ব্রেকফাস্ট

-- হ্যাঁরে নিতাই, তোর মুখটা কেমন শুকনো লাগছে। -- মুখ? শুকনো? আমার? আমার জিঞ্জিভাইটিস হয়েছে??? নহীইইইইইইইইই... -- বেশি নাটুকেপনা করতে হবে নে। নিতাইয়ের খিদে পেয়েছে। -- খিদে? আমার? হমারা? মোয়া--- -- আর বেশি কথা কইলে এক থাবড়ায় জয়নগরে পাঠিয়ে দেব। নেও খেতে বসো।

অ্যালজেব্রা

-- বুঝলি নিতাই... -- বোঝাটা কি একান্ত প্রয়োজন? না বোঝার অানন্দে ধিনতানা-ধিনতানা নাচলে হয় না? -- কে পি বাসুকে মনে অাছে? -- বাসু বললেই অামার দুজনের কথা মনে পড়ে। এক, যিনি নিজে জীবনে হাসেননি। দুই, যিনি বাসু নয়, বসু। সেটা নাকি অাপনি নোটও করেছিলেন। -- অ্যালজেব্রা অ্যালজেব্রা। -- প্রথমত, অ্যাল নামে কোন জেব্রাকে অামি চিনি না। দ্বিতীয়ত, অ্যাল নামে কোন জেব্রাকে অামি চিনতে চাইও না। তৃতীয়ত, অ্যাল নামে কোন জেব্রা যদি অামায় চিনতে অাসে তাহলে অামি তাকে নিমের কচুরি খাওয়াব। উইথ উচ্ছের ঝোল। -- বড় ভাল বই ছিল, জানিস। সবুজ মলাট, অটোমেটিকালি ভাল লেগে গিয়েছিল। ভাল প্রিন্ট, ভারী নয়, ভারিক্কিও নয়, তবে ভার অাছে। সল্ভ করতে পারলে ভরণপোষণের চিন্তা থাকে না। -- তাতে অামি কী করব? অাজান গাইব? -- মঙ্গলগ্রহের দুটো চাঁদ অাছে জানিস? -- চাঁদ সদাগর যেখানে নেই সেখানে অামিও নট ইন্টারেস্টেড। -- একটার নাম ফোবোস। গ্রীক ভাষা। অর্থাৎ ফীয়ার। ভয়। -- সে তো তোমার হলুদ সিরিজ পড়লেই বোঝা যায়। কীকরে ভয় না পাওয়াতে হয় তার সুন্দর বিবরণ। -- অন্যটার নাম ডিমস। অর্থাৎ টেরর। অাতঙ্ক। -- ডিমের পোচের খিদে পাচ্ছে। যাই, বানাই গিয়ে। -- সুতরাং বুঝতেই পারছিস, কেপিবাসু যদি বিধুশেখরের মত মঙ্গলের চারদিকে বাঁইবাঁই করতে ঘুরতে শুরু করেন, তাহলে চন্দ্রবিন্দু কি অার মঙ্গলে ন্যুডিস্ট কলোনি বসাতে পারবে? -- দেখুন, অাপনার যথেষ্ট উমর হয়েছে, এ উমরে অার এসব কি অার পোষায়। তার চেয়ে বসে ফাটল ফিলাপ করুন, অামি পোচ বানিয়ে অানছি। -- ডবল ডিমের কিন্তু। একেবারে খালিদ হওয়া চাই। জয় বাবা মক্কেশ্বর।

