এপিসোড, এইচবিওতে, খানিকটা গেম অফ থ্রোন্সের মত অ্যাম্বিশাস। দুর্ধর্ষ গল্প, পার্ফেক্ট অ্যাক্টিং (অ্যান্টনি হপকিন্স মুখ্য ভূমিকায়), দারুণ নির্দেশনা অার টপক্লাস ম্যুজিক (রামিন জাওয়াদি, যিনি গেম অফ থ্রোন্স অার অায়রন ম্যান ১ সিনেমাতেও ম্যুজিক দিয়েছেন)।