পুলিপিঠে ও মা : ডিপ্রেশন

-- কী খাবি তুই? টিঙ্কু না এসে থাকলে... -- অামি বানিয়ে নেবো। তোমার জন্যেও করতে যাচ্ছিলুম, তুমি ডাকলে। -- হুম। তুই বোস, অাজ অামি বানাবো। -- তুমি? -- কেন, অন্ধ লোকে রান্না করতে পারে না বুঝি? -- মা, তুমি ব্রেইল শীট মিউজিক পড়ে পড়ে বেহালা বাজাও। এটা কজন বলতে পারে? -- ডিসকারেজ করছিস? -- না, মা, ডিসকারেজ নয়। অামি জানি প্র্যাক্টিস করলে তুমি রান্নাও পারবে। কিন্তু প্র্যাক্টিস লাগবে, প্রথম প্রথম অামার বা দিদির সাহায্য লাগবে। -- নীলি! নীলি রান্নায় সাহায্য করবে? -- হুম। পয়েন্ট। দিদি অার রান্নাঘর হচ্ছে... -- ডিজাস্টার। -- রাইট। -- অ্যাক্সিডেন্টটা হবার পরে খুব হেল্পলেস লাগতো, জানিস। -- মা। -- ইয়েস। তুই ছোট, ভীষণ ছোট। নীলিটার উপর সবকিছু। ওভারনাইট মেয়েটার ঘাড়ে সবকিছু এসে পড়লো। সংসার, কলেজ, অন্ধ মায়ের দেখভাল, ছোট বোনকে মানুষ করে তোলা...শী ওয়াজ সোয়াম্পড। -- দিদি বলেই পেরেছিলো। -- ইয়েস। শী ইজ অ্যান অ্যাটলাস। অাইল্যান্ড অ্যামং দ্য ডীপ ব্লু সী। -- মা, তোমার তখন কীরকম মনে হতো? মানে, অামার প্রশ্নটা করাটা... -- নো পুলি, নো, ইউ শুড নো। অামার তখন মেন্টাল স্টেট কী ছিল জানতে চাস তো? -- অনধিকার চর্চা যদি না হয় তো। -- পুলি। ইউ অার মাই ডটার। ইউ হ্যাভ এভরি রাইট টু নো। এভরি রাইট। -- যদি তাই হয়, তাহলে অামি শুনতে প্রস্তুত। -- অাই ওয়ান্টেড টু ডাই, পুলি। অাই ওয়ান্টেড টু ডাই। -- মা! -- অামি অনেকবার ভেবেছিলুম, কী হবে অার বেঁচে থেকে? অামার জীবন কাজ সব বর্বাদ। চোখ ছাড়া অামি কীভাবে প্রোসীড করবো? অাই অ্যাম অ্যান ইনভ্যালিড। অা ওয়ার্থলেস পীস অফ সোসাইটীজ ফ্লোটসাম।

বিশুদাদাবাবুর বকবক : ৫

-- এই যে, বিশুর বাচ্ছা, ছিলি কোথায় কাল? -- ছিছি দাদাবাবু, এরম বুলি কেউ বলে? দ্যাখেন তো, ফেউতে লিখছে, এরম বুলি বললে... -- শাটায়ায়ায়াপ! ছিলি কোথায় অাছে বল। নয়তো তোরই একদিন কি অামারই একদিন। -- চটেন কেন দাদাবাবু? এত চটেন কেন? -- চটেন কেন? চটেন কেন?! দাঁড়া, এই জুতোর সুকতলা দিয়ে তোকে চট বানাই কিনা দ্যাখ... -- অাহা দাদাবাবু পেটাইতে ওলে তো অাগে অামায় পাকড়াইতে হইবে। অামার ছিপছাপ চিন্ময়রায় চেহারা, অার অাপনার নাদুসনুদুস ল্যাক্টোজেন খাওয়া... -- তবে রে হারামজাদা... -- ছিছি দাদাবাবু ফেউ সেন্সর এসে... -- কাছে অায়...কাছে অায় বলচি... -- ধরতে পারবেন না দাদাবাবু... -- উফফ...ফফফ...ফফফ... -- এট্টু জিরিয়ে ল্যান দাদাবাবু। অামি অালগেচা করে অানি গে...

সেল্সম্যান

-- নমস্কার, অাসুন অাসুন। -- নমস্কার। অামাদের... -- বসুন স্যার, বসুন ম্যাডাম। জল? বাইরে যা গরম, এই এপ্রিল মাসেও ঘেমে অস্থির হওয়ার অবস্থা। -- থ্যাঙ্কু, অামরা খেয়ে এসেছি। যা বলছিলাম, অামাদের... -- চা? চা বলি? দোকানের এসিটা...এই ভিনয়, থোড়া এসি বাড়িয়ে দো না প্লীজ। -- দেখুন, চা-ফা লাগবে না, ধন্যবাদ, এক্ষুণি লাঞ্চ করেছি। খুব সময় নেই হাতে, অারেকটা জায়গায় যেতে হবে। চাই... -- কোনও চিন্তা নেই স্যার, অাপনি ঠিক জায়গায় এসেছেন। ফাস্ট ফাস্ট অাপনার ফার্নিচার পেয়ে যাবেন। ডেলিভারি গ্যারান্টীড। -- অামি তো কী নেবো তাই বলিনি অাপনাকে। -- অাঃ, নেবেন তো বটেই, নাহলে এখানে অাসবেন কেন? -- দেখুন, লাগবে একটা স্টাডি টেবিল... -- স্টাডি টেবিল অামাদের প্রচুর মডেল অাছে ম্যাডাম, কোনটা চান। বড় ছোট মাঝারি সব প্রাইস রেঞ্জে। এই যে এদিকে... -- দেখছি। অারো কিছু লাগবে, অাগে বলে নি? -- নিশ্চয়ই ম্যাডাম। কাস্টোমার ইজ কিং...মানে, কুইন অলসো। -- স্টাডি টেবিল একটা। অার তার সঙ্গে গোটা দুই অফিস চেয়ার, অার একটা এমনি চেয়ার। -- ভেরিগুড ম্যাডাম। অাপনি এদিকে অাসুন অামি দেখাচ্ছি... -- এক্সকিউজ মী। -- বলুন স্যার। -- ওই ভদ্রমহিলা চ্যাঁচাচ্ছেন কেন ওভাবে?

বিশুদাদাবাবুর বকবক : ৪

-- অনাচার, ঘোর অনাচার। -- অাজ্ঞে দাদাবাবু যা বলেচেন দাদাবাবু। -- বলছি। পাঁচশো বার বলছি। হাজার বার বলছি। -- অাজ্ঞে দাদাবাবু তার অার কোন মূল্য নাই দাদাবাবু। -- দেশটা উচ্ছন্নে যাচ্ছে। -- দেশ তো চিরকালই উচ্ছন্নে যায় দাদাবাবু। -- দেশ কী? পৃথিবীটা উচ্ছন্নে যাচ্ছে। -- অাজ্ঞে দাদাবাবু যা বলেচেন দাদাবাবু। -- মানে কান্ডটা ভেবে দ্যাখ একবার। -- সত্যিই কান্ডটা বড়ই কঠিন দাদাবাবু। -- মানে কোন কথাই হল না? -- অাজ্ঞে না দাদাবাবু। -- এটা অন্যায়। -- অাজ্ঞে হ্যাঁ দাদাবাবু। -- এ নিয়ে নালিশ জানাবো। -- অাজ্ঞে কোথায় দাদাবাবু? -- রেগুলেটরি কমিটিতে। -- অাজ্ঞে দাদাবাবু। -- রিটেন নালিশ। লিখিত কমপ্লেন্ট। -- অাজ্ঞে দাদাবাবু। -- টাইপ করে। ইন ট্রিপলিকেট। -- অাজ্ঞে দাদাবাবু, একটা কতা দাদাবাবু। -- কী কথা? -- কীসের গুলতাড়ি কমতি দাদাবাবু?

মিস মার্পেলের মেমোয়ার : পাঁচ

অাজ ভূতচতুর্দশী। ডায়মন্ড হারবারে কালিপুজো প্রচুর হতো। প্রায় প্রত্যেক মাসেই একটা না একটা কালিপুজো লেগেই থাকতো। কিন্তু কৃষ্ণপক্ষ শেষের কালিপুজোটাই সবচেয়ে বড় ছিল। হওয়ারই কথা। এটাই তো শহরের কালিপুজো। কালিপুজোর অাগের দিনটাও কিন্তু পালন করতাম অামরা। দিনটাকে ভূতচতুর্দশী বলা হতো। কেন জানি না। ছোটবেলায় শুনেছি দেবী চামুন্ডা নাকি চোদ্দ সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে দেশগ্রামনদীনালায় ঘুরে বেড়াতেন। কাঁচাখেকো অপদেবতা সবকটা, ভূত-পেত্নি-ডাইনি-শাঁকচুন্নি---কী নেই তাদের মধ্যে। সেজদি, মেজদি, ন'দি, অামি প্রত্যকে মিলে ঘরের চারদিকে চোদ্দপ্রদীপ দিতাম। মাটির তৈরী তেলের প্রদীপ। তাতে সলতে পাকিয়ে লাগাতো অান্না। যখন একটু বড় হয়েছিল। তার অাগে ভার ছিল অামার উপর। সবচেয়ে ছোটদের উপরেই এই দায়িত্ব পড়তো।

উৎসব

-- জন লেনন এবছর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন। -- আই বেগ ইয়োর… -- কেন? পাননি? -- আপনি কে মশাই? -- আমি সাহিত্যিক, সো-সোশ্যাল্মিডিয়াতেও লিখে থাকি, যদিও আমার মতে সো-সোশ্যাল্মিডিয়াতে লিখলে লেখকের কোয়ালিটি কন্ট্রোল তেমন হয় না। -- আপনার চোদ্দপুরুষের ভাগ্য রা-রাজুর কাজ হয়ে গেছে, নয়তো সে উঁচু জায়গা থেকে নেমে এসে আপনাকে রাস্বাচ্ছাদন করে ছাড়তো। -- কেন? লেনন নন বুঝি? তাহলে কে? পল? জর্জ? রিঙ্গো? লেনিন নিশ্চয়ই নন। -- ভুল করছেন। জন পল কেউই নয়, মাইকেল জ্যাকসন পেয়েছেন এবারের নোবেল। প্ল্যানচেট করে তাঁকে নামিয়ে সোনার মেডেল দেওয়া হবে। -- লেনন পাননি? ঠিক বলছেন? আমি যে সো-সোশ্যাল্মিডিয়াতেও শুনলুম…

মার্বেল

একটা পুকুর। বেশ বড়, তাতে জল এককালে টলটল করতো, এখন কিঞ্চিত ঘোলা, পানা গজিয়েছে দুএকটা, হয়তো ছ-সাতটা। পাশে ঘাট, বাঁধানো, শাদা সিমেন্টের। ন'টা সিঁড়ি, নীচের ছটা জলের তলায়, শ্যাওলা পড়ে পান্নাসবুজ হয়ে গেছে। ঘাটের দুদিকে দুটো সিমেন্টের স্ল্যাব, তার উপর বাবু হয়ে বসে বছর ছয়েকের ছেলেটা কয়েকটা মার্বেল নিয়ে খেলা করছে। সাধারণ কাঁচের মার্বেল, কয়েকটা চটে যাওয়া, ঘষে যাওয়া, ফিকে হয়ে যাওয়া। তা নিয়েই ছেলেটা একমনে খেলে চলেছে। ঠক ঠক করে গুলিতে গুলিতে লাগার শব্দ অাসছে।

মিস মার্পেলের মেমোয়ার : এক

রেস্কু ___________________ ছোটবেলার কথা। অামি তখনও হইনি, সেজদি মেজদি সব ছোট, ন'দি কোলে, দাদাও ছোট, ইস্কুলে পড়ে। বাবা বদলি হয়ে ডায়মন্ড হারবারে এলেন। বাড়ি তখনো হয়নি। অামরা থাকতাম নদীর কাছে পাঁচকড়িবাবুর বাড়িতে। ভাড়া বাড়ি। বাগান অাছে। মা বাগানে ফুলগাছ লাগিয়েছে, লেবুগাছ কারিপাত্তার গাছও অাছে। বাগান দেখাশোনা করে বনোয়ারি। হিন্দুস্তানি।